বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

ইমা এলিস/ বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের প্রায় ৪১ শতাংশেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই নতুন এক তথ্য বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না। এই তথ্য নির্বাসন ডেটা প্রকল্প-এর একটি তথ্য স্বাধীনতা আইন (এফওআইএ) অনুরোধের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট তা বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করে। প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট।


এই পরিসংখ্যান দেখায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৌশল নরম করার ঘোষণা সত্ত্বেও ফেডারেল এজেন্টরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধবিহীন ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে চলেছে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারির শেষ দিকে জানায়, তারা অভিবাসন প্রয়োগে “কিছুটা নমনীয়তা আনবে। একই সময়ে 'বর্ডার জার' টম হোমান বলেন, অগ্রাধিকার দেওয়া হবে অপরাধী অভিবাসী, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, 'আপনি যদি অবৈধভাবে দেশে থাকেন, তাহলে আপনি কখনোই তালিকার বাইরে নন।


তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে গ্রেপ্তারদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল, আর ২৯ শতাংশের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা ছিল। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগের ধরন উল্লেখ করা হয়নি।


প্রশাসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে 'সবচেয়ে বিপজ্জনক' ব্যক্তিদেরই গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট অপরাধী অভিবাসীদের ছবি প্রদর্শন করতেন, আর প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে অবৈধ অভিবাসীদের হাতে নিহত নাগরিকদের ঘটনা তুলে ধরেন।


তবে সংবাদ প্রতিবেদন ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদেরই হঠাৎ করে কমিউনিটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়—ক্যানসার থেকে সেরে ওঠা এক মার্কিন শিশুকে তার অনথিভুক্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে। আরেক ঘটনায়, পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে তার বাবার সঙ্গে আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আবার, কোনো গ্রেপ্তার রেকর্ড না থাকা হন্ডুরাসের এক মাকে তার চার সন্তানের সঙ্গে আটক করা হয়।


এছাড়া গত এক বছরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের মতো ছোটখাটো অপরাধে অভিযুক্ত হাজারো মানুষকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।


সিবিএস নিউজ-এর প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ গ্রেপ্তারকৃত অভিবাসীর মধ্যে ১৪ শতাংশেরও কমের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল।


বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের নির্ধারিত কোটা পূরণের চাপও অনেক অপরাধবিহীন ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার প্রতিদিন ৩ হাজার আইসিই গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।


এই লক্ষ্য পূরণে কর্মকর্তাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা বিচারাধীন মামলা না থাকা ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
অস্ট্রিয়ার ইরান দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ‘ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিল ইরান

অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘ভণ্ডামি’র দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে কালাসের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তেহরান এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলাপকালে কালাস হরমুজ প্রণালিতে ‘শুল্কমুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনাকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য ইরানের পদক্ষেপকে দায়ী করেন।   কালাসের এই বক্তব্যের জবাবে ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইইউ প্রধান ইরানের ‘খাঁটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের’ নিন্দা জানালেও ইরানকে লক্ষ্য করে ‘আমেরিকান-ইসরাইলি অশুভ জোটের আগ্রাসী হামলা’ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। এছাড়া আইনি প্রেক্ষাপটে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দূতাবাস উল্লেখ করেছে যে, কালাস ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, অথচ ইরান এই চুক্তির পক্ষভুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান।   দূতাবাস আরও কঠোর ভাষায় কালাসের উপদেষ্টাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অভিযোগ করেছে যে তারা তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তি (NPT) সম্মান করে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই ধরনের আচরণকে দ্বিমুখী এবং বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান দূতাবাস।   বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল একপক্ষকে দায়ী না করে সামগ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এই বাদানুবাদের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হলো হরমুজ প্রণালি, চলছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত।

ড্রাগনের নতুন গর্জন: চমক দেখালো চীনের বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার ‘আনকিং’

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জরুরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জরুরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের অবদানে কৃতজ্ঞ ইরান

ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান কখনোই ইসলামাবাদের প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেনি। শনিবার (৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এই স্পষ্টীকরণ প্রদান করেন। এর আগে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (WSJ) এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, পাকিস্তান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে এবং ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন মিডিয়ার এমন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ইরানের অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। আমরা পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ এবং কখনোই ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাইনি। "আরাগচি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান মূলত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধের’ একটি স্থায়ী এবং চূড়ান্ত অবসান চায়।  আলোচনার ক্ষেত্রে সেই শর্তাবলিই ইরানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পোস্টের শেষে তিনি উর্দুতে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লিখে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং ইরানি নাগরিকদের পাকিস্তানি পতাকা হাতে উল্লাস করার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ইরানের এই দ্রুত স্পষ্টীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার। আরাগচির পোস্টের জবাবে তিনি একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা’ হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি সংবাদমাধ্যমগুলোকে কেবল দাপ্তরিক বিবৃতির ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ভিত্তিহীন জল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং চীনের সাথে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ সরাসরি আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে একটি চতুর্ভুক্তি বৈঠকে ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের মাটিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন গণমাধ্যমের এই ধরনের প্রতিবেদন মূলত শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা হতে পারে, যা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়োপযোগী বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই'র অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের ৪১ শতাংশই নিরপরাধ

জান্নাত নিশাত

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত

চীনের জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল

চীনের জ্বালানির ওপর নির্ভর করছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল

অস্ট্রিয়ার ইরান দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
ইইউ প্রধানকে ‘ভণ্ড’ বলল অস্ট্রিয়ায় ইরান দূতাবাস

অস্ট্রিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে এবং তার অবস্থানকে ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।   হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে কালাসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য আসে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে আলোচনার সময় কালাস ওই প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করেন।   এর জবাবে ইরান দূতাবাস জানায়, ইইউ প্রধান ইরানের ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কথিত আগ্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নীরব রয়েছেন। দূতাবাসের দাবি, এই অবস্থান দ্বৈত মানদণ্ডেরই পরিচয় বহন করে।   আইনি বিষয়েও কালাসের বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তেহরান। দূতাবাস উল্লেখ করে, তিনি ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানালেও দেশটি সেই চুক্তির সদস্য নয়।   এছাড়া কালাসের উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। দূতাবাসের মতে, সঠিক তথ্য ও পরামর্শের অভাবেই এমন বক্তব্য এসেছে। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি মেনে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ইঙ্গিত দেয়।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক বলে অভিযোগ তুলেছে তেহরান।   সূত্র: আলজাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
গাজার জন্য গঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিসে' সম্প্রতি যোগ দিয়েছে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূতের ভূমিকায় পাকিস্তান, ভারত কি কোণঠাসা হচ্ছে?

ছবি: সংগৃহীত।

নিখোঁজ ক্রুকে ধরিয়ে দিলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ, ভয়াবহ সংকটে ভারতের কনডম বাজার

0 Comments