- প্রচ্ছদ
- Topic
গাজা
গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের মুহান্নাদ আল-হাসানি ২০১৫ সালে মাত্র ২৬ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। ওই বছরের ২৫ জুলাই প্রকাশিত আল জাজিরা নেটের প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জনের কথা উঠে আসে। মুহান্নাদ জাবালিয়ার ‘আল-আওদা ইলাল্লাহ’ মসজিদে ‘আন-নুখবা’ নামের নিবিড় কোরআন মুখস্থ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকতেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ পৃষ্ঠা মুখস্থ করে শিক্ষকের কাছে পড়ে শোনাতেন। আল জাজিরাকে মুহান্নাদ বলেছিলেন, কর্মসূচিটি নিবিড় হলেও তাঁর কাছে বিরক্তিকর লাগেনি। কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর তিনি তা মনে রাখার জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছিলেন। একই কর্মসূচিতে গাজার আরও কয়েকজন কিশোর কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। ঘটনাটি ২০১৫ সালের; এটি সাম্প্রতিক কোনো অর্জনের খবর নয়।
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের চলমান কার্যক্রমকে 'বিশ্ববিবেকের জন্য এক বিরাট কলঙ্ক' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা এড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ইসরায়েল যতই নিরাপত্তাজনিত হুমকির মুখে থাকুক না কেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই চরম বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সম্মেলনে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান মিলিব্যান্ড। এ বিষয়ে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। লেবার পার্টির নতুন নীতিমালার আলোকে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর বিষয়গুলো এখন জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে। শুধু মৌখিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ইসরায়েলের ওইসব অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেখানে ব্রিটিশ অর্থায়ন ও নির্মাণ খাতের যেকোনো সহায়তা বন্ধ করার মতো কঠোর ঘোষণাও দিয়েছেন এই নেতা। তবে মিলিব্যান্ড তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই কঠোর অবস্থান বা প্রতিবাদ সাধারণ ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করার যেকোনো চক্রান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করতে তারা বদ্ধপরিকর। সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদের পারিবারিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করা সবার নাগরিক দায়িত্ব। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধ ফিকে হয়ে যায় না—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের জাতীয় আদর্শ রক্ষায় সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি জলবায়ু সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের প্রাক্কালে ইসরায়েল জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সাথে প্রথাগত করমর্দন বা হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। রোববার হাঙ্গেরির নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার সময় নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং প্রাণহানির প্রতিবাদে আইরিশ ফুটবলারদের এই নীরব অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ ও আইরিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের ঘরের মাঠের এই ম্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল হাঙ্গেরির দেবরিসেন শহরের নাগিয়েরদেই স্টেডিয়ামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ম্যাচ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা যখন মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত স্বল্পসংখ্যক ইসরায়েলি সমর্থক তাদের লক্ষ্য করে দুয়ো ধ্বনি দিতে থাকেন এবং বিদ্রূপ করেন। তবে গ্যালারির সেই বিরূপ আচরণের তোয়াক্কা না করেই মাঠে নামেন আইরিশ ফুটবলাররা। এ সময় গাজা সংঘাতে প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষের স্মরণে ও শোক প্রকাশে আয়ারল্যান্ড দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের বাহুতে কালো আর্মব্যান্ড বাঁধা ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা মাথা নত করে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পর ফিফা ও উয়েফার প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড়দের পরস্পরের সাথে হাত মেলানোর কথা থাকলেও আইরিশ ফুটবলাররা তা থেকে বিরত থাকেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের এড়িয়ে সরাসরি নিজেদের অর্ধে চলে যান। উয়েফা নেশনস লিগের এবারের আসরে লিগ বি এর ৩ নম্বর গ্রুপে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলকে একই সাথে রাখা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা চলছিল। আয়ারল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের একটি বড় অংশ এই ম্যাচ বয়কটের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে স্টপ দ্য গেম বা খেলা বন্ধ করো শীর্ষক প্রচারণার মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলারদের এই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কঠোর নিয়মকানুন এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের শাস্তির কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচের আগে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হেইমির হ্যালগ্রিমসন দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কেবল ফুটবলের নিয়মের কারণে তারা মাঠে নামছেন এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ম্যাচে তার দলের অংশগ্রহণকে কোনোভাবেই গাজার বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সমর্থন বা স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত হবে না। সংবাদ সম্মেলনে কোচ হ্যালগ্রিমসন আরও বলেন, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় একটি বিষয়ে একমত এবং তারা সবাইকে এটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চান যে, মাঠে নামার অর্থ এই নয় যে তারা গাজায় ঘটে চলা ঘটনাগুলোকে মেনে নিচ্ছেন। মূলত খেলোয়াড়দের সেই নৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে রোববারের ম্যাচে কালো ব্যাজ ধারণ এবং করমর্দন থেকে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রশ্নে অত্যন্ত সোচ্চার এবং এই ঘটনার মাধ্যমে দেশটির ক্রীড়াবিদরাও নিজেদের অবস্থান নতুন করে তুলে ধরলেন। সূত্র: আইরিশ টাইমস ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম
গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি নি হ তের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ১৬ জন ফিলিস্তিনি নি হ ত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮ জন আ হ ত হয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, আগের ৪৮ ঘণ্টায় গাজার হাসপাতালগুলোতে আরও সাতজনের ম র দে হ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নতুন করে নি হ ত হয়েছেন এবং একজন আগের আ ঘা তে মা রা গেছেন। একই সময়ে আরও ৩৮ জন আ হ ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ধ্বং স স্তূপের নিচে এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক ম র দে হ পড়ে থাকার কথা জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকারী ও অ্যাম্বুলেন্স দল সব জায়গায় পৌঁছাতে না পারায় প্রকৃত হ তা হ তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তাদের দাবি। গত বছরের অক্টোবরে যু দ্ধ বি রতি কার্যকর হওয়ার পর বড় আকারের লড়াই কমে এলেও গাজায় হা ম লা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা হু ম কি বা হা ম লার জবাবে তারা বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাচ্ছে। রোববারও মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হা ম লায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নি হ ত এবং কয়েকজন আ হ ত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গাজা সিটিতে একটি গাড়িতে হা ম লায় একজন নি হ ত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সেখানে একজন সামরিক অপারেটিভকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় আরেক হা ম লায় একজন নি হ ত ও তিনজন আ হ ত হন। ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হা ম লায় নি হ তদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা হিসাব দেয় না। তবে তাদের বিস্তারিত হ তা হ তের নথিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নি হ তদের প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মানবিক প্রতিবেদনেও গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলা হয়েছে। ব্যাপক ধ্বং স, চলমান হা ম লা, জরুরি সরঞ্জাম প্রবেশে সীমাবদ্ধতা এবং অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক সেবা মারাত্মক চাপে রয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় থাকার ঝুঁকিও বাড়ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের ইসরায়েলে হা ম লায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নি হ ত হন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, এবং ২৫১ জনকে জি ম্মি করা হয়। এরপর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যু দ্ধ বি রতির পরবর্তী ধাপও অনেকটাই স্থবির। ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যু দ্ধ বি রতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নি হ ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯৫৩ জন আ হ ত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ৭৪ হাজার ১৬ জন নি হ তের এই সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করা হিসাব। যু দ্ধ চলমান থাকায় এবং ধ্বং স স্তূপের নিচে ও দুর্গম এলাকায় বহু মানুষ পড়ে থাকার কথা জানানোয় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আরব নিউজ
গাজার পরিবার ও শিশুদের জন্য এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় মানবিক উদ্যোগ। শনিবার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে এসব খাদ্যসহায়তার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়। ‘আহমেদ বিন রাশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ নামের এই উদ্যোগ আয়োজন করে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস। সহযোগিতায় ছিল গাজায় আমিরাতের চলমান মানবিক কার্যক্রম ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’। প্রয়াত শেখ আহমেদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের স্মরণে উদ্যোগটির নামকরণ করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর দুবাইয়ে ১০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। জীবদ্দশায় দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবারের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং শেখ আহমেদ বিন রাশিদের শুভানুধ্যায়ীরা একসঙ্গে গাজার জন্য খাবারের প্যাকেজ প্রস্তুত করেন। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব খাদ্যসহায়তা গাজার পরিবার ও শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের মহাসচিব মোহাম্মদ আল গেরগাওয়িসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আয়োজকেরা বলছেন, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু খাদ্য পাঠানো নয়, আমিরাতের মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী করা। ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ সালেহ আল শরিফ বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের পাশাপাশি গাজার শীতকালীন পরিস্থিতি সামনে রেখে আরেকটি বড় সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করেছে আমিরাত। দেশটি ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার শীতকালীন কিট পাঠানো হয়েছে, যাতে ৫০ হাজার জ্যাকেট, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে। দ্য ন্যাশনালের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর আওতায় গাজার জন্য আমিরাতের সহায়তার পরিমাণ এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামের বেশি। এর আগেও গাজার জন্য একই ধরনের বড় খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি নিয়েছিল আমিরাত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের আরেক কর্মসূচিতে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাজ করার সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. ফিরোজ সিধওয়া। গত ২৩ মার্চ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে কাজ করার সময় একটি ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়েন তিনি। সেদিনের সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আইসিইউর একটি দরজা ছিটকে সরাসরি তার মুখে এসে পড়েছিল। হাসপাতালে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিপদের কথা বুঝতে পেরে তাকে রক্ষার জন্য ছুটে আসেন। ওই হামলায় ডা. সিধওয়ার এক রোগীসহ অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়। এত বড় একটি ঘটনার পর পরিবারের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় গাজায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের মায়ের শত বারণ আর কান্নার জবাবে তিনি বলেছেন, কাউকে না কাউকে তো এই বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা 'হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামস'-এর তথ্যমতে, ২০০০ সালের পর থেকে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ১৫০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এমন হামলার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। গাজার পাশাপাশি ইউক্রেনেও চিকিৎসাকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. মাইকেল সামোতোওকা বছরে ৬ থেকে ১০ বার ইউক্রেনে চিকিৎসা দিতে যান। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার ব্যবহৃত একটি অপারেশন থিয়েটারেও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল, যা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করার মতো একটি ঘটনা। যুদ্ধের ময়দানে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর এমন ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে এই দুই চিকিৎসকই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ডা. সামোতোওকা মনে করেন, যুদ্ধরত দেশগুলোর উচিত জেনেভা কনভেনশন মেনে চলা এবং যারা বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা করে এই আইন অমান্য করছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা। অন্যদিকে ডা. সিধওয়া একধাপ এগিয়ে মার্কিন নাগরিকদের তাদের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে একটি বিশেষ দাবি তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক ও নার্সদের হত্যা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসাকর্মী ও হাসপাতালের ওপর যেকোনো হামলার তারা তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আগের হামলায় আহতদের মৃত্যুর খবরের মধ্যেই উপত্যকাটির প্রাথমিক পুনর্গঠনে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ৬৬টি প্রকল্পের এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। একই দিনে গাজাজুড়ে সাত ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ পরে জানান, প্রথম ধাপের প্রকল্পগুলো ছয় মাসে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার। পানি, পয়োনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ রয়েছে পরিকল্পনায়। তবে ছয় মাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নয়; মাঠের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কাজ শুরুর গতি নির্ভর করবে বলে তিনি জানান। বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে আল মাওয়াসিতে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহতে আরেকটি গাড়িতে হামলায় অন্তত দুজন এবং গাজা নগরীতে পৃথক হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। আগের দিনগুলোতে ইসরায়েলি গুলিতে আহত এক নারী ও এক পুরুষও এদিন মারা যান। এই সাতজনের সবাই বুধবারের নতুন হামলায় নিহত হয়েছেন, এমনটি নয়। আল মাওয়াসির হামলায় হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পুনর্গঠন শুরুর পথে নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন বড় বাধা হয়ে আছে। ম্লাদেনভের ভাষ্য অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় কম। তিনি বলেন, যেসব এলাকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে, সেখানে পুনর্গঠনের কাজ এগোনো সম্ভব হবে। বোর্ড অব পিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ শুধু প্রাথমিক কাজের জন্য। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে মধ্যমেয়াদে অবকাঠামো পুনর্গঠনে আরও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। ফলে নিউইয়র্কে পরিকল্পনা ঘোষণার পরও গাজাবাসীর জন্য জরুরি প্রশ্ন রয়ে গেছে: নিরাপদে কাজ শুরু করার মতো পরিস্থিতি কবে তৈরি হবে।
ফিলিস্তিনের উত্তর গাজায় নিজেদের পরিচালিত একটি ড্রোন বিধ্বস্ত ও পরবর্তীতে বিস্ফোরিত হয়ে দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিজেদের ড্রোনের আঘাতেই নিজ বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর এই ঘটনা ইসরাইলি সামরিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত ওই দুই সেনা হলেন— নাদাভ কালি (২৪) এবং অফেক মোয়ালেম (২৩)। নাদাভ কালি ইসরাইলের হার হালুতজ এলাকার এবং অফেক মোয়ালেম জেরুজালেমের বাসিন্দা ছিলেন। তারা দুজনেই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৯৯তম ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলাদ তজুরি নিহতদের ‘চমৎকার সৈনিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, এদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট এবং অন্যজন স্কোয়াড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তজুরি বলেন, বিস্ফোরকবাহী ওই ড্রোনটির প্রথম অভিযান ওই দুই সেনা সফলভাবেই সম্পন্ন করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় অভিযানের সময় ঘটে বিপত্তি; ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সামরিক চৌকির ভেতরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ওই দুই সেনা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গেলে বিধ্বস্ত ড্রোনটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে তারা দুজনই গুরুতরভাবে আহত হন। আহত দুই সেনাকে দ্রুত উদ্ধার করে আশকেলনের বারজিলাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কোনো সেনার হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী তাদের সব ধরনের ড্রোন পরিচালনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। উল্লেখ্য, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ১৬তম ব্রিগেড গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর গাজায় তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে স্পেনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। সানচেজ বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, স্পেন তার ‘গণহত্যা’কে কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই নিন্দা করছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেন, লেবানন ও ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে স্পেন বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে। তার সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গাজা প্রসঙ্গে সানচেজের অবস্থান নতুন নয়। স্পেন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেন সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ ও বিমানকে স্পেনের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্ত করার পদক্ষেপও নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানিয়েছে মাদ্রিদ। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ শুধু গাজার পরিস্থিতি নয়, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে যুদ্ধের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্পেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের আগে সানচেজ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে গাজা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে, গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণহত্যা’ শব্দটির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে তার বক্তব্যে দেশটির সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন এবং সমালোচকদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়েও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত রাখা এবং ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ। গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান ইউরোপের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটি ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সানচেজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজা নিয়ে স্পেনের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার বিষয়ে স্পেনের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সূত্র: স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতিসংঘ, রয়টার্স
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্যের বিনিময়ে নারীদের বিক্রি করা হচ্ছে এবং ধর্ষণের শিকার নারীদের জোরপূর্বক তাদের ধর্ষকদের সাথেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক দুটি প্রতিবেদনে গাজার নারীদের চরম অমানবিক এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে। এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার গুরুত্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গাজাজুড়ে বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপত্যকাটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) ৬৮ শতাংশেরই শিকার হচ্ছেন ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী নারীরা। গবেষকরা জানিয়েছেন, গাদাগাদি করে থাকা অপর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র এবং খাদ্য, সুপেয় পানি ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর চরম অভাব মানুষের মধ্যে যে মাত্রার মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে নারীদের ওপর। মানসিক ও আবেগীয় নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক ও যৌন সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাল্যবিয়ের ঘটনা সেখানে নিত্যদিনের স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গাজা সিটি ও খান ইউনিসের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত ২৩০ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি দ্বিতীয় প্রতিবেদনে আরও লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। স্কুল থেকে রূপান্তরিত এক আশ্রয়কেন্দ্রের এক নারী জানান, সামাজিক কলঙ্ক ও লজ্জা এড়াতে অনেক ধর্ষণের শিকার মেয়েকে তাদের ধর্ষকের সাথেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি স্কুলে কোনো ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে পরদিনই সেখানে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন দেখা যায়। আরেক নারী জানান, এক পিতা কেবল দুই বস্তা আটার বিনিময়ে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছেন, যাতে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারে। এছাড়া অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিচ্ছে এই আশায় যে, স্বামীরা হয়তো জনাকীর্ণ ক্যাম্পে থাকা ধর্ষকদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে পারবে। যুদ্ধক্ষেত্রে এতিম হওয়া অনেক কিশোরীকে তাদের অভিভাবকরা নিজেদের খরচের হাত থেকে বাঁচতে খুব অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। গাজার প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবারের প্রধান এখন নারীরা, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে বিধবা ও সিঙ্গেল মাদাররা যৌন নিপীড়ন ও শোষণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে ইউএনএফপিএ জানিয়েছে। গাজা সিটির এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক বিধবা নারী মাথা গোঁজার জন্য একটি তাঁবুর খোঁজ করতে গেলে ক্যাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে রাতে তার সাথে থাকার বিনিময়ে তাঁবু দেওয়ার কুপ্রস্তাব দেয়। ইসরায়েল ও হামাসের চলমান সংঘাতের কারণে গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত এবং উপত্যকাটির প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমি বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই চরম মানবিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বুধবার ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গাজা উপত্যকার জন্য একটি বহুমুখী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আগামী ছয় মাসে প্রায় ২৪৫ কোটি (২.৪৫ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যে ৬৬টি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরো গাজার এই পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে মোট ৭১০০ কোটি (৭১ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বিমান হামলায় হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ আবু আলওয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তাদের দাবি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও শিন বেতের যৌথ অভিযানে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, আবু আলওয়ান হামাসের অর্থ বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন এবং সংগঠনটির অর্থের উৎস ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হামাসের নেতৃত্ব, কর্মী এবং অর্থের উৎসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে হামলার বিষয়ে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের দেওয়া তথ্যেও দুজন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পশ্চিম খান ইউনিসে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় মুহাম্মদ আবু আলওয়ান ও ওসামা আবু খাতের নিহত হন। হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাদের বিবৃতিতে হামাসকে পুনরায় শক্তিশালী হতে না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামাসের কমান্ডার ও সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং সংগঠনটির অর্থের উৎস ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, হামাস তাৎক্ষণিকভাবে আবু আলওয়ানের নিহত হওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে ইসরায়েলের দেওয়া তার পরিচয় ও হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধান হিসেবে তার ভূমিকার দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে দায়ী করে আসছে। খান ইউনিসে হামাসের অর্থ বিভাগের প্রধানকে লক্ষ্য করে এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন গাজায় হামাসের সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সংগঠনটির অর্থের উৎস নিয়েও ইসরায়েলি অভিযান জোরদার রয়েছে। আবু আলওয়ানের মৃত্যু হামাসের আর্থিক কাঠামোয় কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।
ফিলিস্তিনি নারী বন্দি দানা জুদেহ ১৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের ডেমন কারাগারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নাবলুস গভর্নরেটের ইরাক আল তাইয়েহ এলাকার ৩৫ বছর বয়সী এই নারীকে গর্ভবতী অবস্থায় আ টক করা হয়েছিল এবং পরে ছয় মাসের প্রশাসনিক আ টকাদেশে রাখা হয়। তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ডেমন কারাগারে দানা জুদেহ সন্তান জন্ম দেন। ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাকে আ টকের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাকে প্রশাসনিক আ টকাদেশের আওতায় রাখা হয়, যার মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আ টক রাখা সম্ভব। জুদেহর প্রশাসনিক আ টকাদেশের মেয়াদ ছিল ছয় মাস। ফিলিস্তিনি কমিশন অব ডিটেনিজ অ্যান্ড এক্স-ডিটেনিজ অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, তার আ টকাদেশ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলেও সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। প্রসবের পর তাকে ও নবজাতককে চিকিৎসার জন্য রামাল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জুদেহর পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গর্ভাবস্থায় তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা তার গর্ভাবস্থায় আ টক রাখা এবং কারাগারের ভেতরে সন্তান প্রসবের পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও কারা প্রশাসনকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জুনে জানিয়েছিল, ডেমন কারাগারে জুদেহসহ তিনজন গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারী আ টক ছিলেন। তখন সংগঠনটি বলেছিল, গর্ভবতী বন্দিদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার ও মানসিক সহায়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সময়ে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিল। প্রশাসনিক আ টক ফিলিস্তিনি বন্দিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত ব্যবস্থা। এতে অভিযোগ বা পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে আ টক রাখা যায় এবং কিছু ক্ষেত্রে সেই আ টকাদেশ নবায়নও করা হয়। জুদেহর ঘটনাটি গর্ভবতী বন্দিদের চিকিৎসা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমন কারাগারে আ টক নারীদের মধ্যে মা ও গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। বন্দিদের চিকিৎসা, খাবার, পরিবার-সাক্ষাৎ এবং কারাগারের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে। এসব অভিযোগের অনেকগুলোই ফিলিস্তিনি পক্ষের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। দানা জুদেহর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি আ টক ছিলেন এবং সন্তান জন্মের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার নবজাতক কন্যার জন্ম কারাগারের ভেতরে হওয়ায় বন্দি নারীদের জন্য গর্ভকালীন চিকিৎসা ও প্রসবকালীন নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও সামনে এসেছে।
গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে পাঠানো হুইলচেয়ার, টয়লেট সিট, ত্রিপল ও বহনযোগ্য টয়লেটসহ কিছু বেসামরিক সামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশা এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সামগ্রীর কিছু ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের বেসামরিক প্রশাসন সংস্থা কোগাত বলেছে, হুইলচেয়ারসহ চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা নেই। গিশার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে নন-ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার, ত্রিপল, স্লিপিং ব্যাগ, ফ্ল্যাশলাইট ও বহনযোগ্য টয়লেটের মতো কিছু পণ্য ডুয়াল-ইউজ পণ্যের আওতায় পড়েছে। এসব পণ্য গাজায় পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই ও বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, কোন পণ্য কোন পরিস্থিতিতে এই শ্রেণিতে পড়ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পষ্টতার ঘাটতি রয়েছে। হুইলচেয়ারের প্রয়োজনীয়তা গাজায় বিশেষভাবে বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মে ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় আহত প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪৩ হাজারের এমন ধরনের গুরুতর আঘাত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি জীবন পরিবর্তনকারী শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু। একই সময়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় পুনর্বাসন সরঞ্জাম ও সহায়ক ডিভাইসের সংকটও তীব্র। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুনর্বাসন-সংক্রান্ত ১৮টি চালান গাজায় প্রবেশের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এসব চালানের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম ছিল। কিছু চালান ১৩০ থেকে ৫২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। টয়লেট ও স্যানিটেশন সামগ্রী নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে গাজার বহু মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। ফলে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের টয়লেটের প্রয়োজন বেড়েছে। বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জামও ডুয়াল-ইউজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে। তবে ‘সব হুইলচেয়ার গাজায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না’ এমন সরল ব্যাখ্যাও পুরো পরিস্থিতিকে তুলে ধরে না। চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে গাজার শিশুদের জন্য পাঠানো শত শত হুইলচেয়ার জর্ডানে আটকে থাকার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে কোগাত জানিয়েছে, ইসরায়েল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে সহায়তা করে এবং হাজার হাজার হুইলচেয়ারের অনুমোদন দিয়েছে। কোগাতের দাবি, ডুয়াল-ইউজ সরঞ্জামের প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে, গিশা ও অন্যান্য মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা বলছে, ডুয়াল-ইউজ শ্রেণিবিন্যাসের বিস্তৃত প্রয়োগের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য গাজায় পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে আহত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের প্রয়োজন থাকা রোগীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় পুনর্বাসন সেবা এখনো গুরুতরভাবে সীমিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, হুইলচেয়ার, কৃত্রিম অঙ্গ ও অন্যান্য পুনর্বাসন সরঞ্জাম দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ না পেলে আহত ও প্রতিবন্ধী মানুষের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান। এটি ছিল র্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান। কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন। তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না। ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না। এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে। তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন। মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস
গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা এবার মঞ্চনাটকে তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নামের এই নাটকে অভিনয় করা শিল্পীদের অনেকেই নিজেরাই যুদ্ধের ক্ষত, ঘর হারানো ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মঞ্চে তারা যে গল্প বলছেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরা যুদ্ধের আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তার উত্তর গাজার আল-তাওয়াম এলাকার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের নিচে একটি কক্ষে থাকেন তিনি। প্রতিদিন পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করে রান্নার ব্যবস্থা করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে মহড়ায় যেতে হয় তাকে। নাটকে কাদ্দুরা এমন এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি যুদ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন এবং অ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই নিজের সন্তানের পা কেটে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি একজন বাস্তব গাজাবাসী বাবার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ায় দৃশ্যটি অভিনয় করতে গিয়ে কাদ্দুরা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মহড়ার মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে আবার মঞ্চে ফিরে একই দৃশ্য অভিনয় করেন। নাটকটির পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন গাজায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। যুদ্ধের কারণে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বা শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি স্থাপনাও রয়েছে। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ প্রকল্পটির শুরু ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাট্যরচনা কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আটজন এতে যুক্ত থাকতে পারেন। পরে তারাই নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন শুরুতে তাদের কোনো স্থায়ী মঞ্চ ছিল না। তাঁবু টাঙিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গাড়ি রাখার জায়গায় মহড়া চলেছে। পরে গোলাগুলির কারণে স্থান পরিবর্তন করে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের ছোট কক্ষে মহড়া করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল না। কাঠের সংকট থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠ দিয়ে শিল্পীরাই মঞ্চের সেট তৈরি করেন। ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী ইমান ওদাও নিজের জীবনের ভয়কে চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পান। এক মহড়ার সময় কাছাকাছি বিস্ফোরণ হলে অভিনেতারা মহড়া বন্ধ করে পরিবারের খোঁজ নিতে ফোন করেন। নিজের বাবার মৃত্যুর স্মৃতিও নাটকের একটি চরিত্রের নামের সঙ্গে জড়িয়ে তার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। অভিনেতা তামের নাজমের গল্পও নাটকের সঙ্গে মিশে গেছে। যুদ্ধের আগে তিনি গাজা সিটির নাসের এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বহু বছর সঞ্চয় করেছিলেন। সেই বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি, ফুটপাত ও তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। নাটকে তিনি এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি পরিবার ও সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় থাকেন। অবশেষে গাজা সিটির আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের এ.এম. কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৯ জুলাই। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়। পরে জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজার দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি প্রদর্শনীতে ৫০০ জনের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। গাজার এই শিল্পীদের কাছে নাটকটি শুধু বিনোদন নয়; নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ ও যুদ্ধের বাস্তবতা নথিবদ্ধ করার একটি মাধ্যম। যুদ্ধের মধ্যেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা এমন গল্প বলছেন, যেগুলোর অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবন থেকে উঠে এসেছে। আর অভিনয় শেষ হওয়ার পরও তাদের যুদ্ধ থেমে থাকে না—মঞ্চ থেকে ফিরে আবার শুরু হয় খাবার, আশ্রয় ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব লড়াই। Source: আল জাজিরা
ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরের ১০ লাখ ডলারের অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা ও শিশুদের শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্মাতা মিস র্যাচেল। তাঁর আসল নাম র্যাচেল অ্যাকুরসো। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থায় এই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ১৭ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মিস র্যাচেল জানান, ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের অনুদানের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ দিতে চান তিনি। তাঁর অনুদান যাবে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। মিস র্যাচেল তাঁর পোস্টে শিশুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্য ধনী তারকাদেরও একই ধরনের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউটিউবে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া মিস র্যাচেলের ২১ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক রয়েছে। ম্যাকলমোর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এ উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন। এই ঘোষণা আসে তাঁকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্রের সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর। এর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়। ম্যাকলমোরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন গায়িকা পিংকও। তিনি ইহুদি দর্শকদের অনুভূতির বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাকলমোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে ম্যাকলমোরের একটি বিতর্কিত পোশাক পরার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার জন্য ম্যাকলমোর তখন প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বার্তা শান্তি, ভালোবাসা এবং সব মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও সমতার পক্ষে। এদিকে এড শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চাপের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান একই সঙ্গে বলেছেন, সংঘাত নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ্যে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের আরও কয়েকজন সহযোগী শিল্পী সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ফিনিয়াস, অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম ও বিওগা রয়েছেন। ম্যাকলমোরের অনুদানের ঘোষণার পর মানবিক সহায়তায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিরান ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও। প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের অর্থ কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। মিস র্যাচেলের অনুদানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ন্যাশনাল
গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের রাজনীতিতে এবার জড়িয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ পপ আইকন এড শিরান। নিজের ‘লুপ ট্যুর’-এর কনসার্ট থেকে ফিলিস্তিনপন্থী মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও বয়কটের মুখে পড়েছেন তিনি। গত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' নিয়ে কথা বলেছিলেন ম্যাকলমোর। এরপরই বিলিয়নিয়ার রবার্ট ক্রাফটসহ মার্কিন স্টেডিয়াম মালিকদের চাপে ম্যাকলমোরকে পরবর্তী কনসার্টগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা শিরানের ক্যারিয়ারে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের জন্ম দিয়েছে। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সংগীতজগতের অনেকেই শিরানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বিলি আইলিশের ভাই ও গায়ক ফিনিয়াসসহ আরও তিন সহশিল্পী শিরানের ট্যুর থেকে ওয়াকআউট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিনিয়াস লেখেন, নির্যাতিতদের পক্ষে কথা বললে শিল্পীদের কখনোই থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। প্রবীণ ব্রিটিশ গায়ক বিলি ব্র্যাগ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিরানকে অহংকার ভুলে ট্যুর বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনি সংগঠন পিএসিবিআই (PACBI) ম্যাকলমোরকে ট্যুরে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই কনসার্ট বয়কটের জন্য ভক্ত, সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সমালোচনার জবাবে এড শিরান দাবি করেছেন যে, তিনি তার পেশাদার প্ল্যাটফর্মকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করেন না। তবে সমালোচকরা তার এই দাবি মানতে নারাজ। কারণ, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনপন্থী কনসার্টে পারফর্ম করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ব্রেক্সিট নিয়েও সরব ছিলেন। ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্রেচেন লারসেন এবং সংগীত বিশ্লেষক নিল মার্চের মতে, ক্ষমতাধরদের চাপে অন্য শিল্পীদের চুপ করিয়ে রাখাকে সমর্থন করা এবং চুপ থাকাও এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মৃতদেহসহ এই সংখ্যা প্রায় ২ লাখ হতে পারে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েল তা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে, যার জেরে নতুন করে আরও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান। ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা। ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান। ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন। রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-
গাজার জেইতুন এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী নেভিন আবু হাতাব ও তার স্বামী মোহাম্মদ। বিয়ের চার মাসও পূর্ণ হয়নি তাদের। যুদ্ধের মধ্যেই অল্প সামর্থ্যে নতুন সংসার গুছিয়ে স্থিতিশীল জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। হঠাৎ মধ্যরাতে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় দুজনের। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পান শুধু একটি ব্যক্তিগত ব্যাগ ও কাজের একটি ল্যাপটপ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ধ্বংস হয়ে যায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টসহ পুরো ভবন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখেন নেভিন। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার ভাষায়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই জীবনের সবকিছু হারিয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে আগেই তাদের বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলেও নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি দিন পাননি তারা। সীমিত সম্পদের মধ্যেই ঘর সাজিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন এই দম্পতি। এদিকে গাজায় হামলা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক রাতের হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হামাসের কয়েকটি অস্ত্র সংরক্ষণস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সব ধরনের হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না। যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে গাজায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগও অব্যাহত রয়েছে।
মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৪৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় আরও নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে নয়জনের মরদেহ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর আহত ফিলিস্তিনির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭২ জনে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের নিচে এবং বিভিন্ন সড়কে আরও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলা বা অন্যান্য লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৩১৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৩৬১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গাজায় নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে গাজায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সংগঠনটি ৩১৭টি নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করে এই অনুমান করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বিশ্লেষণ করা ৩১৭টি ঘটনার মধ্যে ৩০২টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তি ছিলেন পুরুষ এবং ১৫টি ঘটনায় ছিলেন নারী। এসব ঘটনার মধ্যে ৪১ জন শিশু এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ১৭ জন মানুষও ছিলেন। গাজা শহরে নথিভুক্ত ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি ৮৯টি। এরপর উত্তর গাজায় ৭৪টি, খান ইউনিসে ৫৯টি, মধ্য গাজায় ৩৭টি এবং রাফাহতে ৩২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৭৬টি ঘটেছে বাড়িতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বা কোনো এলাকার অবরোধের সময়। আরও ৬০টি ঘটনা ঘটেছে বাড়িতে ফেরার চেষ্টা বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের সময়। বাস্তুচ্যুতি কিংবা সামরিক তল্লাশিচৌকি অতিক্রমের সময় ৪২টি এবং খাবার খোঁজা বা মানবিক সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় ৩৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ বা দখল এবং রোগী স্থানান্তরের সঙ্গে ২২টি ঘটনা যুক্ত ছিল। সাংবাদিক বা মাঠপর্যায়ে কাজ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১০টি ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটি আলাদাভাবে জানিয়েছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ চাপা পড়ে নিখোঁজ থাকতে পারেন। তবে এসব ঘটনাকে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। নিখোঁজ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে এর আগে ফিলিস্তিনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ১১ হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে নিখোঁজ বা জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু ছিলেন। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের কেন্দ্র নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পেতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধের ফলে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।