নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শীতের মৌসুমে বাড়ির তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধে আর্থিক সহায়তার নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে ২ নভেম্বর। অঙ্গরাজ্যের হোম এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা হিপ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার, বয়স্ক নাগরিক এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বাসিন্দারা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ১৬ অক্টোবর কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত শীত মৌসুমে নিউইয়র্কে ১৫ লাখের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও প্রায় একই সংখ্যক সুবিধাভোগীকে সহায়তা দেওয়ার প্রত্যাশা করছে অঙ্গরাজ্য সরকার।
২০২৬–২০২৭ সালের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব পরিবার তেল, কেরোসিন বা প্রোপেনের মতো বাড়িতে সরবরাহ করা জ্বালানি দিয়ে ঘর গরম করে, তারা যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারে। কাঠ, কাঠের গুঁড়ি থেকে তৈরি জ্বালানি বা কয়লা ব্যবহারকারী যোগ্য পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ সহায়তার পরিমাণ ৭০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তবে এই অর্থ সবাই পাবেন না। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা, ঘর গরম করার প্রধান ব্যবস্থা এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ৯৯০ ও ৭০০ ডলার সর্বোচ্চ সীমা—নিশ্চিত অর্থপ্রদানের পরিমাণ নয়।
প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার ২৩০ ডলার মোট আয় করলেও নির্ধারিত আয়ভিত্তিক যোগ্যতার মধ্যে পড়তে পারে। মাসিক হিসাবে এই অঙ্ক প্রায় ৬ হাজার ৮৫২ ডলার।
তবে আয়সীমার মধ্যে থাকলেই সহায়তা নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যদের অবস্থা, জ্বালানির ধরন এবং কর্মসূচির অন্যান্য নিয়মও বিবেচনা করা হবে। আবেদনকারীর পরিবারের কেউ ছয় বছরের কম বয়সী শিশু, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি কিংবা স্থায়ী প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন হলে কিছু ক্ষেত্রে তা যোগ্যতা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
যাঁরা ইতিমধ্যে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপ, অথবা নির্দিষ্ট সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তাঁদের একটি অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিপের সুবিধা পেতে পারেন। অঙ্গরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপ বা সরকারি সহায়তা পাওয়া ১১ লাখের বেশি নিউইয়র্কবাসীর জন্য স্বয়ংক্রিয় সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও সরকারি নথির ওপর নির্ভর করে। তাই সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন। অন্য যোগ্য পরিবারগুলোকে ২ নভেম্বর থেকে আবেদন করতে হবে।
নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ACCESS HRA ওয়েবসাইটের মাধ্যমে: https://access.nyc.gov/programs/home-energy-assistance-program-heap/
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা সরকারি হিপ ওয়েবসাইট https://otda.ny.gov/programs/heap/ থেকে নিজেদের এলাকার আবেদনপদ্ধতি ও কার্যালয়ের তথ্য জানতে পারবেন।
আবেদনের সময় পরিচয়, পরিবারের সদস্যদের তথ্য, আয় এবং বাড়ির তাপ সরবরাহসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য বা সাক্ষাৎকার চাইতে পারে। সহায়তার অর্থ সাধারণত জ্বালানি সরবরাহকারী বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়; অর্থপ্রদানের পদ্ধতি পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
নিউইয়র্ক শহরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ সালের নিয়মিত হিপ সুবিধার আবেদন ২ নভেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৬ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত চলার কথা। তবে তহবিল ও কর্মসূচির নিয়মের কারণে আবেদনের সুযোগে পরিবর্তন হতে পারে। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদন করা ভালো।
যাঁদের বাড়ির হিটিং ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, তাঁদের জন্য মেরামত বা প্রতিস্থাপনের আলাদা কর্মসূচিও রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে চালু হওয়া এই সুবিধায় যোগ্য বাড়ির মালিকেরা হিটিং যন্ত্র মেরামতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার এবং প্রতিস্থাপনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। এই সুবিধার জন্য আলাদা যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি থাকলে সেটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। যাত্রী পরিবহন, খাবার ও বাজারের পণ্য সরবরাহ, পার্সেল ডেলিভারি কিংবা গাড়ি ভাড়ায় দেওয়ার মাধ্যমে আয়ের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের দ্বিতীয় গাড়ি রয়েছে অথবা ব্যক্তিগত গাড়িটি দিনের বেশির ভাগ সময় অব্যবহৃত থাকে, তাঁরা এসব বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। তবে কোন পদ্ধতিতে কত আয় হবে, তা নির্ভর করে এলাকার চাহিদা, কাজের সময়, গাড়ির ধরন এবং পরিচালন ব্যয়ের ওপর। নিজের গাড়ি দিয়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পরিচিত দুটি প্ল্যাটফর্ম হলো উবার ও লিফট। এসব প্রতিষ্ঠানে চালক হিসেবে নিবন্ধন করে নির্ধারিত যোগ্যতা ও যাচাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে আয় করা যায়। বিমানবন্দর, ব্যবসাকেন্দ্র এবং ব্যস্ত সময়ে যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকতে পারে। তবে গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা ও মূল্যহ্রাসের খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত আয় হিসাব করা জরুরি। যাঁরা যাত্রী পরিবহনের পরিবর্তে খাবার সরবরাহ করতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে উবার ইটস, ডোরড্যাশ, গ্রুবহাব ইত্যাদি। এই ব্যবস্থায় রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায় পাশাপাশি পিজা ডেলিভারির কাজও করা যায়। একইভাবে ইনস্টাকার্টের মাধ্যমে গ্রাহকের বাজার করে দেওয়া এবং মুদি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব কাজে নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও অর্ডারের সংখ্যা ও আয় স্থানীয় চাহিদার ওপর নির্ভর করে। গাড়ি দিয়ে আয়ের আরেকটি সম্ভাব্য মাধ্যম হলো অ্যামাজন ফ্লেক্স। এই ব্যবস্থায় যোগ্যতা পূরণকারী সরবরাহকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে পার্সেল পৌঁছে দেন। তবে সব এলাকায় সব সময় নতুন কর্মী নেওয়া হয় না। কাজ শুরু করার আগে গাড়ির ধরন, ড্রাইভার লাইসেন্স, বিমা, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে, যাঁদের অতিরিক্ত গাড়ি রয়েছে কিংবা যাঁদের গাড়ি দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকে, তাঁরা টুরোর মাধ্যমে গাড়ি ভাড়ায় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মে যোগ্য গাড়ির মালিকেরা নিজেদের গাড়ি অন্যদের ব্যবহারের জন্য ভাড়ায় দিতে পারেন। ফলে প্রতিবার নিজে গাড়ি চালিয়ে আয় করার প্রয়োজন হয় না। তবে গাড়ির বয়স, মাইলেজ, মালিকানা, বিমা এবং প্ল্যাটফর্মের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী গাড়ি তালিকাভুক্ত করা যায় কি না, তা যাচাই করতে হবে। নিয়মিত ভাড়াটে পাওয়া বা নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়ের নিশ্চয়তাও নেই। চাকরি না থাকলেও গাড়িকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকতে পারে। তবে এসব প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে সাধারণত বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। শুধু গাড়ি থাকলেই কাজ পাওয়া বা আয় নিশ্চিত হয় না। যাঁরা নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে চান, তাঁরাও নিজেদের সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী এসব কাজ বিবেচনা করতে পারেন। গাড়ি থেকে আয়ের হিসাব করার সময় জ্বালানি, মেরামত, টায়ার, বিমা, টোল, পার্কিং এবং গাড়ির মূল্যহ্রাসের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ ছাড়া স্বনিয়োজিত বা চুক্তিভিত্তিক কাজের আয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্সের দায় থাকতে পারে। ব্যক্তিগত গাড়ির ইন্স্যুরেন্স সব ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহার বা ভাড়ায় দেওয়ার ঝুঁকি কভার করে না। তাই কাজ শুরুর আগে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের শর্ত যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। যাত্রী পরিবহন, খাবার সরবরাহ, বাজার করে দেওয়া, পার্সেল ডেলিভারি কিংবা গাড়ি ভাড়ায় দেওয়ার মতো একাধিক বিকল্প থাকায় নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়া সম্ভব। তবে গাড়ির খরচ, স্থানীয় চাহিদা ও প্রকৃত লাভের হিসাব না করে শুধু আয়ের সম্ভাবনা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
স্মৃতি হারালেও হারায়নি সুরের টান, হারলেমে গান গেয়ে একাকিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছেন প্রবীণেরা
ব্রুকলিনে এক মুহূর্তেই থেমে গেল ৩০ বছর বয়সী নারীর জীবন, শোকের ছায়া এলাকায়
নিউইয়র্কে শীতের বিল দিতে সর্বোচ্চ ৯৯০ ডলার সহায়তা, ২ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পেন্টাগন বাজেট নিয়ে কংগ্রেসে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা ইস্যুগুলো দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে থাকলেও, এবার সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিতর্কিত আচরণ, বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেটে উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি, ট্রাম্পের নামে যুদ্ধজাহাজের বহর নামানো এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ (War Department) রাখার মতো বেশ কিছু ব্যক্তিগত ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, ইরানের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে পেন্টাগন, যা তীব্র প্রতিবাদের মুখে আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করে সামরিক তহবিল আটকে রাখাকে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দাবি, ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সামরিক তহবিল আটকে রেখে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্বক ঝুঁকিতে ফেলছেন। তবে খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক আইনপ্রণেতাও প্রকাশ্যে ও গোপনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের কার্যপ্রণালী নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসে শুনানিকালে ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্যকে 'বেপরোয়া ও পরাস্ত মানসিকতার' বলে আক্রমণ করা এবং রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অপেশাদার আচরণের কারণে হেগসেথ খোদ নিজ দলেও সমর্থন হারাচ্ছেন। এমনকি ইরান যুদ্ধের জেরে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বছরের শেষ ভাগে এসে সামরিক খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো (এনডিএএ এবং বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয়) ঝুলে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রভাণ্ডার বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে পেন্টাগনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে সাদ্দাম হোসেনকে অর্থায়নের অভিযোগ থাকা চ্যারিটির বোর্ডে মিশিগানের সিনেট প্রার্থীর বাবা
১৭ বিলিয়ন ডলারে ইনস্টাকার্ট কিনছে ডোরড্যাশ, এক ছাতার নিচে আসছে দুই ডেলিভারি জায়ান্ট
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে ফেরা ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড বহাল রাখার ইঙ্গিত গভর্নরের
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরভাতা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণকারী মানুষের জন্য নতুন বছরের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। ২০২৭ সালে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩.৬ শতাংশ বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ঘোষিত হার কার্যকর হলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ ডলার বেশি পেতে পারেন। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ঘোষণার ভিত্তিতে এই বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগী সমান অঙ্কের বাড়তি অর্থ পাবেন না। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ বেশি হলে বাড়তি অর্থও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। আবার স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা অন্যান্য কর্তন থাকলে হাতে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। অবসরভাতা ও প্রতিবন্ধিতাজনিত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার নতুন অঙ্ক ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থপ্রদানে কার্যকর হবে। অন্যদিকে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা জানুয়ারির অর্থ আগাম ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পেতে পারেন।তাই ডিসেম্বরের শেষ দিকে অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হলে সেটি কোন মাসের জন্য দেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একক ব্যক্তি ও দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ সহায়তাঘোষিত হিসাব অনুযায়ী, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচিতে যোগ্য একক ব্যক্তির সর্বোচ্চ মাসিক ফেডারেল সহায়তা ১ হাজার ২৯ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৫৪৪ ডলার হতে পারে। এগুলো সর্বোচ্চ নির্ধারিত অঙ্ক; প্রত্যেকের প্রকৃত প্রাপ্য অর্থ নয়। আয়, সম্পদ, পারিবারিক অবস্থা এবং অন্যান্য নিয়মের ভিত্তিতে প্রকৃত অর্থ কম হতে পারে। সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন হিসাবের মাধ্যমে নতুন ভাতার বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারবেন। অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি না পেলে ডাকযোগে পাঠানো চিঠিও যাচাই করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ভাতার পরিমাণ এবং প্রযোজ্য কর্তনের তথ্য উল্লেখ থাকবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর পড়া চাপ কিছুটা কমানো। তবে ভাতা বাড়লেও বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে গেলে পরিবারের আর্থিক চাপ পুরোপুরি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য নতুন ভাতার বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য অর্থ জানতে সরকারি হিসাব ও ব্যক্তিগত বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করা উচিত।
জর্জিয়ার স্কুলে হামলার ছক, ফ্লোর প্ল্যানসহ নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করেছিলেন তিন সন্দেহভাজন
আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে একই নামের দুই প্রার্থী, ভোট কাটার অভিযোগে তোলপাড়