১৬ বছর বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে শিক্ষিকা, অবশেষে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ধরা
জার্মানিতে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রায় ১৬ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত পুরো বেতন নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। ৬২ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৯ সাল থেকে স্কুলে পড়াতে যাননি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বেতন পেয়েছেন এবং স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো শারীরিক পরিশ্রমের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর তাঁর অসুস্থতার সনদ এবং বেতন নেওয়ার বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন জার্মানির সরকারি কর্মকর্তারা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ল্যাডবাইবেলের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি জার্মানির নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ভেসেল শহরের একটি সরকারি ভোকেশনাল বিজনেস কলেজের। অভিযুক্ত শিক্ষিকা ২০০৩ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি অসুস্থতার ছুটি নেওয়া শুরু করেন। এরপর আর নিয়মিত শিক্ষকতায় ফিরে যাননি। তবে অসুস্থতার সনদ জমা দেওয়ার মাধ্যমে পুরো বেতন পেতে থাকেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে কলেজটিতে নতুন প্রধান শিক্ষক যোগ দেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মীদের তালিকায় ওই শিক্ষিকার নাম থাকলেও তিনি তাঁকে চিনতেন না। এমনকি ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর আগে কখনো পরিচয়ও হয়নি। তারপরও বছরের পর বছর সরকারি বেতন দেওয়া অব্যাহত ছিল।
পরবর্তী সময়ে কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসার পর দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা কর্মীদের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, একজন শিক্ষিকা প্রায় দেড় দশক ধরে কোনো ক্লাস না নিয়েও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ২০২৪ সালে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীরা তাঁর অসুস্থতার নথি, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ এবং ওই সময়ে তিনি কী ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তা পরীক্ষা শুরু করেন।
তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষিকার স্কুবা ডাইভিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ। স্কুবা ডাইভিং হলো পানির নিচে বিশেষ শ্বাসপ্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডুব দেওয়ার একটি কার্যক্রম। এতে শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে শিক্ষকতা করতে অক্ষম থাকার দাবি জানালেও তিনি কীভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
তবে স্কুবা ডাইভিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলেই তাঁর অসুস্থতার দাবি মিথ্যা হয়ে যায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি তদন্তকারীরা। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থতা এবং বিভিন্ন শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। ফলে শিক্ষিকার প্রকৃত চিকিৎসাগত অবস্থা এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার যৌক্তিকতা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা ডাইভিংয়ের জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত থাকার দুটি মেডিকেল সার্টিফিকেট জাল করে থাকতে পারেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব সনদে এমন একজন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ রয়েছে। অভিযোগটি সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘদিন অসুস্থতার ছুটিতে থাকা শিক্ষিকাকে সরকারি মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানান। পরে আদালত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ বহাল রাখেন এবং তাঁকে মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেন।
এই ঘটনার আর্থিক দিকও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই শিক্ষিকাকে দেওয়া বেতনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তদন্তকারীরা এই অর্থকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে ২০০৯ সাল থেকে পুরো সময়ে তিনি মোট কত অর্থ পেয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরগুলোর অনুপস্থিতি নিয়ে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্তকারীরা মূলত ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিক্ষিকা দীর্ঘ ১৬ বছরের অনুপস্থিতির সময় মোট ১০টি অসুস্থতার সনদ জমা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর আরও একটি সনদ জমা দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এসব সনদের বৈধতা এবং সেগুলো ব্যবহার করে বেতন নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করছেন।
চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ১১টি বিশেষ গুরুতর প্রতারণার ঘটনা এবং দুটি নথি জালিয়াতির অভিযোগে বিচার চালানোর মতো পর্যাপ্ত সন্দেহের ভিত্তি পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁর দায় নির্ধারিত হবে।
জার্মানির আইন অনুযায়ী, গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও এই মামলায় শেষ পর্যন্ত কী সাজা হতে পারে, তা নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের পাশাপাশি চাকরি ও অবসরসংক্রান্ত বিরোধও রয়েছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, শিক্ষকতার চাকরিতে অসুস্থতার ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি বিকল্প চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কোনো পেশায় কাজ করেছেন কি না। তাঁর ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ নিশ্চিত করা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একজন সরকারি কর্মীর অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি।
এই ঘটনা জার্মানির সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থতার ছুটি পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা একজন শিক্ষিকার বেতন কীভাবে বছরের পর বছর চালু ছিল এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে কেন বিষয়টি আগে নজরে আসেনি, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জার্মানিতে সরকারি কর্মীদের অসুস্থতার ছুটি ও বেতনসংক্রান্ত সুবিধা তাঁদের চাকরির ধরন এবং প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করে। তবে অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কর্তৃপক্ষের চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক তদারকির সুযোগ রয়েছে। এই মামলায় সেই তদারকি যথাযথভাবে হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। স্কুবা ডাইভিংয়ের কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদের বৈধতা নিয়েও তদন্ত চলছে। আদালত এখনো তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ১৬ বছর বেতন নেওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হলেও সেই অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের একটি যৌনপল্লি থেকে ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে পুনের বুধওয়ার পেঠ এলাকার একাধিক যৌনপল্লিতে অভিযান চালিয়ে ওই নারীদের উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে পুনে পুলিশের তিনটি থানার সদস্যরা অংশ নেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও মিরর নাউয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে ওই ছয় নারীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাঁদের। কিন্তু সীমান্ত পার হওয়ার পর প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের পুনেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যৌনপল্লির পরিচালনাকারীদের কাছে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার কৃষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খড়ক থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলটি বুধওয়ার পেঠ এলাকার কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান চালায়। উদ্ধার হওয়া নারীদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারীরা জানিয়েছেন, দালালদের মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল, ভারতে পৌঁছানোর পর ভালো চাকরি ও আয়ের সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের যৌনপল্লিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োজিত করা হয়। এ ঘটনায় ফারাসখানা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হলেও তাঁরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করতে তদন্ত ও অভিযান চলছে। পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। বুধওয়ার পেঠ পুনে শহরের পরিচিত যৌনপল্লি এলাকা। এর আগেও সেখানে বাংলাদেশি নারীদের পাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োজিত করার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ওই এলাকায় নারী পাচার ও শোষণের অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার একটি যৌনপল্লি থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ। সে সময়ও তাঁদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়। মার্চের ওই অভিযানে পুলিশ মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তদন্তে উঠে আসে, বিউটি পার্লার ও সেলাইয়ের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের ভারতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত চাকরির পরিবর্তে তাঁদের যৌনপল্লিতে আটকে রেখে শোষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতেও বুধওয়ার পেঠ এলাকায় বড় ধরনের অভিযান চালায় পুনে পুলিশ। ওই সময় বিভিন্ন যৌনপল্লি থেকে ১১ বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট যৌনপল্লিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। ভারতে মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করার মতো অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ আইন রয়েছে। দেশটির ইমমোরাল ট্রাফিক প্রিভেনশন অ্যাক্টের আওতায় মানবপাচার ও যৌন শোষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেও মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির কাছে বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকা এবং মানবপাচারের শিকার হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। পাচারের শিকার নারীদের ক্ষেত্রে তাঁদের কীভাবে সীমান্ত পার করানো হয়েছে, কারা প্রতারণা করেছে এবং কীভাবে শোষণের শিকার হয়েছেন, সেসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ছয় নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের বয়স, বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা এবং দেশে ফেরানোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসেনি। পুনের এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতে নারীদের নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখার বিষয়টি সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া নারীদের বক্তব্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাচারচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
১৬ বছর বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে শিক্ষিকা, অবশেষে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ধরা
‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি’! বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারের
কানাডায় বাড়িতে ঢুকে সিইও ও দুই মেয়েকে গুলি, স্ত্রীকে হাতুড়িপেটা
ভিয়েতনামে স্ত্রীর মৃ ত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এক ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারানোর পর তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের পাশে রাত কাটাতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে কবর থেকে স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে এসে প্লাস্টার ও মাটির মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন তাঁর জীবনাকৃতির একটি অবয়ব। এরপর বছরের পর বছর সেটিকেই স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে আগলে রেখেছেন। ওই ব্যক্তির নাম লে ভ্যান। ১৯৭০-এর দশকে ফাম থি সাংকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় সাত সন্তান। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। কিন্তু ২০০৩ সালের শুরুর দিকে স্ত্রীর মৃ ত্যু হলে ভ্যানের জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রীকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি এতটাই কষ্ট দিত যে রাতে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের কাছেই রাত কাটানো শুরু করেন। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাবাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তাঁরা নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রীর বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ২০০৪ সালে ভ্যান স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্লাস্টার, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে স্ত্রীর আদলে তৈরি করেন একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। সেটিকে নিজের কাছেই রাখতেন তিনি। তাঁর কাছে এটি ছিল একসঙ্গে কাটানো জীবনের স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। পরবর্তী বছরগুলোতে অবয়বটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন ভ্যান। স্ত্রীর মতো করে পোশাক পরাতেন, মুখে মেকআপ লাগাতেন। এমনকি সেটির সঙ্গে কথাও বলতেন। এভাবেই স্ত্রীর স্মৃতিকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হলেও অবয়বটির যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে এই অস্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখেন। ভ্যানের ঘটনাটি বিভিন্ন সময়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অসহনীয় কষ্টের প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, প্রিয়জনকে হারানোর শোক তাঁর জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল তা নিয়ে। প্রিয়জনের মৃ ত্যুর পর শোক কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়, আবার কারও জন্য সেই শূন্যতা দীর্ঘদিন থেকে যায়। ভ্যানের ঘটনা সেই গভীর শোকেরই এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত উদাহরণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে সব তথ্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায় না। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতনের নতুন ঘোষণা, সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল
'গরু আমাদের মা' ভারতে গরু জবাইয়ের দায়ে ৩ মুসলমানের যাবজ্জীবন, রায়ে ধর্মগ্রন্থের উল্লেখ বিচারকের
২৮ মিনিট হার্টবিট বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফেরেন তিনি, জানান মৃত্যুর সময় যা যা দেখেছেন
যুক্তরাজ্যে খাবারের অপচয় রোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ব্রিটিশ মুসলিম নারী রাইহানা আহমেদ। তিনি ২০২০ সালে সেন্ট অ্যালবানসে একটি কমিউনিটি ফুড প্যান্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০০ মানুষ খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভির প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জন ও মানবিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। রাইহানা আহমেদের প্রতিষ্ঠিত সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রির মূল লক্ষ্য খাবারের অপচয় কমিয়ে তা প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ব্যবহারযোগ্য খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই সংগ্রহ করে বিতরণের ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে যাঁরা অসুস্থতা, বয়স কিংবা অন্যান্য কারণে বাইরে যেতে পারেন না, তাঁদের বাড়িতেও প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কমিউনিটি মিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে মানুষ একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সুযোগ পান। ২০২০ সালে উদ্যোগটি শুরু করার পর ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল নিয়মিতভাবে খাবার সংগ্রহ, বাছাই, বিতরণ এবং অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০০ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর খাবারের অপচয়ের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে এই উদ্যোগে। প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর রাইহানা আহমেদ এই অর্জনের কৃতিত্ব তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দলকে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া এত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হতো না। আইটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর ইসলামি বিশ্বাস মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবসেবার প্রেরণা পান তিনি। রাইহানার উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যসহায়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা। একদিকে উদ্বৃত্ত খাবার নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই খাবার পৌঁছে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে। এতে খাদ্য অপচয় কমানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারগুলোও উপকৃত হচ্ছে। কমিউনিটির মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ কীভাবে পরিচালিত হতে পারে, সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি তার একটি উদাহরণ। যুক্তরাজ্যের প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড এমন ব্যক্তিদের সম্মাননা জানায়, যাঁরা সাহসিকতা, মানবসেবা কিংবা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখেন। সমাজের সাধারণ মানুষের অসাধারণ উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাই এই সম্মাননার অন্যতম উদ্দেশ্য। রাইহানা আহমেদের ক্ষেত্রে খাদ্য অপচয় রোধ এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এই স্বীকৃতির পরও রাইহানা আহমেদ তাঁর কাজকে ব্যক্তিগত অর্জনের পরিবর্তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন। স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানকে সামনে রেখে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি প্যান্ট্রি এখন শুধু খাবার বিতরণের উদ্যোগ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি কার্যকর উদাহরণ।
লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণে ২ বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ, ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার
নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, টয়লেটের সাথে তুলনা করে নরওয়ের পাল্টা জবাব