সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

আইসের গুলিতে মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা মেক্সিকোর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ১৬:১২
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম I ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

 

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান নাগরিকদের ওপর এমন দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাই তারা শুধু কূটনৈতিক চিঠি চালাচালি বা আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বৈধ অভিবাসন নথিপত্র না থাকার কারণেই এক মেক্সিকান নাগরিককে আটকের নামে প্রাণ দিতে হলো।

 

গত মঙ্গলবার হিউস্টনে এই প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দাবি করেছে, তারা অবৈধভাবে বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। লরেঞ্জো সালগাদো আরউজো নামের ওই মেক্সিকান নাগরিককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলে তিনি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন।

 

আইস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, লরেঞ্জো তার গাড়ি দিয়ে আইসের একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এক এজেন্টকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে ওই এজেন্ট গুলি চালালে লরেঞ্জো গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

 

তবে এই ঘটনার পর বুধবার নিহতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরউজোর ছেলে জানিয়েছেন, তার বাবা প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। এমনকি তিনি তার ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের বৈধ অনুমতিপত্র পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন। বৈধতা পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা একজন দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দাকে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের প্রতিবাদে ও অধিকার আদায়ে স্লোগান দিচ্ছেন এক তরুণী। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব ছাড়াই রাস্তায় ইরানের তরুণীরা, কট্টরপন্থীদের চাপে সরকার

ইরানে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হিজাব আইন আবারও বড় বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা ও রাজনীতিকরা আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানালেও বহু নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। তবে আপাতত বড় ধরনের দমন অভিযান চালাতে সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছে সিএনএন।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বছরের সংঘাতের তীব্র সময়ে সরকারি সমাবেশ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও হিজাব ছাড়া নারীদের দেখা গেছে। তখন যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পোশাকবিধি প্রয়োগে কিছুটা শিথিলতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবশ্য হিজাব আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।    এরই মধ্যে হিজাব আইন না মানার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ১৯ জুলাই তেহরানে অন্তত সাতটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে পোশাকবিধি অমান্যের অভিযোগে বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও বন্ধ করা হয়েছে।    তেহরানের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় কথিত অশালীনতা এবং অনুমোদিত পোশাকবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হিজাববিধি লঙ্ঘন করে এমন পোশাক বিক্রির অভিযোগে কিছু দোকানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।    দেশটির দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশেও একই ধরনের অভিযান চলছে। প্রাদেশিক প্রসিকিউটর আহমেদ গাসেমির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফারসি বছরের শুরু থেকে সেখানে হিজাববিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০টি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে ২৮টি মোটরসাইকেল জব্দ এবং ৭০টি গাড়ির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে সরকারি বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    তবে ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে নারীদের প্রকাশ্য অবস্থান নতুন নয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে পুলিশ হেফাজতে তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ‘ওম্যান, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। হিজাব-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। আন্দোলনটি পরে কঠোরভাবে দমন করা হলেও বহু নারী এখনও প্রকাশ্যে বাধ্যতামূলক হিজাবের নিয়ম অমান্য করে আসছেন।    মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, বাধ্যতামূলক হিজাব অমান্যকারী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজরদারি, গ্রেপ্তার, আটক, জরিমানা, গাড়ি জব্দ এবং অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছিল। সংগঠনটি আরও বলেছিল, হিজাব আইন কার্যকর করতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় ছিল।    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন একটি কঠোর হিজাব আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে অ্যামনেস্টির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন আইন স্থগিত থাকলেও বিদ্যমান আইন ও বিধির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য জনপরিসরে বাধ্যতামূলক হিজাব কার্যকর করা অব্যাহত রয়েছে।    ফলে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ইরানে নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে পুরোনো সংঘাত আবারও সামনে এসেছে। একদিকে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে বহু নারী প্রকাশ্যেই সেই বিধি অমান্য করছেন। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১২:০
সাংহাইয়ের নিঃসন্তান দম্পতি ডু ইংরং ও চিকিৎসক লু সুয়িং নিজেদের সম্পূর্ণ সঞ্চয় শিশুদের চিকিৎসায় দান করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

দুজনে খাবার ভাগ করে খেয়ে ৪৫৫ শিশুর হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারে দান ৭ লাখ ৩৫ হাজার ডলার

বালির পবিত্র উৎসব 'নিয়েপি'র নিয়ম ভেঙে সৈকতে যাওয়ায় এক সুইস পর্যটককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বালিতে এসে ঘুরতে বাইরে বের হওয়ায় পর্যটকের এক বছরের কারাদণ্ড

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ স্বীকার পেজেশকিয়ানের

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার I ছবি: সংগৃহীত
ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধ ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার

গত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পেশ করা নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।   তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যারা সর্বাধিক ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে। এর পরপরই ৩ হাজার ৮০৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়াও ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধানত ভিক্ষাবৃত্তি, নিরাপত্তা শঙ্কা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপসাগরীয় দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেআইনি প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে।   এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি এবং ১ হাজার ২৯৪ জন কারাদণ্ড ভোগের পর দেশে ফিরেছেন। পাশাপাশি, ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের সময় ইরানি হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর দায়েও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানিকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে।   তবে পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, সংসদে উপস্থাপিত এই পরিসংখ্যানটি উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা মোট পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়।   তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক হওয়ার পর যাদের দেশে ফেরাতে পাকিস্তান দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট জারি করতে বাধ্য হয়েছে, শুধু তাদের তথ্যই এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ছিল, তাদের হিসাব এই তালিকার বাইরে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৮:৮
ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা  হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার

ইরানের সামরিক নীতি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’, মার্কিন সেনা হ ত্যা-বন্দিতে পুরস্কার

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় কম পানি ব্যবহারের পরামর্শ

জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ I ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ

ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছোট্ট অথচ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লিচেনস্টাইন
পুরো দেশে একটিই কারাগার, বন্দী মাত্র ১১ জন—সবাই বিদেশি নাগরিক

ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছোট্ট অথচ বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লিচেনস্টাইন। সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝে মাত্র ১৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি যেন এক রূপকথার রাজ্য। মাত্র ৪১ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটিতে মাথাপিছু আয় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ১১২ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সমান।   তবে বিপুল সম্পদের চেয়েও দেশটি বিশ্বজুড়ে বেশি সমাদৃত এর অভাবনীয় নিরাপত্তা ও শান্তিময় পরিবেশের জন্য। অবাক করা বিষয় হলো, লিচেনস্টাইনের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী নেই। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পুরো দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে তাদের পুলিশ বাহিনী।   দেশটিতে অপরাধের হার এতটাই কম যে, পুরো রাষ্ট্রের জন্য কারাগার রয়েছে মাত্র একটি। রাজধানী ফাডুৎসে অবস্থিত এই একমাত্র কারাগারটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা মাত্র ২০ জন। ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ওই কারাগারে বন্দির সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ জন এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।   তবে এর পেছনে একটি আইনি কারণও রয়েছে। লিচেনস্টাইনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অপরাধীর যদি দুই বছরের বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড হয়, তবে তাকে দেশের কারাগারে রাখা হয় না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত সেসব বন্দিদের অস্ট্রিয়া অথবা সুইজারল্যান্ডের উন্নত পাহারাবেষ্টিত কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।   ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে লিচেনস্টাইনে নিজস্ব কোনো বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য দেশটির নাগরিকদের মূলত সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরের ওপরই নির্ভর করতে হয়। অপরাধমুক্ত শান্তিময় সমাজব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মান দেশটিকে বিশ্বের বুকে এক অনন্য ও আদর্শ রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৬:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার প্রতারণা করে কাতার পালানোর সময় কানাডায় গ্রেপ্তার ভারতীয় তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার প্রতারণা করে কাতার পালানোর সময় কানাডায় গ্রেপ্তার ভারতীয় তরুণ

সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর

সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর

ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে

ভারতে বিয়ের আসর ছেড়ে অসুস্থ কর্মীর চিকিৎসা দিলেন চিকিৎসক কনে

0 Comments