সোভিয়েত পতনের চেয়েও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা, গ্যাসসংকটে পড়তে পারে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানিতে বাধা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ইরান। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। তাঁর দাবি, এই সংকোচন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চেয়েও বড় হতে পারে। এর মধ্যেই আসন্ন শীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের আশঙ্কায় নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইরান সরকার।
সোমবার, ২ নভেম্বর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ জনগণকে গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জ্বালানি খাতের ভারসাম্যহীনতা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। শীতকালে চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
আরেফ সতর্ক করেছেন, আগের মতো অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার অব্যাহত রাখলে গ্রাহকদের বেশি দাম দিতে হবে। তবে নতুন মূল্যহার বা তা কার্যকরের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের বহু পরিবার ঘর গরম রাখা, রান্না এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগস্টে নতুন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কার্যক্রম শুরুর পর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এই হার ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ।
মার্কিন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে ইরান নতুন করে তেলবাহী ট্যাংকারে তেল বোঝাই করতে পারেনি। সমুদ্রে আগে থেকে থাকা তেলের মজুতও বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর চাপ বেড়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইরানকে স্থলপথের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
পাকিস্তান, তুরস্ক, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন স্থানে জট তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তুরস্ক সীমান্তে কিছু পণ্যবাহী ট্রাককে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অক্টোবরে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। তাঁর মতে, এই সংকোচন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এটি বেসেন্টের পূর্বাভাস, নিশ্চিত অর্থনৈতিক ফলাফল নয়।
একই সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট ইরানের নাগরিকদের শীতের জন্য জ্বালানি মজুত রাখার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন, দেশটিতে ঘর গরম রাখার জ্বালানির বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। নতুন করে বড় সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আনাই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত মাসে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান এত কঠিন চাপ ও সমস্যার মুখোমুখি হয়নি।
আসন্ন শীতে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি, তেল রপ্তানিতে বাধা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে দেশটির অর্থনীতি শেষ পর্যন্ত কতটা সংকুচিত হবে এবং গ্যাসসংকট কতটা গুরুতর আকার নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকটে থাকা ২৫ হাজার মানুষের মধ্যে রান্না করা গরম খাবার বিতরণ করেছে সৌদি আরব। দেশটির মানবিক সহায়তা সংস্থা কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএস রিলিফ) মধ্য ও দক্ষিণ গাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করেছে। রোববার (১ নভেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, চলমান মানবিক সংকটে খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কেএস রিলিফের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির পরিচালিত কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জন্য গরম খাবার প্রস্তুত করা হয়। পরে এসব খাবার গাজার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবার এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে সমস্যায় থাকা মানুষদের সহায়তা করাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। গাজায় কেএস রিলিফের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে সৌদি সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ। প্রতিষ্ঠানটি রান্নাঘরের কার্যক্রম পরিচালনা, খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত এবং বিভিন্ন এলাকায় বিতরণের ব্যবস্থা সমন্বয় করে। সংস্থাটির দাবি, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সংকটে থাকা পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্যচাহিদা পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল গাজায় কেএস রিলিফের রান্নাঘর ও খাদ্য বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিরা খাবার প্রস্তুত, প্যাকেটজাত এবং বিতরণের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করেন। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি গাজায় বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায়ও কাজ করছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালের অক্টোবরে খান ইউনিস ও মধ্য গাজার প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে একটি পানি লবণমুক্তকরণ প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু করে কেএস রিলিফ। প্রকল্পটির উদ্বোধনে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কেএস রিলিফের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনে ১৬৮টি মানবিক সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এসব প্রকল্পের মোট মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা খাতে ৫২টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি ডলারের বেশি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মতো ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে বহু পরিবার নিয়মিত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে সমস্যার মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের মাধ্যমে প্রতিদিন গরম খাবার সরবরাহের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে খাদ্যসহায়তার এই কর্মসূচি গাজার সামগ্রিক খাদ্যসংকট কতটা দূর করতে পারছে, সে বিষয়ে স্বাধীন মূল্যায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি
সোভিয়েত পতনের চেয়েও বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা, গ্যাসসংকটে পড়তে পারে ইরান
রাহুল গান্ধীকে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর
ধর্মগুরুকে ফাঁসাতে তোশকের নিচে মাদক রাখলেন পুলিশ কর্মকর্তা, ক্যামেরায় ধরা পড়ে বরখাস্ত
যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের রচডেলে স্বামী হারানো এক বৃদ্ধা ক্রেতার পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছেন সিলেটি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি নারী সাহেদা। শোকাহত ওই বৃদ্ধার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং কেনাকাটার সময় তাঁকে সহযোগিতা করার স্বীকৃতি হিসেবে সাহেদাকে ‘সার্ভিস সুপারস্টার অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে। স্থানীয় আসদা সুপারমার্কেটে কর্মরত এই বাংলাদেশি নারীর মানবিক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা পেয়েছে। সাহেদা ২০১২ সাল থেকে রচডেলের আসদা সুপারমার্কেটের একটি শাখায় কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত ক্রেতাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় গড়ে উঠেছে। তাঁদেরই একজন বৃদ্ধা সম্প্রতি স্বামীকে হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর একা হয়ে পড়া ওই নারীর দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন লন্ডনে বসবাসরত তাঁর মেয়ে। মায়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা সাহেদাকে জানান ওই বৃদ্ধার মেয়ে। তিনি দূরে থাকায় মায়ের নিয়মিত দেখাশোনা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সাহেদা তাঁকে আশ্বস্ত করেন, বৃদ্ধা যখনই সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসবেন, তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন এবং তাঁর খোঁজখবর রাখবেন। এরপর নিজের দেওয়া কথা অনুযায়ী বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ান সাহেদা। সুপারমার্কেটে এলে তাঁর জন্য বসার ব্যবস্থা করেন, যাতে কেনাকাটার পণ্য স্ক্যান ও প্যাকেট করার সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়। শুধু কেনাকাটায় সহযোগিতা করেই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি। বৃদ্ধার সঙ্গে সময় নিয়ে কথা বলেছেন এবং স্বামী হারানোর কঠিন সময়ে তাঁকে মানসিক সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সাহেদার এই আন্তরিক আচরণ বৃদ্ধার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি সুপারমার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহেদার সহযোগিতা ও সদয় ব্যবহারের প্রশংসা করেন। বিষয়টি জানার পর আসদার কাস্টমার ম্যানেজার ডেভ জেফস তাঁকে ‘সার্ভিস সুপারস্টার অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনীত করেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে গ্রাহকসেবায় বিশেষ অবদান রাখা কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সাহেদার ক্ষেত্রে শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন নয়, একজন অসহায় ও শোকাহত মানুষের প্রতি ব্যক্তিগত সহমর্মিতাও মনোনয়নের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি চূড়ান্তভাবে পুরস্কারটি পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিজের উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাহেদা জানিয়েছেন, তাঁর নিজের মা এমন পরিস্থিতিতে পড়লে তিনিও চাইতেন কেউ যেন একইভাবে পাশে দাঁড়ান। তাঁর মতে, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে কিংবা কারও প্রতি সদয় হতে কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। সামান্য সহযোগিতা ও আন্তরিক আচরণও কঠিন সময়ে একজন মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সাহেদার এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তাঁর সহমর্মিতা, দায়িত্বশীলতা এবং একজন প্রবীণ মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে নিজের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি একজন ক্রেতার ব্যক্তিগত দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন ও খুচরা বিক্রয়সহ নানা খাতে কাজ করছেন। রচডেলের আসদা সুপারমার্কেটে কর্মরত সাহেদার এই উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক অবদানের একটি উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। সাহেদার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, গ্রাহকসেবার মান শুধু পণ্য বিক্রি বা নিয়মিত দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের প্রয়োজন বুঝে পাশে দাঁড়ানোও সেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রচডেলের এই বাংলাদেশি নারী সেই মানবিক আচরণের স্বীকৃতিই পেয়েছেন।
লন্ডনে পড়তে গিয়ে গোপনে দেশে ফেরেন তরুণী, ভাড়া বাসায় মিলল মরদেহ
আমিরাতে স্বর্ণের দাম কমতেই কেনাকাটার হিড়িক, গয়না ও কয়েনে বাড়ছে আগ্রহ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগের রেকর্ড! দক্ষিণ কোরিয়ার ৬১৪ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের প্রথম দিনেই ১ হাজার ৫৩৯টি যানবাহনকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। রোববার (১ নভেম্বর) শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ভারতীয় রুপি জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকা, শহরে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করা এবং নির্মাণকাজ থেকে ধুলাদূষণ ছড়ানোর ঘটনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত সব গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়নি। মূলত নির্ধারিত দূষণ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ যৌথভাবে ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৯টি যানবাহনকে সীমান্তবর্তী প্রবেশপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মোট পরীক্ষিত যানবাহনের প্রায় ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবেশের অনুমতি পায়নি। অভিযানের সময় প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের জন্য ১২৭টি চালান দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। এ ধরনের অনিয়মের জন্য জরিমানার পরিমাণ ছিল দুই লাখ রুপি। দিল্লির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরের বাইরে নিবন্ধিত যেসব যানবাহন ভারত স্টেজ-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, সেগুলোর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এই মানের উদ্দেশ্য যানবাহন থেকে নির্গত ক্ষতিকর দূষণকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করা। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের অভিযানে এমন ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ফেরত পাঠানো যানবাহনের মধ্যে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয় ধরনের গাড়ি ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টি হালকা মোটরযান, ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যানবাহন, ৯৫টি মাঝারি ও ভারী পণ্যবাহী গাড়ি এবং ৩৪টি বাসকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই চাকা, তিন চাকা এবং অন্যান্য শ্রেণির ১ হাজার ৪২৩টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭৮৯টিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে। দিল্লির ভেতরে গন্তব্য না থাকা আরও ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহন পরীক্ষা করে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রথম দিনেই ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার কারণে মোট ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। এসব চালানের বিপরীতে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করে। অন্যদিকে পরিবহন বিভাগ ৭৩টি চালানের মাধ্যমে আরও ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করে। প্রথম দিনের মোট জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে। শুধু যানবাহন নয়, নির্মাণ ও ভবন ভাঙার কাজ থেকে সৃষ্ট ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথম দিনে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ৩২টি স্থানে ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব অনিয়মের জন্য মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। নতুন কর্মপরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের কিছু প্রকল্প নির্ধারিত শর্তে ছাড় পেতে পারে। দিল্লির শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পৃথক সময়সীমায় কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। তবে সব বিধিনিষেধ একই দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে না। দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত নির্ধারিত মানের নিচের যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। একইভাবে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে কর্মীদের সশরীর উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার বিধানও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা প্রথম দিনের অভিযানের তথ্য তুলে ধরে যানবাহনের বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ বজায় রাখা, প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ এবং নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য শীত মৌসুমে দূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা। এ জন্য যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শহরে প্রবেশকারী নির্দিষ্ট শ্রেণির গাড়ির ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এদিকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের মধ্যেও দিল্লির বায়ুর মান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টায় শহরের সামগ্রিক বায়ুমান সূচক ছিল ৩১০, যা অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। কিছু পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সূচক ৪০০ অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন রোববার দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় বায়ুমান সূচক ছিল ২৬১। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলেও প্রথম দিনের অভিযানেই বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। দিল্লিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম দিনের হিসাবে মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদসংক্রান্ত অনিয়মে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার, যানবাহন প্রবেশের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনে দুই লাখ এবং নির্মাণস্থলের ধুলাদূষণের জন্য নয় লাখ ৮০ হাজার রুপি রয়েছে। পাশাপাশি দেড় হাজারের বেশি যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দিল্লির বায়ুদূষণ কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ের বাস্তবায়ন ও বায়ুর মানের তথ্যের ওপর। সূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া
ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ স্পনসর লাইসেন্স ও শিক্ষার্থীদের অর্থের শর্তে নতুন নির্দেশনা
পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেমব্রিজের বিজ্ঞানী ড. শাহবাজি নিহত