নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত।
১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না।
মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়।
এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন।
তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না।
অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।
গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।
অবসরের জন্য সেরা ছোট শহরের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া নেই, এগিয়ে পেনসিলভানিয়া
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।
ডিএনএ তথ্য কারচুপির দায়ে সাবেক ফরেনসিক বিশ্লেষকের ১০ বছরের জেল
বেশি ছুটি নেওয়ায় গর্ভবতী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করল অ্যামাজন, দেয়নি বাথরুমের বিরতিও
ওয়াশিংটনে ৭ বছরের মেয়ের সামনে মাকে পিটিয়ে হত্যা, খুনিকে খুঁজছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের বেশি সময় পর কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী বন্দি ক্রিস্টা গেইল পাইকের মৃত্যুদণ্ড ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কার্যকরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। কার্যকর হলে ১৮১৯ সালের পর টেনেসিতে কোনো নারীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগও এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য গণমাধ্যমের সাক্ষী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাইকের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালে নক্সভিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। জব কর্পস প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একই প্রতিষ্ঠানে থাকা স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় পাইকের সঙ্গে আরও দুই কিশোর জড়িত ছিল। তবে তিনজনের মধ্যে শুধু পাইকই মৃত্যুদণ্ড পান। পাইকের তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের বয়স ছিল ১৭ বছর। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়নি এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য সহযোগী শ্যাডোলা পিটারসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং পরে প্রবেশন পান। পাইকের ক্ষেত্রে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি এখনো মামলাটির অন্যতম আলোচিত দিক। পাইকের আইনজীবীরা বলছেন, অপরাধের সময় তার বয়স এবং শৈশবের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পাইক শৈশবে যৌন নির্যাতন, শারীরিক সহিংসতা, অবহেলা ও অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বিচার চলাকালে এসব পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে পাইকের আইনজীবীরা সেপ্টেম্বরে টেনেসির গভর্নর বিল লির কাছে ক্ষমা বা সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। তারা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। আগস্টে তিন দিনের শুনানির পর বিশেষ বিচারক মার্ক ওয়ার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইকের আইনজীবীরা বর্তমান পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয় বা অসাংবিধানিক কষ্টের ঝুঁকি প্রমাণ করতে পারেননি। পরে তার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। পাইকের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। একদিকে ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে অপরাধের সময় পাইকের বয়স, তার শৈশবের নির্যাতনের ইতিহাস এবং মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে পাইক হবেন টেনেসিতে ১৮১৯ সালের পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। একই সঙ্গে আধুনিক সময়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ১৮, ১৯ বা ২০ বছর বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম ব্যক্তিও হবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে চাকরির বাজারে চাহিদায় এগিয়ে যেসব দক্ষতা, জেনে নিন
আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার! এক বছরে বেড়েছে কোটি কোটি ডলার