সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৫:৫৩
ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে
ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ দাবি করা হয়েছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসে নেতানিয়াহু ইরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করার একদিন পর।

 

নিউজম্যাক্সের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, ইসরাইলি গোয়েন্দারা গত বছরের ডিসেম্বরে জানতে পারে, ফ্লোরিডায় অবস্থানরত ইয়াইরকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান। ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইর নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং গত কয়েক বছর ধরে বেশির ভাগ সময় মিয়ামি এলাকায় বসবাস করছিলেন।

 

মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সূত্রের দাবি, ইরানের হয়ে কাজ করা একটি দল মিয়ামি এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইয়াইরের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। ইসরাইলি গোয়েন্দারা বিষয়টি জানার পর তাকে দ্রুত ফ্লোরিডা ছেড়ে ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ইয়াইর দ্রুত ফ্লোরিডা ছাড়েন। এমনকি নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর থেকে তিনি ইসরাইলেই বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

এর আগে সোমবার ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইরান তার দুই ছেলের একজনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে তখন তিনি কোন ছেলে লক্ষ্যবস্তু ছিলেন, কখন ঘটনাটি ঘটেছে বা কীভাবে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। 

 

নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে ইয়াইরকেই কথিত হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, এই দাবির বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। টাইমস অব ইসরাইলও জানিয়েছে, মার্কিন সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইয়াইরকে লক্ষ্য করার বিষয়টি সামনে এসেছে। 

 

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র এবং নেতানিয়াহুর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু তার ছেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে কথিত হত্যাচেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। 

 

তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ফলে ফ্লোরিডায় ইয়াইরকে ঘিরে কথিত হত্যাচেষ্টার বিস্তারিত তথ্য এখনো মূলত গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের বিশাল গুদাম আগুনে পুড়ে ধ্বংস

রাশিয়ার তামবভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর দেশটির অন্যতম বড় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বিশাল লজিস্টিকস সেন্টারে আগুন ধরে পুরো স্থাপনাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বুধবার ২৬ আগস্ট রাতে ওই হামলায় একজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   তামবভের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্ক শহরের লজিস্টিকস সেন্টারটিতে ড্রোন হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন প্রায় ১ লাখ বর্গমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়, যা প্রায় ১৪টি ফুটবল মাঠের সমান। পরে তিনি জানান, আগুনে লজিস্টিকস সেন্টারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।   হামলার সময় গুদামে থাকা কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় একজন কর্মী আহত হয়ে কনকাশনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওয়াইল্ডবেরিজও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওই স্থাপনায় নতুন পণ্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।   তামবভ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোন হামলার দায় ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।   ওয়াইল্ডবেরিজের এই গুদামটি এর আগেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্য হয়েছিল। গত ১৮ জুলাই একই কতোভস্ক স্থাপনায় হামলায় সাতজন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। এরপর জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদাম ও লজিস্টিকস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার আরেক বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজনের লজিস্টিকস সেন্টারগুলোকেও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বাজারে ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজন দুই প্রতিষ্ঠানই বড় অংশ দখল করে আছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি যখন ধীরগতির প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে, তখন বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস অবকাঠামোয় এ ধরনের হামলা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের মতে।   এদিকে তামবভের পাশের লিপেতস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর একটি বাড়িতে আগুন লেগে এক ব্যক্তি ও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বেলগোরোদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৭:৩২
‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

‘ঈদ মোবারক’ লিখে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি

চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ

চাঁদে পৌঁছানোর পথের হিসাব করেছিলেন নাসার এই গণিতবিদ, ১০১ বছর বয়সে মৃত্যু

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

ইরানি গুপ্তহত্য'র শঙ্কায় ফ্লোরিডা থেকে দ্রুত ইসরাইলে ফেরেন নেতানিয়াহুর ছেলে

সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো ভারতীয় ড্রোনের একটি কিরানা হিলসে আঘাত করেছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। ছবি: এআই
পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার

অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলস এলাকায় একটি ভারতীয় ড্রোন বা ‘লোইটারিং মিউনিশন’ আঘাত করেছিল। তবে ওই এলাকায় পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান।   মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অপারেশন সিঁদুরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় বাহিনীর পাঠানো ড্রোনগুলোর মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার আশপাশে রাডার শনাক্ত করা। লক্ষ্য খুঁজে না পেয়ে একটি ড্রোনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করে থাকতে পারে। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এলাকাটি পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ে আসছে। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় সেখানে বিস্ফোরণ বা ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবর নিয়ে ভারতীয় হামলার সম্ভাবনা ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।   জেনারেল চৌহান বলেন, অপারেশন সিঁদুরের আগে সারগোধা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করে লক্ষ্য খুঁজতে পারে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য শনাক্ত না হলে ডিভাইসটির জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়ে সেটি অন্য কোথাও আঘাত করতে পারে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করা ড্রোনটি সম্ভবত সারগোধার কাছে রাডার খুঁজছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত করতে না পারার পর সেটি কিরানা হিলসের কোনো স্থাপনা বা পাহাড়ে আঘাত করে থাকতে পারে। তবে এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ঘটনা, পরিকল্পিত হামলা নয়।   ভারতের সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীর বক্তব্যও উল্লেখ করেন। ভারতী এর আগে বলেছিলেন, কিরানা হিলসে পাকিস্তানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি। নতুন এই বক্তব্যে অবশ্য কিরানা হিলস এলাকায় ভারতীয় অস্ত্র আঘাত করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের জল্পনার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। একই সঙ্গে জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, ভারতের পরিকল্পিত সামরিক লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা নয়।   অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৭ মে। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয় এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। অনুষ্ঠানে জেনারেল চৌহান অপারেশন সিঁদুরের আরেকটি বিষয়ও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদুতে হামলার অনুমোদন ভারতীয় বিমানবাহিনী পেয়েছিল। তবে পরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।   এরপর বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে পাকিস্তানের ভোলারি এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় হামলার ছবি ও স্যাটেলাইটচিত্রও প্রকাশ্যে আসে। কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনের আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, কিরানা হিলসের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। সেখানে ড্রোনের আঘাত ছিল লক্ষ্য শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ফল।   এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ব্যাখ্যার বাইরে কিরানা হিলসে ঠিক কোন স্থাপনায় ড্রোনটি আঘাত করেছিল বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।   সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:৩
বিড়ালের কান্না মনে করে বাইরে এসে পরিত্যক্ত জমিতে নবজাতককে খুঁজে পান স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে। ছবি: সংগৃহীত

বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যেতে গিয়ে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চেয়েছিলেন, শহরের নামের ভুলে পৌঁছে গেলেন উত্তর কোরিয়ায়

৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে  সাজানো গাড়ি

৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে সাজানো গাড়ি, শেষ পর্যন্ত গুনতে হলো জরিমানা

সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং
সাত বছর পর ভারতে শি জিনপিং, ৪০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরের সম্ভাবনা

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বর প্রায় ৪০০ সদস্যের বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত সফরে যেতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাত বছর পর তাঁর সম্ভাব্য এই ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ভারতের একটি সূত্র জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সফরকে ঘিরে চীনা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার কাজ করছেন। ভারতের দুটি সূত্রের দাবি, চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা ভারত সফরে আসতে পারেন। ২০১৯ সালে তাঁর সর্বশেষ ভারত সফরের সময় প্রতিনিধিদলে কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ২০০ জনেরও কম।   ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারত ও চীনের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কমানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়সূচিও চূড়ান্ত করা হয়নি।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিকস সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এ বছরের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতকে সমর্থন করে। তবে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে তাদের কাছে বর্তমানে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।   সীমান্ত বিরোধ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর বড় একটি অংশ এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত হয়নি। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।   প্রায় চার বছর ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তের কয়েকটি এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া ও বিচ্ছিন্নকরণ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এর ফলে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।   এদিকে সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনার জন্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেছেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কিছু অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু ব্রিকস সম্মেলনের জন্যই নয়, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে সীমান্ত বিরোধ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো ভারত-চীন সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব মতপার্থক্য কতটা কমানো সম্ভব হবে, তার ওপরই সম্ভাব্য এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৪:১৯
নাসার ইন্টার্নশিপের তৃতীয় দিনেই ১৭ বছরের কিশোরের গ্রহ আবিষ্কার

নাসার ইন্টার্নশিপের তৃতীয় দিনেই ১৭ বছরের কিশোরের গ্রহ আবিষ্কার

পরিবারের কাছ থেকে পরিচয় লুকাতে ইমোজি মাস্ক পরে ১৮ কোটি টাকার লটারি নিলেন নারী

পরিবারের কাছ থেকে পরিচয় লুকাতে ইমোজি মাস্ক পরে ১৮ কোটি টাকার লটারি নিলেন নারী

বছরের পর বছর না খেয়ে একই জায়গায় থাকে ৭ বছর

প্রায় ১০০ বছর বাঁচে গুহার এই প্রাণী! বছরের পর বছর না খেয়ে একই জায়গায় থাকে ৭ বছর

0 Comments