‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি’! বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারের
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে নজিরবিহীন সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সংঘটিত এই হামলায় মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একাধিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে সন্দেহ করছে। তবে বাইন্যান্স কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরি হয়েছিল। নতুন হামলায় চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ সেই ঘটনার চার গুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক চুরির ঘটনা হিসেবেও বর্ণনা করছেন।
ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, হামলাকারীরা বাইন্যান্সের বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে। অন্তত ১০টি পৃথক ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসব লেনদেন সম্পন্ন হয়। চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ স্থানান্তর করা হয় মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে। এত অল্প সময়ে একাধিক নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে বাইন্যান্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের একজন ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ারের ল্যাপটপের নিরাপত্তা ভেঙে হামলাকারীরা অভ্যন্তরীণ একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। সেখান থেকে অনুমোদনহীন অর্থ উত্তোলনের নির্দেশ পাঠানো হয়। তবে পরবর্তী তদন্তে আরও কয়েকটি নিরাপত্তা দুর্বলতার সন্ধান পাওয়া গেছে। ফলে হামলাটি শুধু একটি ল্যাপটপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল, এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছাতে চাইছে না প্রতিষ্ঠানটি।
বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল একটি সাইবার হামলা। তদন্তকারীরা এখনো পুরো প্রক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করছেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ডিজিটাল ওয়ালেটের প্রাইভেট কি সরাসরি চুরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাইভেট কি হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত গোপন ডিজিটাল অনুমোদন ব্যবস্থা।
হামলার পরপরই বাইন্যান্স সাময়িকভাবে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ রাখতে এবং নতুন করে অননুমোদিত লেনদেন ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রভাবিত হয়নি বলে পরবর্তী আপডেটে জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে অর্থ উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রত্যাশা করছে বাইন্যান্স।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চুরি হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ ইতিমধ্যে শনাক্ত ও ফ্রিজ করা সম্ভব হয়েছে। বাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছে। এর বড় অংশ ব্লকচেইন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে বাকি প্রায় ৩৩০ কোটি ডলারের অবস্থান এবং সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ডিজিটাল মুদ্রা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার ও সার্কেল এই অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টেথার ১৫৭ কোটি ডলারের বেশি এবং সার্কেল প্রায় ৮০ কোটি ডলারের সংশ্লিষ্ট সম্পদ ফ্রিজ করেছে। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালও কয়েক কোটি ডলারের সন্দেহজনক সম্পদ আটকে দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে চুরি হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ হামলাকারীদের পক্ষে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে সব ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি একইভাবে ফ্রিজ করা যায় না। বিশেষ করে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল সম্পদ একবার অন্য ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হলে সেগুলো উদ্ধার করা তুলনামূলক কঠিন। তদন্তকারীরা এখন বিভিন্ন ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে অর্থের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। চুরি হওয়া সম্পদ অন্য মুদ্রায় রূপান্তর কিংবা বিভিন্ন ওয়ালেটে ভাগ করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার ট্রেডারট্রেইটর নামের হ্যাকিং গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে মনে করছে টিআরএম ল্যাবস। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে আগের কয়েকটি বড় সাইবার হামলার সঙ্গে এবারের ঘটনার মিল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অর্থ স্থানান্তরের ধরন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং হামলার সময় ব্যবহৃত পদ্ধতিতে সাদৃশ্য রয়েছে।
আরেক ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোনাথন লেভিনের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো বিশ্লেষণভিত্তিক ধারণা। কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থা চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করেনি।
ট্রেডারট্রেইটরকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাজারাস হ্যাকিং নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এর আগেও বড় ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই।
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ডিজিটাল সম্পদ চুরির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থা অতীতে অভিযোগ করেছে, দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার গোষ্ঠীগুলো চুরি করা অর্থের একটি অংশ সামরিক ও অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহার করে। তবে পিয়ংইয়ং সাধারণত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
চেইনঅ্যানালাইসিসের পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা প্রায় ২০২ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছিল। সেই হিসাবে এবারের বাইন্যান্স হামলায় চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের আগের পুরো বছরের আনুমানিক চুরির তিন গুণেরও বেশি। যদিও নতুন ঘটনার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বাইন্যান্সে হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিটকয়েনের দাম নেমে এসেছে প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ইথেরিয়ামের দামও দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। বাইন্যান্সের নিজস্ব ডিজিটাল টোকেনের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বাইন্যান্স জানিয়েছে, হামলার কারণে কোনো গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে প্রতিষ্ঠানটি সেই ক্ষতি বহন করবে। এ জন্য তাদের নিজস্ব তহবিল এবং গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য গঠিত জরুরি তহবিল ব্যবহার করা হবে। বাইন্যান্সের এই সুরক্ষা তহবিলে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিটকয়েন সংরক্ষিত রয়েছে। তবে চুরি হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ এই তহবিলের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পদও ব্যবহার করতে হবে।
বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও, যিনি সিজেড নামে পরিচিত, তিনিও গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নেই। তবে একজন শেয়ারহোল্ডার হিসেবে গ্রাহকদের সম্ভাব্য ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে প্রবেশ করে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের অনুমোদন পাওয়া গেল, সেটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বড় অঙ্কের লেনদেনে একাধিক পর্যায়ের অনুমোদন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত উৎস শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলা প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
শুক্রবার পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের এই সাইবার হামলায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জোরালো সন্দেহ থাকলেও চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে চুরি হওয়া অর্থের প্রায় অর্ধেক শনাক্ত ও ফ্রিজ করার অগ্রগতি মিলেছে। বাকি সম্পদ উদ্ধার এবং গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করাই এখন বাইন্যান্সের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreজার্মানিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রায় ১৬ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত পুরো বেতন নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ৬২ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৯ সাল থেকে স্কুলে পড়াতে যাননি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বেতন পেয়েছেন এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো শারীরিক পরিশ্রমের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর অসুস্থতার সনদ এবং বেতন নেওয়ার বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন জার্মানির সরকারি কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ল্যাডবাইবেলের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি জার্মানির নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভেসেল শহরের একটি সরকারি ভোকেশনাল বিজনেস কলেজের। অভিযুক্ত শিক্ষিকা ২০০৩ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি অসুস্থতার ছুটি নেওয়া শুরু করেন। এরপর আর নিয়মিত শিক্ষকতায় ফিরে যাননি। তবে অসুস্থতার সনদ জমা দেওয়ার মাধ্যমে পুরো বেতন পেতে থাকেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে কলেজটিতে নতুন প্রধান শিক্ষক যোগ দেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মীদের তালিকায় ওই শিক্ষিকার নাম থাকলেও তিনি তাঁকে চিনতেন না। এমনকি ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর আগে কখনো পরিচয়ও হয়নি। তারপরও বছরের পর বছর সরকারি বেতন দেওয়া অব্যাহত ছিল। পরবর্তী সময়ে কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসার পর দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা কর্মীদের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, একজন শিক্ষিকা প্রায় দেড় দশক ধরে কোনো ক্লাস না নিয়েও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ২০২৪ সালে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা তাঁর অসুস্থতার নথি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ এবং ওই সময়ে তিনি কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা পরীক্ষা শুরু করেন। তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষিকার স্কুবা ডাইভিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। স্কুবা ডাইভিং হলো পানির নিচে বিশেষ শ্বাসপ্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডুব দেওয়ার একটি কার্যক্রম। এতে শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে শিক্ষকতা করতে অক্ষম থাকার দাবি জানালেও তিনি কীভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। তবে স্কুবা ডাইভিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলেই তাঁর অসুস্থতার দাবি মিথ্যা হয়ে যায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তদন্তকারীরা। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। ফলে শিক্ষিকার প্রকৃত চিকিৎসাগত অবস্থা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার যৌক্তিকতা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা ডাইভিংয়ের জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকার দুটি মেডিকেল সার্টিফিকেট জাল করে থাকতে পারেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব সনদে এমন একজন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। অভিযোগটি সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন অসুস্থতার ছুটিতে থাকা শিক্ষিকাকে সরকারি মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানান। পরে আদালত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বহাল রাখেন এবং তাঁকে মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেন। এই ঘটনার আর্থিক দিকও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই শিক্ষিকাকে দেওয়া বেতনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তদন্তকারীরা এই অর্থকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে ২০০৯ সাল থেকে পুরো সময়ে তিনি মোট কত অর্থ পেয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরগুলোর অনুপস্থিতি নিয়ে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্তকারীরা মূলত ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিক্ষিকা দীর্ঘ ১৬ বছরের অনুপস্থিতির সময় মোট ১০টি অসুস্থতার সনদ জমা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর আরও একটি সনদ জমা দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এসব সনদের বৈধতা এবং সেগুলো ব্যবহার করে বেতন নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ১১টি বিশেষ গুরুতর প্রতারণার ঘটনা এবং দুটি নথি জালিয়াতির অভিযোগে বিচার চালানোর মতো পর্যাপ্ত সন্দেহের ভিত্তি পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁর দায় নির্ধারিত হবে। জার্মানির আইন অনুযায়ী, গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও এই মামলায় শেষ পর্যন্ত কী সাজা হতে পারে, তা নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি চাকরি ও অবসরসংক্রান্ত বিরোধও রয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, শিক্ষকতার চাকরিতে অসুস্থতার ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি বিকল্প চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কোনো পেশায় কাজ করেছেন কি না। তাঁর ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একজন সরকারি কর্মীর অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি। এই ঘটনা জার্মানির সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থতার ছুটি পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা একজন শিক্ষিকার বেতন কীভাবে বছরের পর বছর চালু ছিল এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে কেন বিষয়টি আগে নজরে আসেনি, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জার্মানিতে সরকারি কর্মীদের অসুস্থতার ছুটি ও বেতনসংক্রান্ত সুবিধা তাঁদের চাকরির ধরন এবং প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করে। তবে অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কর্তৃপক্ষের চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক তদারকির সুযোগ রয়েছে। এই মামলায় সেই তদারকি যথাযথভাবে হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। স্কুবা ডাইভিংয়ের কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদের বৈধতা নিয়েও তদন্ত চলছে। আদালত এখনো তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ১৬ বছর বেতন নেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হলেও সেই অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি’! বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারের
কানাডায় বাড়িতে ঢুকে সিইও ও দুই মেয়েকে গুলি, স্ত্রীকে হাতুড়িপেটা
স্ত্রীকে হারানোর শোক ভুলতে পারেননি, কবর থেকে দেহাবশেষ এনে তৈরি করলেন জীবনাকৃতির অবয়ব
সৌদি আরবে বেসরকারি খাতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য বেতনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে মাসিক বেতনের নির্ধারিত সীমা হবে ৫ হাজার রিয়াল। পরের বছর তা বাড়িয়ে ৬ হাজার রিয়াল করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত সব কর্মীর জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ নয়। মূলত সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়াতে পরিচালিত নিতাকাত কর্মসূচির আওতায় নতুন বেতনসীমা কার্যকর হবে। সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে মাসিক ৫ হাজার রিয়াল এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০২৮ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ হাজার রিয়াল বেতনের সীমা কার্যকর হবে। বর্তমানে এই কর্মসূচিতে একজন সৌদি কর্মীকে পূর্ণ কর্মী হিসেবে গণনার জন্য মাসিক বেতনের সীমা ৪ হাজার রিয়াল। নিতাকাত কর্মসূচির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কোনো প্রতিষ্ঠানে কতজন সৌদি নাগরিক কাজ করছেন, তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের হিসাব করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন সৌদি কর্মীকে সেই হিসাবে পূর্ণ কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্ধারিত বেতনসীমা পূরণ করতে হবে। তবে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে সব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কর্মীদের বেতন বাড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে না। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের শ্রমবিষয়ক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবুথনাইন জানিয়েছেন, নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় পাঁচ ধরনের কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফুলটাইম কর্মী, পার্টটাইম কর্মী, নমনীয় কর্মব্যবস্থায় নিয়োজিত কর্মী, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষম প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে নিতাকাত কর্মসূচির নিজস্ব গণনাপদ্ধতি ও শর্ত প্রযোজ্য হবে। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সৌদি নাগরিকদের জন্য বেসরকারি খাতের চাকরি আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং ভালো বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুতির জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের পর দ্বিতীয় ধাপের আগে আরও এক বছর সময় পাবেন নিয়োগকর্তারা। এদিকে সৌদি আরবের মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলও কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বেতনসংক্রান্ত সহায়তার সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যোগ্য সৌদি কর্মীদের বেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে মাসিক সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ৩ হাজার রিয়াল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌদি নাগরিক নিয়োগে আরও উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ঘোষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার বা ৬ হাজার রিয়াল বাধ্যতামূলক ন্যূনতম বেতন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি। তাঁদের বেতন মূলত চাকরির চুক্তি এবং প্রযোজ্য শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ফলে নতুন ঘোষণার কারণে সৌদি আরবে কর্মরত সব বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বাড়বে, এমন ধারণা সঠিক নয়। একই সময়ে সৌদি সরকার যোগ্য নাগরিকদের জন্য মাসিক ৫০০ রিয়াল অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা দিয়েছে। সরকারি বেসামরিক ও সামরিক কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা যোগ্য পরিবারগুলো এই সহায়তার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ ও পানির নতুন ট্যারিফ কার্যকরের প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের আর্থিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি সরকারের নতুন বেতননীতি দেশটির শ্রমবাজারে স্থানীয় নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তবে বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য এর সরাসরি কোনো নতুন ন্যূনতম বেতন নির্ধারিত হয়নি। তাই সৌদি আরবে চাকরিপ্রার্থী ও কর্মরত প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়োগপত্রে উল্লেখিত বেতন, সুযোগসুবিধা এবং চাকরির শর্ত যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।
'গরু আমাদের মা' ভারতে গরু জবাইয়ের দায়ে ৩ মুসলমানের যাবজ্জীবন, রায়ে ধর্মগ্রন্থের উল্লেখ বিচারকের
২৮ মিনিট হার্টবিট বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফেরেন তিনি, জানান মৃত্যুর সময় যা যা দেখেছেন
যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ৬০০ মানুষের মানবসেবায় প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাইহানা আহমেদ
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তাঁদের নাম ও ছবি প্রকাশ করে অবস্থান শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লন্ডন পুলিশের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ যাঁদের খুঁজছে, তাঁরা হলেন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ এবং ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। দুজনই বাংলাদেশি এবং পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, শওকত এখনো যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে জাহিদুল যুক্তরাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশের কাছে আসে। কিশোরীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে আসেন এবং পরে তাঁকে উইভার্স ফিল্ডস নামের একটি পার্কে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। পরে এক পথচারী তাঁকে দেখতে পেয়ে সহায়তা করেন। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তকারীরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ছবি প্রকাশ করে তাঁদের শনাক্ত করতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়। ওই আহ্বানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জনসাধারণের কাছে তথ্য চাওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই দিনই শওকত ও জাহিদুল তাঁদের পরিচিত অবস্থান থেকে সরে যান। এরপর তাঁদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। তদন্তের নেতৃত্বে থাকা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর আনা ডেইটন জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্য তদন্ত এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, পুলিশ এখন শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারকে খুঁজে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তদন্তকারীদের ধারণা, একজন যুক্তরাজ্যে রয়েছেন এবং অন্যজন বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। আনা ডেইটন আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিশোরী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির জন্য দুই ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। এদিকে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেওয়া হবে। সংস্থাটির লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেন, কিশোরীটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও মানসিকভাবে বিপর্যয়কর একটি ঘটনার শিকার হয়েছে। তদন্তে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তাঁদের অবস্থান খুঁজে বের করা এখন অত্যন্ত জরুরি। অ্যালেক্সা লুকাস সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারও কাছে সামান্য তথ্য থাকলেও তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রাইমস্টপার্সের কাছে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচয় প্রকাশ করতে হয় না। ফলে কেউ চাইলে সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে তথ্য জানাতে পারবেন। এমন তথ্য তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। পুলিশ জানিয়েছে, শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে যুক্তরাজ্যের ১০১ নম্বরে ফোন করে ০১/৬৬৮২৯৫/২৪ রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে চাইলে ক্রাইমস্টপার্সের ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। তদন্তকারীরা দুই ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, টয়লেটের সাথে তুলনা করে নরওয়ের পাল্টা জবাব
ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার