ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা তুলে ধরে জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মোহাম্মদ সাফা নামের এই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি চলছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট এবং বিস্তারিত চিঠির মাধ্যমে তিনি নিজের পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, যা জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংস্থা। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘে সংস্থাটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সাফার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের অভ্যন্তরে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর কারণে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তেহরানের একটি ছবি যুক্ত করে দেওয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব সাধারণ মানুষ যথাযথভাবে উপলব্ধি করছে না এবং সম্ভাব্য বিপর্যয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তেহরান একটি ঘনবসতিপূর্ণ নগরী, যেখানে লাখো সাধারণ মানুষ বসবাস করে—এমন একটি শহরে হামলার চিন্তাও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়াবহ। একই ধরনের হামলা যদি বিশ্বের বড় বড় শহরে হতো, তাহলে তার পরিণতি কতটা ভয়ংকর হতে পারত—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাফা জানান, সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে না চাওয়াই তার এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। তিনি মনে করেন, বিশ্বকে একটি সম্ভাব্য “পারমাণবিক শীতকাল” থেকে রক্ষা করতে এখনই সচেতনতা তৈরি জরুরি।
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক একটি বড় বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন এবং বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এমন বিপর্যয় ঠেকাতে পারে।
সাফা দাবি করেন, তিনি আগেই পদত্যাগের কথা ভেবেছিলেন এবং গত কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তার অভিযোগ, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং কিছু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিন্নমত প্রকাশ করার পর থেকেই তাকে সমালোচনা, চাপ এবং হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গাজা পরিস্থিতির পর থেকে একটি বিশেষ প্রভাবশালী গোষ্ঠী বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই পদত্যাগ ও অভিযোগ নিয়ে এখনো জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখন কার্যত প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনটি সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে ইরানের প্রভাব ও সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলমান সংঘাত চলাকালীন ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপ আবারও নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষণ। একজন সূত্র সিএনএনকে বলেন, “আমরা এখন কার্যত ইরানকে এই প্রণালীর ওপর প্রভাবশালী অবস্থানে বসিয়ে দিয়েছি, যা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।” আরেকটি সূত্র জানায়, যুদ্ধ চলাকালে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে ‘অসামরিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা’ও অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত না মানে, তবে তারা কোনো সুবিধা পাবে না। তার ভাষায়, “প্রণালী খোলা থাকলেই কেবল সুবিধা দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে, যা নির্ভর করবে ইরানের বাস্তব অগ্রগতির ওপর। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী আবার পুরোপুরি চালু হলেও অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে, যার কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, দ্রুতগামী নৌযান এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এই প্রণালীকে ভবিষ্যতেও ঝুঁকিপূর্ণ রাখতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে চাপ তৈরির বিকল্প কৌশল নিয়েও ভাবছে, যা কার্যকর হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও বড় বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, কারণ উভয় পক্ষই এখন কৌশলগত এই জলপথকে ভবিষ্যৎ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির আওতায় ইরানে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বেসরকারি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চুক্তি সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, তহবিলটির অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র জানায়, চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান এবং একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে উৎসাহিত করতেই এই তহবিলের ধারণা তৈরি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিলটির পুরো অর্থই আসবে বেসরকারি খাত থেকে। এতে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন কোম্পানি এতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। গত রোববার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানান। চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন তহবিল নয়; বরং একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। তহবিলের অর্থ মূলত জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ করা হবে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রথমে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল’ গঠনের ধারণা সামনে আসে। এই তহবিলের আওতায় যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে মোবারকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, বিভিন্ন তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল ইরানের অর্থনীতি। অথচ দেশটির রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুদ। পাশাপাশি ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং পেট্রোকেমিক্যাল, খনি, কৃষি ও পর্যটনের মতো সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার সঙ্গে এই তহবিলের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিন প্রকল্পের কাঠামো, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান বা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানকে এই তহবিলের সুবিধা পেতে হলে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থার মতো কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কোম্পানি তহবিলে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও কৌশলগত কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। আগামী দুই মাসে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে দুই দেশ। সূত্র: রয়টার্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুল এল-সায়েদ তার প্রথম নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। “ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াই” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই বিজ্ঞাপনটি এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন। বিজ্ঞাপনে আবদুল এল-সায়েদ বলেন, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করতে চান যেখানে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবের কাছে চাপা পড়বে না। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৮ সালে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত একটি মুখ। ২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে মিশিগানে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসনটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এল-সায়েদের প্রচারণা মূলত তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর সমর্থন অর্জনের দিকে কেন্দ্রীভূত। তার নতুন বিজ্ঞাপনেও সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে বিজ্ঞাপনটি কতটা ভোটারের কাছে সাড়া ফেলতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মিশিগানের সিনেট নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্যটির জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে, তার ওপর এই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বাস্তবতায় আবদুল এল-সায়েদের প্রথম প্রচার বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।