সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চীন

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানে সামরিক যন্ত্রাংশ পাঠানোর মামলায় রায় দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
চীনের মাধ্যমে ইরানে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি পাচার, ইরানি নাগরিকের ১৮ মাসের কারাদণ্ড

চীনের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ পাঠানোর ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক ইরানি নাগরিককে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। রেজা দিনদার, যিনি রেন্দা দিনদার নামেও পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর এই সাজা পেয়েছেন। ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার ফেডারেল আদালতে ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারক রিকার্ডো এস. মার্টিনেজ এই সাজা ঘোষণা করেন।   আদালতের নথি ও মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনদারকে ১০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর আরও তিন বছর তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তিনি একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশে পণ্য রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচারের দুটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, তবে অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের সামনে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।   মামলার সূত্রপাত ২০১১ ও ২০১২ সালের একটি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দিনদার ও তার সহযোগীরা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনটি সামরিক সোনার ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলেন, এসব সরঞ্জাম চীনের একটি কোম্পানি ব্যবহার করবে। কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনা ছিল চীনের মাধ্যমে যন্ত্রাংশগুলো ইরানে পাঠানো।   দিনদার ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের শিয়ান শহরে নিউ পোর্ট সোর্সিং সলিউশন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত গন্তব্য গোপন করা হয়েছিল। মার্কিন সরবরাহকারীকে চীনকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে জানানো হলেও পণ্যগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটররা জানান।   মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে পণ্য, প্রযুক্তি বা সেবা রপ্তানি কিংবা পুনরায় রপ্তানি করা নিষিদ্ধ। এমনকি তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানে বা জানার যথেষ্ট কারণ থাকে যে পণ্যটি শেষ পর্যন্ত ইরানে যাবে। এই মামলায় চীনকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   মামলায় দিনদারের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৪ সালের আগস্টে। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতের বাইরে ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পানামা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন।   সাজার শুনানিতে বিচারক মার্টিনেজ উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনা এক দশকেরও বেশি আগে ঘটেছিল এবং দিনদার পানামার কারাগারে উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন। এই বিষয়টিও সাজা নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা ১৮ মাসের কারাদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের লঙ্ঘন ঠেকাতে শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করা প্রয়োজন।   মামলাটি তদন্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগকারী দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। দিনদারকে গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর পানামা সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগও এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মামলাটি দেখিয়েছে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হতে পারে, যদি পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ হয়। বিশেষ করে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সংবেদনশীল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসব নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দিনদারের সাজা সেই দীর্ঘদিনের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এসেছে।   সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ (U.S. Department of Justice), ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক বাজারে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক অস্ত্র রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলে অষ্টম স্থানে উঠে এল তুরস্ক

বিশ্ব অস্ত্র রপ্তানির বাজারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে তুরস্ক। রাশিয়ার Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT) বা বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারকদের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এই তালিকায় তুরস্কের পেছনে রয়েছে চীন, যার অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার।   CAWAT-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৪৪ দশমিক ৬০৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রাশিয়া, ১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে। জার্মানি ৮ দশমিক ৯০৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৮ দশমিক ৭৭৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।   তালিকায় পঞ্চম স্থানে ফ্রান্সের অস্ত্র রপ্তানির মূল্য ৮ দশমিক ৬৩০ বিলিয়ন ডলার। এরপর ইসরায়েল ৫ দশমিক ৯৯৫ বিলিয়ন, ইতালি ৫ দশমিক ২২৫ বিলিয়ন, তুরস্ক ৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন, স্পেন ৩ দশমিক ৪৭৬ বিলিয়ন এবং চীন ২ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষ ১০-এ রয়েছে।   CAWAT-এর এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তুরস্ক এত উঁচু অবস্থানে পৌঁছেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রকাশনায় প্রকাশিত CAWAT-এর প্রতিবেদনে জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের রপ্তানি পারফরম্যান্সকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তুরস্কের এই অগ্রগতির পেছনে দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ড্রোন, সাঁজোয়া যান, নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, রাডার ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে তুরস্কের শিল্পখাত গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে।   তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানির মোট পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ব্যবহৃত সংজ্ঞা ও হিসাবের কারণে পার্থক্য রয়েছে। তুরস্কের সরকারি প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতের মোট রপ্তানি ছিল ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ছিল ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি ১৮৪ মিলিয়ন ডলার।   তুরস্কের সরকারি তথ্য আরও বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে নতুন চুক্তির মূল্য ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২৪ সালের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭৮ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তুরস্ক পর্তুগালের সঙ্গে সামরিক জাহাজ রপ্তানি এবং স্পেনের সঙ্গে হুরজেট প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বড় চুক্তি করেছে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কেএএএন যুদ্ধবিমান এবং রোমানিয়ার সঙ্গে অফশোর টহল জাহাজ নিয়েও চুক্তি হয়েছে।   তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণের আরেকটি দিক হলো বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ রপ্তানি ছিল মাত্র ২৪৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ০৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।   অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণে ব্যবহৃত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা SIPRI-এর সর্বশেষ ২০২১-২৫ সময়ের তথ্য তুরস্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখায়। SIPRI-এর হিসাবে, ওই পাঁচ বছরে তুরস্ক বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক ছিল এবং বৈশ্বিক রপ্তানির ১ দশমিক ৭ শতাংশ তার দখলে ছিল। ২০১৫-১৯ থেকে ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি ১০৩ শতাংশ বেড়েছিল।   SIPRI-এর হিসাব আর CAWAT-এর হিসাবের মধ্যে পার্থক্যের কারণ তাদের তথ্য সংগ্রহ ও পরিমাপের পদ্ধতি এক নয়। SIPRI মূলত বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্রের আন্তর্জাতিক হস্তান্তর পরিমাপ করতে ‘ট্রেন্ড-ইন্ডিকেটর ভ্যালু’ বা টিআইভি ব্যবহার করে, যা সরাসরি অস্ত্র বিক্রির আর্থিক মূল্য নয়। অন্যদিকে CAWAT-এর ২০২৫ সালের র‌্যাঙ্কিংয়ে বাণিজ্যিক চুক্তি ও সরবরাহের আর্থিক মূল্যকে ভিত্তি করা হয়েছে।   ফলে তুরস্ক চীনকে পেছনে ফেলে অষ্টম হয়েছে বলা হলে সেটি CAWAT-এর ২০২৫ সালের আর্থিক মূল্যভিত্তিক র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির একক বা সর্বজনীন র‌্যাঙ্কিং হিসেবে দেখলে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর হতে পারে।   তবে বিভিন্ন সূচকেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়টি স্পষ্ট। বিশেষ করে চালকবিহীন বিমান, সাঁজোয়া যান, নৌ প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ায় দেশটির রপ্তানি সক্ষমতা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। SIPRI-ও ২০২০-২৪ সময়ে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির বাজার সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেছে।   সূত্র: Centre for Analysis of World Arms Trade (CAWAT)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি

অনার্সে সিজিপিএ ২.৯৩, মাস্টার্সে ২.৮৮। ছিল না আইইএলটিএস স্কোর, ছিল না গবেষণার অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো প্রকাশিত গবেষণাপত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সেই শিক্ষার্থীই এখন চীনের ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করছেন। মাঝের এই পথ তৈরি হয়েছে চীনে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স, গবেষণা এবং কিউ ওয়ান জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে।   শামীম নামের ওই শিক্ষার্থীর এই যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন তাকবীর হোসাইন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শামীম নিজেকে ব্যাচের পিছনের দিকের শিক্ষার্থীদের একজন মনে করতেন। মাস্টার্সও করেছিলেন অ-গবেষণাভিত্তিক ধারায়। সে সময় তাঁর কোনো গবেষণার অভিজ্ঞতা বা প্রকাশনা ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ও কোচিংয়ে বেশি সময় দেওয়ায় সহপাঠীদের মধ্যে তিনি মজা করে ‘টিউশন ব্যবসায়ী’ নামেও পরিচিত ছিলেন।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন বছর চাকরি করেন শামীম। এরপর চীনের সাংহাইয়ের ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে দ্বিতীয় মাস্টার্স শুরু করেন। চীনে যাওয়ার আগে তাঁর কোনো গবেষণার অভিজ্ঞতা বা প্রকাশিত গবেষণাপত্র ছিল না। সেখানে গিয়ে তিনি নাইট্রেট হ্রাস বিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন।   মাস্টার্স চলাকালেই কিউ ওয়ান জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। অর্থাৎ একেবারে শূন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে চীনে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজের গবেষণার পরিচিতি তৈরি করেন। এরপর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসে পিএইচডির সুযোগ পান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পিএইচডির জন্য আগের বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকেও তিনি চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের বৃত্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্যাস-আনসো বৃত্তি নিয়ে ইউসিএএসে পিএইচডি শুরু করেন।   ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাস-আনসো বৃত্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ দেয়। ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে পিএইচডির জন্য প্রতি বছর ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইউসিএএসের বিভিন্ন স্কুল এবং চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থী গবেষণা ও ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।   গবেষণার দিক থেকেও ইউসিএএসের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। নেচার ইনডেক্সের ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় ইউসিএএস বিশ্বের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। একই বছরের রসায়নভিত্তিক তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান তৃতীয়। নেচার ইনডেক্সের এই তালিকা মূলত নির্দিষ্ট উচ্চমানের গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। অন্যদিকে কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং ২০২৭-এ ইউসিএএসের অবস্থান ৩৬০তম।   দুটি র‍্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি এক নয়। কিউএস একটি সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং, যেখানে একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে নেচার ইনডেক্স নির্দিষ্ট উচ্চমানের গবেষণা প্রকাশনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ইউসিএএসের সামগ্রিক র‍্যাংকিং এবং গবেষণাভিত্তিক অবস্থানকে একই মাপকাঠিতে দেখা যায় না। তবে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান যে গুরুত্বপূর্ণ, নেচার ইনডেক্সের তথ্য তা তুলে ধরে।   শামীমের গল্পের আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। তাকবীর হোসাইনের বর্ণনা অনুযায়ী, কিছুদিন আগে শামীম যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান অ্যান আরবারের একজন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন এবং সেখানে পরিচিত কেউ আছেন কি না জানতে চেয়েছিলেন। পরে সেই সম্ভাব্য সুযোগ কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চীনে স্থিরভাবে আছেন বলে জানানো হয়েছে।   এই অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো প্রথম ডিগ্রির ফলাফল পরবর্তী উচ্চশিক্ষার পুরো পথ নির্ধারণ করে দেয় না। কম সিজিপিএ বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাক্রমে সুযোগ সীমিত করতে পারে। আইইএলটিএস, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনাও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরবর্তী পর্যায়ে ভালো গবেষণা, প্রকাশনা, শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগ এবং উপযুক্ত বৃত্তির সুযোগ তৈরি করতে পারলে নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণাগত অবস্থান বদলানোর পথও তৈরি হতে পারে।   চীনের উচ্চশিক্ষা নিয়েও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে চীনের ৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে রয়েছে। একই র‍্যাংকিংয়ে চীনের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ৪০-এ জায়গা পেয়েছে।   তাই উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে নিজের একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার আগ্রহ, অর্থায়নের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তির সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। শামীমের যাত্রা অন্তত এটুকু দেখায়, দুর্বল একাডেমিক ফলাফল দিয়ে পথ শুরু হলেও পরবর্তী ধাপে গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তাঁর ক্ষেত্রে চীনে পাওয়া সেই সুযোগই শূন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণার পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
চীনের উহানে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে বান রুটির দোকান খুলেছেন সাবেক চিকিৎসক ডং মিন। ছবি: সংগৃহীত
মানসিক শান্তি পেতে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিলেন নারী, খুললেন বান রুটির দোকান

দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন চীনের এক নারী। কিন্তু রোগীর চাপ, প্রশাসনিক কাজ আর মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে তিন বছর আগে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ডাক্তারি ছেড়ে তিনি একটি স্টিমড স্টাফড বান বা ভাপানো রুটির দোকান খোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার এই দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং দারুণ সফলতা পেয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় শাখাও চালু করেছেন।   ডং মিন নামের ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক চিকিৎসকের গল্পটি চীনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন প্রবণতার চিত্র তুলে ধরেছে। যেখানে মানসিক শান্তি ও সহজ জীবনের আশায় অনেক চিকিৎসক তাদের সম্মানজনক পেশা ছেড়ে সাধারণ ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন।   চীনের সংবাদমাধ্যম চ্যাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডং মিন বলেন, যখন আমি চিকিৎসক ছিলাম, তখন প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতাম। এখন বান রুটির দোকান চালাতে গিয়ে আমাকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় এবং আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আমি এতটাই খুশি যে এই কাজ থামানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই।   ১৯৯৯ সালে উহান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ডং মিন। এরপর শেনজেন শহরে গাইনোকোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কয়েক বছর পর মায়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক পরিচালনার জন্য উহানে ফিরে আসেন তিনি।   মায়ের অবসরের পর তারা ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন এবং হুবেই প্রদেশের তিয়ানমেনে নিজেদের এলাকায় ফিরে যান। সেখানে ডং একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন।   পেশা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ডং জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে চরম মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হতো। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঘন ঘন পরিদর্শনের মতো চিকিৎসা বহির্ভূত কাজেও প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হতো। চীনে হাসপাতাল ও রোগীদের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময় বেশ উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসাজনিত বিবাদের সম্পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই বর্তাতো।   আগের কাজের সঙ্গে বর্তমান জীবনের তুলনা করে ডং বলেন, এখন তাকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়, কিন্তু তার কোনো মানসিক চাপ নেই।   ২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের এমন একটি দোকান দেখে তিনি এই ব্যবসায় আগ্রহী হন। শুরুতে তিনি একটি বান রুটির দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে দোকানের প্রধান বাবুর্চি কাজ ছেড়ে দিলে তিনি নিজেই বান রুটি তৈরির কৌশল শেখার সিদ্ধান্ত নেন। খুব দ্রুত তিনি এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন এবং কাজটি উপভোগ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দোকানটি পরিচালনার জন্য ডাক্তারি পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছিল। কারণ চীনে চিকিৎসকের পেশাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক মনে করা হয়। এর জবাবে ডং তার পরিবারকে বলেছিলেন, আমার বয়স এখন প্রায় ৫০ বছর এবং আমি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। অন্যরা আমাকে নিয়ে কী ভাবল তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি শুধু এমন একটি জীবন চাই যা আমি ভালোবাসি এবং আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই।   তার এই দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তার মা ও ভাই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন এবং এখন তারা মাঝেমধ্যে দোকানে এসে তাকে সাহায্যও করেন। ডং বলেন, জীবনে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, পরিবর্তনের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না। আমি যতদিন চলাফেরা করতে পারব, ততদিন এই দোকানটি চালিয়ে যেতে চাই।   চীনে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং প্রশাসনিক কাজের বোঝার কারণে চিকিৎসকরা প্রায়ই মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। ডংয়ের মতো আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এখন তুলনামূলক কম মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু শান্তিময় পেশার দিকে ঝুঁকছেন।   ২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ধরে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে স্ন্যাকসের দোকান খোলেন। তিনি জানান, আগের চাকরিতে তিনি মাসে ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতন পেতেন, কিন্তু এখন তার আয় আগের চেয়ে অনেক বেশি।   চীনের চিকিৎসকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম জিং লিন ইউয়ান কমিউনিটির মতে, চিকিৎসকরা শুধু শারীরিকভাবে ক্লান্ত হন না, তারা চরম মানসিক অবসাদেও ভোগেন। এটি পুরো চিকিৎসা খাতের একটি কাঠামোগত সমস্যা। চিকিৎসকদের অন্তহীন চিকিৎসা বহির্ভূত কাজ করতে হয় এবং রোগীদের অভিযোগের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। অথচ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না।   সূত্র: চ্যাংজিয়াং ডেইলি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
পানির নিচে পরীক্ষামূলক সৌর মডিউল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
সাগরের তলদেশে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য

সাগরের পানির নিচে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি বিশেষ সৌরকোষ দক্ষিণ চীন সাগরের পানির ১০ মিটার গভীরতায় সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। পরীক্ষায় এই সৌর মডিউল দিয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলোও জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।   গবেষণাটি ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুলের গবেষকেরা পানির নিচে সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য প্রশস্ত ব্যান্ডগ্যাপের লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌরকোষ ব্যবহার করেন। গবেষকদের মতে, পানির নিচে বাস্তব পরিবেশে ১০ মিটার গভীরতায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা আগের পরীক্ষাগুলোর তুলনায় বড় অগ্রগতি।   সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। একই সঙ্গে পানির কারণে আলোর বর্ণালিও বদলে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দ্রুত শোষিত হওয়ায় পানির গভীরে নীল ও সবুজ আলোর আধিক্য থাকে। এ কারণে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ পানির নিচে একইভাবে কার্যকর থাকে না। গবেষকেরা এই সমস্যার সমাধানে এমন পেরোভস্কাইট সৌরকোষ তৈরি করেছেন, যা পানির নিচে পৌঁছানো সীমিত আলোর বর্ণালির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।   গবেষণাপত্র অনুযায়ী, নতুন সৌরকোষের শক্তি রূপান্তর দক্ষতা ১০ মিটার গভীরতার আলো অনুকরণ করে পরীক্ষায় ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কৃত্রিমভাবে ১০ মিটার গভীরতার পানির নিচের আলোর পরিবেশ তৈরি করে ১ হাজার ১৬০ ঘণ্টা পরীক্ষা চালানোর পরও কোষটির কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যায়নি। আর ত্বরিত বার্ধক্য পরীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করছেন, একই ধরনের পরিবেশে কোষটি প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত তার প্রাথমিক সক্ষমতার অন্তত ৮০ শতাংশ ধরে রাখতে পারে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষাটি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপপুঞ্জের কাছে পানির নিচে রোবটের সঙ্গে বড় আকারের সৌর মডিউল যুক্ত করে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়। ২, ৬ এবং ১০ মিটার গভীরতায় মডিউলগুলো পরীক্ষা করা হয়। ১০ মিটার গভীরতায় দুই ঘণ্টা সূর্যালোকের মধ্যে মডিউলটি ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ এবং এলইডি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।   এর আগে পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষণার অন্যতম লেখক ঝাং ওয়েন-হুয়া বলেন, এত অল্প গভীরতার পরীক্ষা বাস্তব সমুদ্রভিত্তিক প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন পরীক্ষায় ১০ মিটার গভীরতায় বড় আকারের সৌর মডিউল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেখানো হয়েছে, যা পানির নিচে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।   পানির নিচে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারও বিস্তৃত। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যন্ত্রে নিয়মিত ব্যাটারি বদলানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজন কমাতে এটি ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধানের বাইরে থাকা সামুদ্রিক যন্ত্রের জন্য এমন একটি স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ১০ মিটার গভীরতায় সফলতা পাওয়া গেলেও আরও বেশি গভীরতায় এর কার্যকারিতা কেমন থাকবে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের প্রকৃত পরিবেশে কীভাবে কাজ করবে এবং সামুদ্রিক জীব ও আবর্জনা জমে সৌরকোষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেসব বিষয় নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকেরা পরবর্তী ধাপে আরও গভীর পানিতে এই প্রযুক্তির সীমা পরীক্ষা এবং পানির নিচের সৌরকোষের জন্য মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি তৈরির পরিকল্পনা করছেন।   অর্থাৎ, এটি এখনই প্রচলিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প নয়। তবে সমুদ্রের পানির নিচে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রকে দীর্ঘ সময় নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।   সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, জুল, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব? মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলার অনুদান
ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব? মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলার অনুদান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন এক চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি পরিবার মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে। এই বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।   সম্প্রতি অবমুক্ত হওয়া এফবিআইয়ের গোপন নথি এবং রাজ্য ও ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারণার আর্থিক হিসাব থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের চলমান বিতর্কটি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে ইন (Yin) পরিবার। এই পরিবারের প্রধান চে চিয়েন ইন (সি.সি. ইন) এবং তার ভাই হেনরি ইন ‘এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ (APAPA) নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি.সি. ইন একসময় সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফাংয়ের (যিনি ফাং ফাং নামেও পরিচিত) সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, হেনরি ইন গত এক দশকে চীনের ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ পেয়েছেন।   এটি মূলত চীনা সরকারের বিদেশি প্রভাব বিস্তারের কাজে নিয়োজিত একটি বিশেষ শাখা। রেকর্ড অনুযায়ী, ইন পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রায় ৩০ লাখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রচারণায় আরও সাড়ে ১৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে, যার সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিওসম, কমলা হ্যারিস ও কংগ্রেস সদস্য রো খান্নার মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালে চীনে গ্যাভিন নিওসমের সফরের পেছনেও এই পরিবারের ভূমিকা ছিল।   তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সি.সি. ইন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং যেকোনো বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তার দাবি, শুধু এশীয় বংশোদ্ভূতদের নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করতে এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাড়াতেই তিনি ওই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন।   এখন পর্যন্ত হেনরি ইন বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের ইউনাইটেড ফ্রন্ট এভাবেই সাধারণত সফল ও প্রভাবশালী মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করে। অনুদান ও উপহারের মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তুলে পরবর্তীতে তারা মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে বড় আকারের চালকবিহীন ড্রোন সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে চীনের নতুন পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ড্রোন 'মাদারশিপ'

চীন এমন একটি বিশাল জাহাজ নির্মাণ করছে, যা বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন নৌ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন জাহাজটির ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নকশা বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহন, সমুদ্রে নামানো এবং পুনরায় জাহাজে তোলার উপযোগী।   নৌবিষয়ক বিশ্লেষক এইচ আই সাটনের নেতৃত্বে একাধিক স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হয়েছে, জাহাজটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যবহার বড় চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য একটি বিশেষ মাদারশিপ হিসেবে কাজ করা। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ থেকে ২০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ ফুটের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   জাহাজটির পেছনের অংশে এমন একটি ব্যবস্থা দেখা গেছে, যা পানির নিচে থাকা যান নামানো ও তুলে আনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে একটি বড় অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারও রয়েছে বলে স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে। নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, জাহাজটি একই সঙ্গে কয়েকটি বড় চালকবিহীন ডুবোযান বহন করতে পারবে।   চীনের তৈরি বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে ‘এক্সএক্সএলইউইউভি’ বা অতিবৃহৎ চালকবিহীন ডুবোযান বলা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্তত দুটি নকশা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ও ৪৫ মিটার। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ ছোট আকারের পানির নিচের ড্রোনের তুলনায় অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বোয়িং অরকার মতো চালকবিহীন ডুবোযানের তুলনায়ও এগুলোর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড়।   স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন জাহাজটির ভেতরের হ্যাঙ্গারে চারটি পর্যন্ত বড় ডুবোযান রাখা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক ছোট আকারের চালকবিহীন ডুবোযানও বহন করা যেতে পারে। জাহাজটির পেছনের অংশে থাকা বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করে এগুলো পানিতে নামানো ও আবার জাহাজে তোলা সম্ভব হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন জাহাজ নির্মাণ করা হলে চীনের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে উপকূলীয় ঘাঁটি বা স্থির ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর কম নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। মাদারশিপ সমুদ্রে ডুবোযানগুলো নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় নামাতে এবং প্রয়োজনে পরে তুলে আনতে পারবে। একই সঙ্গে জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।   চালকবিহীন ডুবোযানের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের কাজ করা সম্ভব। এগুলো অগভীর পানিতে প্রবেশ, অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ বা শব্দগত বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ এবং সমুদ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।   ভারতের তাকশশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথনের মতে, এ ধরনের ডুবোযান অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের জন্য বড় তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারে। এতে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত হলে সেটি কোন ধরনের জাহাজ বা ডুবোযানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা দ্রুত বোঝা সহজ হতে পারে।   তবে সামরিক ব্যবহারও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। রামানাথনের মতে, চালকবিহীন ডুবোযান তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সক্ষমতাও রাখতে পারে। তবে বর্তমানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজ বা সংশ্লিষ্ট ডুবোযানগুলো ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে, তা নিশ্চিত নয়।   চীনের সামরিক বাহিনী এখনো নির্মাণাধীন জাহাজটির অস্তিত্ব বা উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার করেনি। ফলে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে করা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নকে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়।   এই উন্নয়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দক্ষিণ চীন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর চীনের দাবির সঙ্গে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের দাবির বিরোধ রয়েছে। ২০১৬ সালে হেগের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত সমুদ্রসীমার দাবির আইনগত ভিত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। বেইজিং ওই রায় মেনে নেয়নি।   এদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতাও চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে চালকবিহীন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পানির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম বড় ডুবোযান সেই সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।   ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নতুন জাহাজটি যদি সত্যিই বড় চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হয়, তাহলে এটি চীনের এসব ডুবোযানের কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বড় মাদারশিপটি নিজে তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্তযোগ্য হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি থাকবে।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সমুদ্র পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এরপরই এর প্রকৃত সক্ষমতা ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, নেভাল নিউজ, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
চীনের মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া রহস্যময় লেজবিহীন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের ‘এরিয়া ৫১’ ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ড্রোনের পরীক্ষা, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ধরনের বিশাল উড়োজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র ‘এরিয়া ৫১’-এর সঙ্গে তুলনা করা মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া এই উড়োজাহাজটি চীনের পরবর্তী প্রজন্মের নজরদারি ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সামরিক ও বিমান বিশেষজ্ঞরা।   চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত মালান বিমানঘাঁটিতে সম্প্রতি রহস্যময় নতুন একটি উড়োজাহাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্রেও একই ধরনের একটি বিশাল উড়োজাহাজকে ঘাঁটিটির কাছে দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেটিকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জেনস উড়োজাহাজটির সম্ভাব্য নাম ডব্লিউজেড-এক্স বলে উল্লেখ করেছে।   ছবিতে দেখা উড়োজাহাজটির নকশা অনেকটা লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার মতো। জেনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ডানার বিস্তার প্রায় ৫২ থেকে ৫৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ মিটার। আকার ও নকশা বিবেচনায় এটি দীর্ঘ সময় ও অনেক উচ্চতায় উড়তে সক্ষম গোয়েন্দা, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহকারী ড্রোন হিসেবে তৈরি করা হতে পারে। তবে এটি আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।   বিমান বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস রুপপ্রেখটের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মালান ঘাঁটি চীনের বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ নতুন উড়োজাহাজটিকে ডব্লিউজেড-এক্স হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে এর প্রকৃত সক্ষমতা, ব্যবহার এবং চীনের সামরিক বাহিনীতে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।   মালান বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। শিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি ঐতিহাসিকভাবে চীনের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাছাকাছি লপ নুর এলাকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চীন প্রায় ৪৫টি পরমাণু পরীক্ষা চালায়। পরবর্তী সময়ে মালান ঘাঁটি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ও ড্রোন উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘাঁটিটিতে উন্নত সামরিক উড়োজাহাজ পরীক্ষার কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মালানে জে-১১সহ বিভিন্ন ধরনের চীনা গোপনীয় ড্রোনের উপস্থিতি উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। বড় আকারের লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার নকশার একাধিক ড্রোনও সেখানে দেখা গেছে।   চীনের আরেকটি গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র লপ নুর বিমানঘাঁটিতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত স্যাটেলাইটচিত্র বিশ্লেষণে সেখানে নতুন হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘাঁটিটি এখন উন্নত সামরিক উড়োজাহাজের পরীক্ষার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   লপ নুর ঘাঁটিতে এর আগে চীনের নতুন প্রজন্মের জে-৩৬ ও জে-এক্সডিএস যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। এসব উড়োজাহাজকে সাধারণত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ কারণেই চীনের প্রত্যন্ত সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সামরিক বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা আশঙ্কাগুলোকে সরাসরি নিশ্চিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজটির উদ্দেশ্য, পাল্লা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্যে আসা ছবি ও উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতেই এসব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।   মালান বিমানঘাঁটির নতুন উড়োজাহাজের উপস্থিতি তাই চীনের উন্নত ড্রোন ও গোপনীয় বিমান প্রযুক্তি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম বড় আকারের গোয়েন্দা ড্রোন তৈরি হলে তা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রকল্পটির প্রকৃত সামরিক প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল, জেনস, দ্য ওয়ার জোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনের কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনের কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি

কল্পবিজ্ঞানের দৃশ্য এবার বাস্তব কারখানায়। চীনের গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌয়ে ইউবিটেক রোবোটিকসের নতুন শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট কারখানায় রোবটই অন্য রোবট তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কারখানাটি উৎপাদনে যায়। পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং বছরে ১০ হাজারের বেশি রোবট তৈরির সক্ষমতা রাখা হয়েছে।    লিউঝৌয়ের উত্তরাঞ্চলীয় ইকোলজিক্যাল নিউ ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই কারখানার আয়তন প্রায় ১৪ হাজার বর্গমিটার এবং ভবনটির উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে মূলত ইউবিটেকের ওয়াকার এস এবং ক্রুজার সিরিজের শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ১০ হাজার ইউনিট বা তার বেশি বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতার জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট স্মার্ট কারখানা।    কারখানাটির বিশেষত্ব শুধু দ্রুত উৎপাদন নয়, বরং উৎপাদন প্রক্রিয়াতেই হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার। ক্রুজার ওয়াই১ ও ক্রুজার এস২ মডেলের রোবটগুলো যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ নামানো, স্তূপ করা, তোলা এবং উৎপাদন লাইনে সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন পরিবহন যান এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামও চূড়ান্ত সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।    পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে একটি ডিজিটাল ‘স্মার্ট ব্রেইন’। এর মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সমন্বয়, যন্ত্রাংশের চলাচল এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ইউবিটেকের সঙ্গে সিমেন্সও এই হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য বিশেষ ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করেছে। শিল্প কারখানার ভার্চুয়াল মডেল ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া আগে থেকেই পরীক্ষা ও পরিকল্পনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।    এই ধরনের ব্যবস্থা হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিকে পরীক্ষামূলক বা ছোট পরিসরের উৎপাদন থেকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হিউম্যানয়েড রোবটের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের সংখ্যা বেশি, সংযোজনের কাজ তুলনামূলক জটিল এবং মডেল দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাই একই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মডেল তৈরি করতে সক্ষম নমনীয় কারখানা প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।    চীনে রোবট উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চীনে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিল্প রোবটের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।    আগস্টের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে চীনে ৯৬ হাজার ১৭৪টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৫২টি, যা বার্ষিক হিসাবে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি।    ফলে লিউঝৌয়ের নতুন কারখানাটি শুধু একটি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র নয়, রোবট শিল্পের উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। যেখানে একসময় মানুষের হাতে তৈরি রোবটই ছিল স্বাভাবিক চিত্র, সেখানে এখন রোবটকে উৎপাদন লাইনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের রোবট তৈরি করার দিকে এগোচ্ছে শিল্পখাত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায়  নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার
প্রযুক্তি-নিরাপত্তায় সন্দেহ হলেই নতুন নিয়মে চীন ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার

চীনে নতুন প্রবেশ ও বহির্গমন বিধি কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় জাতীয় নিরাপত্তা বা শিল্প ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। নতুন বিধি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।   নতুন নিয়মে প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক আইন ভঙ্গ করে চীনের শিল্প বা প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ থাকলে কোনো চীনা নাগরিকের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে। বিদেশে অবস্থানকালে জাতীয় নিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো চীনা নাগরিক দেশে ফেরার পরও ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত দেশ ছাড়তে না পারার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।   চীনের কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বিধির লক্ষ্য জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা করা। দেশটির সাইবারস্পেস প্রশাসন জানিয়েছে, নিয়মগুলো সাধারণ বৈধ ভ্রমণকারীদের লক্ষ্য করে নয়; বরং অবৈধ আন্তঃসীমান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।   তবে নতুন বিধি নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘জাতীয় স্বার্থ’ ও ‘প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা’র মতো বিস্তৃত শব্দ ব্যবহারের কারণে কর্তৃপক্ষের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বড় ধরনের ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত বা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো থেকেও বিরত থাকতে পারে কর্তৃপক্ষ।   নতুন নিয়মে বিদেশিদের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভিসা আবেদন বা সীমান্তে প্রবেশের সময় মিথ্যা তথ্য দিলে কোনো বিদেশি নাগরিককে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।   তাইওয়ান থেকেও নতুন নিয়ম নিয়ে সতর্কতা এসেছে। বিশেষ করে চীনে যাতায়াতকারী তাইওয়ানের প্রযুক্তি খাতের কর্মী, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাইওয়ানের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নতুন বিধান এসব ব্যক্তির ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   সোর্স: রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা
বিশ্বের মানুষ চায় একে-অপরের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

বিশ্বের ৩৪টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি মানুষের সমর্থন এখনো শক্তিশালী। একই সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বেড়েছে। তবে বিশ্ব নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ভূমিকা নিয়ে আগের তুলনায় কম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।   রকফেলার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফোকালডেটা পরিচালিত জরিপটি ২১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়। এতে ৩৫ হাজার ৩৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, গত এক বছরে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।   তারপরও ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে জাতীয় স্বার্থের কিছুটা ছাড় দিতে হলেও দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ২০২৫ সালের জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ৩৪ দেশের মধ্যে ২১টি দেশের মানুষ শীর্ষে রেখেছেন।   বিশ্ব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তারা স্বস্তিবোধ করেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে কানাডা ৬০ শতাংশ, জাপান ৫৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া ৫৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেকে। নিজেদের দেশকে বাদ দিয়ে ৪২ শতাংশ রাশিয়াকে, ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩০ শতাংশ চীনকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেছেন। তবে দেশভেদে এই ধারণায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মানুষ এমন একটি আন্তর্জাতিক জোটকে সমর্থন করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কোনোটি অংশ না নিলেও অন্য দেশগুলো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে। অর্থাৎ দুই পরাশক্তির বাইরে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ ভূমিকার প্রতিও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর আস্থা ৬৯ শতাংশে, জাতিসংঘের ওপর ৬২ শতাংশে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওপর ৫৭ শতাংশে, বিশ্বব্যাংকের ওপর ৫৫ শতাংশে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর ৫১ শতাংশে উঠেছে।   তবে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগও স্পষ্ট। মাত্র ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে তাদের দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আশাবাদ ২৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫০ শতাংশে এবং চীনে ১৬ পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশে নেমেছে।   জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গবেষকদের মতে, ফলাফলগুলো দেখাচ্ছে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আগ্রহ কমেনি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রতলে বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার উপস্থিতি থাকা একটি বড় খনিজভান্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা গবেষকেরা। চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পরিচালিত ১৮ দিনের এক সমুদ্র অভিযানে উচ্চ তাপমাত্রার হাইড্রোথার্মাল এলাকায় এই খনিজভান্ডারের সন্ধান মেলে।   চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি, সাংহাই জিয়াও থং বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। গবেষণা জাহাজ শিয়াং ইয়াং হং ১০ গত ১০ আগস্ট শেনজেন থেকে যাত্রা করে। অভিযানের সময় গবেষকেরা সাবমার্সিবল ব্যবহার করে সমুদ্রতলে সাতবার ডুব দেন।   গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সমুদ্রতল থেকে সংগ্রহ করা কিছু আকরিকের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম সোনা এবং ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত রুপা রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, কিছু নমুনায় সোনা ও রুপার ঘনত্ব স্থলভাগের অনেক খনিজভান্ডারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে। তবে এগুলো প্রাথমিক নমুনা বিশ্লেষণের ফল এবং পুরো এলাকার মোট মজুত নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   অভিযানে সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির তিনটি বড় খনিজ স্তর শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো মূলত হাইড্রোথার্মাল তরল থেকে তৈরি সালফাইডের স্তর। এ ধরনের খনিজভান্ডারে সাধারণত তামা, দস্তা ও সিসার পাশাপাশি সোনা ও রুপা পাওয়া যায়। নতুন আবিষ্কৃত এলাকায় এসব ধাতুর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে গবেষকেরা আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।   চীনা গবেষকদের দাবি, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওই ব্যাক-আর্ক অববাহিকায় থাকা পলিমেটালিক সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজভান্ডারের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। গবেষণা দলের বিজ্ঞানী সং শিজির মতে, আবিষ্কৃত বিশাল সমুদ্রতলীয় খনিজ এলাকার অর্থনৈতিক মূল্য উল্লেখযোগ্য হতে পারে।   তবে এই আবিষ্কারকে এখনই বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য সোনার খনি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলন প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে খনন কার্যক্রমের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। সমুদ্রতলের এসব এলাকায় বিশেষ ধরনের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য থাকায় ভবিষ্যতে খনন শুরু হলে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন হবে।   চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খনিজভান্ডারটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। গবেষকদের এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের খনিজসম্পদ নিয়ে বৈশ্বিক আগ্রহ আরও বাড়াতে পারে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
মানবসভ্যতার ঝুঁকি তুলে এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জাতিসংঘের, আপত্তি ট্রাম্প-চীনের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিকে মানবতার জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নয়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক দেশগুলো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের এই সতর্কতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে।   দেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, মানবতার পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিযোগিতাকে মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়ানোর একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তুর্ক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পথ নির্ধারণে দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে তৈরি করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ গত সপ্তাহে আরও বেড়ে যায়। অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষক সতর্ক করেছিলেন, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এর পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরির একটি কাঠামোও তুলে ধরেন।   আমোদেইয়ের আহ্বান বড় কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে। ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানো প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীন সুবিধা পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বই যথেষ্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং তাঁর প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান।   চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বয়ানকে সমর্থন করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা নিয়ে হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বয়ান বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না।   চীনের পক্ষ থেকে সব দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুও জিয়াকুনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে এটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য উপকারী এবং মানবকল্যাণমুখী থাকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে।   চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী চেন ইশিন রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চীনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা উন্মুক্ত ওজনের মডেল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মডেল সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো পরীক্ষা, পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে।   জুলাইয়ে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রযুক্তিটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত।   এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কতা, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থান এবং চীনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের হেগাং শহরের একটি হাসপাতালে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক স্বামী। ছবি: সংগৃহীত
গর্ভবতী স্ত্রীকে বসাতে মেঝেতেই ‘চেয়ার’ হলেন স্বামী, ভাইরাল সেই মানবিক মুহূর্ত

চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের হেগাং শহরের একটি হাসপাতালে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করার সময় স্বামীর ছোট্ট একটি উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের নজর কেড়েছিল। ২০১৯ সালের ওই ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে স্ত্রী পায়ে অস্বস্তি ও অবশভাব অনুভব করলে বসার জায়গা না পেয়ে মেঝেতে বসে পড়েন স্বামী। এরপর নিজের পিঠকেই স্ত্রীর জন্য সাময়িক ‘চেয়ার’ বানিয়ে দেন তিনি।   হাসপাতালে অপেক্ষারত অন্যদের মতো ওই দম্পতিও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে গর্ভবতী স্ত্রীর পায়ে অস্বস্তি শুরু হয়। বসার মতো জায়গা না থাকায় তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বামী কোনো দ্বিধা না করে মেঝেতে বসে নিজের পিঠ এগিয়ে দেন।   স্ত্রী তখন স্বামীর পিঠে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। কিছু সময় পর স্বামী তাকে পানি এগিয়ে দেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাদের এই মুহূর্ত।   পরে সেই সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের একটি দৃশ্য হলেও স্বামীর এই আচরণ অনেকের নজর কাড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী স্ত্রীর অস্বস্তি বুঝে দ্রুত তাকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা মানুষের কাছে ঘটনাটিকে আরও মানবিক করে তোলে।   ঘটনাটি নতুন কোনো আয়োজন বা বড় কোনো ত্যাগের গল্প ছিল না। বরং দৈনন্দিন জীবনের একটি ছোট মুহূর্তেই দুজনের পারস্পরিক যত্নের বিষয়টি ফুটে উঠেছিল। স্ত্রীর প্রয়োজন বুঝে স্বামীর তাৎক্ষণিকভাবে নিজের শরীরকে বসার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করাই হয়ে ওঠে সেই দৃশ্যের মূল আকর্ষণ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন মুহূর্তগুলো প্রায়ই মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছোট ছোট যত্নকে সামনে নিয়ে আসে। এই ঘটনাতেও বড় কোনো বক্তব্যের বদলে একটি সাধারণ আচরণই দম্পতির পারস্পরিক সহমর্মিতার ছবি তুলে ধরে।   হাসপাতালের অপেক্ষারত জায়গায় ধারণ করা কয়েক মুহূর্তের সেই দৃশ্য শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ও যত্নের একটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় মানুষের কষ্ট কিছুটা কমিয়ে দিতে সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না, কখনো কখনো ছোট্ট একটি উদ্যোগই হয়ে ওঠে সবচেয়ে অর্থবহ।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে।    আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।    বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ভিটেমাটি হারানোর বেদনায় কাঁদছেন উচ্ছেদের মুখে পড়া হংকংয়ের এক গ্রামীণ বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
২৮.৬ বিলিয়ন ডলারের হাই-টেক হাবের জন্য উচ্ছেদ করা হচ্ছে হংকংয়ের ২৫টি গ্রাম!

হংকংয়ে ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে বিশাল হাই-টেক হাব গড়ে তুলতে অন্তত ২৫টি গ্রাম উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। ‘নর্দার্ন মেট্রোপলিস’ নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আওতায় হংকংয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাত সম্প্রসারণ, নতুন আবাসন তৈরি এবং মূল ভূখণ্ড চীনের সঙ্গে হংকংয়ের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করা। পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় গ্রাম, জলাভূমি ও কৃষিজমিকে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।   প্রকল্পটির কারণে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করা গ্রামগুলোর অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে হচ্ছে। ৭১ বছর বয়সী চ্যান ইউক-তং এমনই একজন। হংকংয়ের উত্তরের একটি গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তি জীবনের বাকি সময় নিজের ছোট নীল ইটের বাড়িতেই কাটানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের জন্য তার বাড়িও ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন।   নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর বা ৭৪ হাজার একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হবে। অঞ্চলটির আয়তন হংকংয়ের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। এই এলাকায় বর্তমানে গ্রাম, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাভূমি রয়েছে। ভূমি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন লিবার রিসার্চ কমিউনিটির হিসাবে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ২৫টি গ্রাম ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হবে।   হংকং সরকার নর্দার্ন মেট্রোপলিসকে শহরটির নতুন অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে তুলে ধরছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি হংকংকে ম্যাকাও এবং চীনের মূল ভূখণ্ডের গ্রেটার বে এরিয়ার নয়টি শহরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে। প্রযুক্তি, শিল্প, আবাসন ও লজিস্টিকস খাতকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে প্রকল্পটির ব্যাপকতা নিয়ে পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। লিবার রিসার্চ কমিউনিটির প্রতিনিধি ব্রায়ান ওংয়ের মতে, আগে তুলনামূলকভাবে সংরক্ষিত থাকা এলাকায় নতুন শহর গড়ে তুললে পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, উন্নয়নের ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক জলাভূমি এবং দীর্ঘদিনের গ্রামীণ জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, প্রকল্পের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকাগুলোকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কিছু পুরোনো বাড়ি ও বসতিকে সংরক্ষণযোগ্য সাংস্কৃতিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে, সেগুলোর অনেককেই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরিয়ে দিতে হচ্ছে।   গ্রামবাসীদের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী নিকি সো তিন প্রজন্ম ধরে যে গ্রামে তার পরিবার বসবাস করেছে, সেখানকার বাড়ি হারিয়েছেন। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি সরকারি আবাসনের সুযোগ পেয়েছেন। তবে নতুন বাড়ি পেলেও পুরোনো গ্রামের প্রতিবেশী ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।   গত জুলাইয়ে ভূমি বিভাগের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সদস্যরা নিকি সোদের এলাকায় গিয়ে সেটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। এর আগে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের কেউ কেউ উন্নয়ন প্রকল্পটি সফল হওয়ার আশা করছেন। তবে তাদের আশঙ্কা, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর প্রকল্পটি প্রত্যাশিত ফল দিতে না পারলে বহু বছরের বসতভিটা হারানোর ত্যাগটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে।   নর্দার্ন মেট্রোপলিস প্রকল্পের সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে অন্তত ২২৪ বিলিয়ন হংকং ডলার, যা প্রায় ২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি জানিয়েছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৩৬০ বিলিয়ন হংকং ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। হংকং কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। ব্যাংকগুলোর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে, প্রায় ২০ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি হংকংয়ের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারে।   ইতোমধ্যে নর্দার্ন মেট্রোপলিস এলাকায় বড় ধরনের ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মাসে প্রকল্পের আওতায় প্রথম বড় আকারের ভূমি বিক্রির চুক্তি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে দেওয়া হয়। ওই কনসোর্টিয়ামে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ই-কমার্স কোম্পানি জেডি ডটকম রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবাসন ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।   প্রকল্পটির পেছনে হংকংয়ের অর্থনীতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি চীনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে শহরটির সংযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেনঝেন ও হাংঝুর মতো প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাও হংকংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা এবং শক্তিশালী পুঁজিবাজার হংকংকে আলাদা সুবিধা দিতে পারে।   নর্দার্ন মেট্রোপলিসের মাধ্যমে হংকং নতুন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে বহু পুরোনো গ্রাম ও বসতিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রকল্পটির সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের এই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত হংকংয়ের অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং এর জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।   সূত্র: এএফপি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ভারত-চীন সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
শি’র দিল্লি সফরের মধ্যেই অরুণাচল সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে চীনা সেনারা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের মধ্যেই অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় চীনের অবকাঠামো নির্মাণ ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য ও উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের বরাতে বলা হয়েছে, ভারত-চীন সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি এলাকায় চীন নতুন ভবন, সড়ক ও হেলিপ্যাডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।   তবে এসব স্থাপনা ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে এবং সেগুলোর অবস্থান নিয়ে দুই দেশের দাবির মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। ভারত বা চীন কেউই সাম্প্রতিক এসব উপগ্রহচিত্রকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি যে চীনা সেনারা নতুন করে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও উপগ্রহচিত্রের বিশ্লেষণকে দাবির পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।   হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলের এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ নামে উল্লেখ করে। ভারত অবশ্য চীনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরোনো নথিতেও বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরে চীন প্রায় ৯০ হাজার বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের দাবি করে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অরুণাচলের আপার সুবনসিরি জেলার প্রত্যন্ত এলাকা, বিশেষ করে গেলেমো ও তাকসিংয়ের আশপাশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চীনা বাহিনী ও অবকাঠামোর উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত চারণভূমি ও শিকারের এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ছে।   স্থানীয় বাসিন্দা তাকোক ম্রা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। তার দাবি, চীনা বাহিনী সীমান্তের ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার দিকে এগিয়ে এসেছে। তবে তিনি ঠিক কতটা এলাকা দখল করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করতে পারেননি।   সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানও চালানো হয়েছে। অরুণাচলের তাগিন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী অল তাগিন স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি দল আগস্টের ১১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত গেলেমো ও তাকসিং এলাকায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে। দলটি স্থানীয় বাসিন্দা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য এবং সেনাবাহিনীর রসদ বহনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে।   তাদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, আগে যেখানে ভারতীয় সেনারা নিয়মিত টহল দিত, এমন কিছু এলাকায় চীনা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আপার সুবনসিরির জেলা প্রশাসন এবং অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। প্রতিবেদনে সীমান্ত পরিস্থিতিকে শুধু স্থানীয় উন্নয়ন সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণেও সীমান্তের চীনা নিয়ন্ত্রিত অংশে অবকাঠামো সম্প্রসারণের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জেনসের বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিব্বতের লহুনজে কাউন্টির ঝারি শহরের আশপাশে বেশ কিছু নতুন নির্মাণকাজ শনাক্ত হয়েছে।   কিছু এলাকায় জমি সমতল করা, নির্মাণযন্ত্রের উপস্থিতি এবং নির্মাণকাজের সহায়ক স্থাপনা দেখা গেছে। একটি এলাকায় সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি পাহাড়ি ঢাল কেটে রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকটি এলাকায় হেলিপ্যাড নির্মাণ বা সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে।   উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনার কিছু সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ভবনের নকশা, আশপাশে সামরিক ধরনের যানবাহন এবং প্রশিক্ষণ এলাকার মতো কিছু বৈশিষ্ট্য তাদের এমন ধারণার দিকে নিয়ে গেছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে কোনো স্থাপনার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়। ফলে এগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক অবকাঠামো হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে একটি নতুন সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। একই এলাকায় কয়েক বছর ধরে নির্মাণকাজ চলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।   চীন ও ভারতের সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা নতুন নয়। ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে ভারতীয় ও চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি ঘটে। এরপর কয়েক বছর ধরে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো, অবকাঠামো নির্মাণ এবং কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলেছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ে। চলতি সেপ্টেম্বরেই অরুণাচল সেক্টরে ভারত ও চীনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের ওয়াচা এবং চীনের দিকের দামাই এলাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   এরপরই দিল্লিতে শুরু হয় ব্রিকস সম্মেলন। ১২ সেপ্টেম্বর সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি ছিল শির প্রথম ভারত সফর। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চীনের পক্ষ থেকেও দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে একদিকে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে অরুণাচল সীমান্তে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে নতুন অভিযোগ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে। ভারত ও চীন দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন অংশের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন দাবি করে আসছে। এ কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা সেনা অবস্থানকে কোন দেশের ভূখণ্ডে পড়ছে, তা নির্ধারণ করা অনেক ক্ষেত্রে জটিল।   অরুণাচল প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় সড়ক, হেলিপ্যাড ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ তাই শুধু স্থানীয় উন্নয়ন নয়, দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার সঙ্গেও যুক্ত। নতুন উপগ্রহচিত্রে চীনের অবকাঠামো সম্প্রসারণের যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিকস সম্মেলনে মোদি ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে ভারত চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায়
মোদি-শি বৈঠক ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক। ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিলেও ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হতে পারে মোদি-শির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ছয় বছর পর নাথু লা পাস দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশগুলো থেকে ভারতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার দুই বড় অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে চীনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে কম শুল্ক সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও ভারতের আগ্রহ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত শুল্ক আরোপ করে, যা চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের ওপর আরোপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-শি বৈঠকে চীনে ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও আলোচনায় আসতে পারে। ভারতের ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো চীন থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। পোশাক, চামড়া, ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পণ্যে চীন ভারতের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ব্রিকসের মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও নতুন উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন, সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। তবে চীনের বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ভারতীয় ব্যবসার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পে চীনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এখনো বড় বাধা। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই মোদি-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো ব্রিকস জোটের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
জর্ডানে অবস্থিত মুওয়াফাক সালতি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা স্যাটেলাইটের ছবি সংগ্রহ করেছিল ইরান। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলায় চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেছে ইরান

জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে গত জুলাইয়ে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চমানের উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করেছিল ইরান। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির উচ্চ রেজল্যুশনের উপগ্রহচিত্র সংগ্রহ করেছিল। ঘাঁটিটি দেশটির আজরাক এলাকায় অবস্থিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, আম্মান থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে এসব ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে চীনের সরকার সরাসরি এই কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এমন অভিযোগও তোলা হয়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি চীনা প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছেন। চীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে প্রমাণ চাওয়া হয়েছে বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত ১৭ জুলাই মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় প্রথমে দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। আরও একজন সেনা নিখোঁজ ছিলেন এবং চারজন আহত হন। পরে নিখোঁজ ওই সেনার অবস্থাও মৃত হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। ফলে ওই হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে।   মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় বারবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ঘাঁটিটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ মোতায়েন রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘাঁটিটি এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।   উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা বাড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা উৎস থেকে পাওয়া চিত্র ইরানকে ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সেখানে থাকা সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা দিতে পারে।   ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনা প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এর আগেও ওয়াশিংটন উদ্বেগ জানিয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীন ও হংকংভিত্তিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মে মাসের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উপগ্রহচিত্র সরবরাহের এই নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না।   ফলে ইরানের হামলায় চীনা উৎসের উপগ্রহচিত্র ব্যবহারের খবরটি মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হলেও, এতে চীন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। ঘটনাটি বরং ইরানের সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে বেসরকারি বা চীনা বাণিজ্যিক উপগ্রহতথ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, আল জাজিরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা
ময়লা দুই টন ই-বর্জ্য থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা! চীনা রিফাইনারের ভিডিওতে তোলপাড়

চীনের গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝৌ শহরের এক পেশাদার স্ক্র্যাপ-মেটাল রিফাইনার প্রায় দুই টন টেলিকম ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৯১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন। সোনাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ইউয়ান বা ২৯ হাজার মার্কিন ডলার। তাঁর এই প্রক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুরোনো সিম কার্ড ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ‘চাও’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মূল্যবান ধাতু রিফাইনিংয়ের কাজ করেন। ২০ জানুয়ারি তিনি সোনা উদ্ধারের প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ সেটি দেখেন।   ভিডিওতে দেখা যায়, পুরোনো সিম কার্ডসহ বিভিন্ন স্ক্র্যাপ রাসায়নিক দ্রবণে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এরপর ক্ষয়, রাসায়নিক বিক্রিয়া, পরিশোধন ও উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করার বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে সোনাযুক্ত অবশিষ্টাংশ আলাদা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন চাও।   তবে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৯১ গ্রাম সোনা শুধু সিম কার্ড থেকেই পাওয়া যায়নি। চাও জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দুই টন স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়াজাত করেছেন, যার মধ্যে টেলিকম খাতের চিপ বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান ছিল।   সিম কার্ড ও কিছু ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টে খুব অল্প পরিমাণে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ভালো হওয়া এবং সহজে ক্ষয় না হওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক সংযোগস্থলে সোনা ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সিম কার্ডে থাকা সোনার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পেতে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য প্রয়োজন হয়।   ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো সিম কার্ড কেনাবেচার আগ্রহও বেড়ে যায়। অনেকেই পুরোনো সিম কার্ডে মূল্যবান ধাতু থাকার বিষয়টি জানতে পেরে এগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করেন।   তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট রিফাইনাররা সতর্ক করেছেন, এটি কোনো সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি নয়। সোনা উদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক রাসায়নিক, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং নিয়ন্ত্রিত শিল্পপ্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেখে ব্যক্তিগতভাবে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুতর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   চাও নিজেও সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রক্রিয়া বাড়িতে অনুসরণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর প্রদর্শন মূলত শিল্প পর্যায়ের স্ক্র্যাপ রিফাইনিংয়ের উদাহরণ, পুরোনো সিম কার্ড থেকে সহজে সোনা তৈরির কোনো ঘরোয়া কৌশল নয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়

সম্প্রতি চীনে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে রোবটদের নাচানাচি ও স্প্রিন্টের মতো নৈপুণ্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। তবে এই বিনোদনের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য এক সামরিক লক্ষ্য। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ মাঠে নিয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছে।   শতাধিক চীনা সামরিক ক্রয় নোটিশ, গবেষণা ও সরকারি নথির ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষা খাত হিউম্যানয়েড রোবটের সামরিক ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এদের মোতায়েনের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে এই গবেষণায় অভাবনীয় গতি এসেছে।   বর্তমানে চীনা সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের নানা চাহিদার বিপরীতে রোবটগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি)-এর গবেষকদের একটি ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে শহুরে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে এসব অত্যাধুনিক রোবট। পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে শত্রুর দখলে থাকা বহুতল ভবনে তল্লাশি চালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।   শুধু তাই নয়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নোরিনকোর তৈরি 'ফুসি' (Fuxi)-এর মতো হিউম্যানয়েড রোবটগুলো যেকোনো আবহাওয়ায় নজরদারি, টহল এবং বিপজ্জনক মিশনে অংশ নিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। মানুষের প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যেই মূলত রিমোট কন্ট্রোল ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই রোবটগুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানের বৈশ্বিক হিউম্যানয়েড রোবট চালানের প্রায় ৯৫ শতাংশই চীনের দখলে, যা তাদের এই সামরিক রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীও সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য রোবট তৈরি নিয়ে কাজ করছে, তবে এক্ষেত্রে তারা চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ড্রোনের মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাফল্য বিশ্বজুড়েই রোবট সেনার কদর বাড়িয়েছে।   তবে যুদ্ধক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার নিয়ে নৈতিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করা কিংবা আত্মসমর্পণের সংকেত বোঝার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। এসব বাধা পেরিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে খুব শিগগিরই রণাঙ্গনে চীনা রোবট সেনার আধিপত্য দেখা যেতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০