তথ্যপ্রযুক্তি

ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৮:২
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ

হোয়াটসঅ্যাপের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত 'ইউজারনেম' ফিচার অবশেষে অফিশিয়ালি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কাউকে মেসেজ পাঠাতে আর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না, কেবল একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকলেই চলবে।

 

তবে এই ঘোষণার পরপরই প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপকে কটাক্ষ করে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই একই ফিচার টেলিগ্রামে ২০১৪ সাল থেকেই বিদ্যমান। অর্থাৎ, হোয়াটসঅ্যাপ যা ২০২৬ সালে নিয়ে এলো, টেলিগ্রাম তা এক যুগ আগেই ব্যবহারকারীদের দিয়ে আসছে।

 

২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপের যাত্রা শুরুর পর থেকে ফোন নম্বরই ছিল ব্যবহারকারীদের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল প্রাইভেসির অভাব। কাউকে মেসেজ করতে হলে নিজের ব্যক্তিগত নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক থাকায় স্প্যাম মেসেজ এবং হয়রানির চরম ঝুঁকি থেকে যেত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যাটি আরও গভীর, যেখানে অনেক নারীই নম্বর শেয়ার করে অপরিচিতদের কাছ থেকে মেসেজ আসার ভয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

 

ইউজারনেম ফিচারটি এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এই পরিবর্তন তুলনামূলক সহজ হলেও, হোয়াটসঅ্যাপের জন্য এটি ছিল এক বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। কারণ, তাদের সম্পূর্ণ আর্কিটেকচার এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ফোন নম্বরকে কেন্দ্র করে তৈরি। প্রায় ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর এই বিশাল সিস্টেমের পুরনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার নতুন করে সাজাতেই মূলত এত বছর সময় লেগেছে মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির।

 

নতুন এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে নিজেদের পছন্দমতো একটি ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন, যেখানে ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, পিরিয়ড বা আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তার জন্য 'ইউজারনেম কি' (Username Key) নামক একটি চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোড যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারটি চালু থাকলে, শুধুমাত্র ইউজারনেম জানলেই কেউ সরাসরি মেসেজ করতে পারবে না; তাকে চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোডটিও জানতে হবে। অন্যথায় প্রেরকের মেসেজটি সরাসরি ইনবক্সে না এসে 'রিকোয়েস্ট' ফোল্ডারে জমা হবে। প্রাইভেসির দিক থেকে এটি একটি বড় অগ্রগতি, কারণ নতুন কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কেবল ইউজারনেমটিই দেখতে পাবেন। তবে ব্যবহারকারীর পুরোনো কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরা আগের মতোই ফোন নম্বর দেখতে পারবেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের এই গ্লোবাল রোলআউটটি একযোগে সব জায়গায় না এসে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। আগামী ৭ জুলাই থেকে আলজেরিয়া, আজারবাইজান, ঘানা, লিবিয়া এবং নেপালে এই ফিচারের সূচনা হতে যাচ্ছে। এরপর ২০ জুলাই আরও কিছু দেশে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাকি সব দেশে এটি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হবে বলে জানা গেছে।

 

এই নতুন সংযোজন কেবল সাধারণ ব্যবহারকারীদের নয়, বরং হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসকেও আমূল বদলে দেবে। এখন থেকে কাস্টমারদের নম্বর সংগ্রহ করার বদলে ইউজারনেম ব্যবহার করেই ব্যবসায়িক যোগাযোগ অনেক সহজ ও সাবলীল হবে। ফোন নম্বরই পরিচয়ের একমাত্র মাধ্যম—এই সেকেলে ধারণাকে ভেঙে দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে ৩০০ কোটি মানুষের প্রাইভেসির সংজ্ঞাকেই নতুন করে লিখতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা

হোয়াটসঅ্যাপের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত 'ইউজারনেম' ফিচার অবশেষে অফিশিয়ালি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কাউকে মেসেজ পাঠাতে আর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না, কেবল একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকলেই চলবে।   তবে এই ঘোষণার পরপরই প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপকে কটাক্ষ করে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই একই ফিচার টেলিগ্রামে ২০১৪ সাল থেকেই বিদ্যমান। অর্থাৎ, হোয়াটসঅ্যাপ যা ২০২৬ সালে নিয়ে এলো, টেলিগ্রাম তা এক যুগ আগেই ব্যবহারকারীদের দিয়ে আসছে।   ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপের যাত্রা শুরুর পর থেকে ফোন নম্বরই ছিল ব্যবহারকারীদের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল প্রাইভেসির অভাব। কাউকে মেসেজ করতে হলে নিজের ব্যক্তিগত নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক থাকায় স্প্যাম মেসেজ এবং হয়রানির চরম ঝুঁকি থেকে যেত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যাটি আরও গভীর, যেখানে অনেক নারীই নম্বর শেয়ার করে অপরিচিতদের কাছ থেকে মেসেজ আসার ভয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।   ইউজারনেম ফিচারটি এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এই পরিবর্তন তুলনামূলক সহজ হলেও, হোয়াটসঅ্যাপের জন্য এটি ছিল এক বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। কারণ, তাদের সম্পূর্ণ আর্কিটেকচার এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ফোন নম্বরকে কেন্দ্র করে তৈরি। প্রায় ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর এই বিশাল সিস্টেমের পুরনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার নতুন করে সাজাতেই মূলত এত বছর সময় লেগেছে মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির।   নতুন এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে নিজেদের পছন্দমতো একটি ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন, যেখানে ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, পিরিয়ড বা আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তার জন্য 'ইউজারনেম কি' (Username Key) নামক একটি চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোড যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারটি চালু থাকলে, শুধুমাত্র ইউজারনেম জানলেই কেউ সরাসরি মেসেজ করতে পারবে না; তাকে চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোডটিও জানতে হবে। অন্যথায় প্রেরকের মেসেজটি সরাসরি ইনবক্সে না এসে 'রিকোয়েস্ট' ফোল্ডারে জমা হবে। প্রাইভেসির দিক থেকে এটি একটি বড় অগ্রগতি, কারণ নতুন কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কেবল ইউজারনেমটিই দেখতে পাবেন। তবে ব্যবহারকারীর পুরোনো কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরা আগের মতোই ফোন নম্বর দেখতে পারবেন।   হোয়াটসঅ্যাপের এই গ্লোবাল রোলআউটটি একযোগে সব জায়গায় না এসে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। আগামী ৭ জুলাই থেকে আলজেরিয়া, আজারবাইজান, ঘানা, লিবিয়া এবং নেপালে এই ফিচারের সূচনা হতে যাচ্ছে। এরপর ২০ জুলাই আরও কিছু দেশে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাকি সব দেশে এটি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হবে বলে জানা গেছে।   এই নতুন সংযোজন কেবল সাধারণ ব্যবহারকারীদের নয়, বরং হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসকেও আমূল বদলে দেবে। এখন থেকে কাস্টমারদের নম্বর সংগ্রহ করার বদলে ইউজারনেম ব্যবহার করেই ব্যবসায়িক যোগাযোগ অনেক সহজ ও সাবলীল হবে। ফোন নম্বরই পরিচয়ের একমাত্র মাধ্যম—এই সেকেলে ধারণাকে ভেঙে দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে ৩০০ কোটি মানুষের প্রাইভেসির সংজ্ঞাকেই নতুন করে লিখতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৮:২
পরীক্ষায় নকলের নিত্যনতুন মাধ্যম এখন ‘এআই চশমা’ | ছবি: পেক্সেলস

পরীক্ষায় নকলের নতুন মাধ্যম এআই চশমা, প্রশ্ন দেখলেই লেন্সে ভেসে ওঠে উত্তর

বুর্জ খলিফার নির্মাণ ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে জিটিএ সিক্সের বাজেট। ছবি: সংগৃহীত

বুর্জ খলিফার চেয়েও বেশি ব্যয়ে তৈরি হতে পারে জিটিএ সিক্স, মুক্তির অপেক্ষায় গেমপ্রেমীরা

ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস

ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

ছবি: সংগৃহীত
মানুষের কাছ থেকেই বৈষম্য আর বর্ণবাদ শিখছে এআই, জাতিসংঘের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিন দিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে—বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের মুখে প্রতিনিয়ত এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এমনকি প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরাও দাবি করেছেন যে, ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে গেছে এআই। তবে জাতিসংঘের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এআই-এর বুদ্ধিমত্তার আড়ালে এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত মানুষের কাছ থেকেই সমাজ ও ইতিহাসের কিছু কুৎসিত পক্ষপাতিত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করছে।   জাতিসংঘের গবেষকেরা বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ১৩৩টি এআই সিস্টেম নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ সিস্টেমে স্পষ্ট লিঙ্গবৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, এক-চতুর্থাংশের বেশি এআই সিস্টেমে একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য ও বর্ণবাদ বা জাতিগত বিদ্বেষ উভয়েরই উপস্থিতি দেখা গেছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) বারবার নারীদের ঘরবাড়ি, পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের গৎবাঁধা কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং পুরুষদের ব্যবসা, নেতৃত্ব ও কর্মজীবনে সফলতার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই সিস্টেমগুলো এমন সব উত্তর তৈরি করেছে, যেখানে নারীদের কেবল যৌনতার বস্তু কিংবা পুরুষের অধীনস্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকরা যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে কোনও ব্যক্তির লিঙ্গ দিয়ে বাক্য শুরু করে তা সম্পন্ন করতে বলেছিলেন, তখন প্রতি পাঁচটি উত্তরের মধ্যে প্রায় একটি উত্তর চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা নারীবিদ্বেষী হিসেবে এসেছে। এমনকি কিছু উত্তর নারীদের স্বাধীন মানুষ না ভেবে সম্পত্তি বা বস্তু হিসেবেও বর্ণনা করেছে।   জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোটি কোটি মানুষ ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কনটেন্ট তৈরি এবং দৈনন্দিন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজে যেহেতু দিন দিন এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন, তাই এই বৈষম্যমূলক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অসমতাগুলো আরও বেশি সুদৃঢ় হচ্ছে। ইউএন উইমেন স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনো সফটওয়্যার বাগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়; বরং এআই মূলত ইন্টারনেট থেকে এসব কুসংস্কার শেখে। ইন্টারনেট জগতটি গত কয়েক দশকের নানা রকম গৎবাঁধা ধারণা ও বৈষম্যে ভরপুর থাকায় এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের সেই পক্ষপাতগুলোকেই পুনরায় ফুটিয়ে তোলে।   সংস্থাটির ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়তমা বিক্রমনায়েকে বলেন, এআই模型গুলো মানুষের দ্বারা এবং মানুষকে নিয়ে লেখা বহু দশকের টেক্সট থেকে এসব পক্ষপাত শিখছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নারীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে অসম মাত্রায় হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এআইয়ের মাধ্যমে কিছু কিছু সহিংসতার রূপ তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আরও সহজ হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী ও নারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন এআইয়ের সহায়তায় অনলাইন সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।   ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ বলেছেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা হয়েছে। অন্যদিকে6 শতাংশ বলেছেন, তাদের ডিপফেক বা বিকৃত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে ইউএন উইমেন এআই তৈরির প্রতিটি স্তর থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন ও নীতি নির্ধারণের প্রতিটি ধাপে লিঙ্গ সমতা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বর্ণবাদী পক্ষপাতগুলো এভাবে চলতে থাকলে তা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১০:৩৭
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। | ছবি: সংগৃহীত

এআই মানুষের চাকরি কাড়বে না, বরং শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে: জেফ বেজোস

ছবি: সংগৃহীত

এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

ইলন মাস্কের আগেই বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন পেল চীন। ছবি: রয়টার্স

চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের যুগ? বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন

ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স
সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কিংবা কোনো সাফল্যের আনন্দে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আপনার আপলোড করা এই হাই-রেজল্যুশনের ছবিগুলোতেই হয়তো লুকিয়ে আছে মারাত্মক এক সাইবার ঝুঁকি।    আপনি যখন ছবিতে লাইক-কমেন্টের বন্যায় ভাসছেন, ঠিক তখনই হয়তো স্ক্রিনের ওপাশে থাকা কোনো হ্যাকার আপনার ছবির সেই আঙুল জুম করে খুঁটিয়ে দেখছে। অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুলের সেই রেখাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা তৈরি করে ফেলতে পারে আপনার আঙুলের ছাপের হুবহু ক্লোন। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক ডেটা একবার হ্যাকারের হাতে চলে গেলে তা আর পরিবর্তনের কোনো উপায় থাকে না।   পুরো বিষয়টি শুনতে হলিউডের কোনো স্পাই থ্রিলার বা ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার মতো মনে হলেও, বাস্তবে এর সত্যতা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু পোস্ট সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরিভাবে ছবি থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব।    কেউ যদি হাই-রেজল্যুশনের ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে দুই আঙুল উঁচিয়ে ছবি তোলেন, তবে এআই টুলের সাহায্যে সেই আঙুলের রেখাগুলোকে স্পষ্ট করে ক্লোন তৈরি করা যায়। পেনসিলভানিয়ার কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ব্যাস শেখরও বিষয়টির তাত্ত্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মানুষ যখন হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট করে, তখন এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।   এর আগে ২০১৪ সালে এক হ্যাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ছবি থেকে জার্মানির তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার দাবি করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।   তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জাস্টিন ক্যাপোসের মতে, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরনের সাইবার হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি খুবই সামান্য। কারণ, কেবল ছবি থেকে আঙুলের ছাপ পেলেই হবে না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ফোন হ্যাক করতে হলে হ্যাকারকে শারীরিকভাবে ওই ব্যক্তির ডিভাইস বা বায়োমেট্রিক স্ক্যানারের কাছাকাছি পৌঁছাতে হবে।   সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ‘হাই-ভ্যালু’ ব্যক্তিরাই হ্যাকারদের এমন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফিশিং স্ক্যাম বা ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।   তারপরও ডিজিটাল যুগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবিদরা কিছু বাড়তি সতর্কতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আঙুলের ছাপের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (টু-এফএ) বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এছাড়াও গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের অথেন্টিকেটর অ্যাপস, মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস এবং এনক্রিপ্টেড পাসকি ব্যবহার করা যেতে পারে।   একইসাথে, খুব কাছ থেকে হাতের তালু বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট বোঝা যায় এমনভাবে ‘ভিক্টরি’ বা ‘লাইক’ সাইন দিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘র’ ফাইল বা অরিজিনাল হাই-রেজল্যুশন ছবি আপলোড করার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ১৬:৩৯
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত

মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

ছবি: রয়টার্স

সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

0 Comments