গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাহত ও চিকিৎসাবঞ্চিত শিশুদের চিকিৎসার্থে এক লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই তহবিলের পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। যুক্তরাজ্যের অলাভজনক সংস্থা নজুম স্পোর্টসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এক দাতব্য অনুষ্ঠান থেকে বিপুল এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবল ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই অর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে নজুম স্পোর্টসের উদ্যোগে এই বিশেষ দাতব্য অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি অনুষ্ঠানে হামজাকে নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এর পাশাপাশি মুসলিম খেলোয়াড়দের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক ও বিভিন্ন স্মারক নিলামে তোলা হয়।
এই নিলামের মূল আকর্ষণ ছিল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটির হয়ে জেতা ঐতিহাসিক ট্রফি ও স্মারকগুলো। এর মধ্যে তার এফএ কাপজয়ী জার্সিটি সাত হাজার পাউন্ড এবং কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদকটি তিন হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। অনুষ্ঠানটির টিকিট বিক্রি এবং নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের একটি দাতব্য সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে।
সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে হামজা চৌধুরী জানিয়েছেন, এই তহবিলের সম্পূর্ণ অর্থ গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ সংস্থাটি গাজার শিশুদের জরুরি সহায়তা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। হামজা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, স্বল্প সময়ে আয়োজিত এই নিলাম থেকে অর্জিত তহবিল গাজার বিশাল দুর্ভোগের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য হলেও, প্রতিটি ছোট প্রচেষ্টাই বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে।
এদিকে, মাঠের বাইরে এমন মহতী ও মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি হামজা বর্তমানে জাতীয় দলের হয়েও মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে না পারলেও, প্রধান কোচ টমাস ডুলির ভাষ্যমতে ৯ নভেম্বর তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে তাকে দেখার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সেখানে নতুন করে আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম কেন্দ্রটিতে কর্মরত জনবলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার যে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে এই নতুন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে দুই দেশের পরমাণু খাতের এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার তথ্যটি সামনে এসেছে। রোসাটমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্সি লিখাচেভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা মস্কোর নেই। বরং কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সেবা কার্যক্রমে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও ৫০৮ জন বিশেষজ্ঞ, যা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট কর্মীর সংখ্যা ৭০০ জনে নিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রটিতে নতুন কয়েকটি বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত এই সহযোগিতার খবরটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে মস্কো সফর করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সফরকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেছেন। এর আগে, সিআইএস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রোসাটমের প্রধান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে ছোট ও বড় আকারের আরও বেশ কয়েকটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পশ্চিমা নানা বিধি-নিষেধের মুখেও রাশিয়া ও ইরানের পারমাণবিক খাতের কৌশলগত মিত্রতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব
আফগানিস্তানে এক বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিরছেন কৃষকেরা
প্রেমিককে বিয়ে করার দাবিতে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলায় প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। পরিবারের আপত্তির কারণে বিয়ে না হওয়ায় টাওয়ারে উঠে পড়েন তিনি। পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার পর নিচে নামতে রাজি হন তরুণী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণীর নাম সাহিবা বেগম। তিনি মেহেক নামেও পরিচিত। তাঁর প্রেমিক নুরউদ্দিনের বয়স ২১ বছর। কাজের জন্য নুরউদ্দিন তখন বাহরাইচ থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেক ও নুরউদ্দিন বিয়ে করতে চাইলেও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কের বিরোধিতা করছিলেন। পরিবারের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান মেহেক। এমনকি বিয়ের দাবি পূরণ না হলে টাওয়ার থেকে লাফ দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নুরউদ্দিনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। দুই পরিবারের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কলের মাধ্যমে স্থানীয় এক মুসলিম ধর্মীয় নেতার উপস্থিতিতে তাঁদের নিকাহ সম্পন্ন হয়। মুম্বাইয়ে থাকা নুরউদ্দিন অনলাইনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। নিকাহের পর মেহেক টাওয়ার থেকে নেমে আসতে রাজি হন। পরে পুলিশ মেহেক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ মেটানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের আপত্তি ও বিয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং অনলাইনে নিকাহের মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাতি-নাতনির দেখাশোনা করলেই পেনশনে মিলবে ৭ হাজার পাউন্ডের সুবিধা, আয়ের নতুন সুযোগ
ইউক্রেনের দিনিপ্রোতে রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় নি হত ১৪, মিত্রদের কঠোর পদক্ষেপ চাইলেন জেলেনস্কি
নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আরব নেতারা
ব্রাজিলের পারনামবুকো রাজ্যের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার মাসের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহৃত দুধ ভুল করে নাকের নল দিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ঘাড়ের শিরায় সংযুক্ত আইভি লাইনে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির নাম মিগেল অ্যাঞ্জেলো বারবোসা। ব্রঙ্কিওলাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এটি শ্বাসনালির ক্ষুদ্র শাখায় প্রদাহ সৃষ্টি করা একটি রোগ, যা শিশুদের শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবর শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা তার এক খালা কিছুক্ষণের জন্য কক্ষ থেকে বাইরে যান। ফিরে এসে তিনি শিশুটিকে নীলচে হয়ে যেতে দেখেন। এ সময় দুধ দেওয়ার নলটি ভুলভাবে শিরায় সংযুক্ত ছিল বলে পরিবারের দাবি। এরপর হাসপাতালের কর্মীরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালানো হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী ভুলের কথা স্বীকার করে দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ২১ অক্টোবর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তে মামলা হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমন নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা দলকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল। ফরেনসিক পরীক্ষার পর ২২ অক্টোবর শিশুটিকে দাফন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য আরও পরীক্ষার ফল প্রয়োজন। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফল পেতে ৩০ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। ঘটনাটি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় রোগীর নিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের খাওয়ানোর নল ও শিরায় ওষুধ বা তরল দেওয়ার ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তবে শিশুটির মৃত্যু ঠিক কী কারণে হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৯, প্রাণ গেছে অন্তঃসত্ত্বা নারীরও
একসঙ্গে প্রায় এক ডজন ক্ষে পণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, সতর্ক দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান