ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অরুণাচল প্রদেশের একটি স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের দাবি, চীনা বাহিনী সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ও ক্যাম্প তৈরির পাশাপাশি স্থানীয়দের চারণভূমি ও কৃষিজমি দখল করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ‘নাহ’ আদিবাসীদের একটি সংগঠন এই অনুপ্রবেশের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যে পাকাপোক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। এর ফলে গত ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় স্থানীয়দের চাষাবাদ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ এবং পশুচারণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের এ বিষয়ে আপার সুবানসিরি জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বহু যুগ ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা যেসব জমিতে শিকার, পশুচারণ ও চাষাবাদ করতেন, সেগুলো এখন পুরোপুরি চীনা সামরিক বাহিনীর দখলে চলে গেছে। স্মারকলিপির তথ্য থেকে জানা যায়, সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লাগোয়া আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতাধীন অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনী স্থায়ী পরিকাঠামো ও সড়ক নির্মাণ করেছে। আসফিলা এলাকার ওয়িং, পনিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান, পোত্রাং ও টিনডিংতাংয়ে এই দখলদারির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কয়েকটি স্থান স্থানীয়দের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবেও পরিচিত। কেরু চাদের জানান, প্রায় এক যুগ আগে থেকেই ওই এলাকাগুলোতে চীনা সেনাবাহিনী মাঝেমধ্যে ঢুকে পড়লেও ২০২০ সাল থেকে তারা কৌশলগতভাবে পাকাপাকিভাবে ওই ভূখণ্ডগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। তখন থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নিজেদের ভূমি হারানোর আশঙ্কায় তারা এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় নাচো এলাকার বিধায়ক নাকাপ নালো এই ঘটনাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে আদিবাসী সংগঠনের তোলা অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই অনুপ্রবেশের দাবি সরাসরি এবং জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে চীনের সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশ এবং ঘাঁটি স্থাপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেলা প্রশাসন বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে লাদাখেও চীনা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় পশুপালকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যদিও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সে সময় দাবি করেছিল যে তাদের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বেহাত হয়নি।
চীনের মহাকাশ প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং জিপিএস-ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থা, আকাশ থেকে নজরদারি (রিকনেসান্স) ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ)। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত আইটিআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে চীন দ্রুত একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত গড়ে তুলেছে। এর ফলে মহাকাশ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্ভাবনের ব্যবধানও দ্রুত কমছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নেতৃত্ব চীনের হাতে চলে যেতে পারে। প্রতিবেদনে মহাকাশ প্রযুক্তির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক এবং অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার চীনের কিয়ানফান ও গুয়াওয়াং প্রকল্পের তুলনায় এগিয়ে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধতা চীনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নেভিগেশন, অবস্থান নির্ধারণ ও সময় সমন্বয় (পিএনটি): চীনের বেইদু নেভিগেশন সিস্টেম আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট ও বৈশ্বিক ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ ক্ষেত্রে চীনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট চিত্রায়ন: গাওফেন ও জিলিন-১সহ সরকারি ও বেসরকারি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে চীন। ফলে এই খাতেও দেশটিকে এগিয়ে বলা হয়েছে। মহাকাশ স্টেশন: এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রায় সমানে সমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে চীন দ্রুত তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তি (কাউন্টারস্পেস): প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইনেটিক ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ডাইরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এমনকি কক্ষপথে স্যাটেলাইট-টু-স্যাটেলাইট কৌশলগত সক্ষমতা উন্নয়নেও দেশটি অনেক দূর এগিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট: এই খাতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে এগিয়ে। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির সমপর্যায়ের সক্ষমতা চীন এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব। অন্যদিকে চীন সামরিক ও বেসামরিক খাতের সমন্বিত নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, শিল্প ও গবেষণাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে। ২০১৪ সালে মহাকাশ খাতের কিছু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশটিতে ৫০০টির বেশি মহাকাশ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ল্যান্ডস্পেস, গ্যালাকটিক এনার্জি ও আইস্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনের লেখক এলিস শেরার বলেন, উৎপাদন সক্ষমতায় চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকাতে এখনো সময় লাগবে। তবে আইটিআইএফ সতর্ক করে বলেছে, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল বেইজিং, সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত শেষ করার আশ্বাস বাংলাদেশের তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বেইজিং। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (টিআরসিএমআরপি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প। সম্প্রতি এই প্রকল্পে সমর্থন জানিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। পরে প্রশ্নোত্তরটি চীনের ইরান দূতাবাসের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে চীন প্রস্তুত। তিস্তা নদী প্রকল্প আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এই সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রকল্প মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনও তার সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রকল্পে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সফরে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গেও তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
চীনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে সরকার। এই অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ছয়জন জ্যেষ্ঠ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন সদস্য স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে এনপিসির স্থায়ী কমিটির জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। চীনা সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল। বহিষ্কৃত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং। গত বছরের অক্টোবরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে জোর আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত মিলছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিংও বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি চীনের সামরিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরাও এই পদক্ষেপের আওতায় পড়েছেন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে শিনজিয়াং অঞ্চলের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং এক জ্যেষ্ঠ আর্থিক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নামও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে দুর্নীতি নির্মূল এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, যা চীনের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক এই গণবহিষ্কার সেই চলমান অভিযানেরই নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে। এতে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বেইজিং কোনো ছাড় দিচ্ছে না। হংকংভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি) জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন তার প্রশাসনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে চাইছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নানা ইতিবাচক অর্জন তুলে ধরেন। তিনি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন তাদের সর্বোচ্চ স্তরের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশই একমত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চেয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের এই সফরটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়েছে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কম থাকায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চুক্তি করার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট থাকায় চীনের সাথে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। বিগত দিনে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এই সফরের মাধ্যমে সেগুলোর বাস্তবায়ন এখন বড় আকারে সামনে এসেছে। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়েও চীন বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও কার্যকর সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও দুইবার বিএনপি সরকারের আমলেই রোহিঙ্গা সমস্যার সফল কূটনৈতিক সমাধান করা হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা বজায় রেখে এই সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে। এই সফরে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হূমায়ুন কবির জানান, সফরকালে বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দল দুটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক, সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করবে। চীন সরকার দেশ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। একই সাথে তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিনিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদও অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, চীনা বিনিয়োগকারীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশে একটি পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন সিটি’ বা আধুনিক নগরী গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই বিনিয়োগ আলোচনাগুলো এগিয়ে চলছে। এই সফরের সফলতার ওপর ভিত্তি করে আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও শক্তিশালী পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফরকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের অর্থনৈতিক অঞ্চল, তিস্তা নদী প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বাড়ছে উদ্বেগ। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পাশে ১১০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ও চীন চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জমি আগে ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে ২০২৫ সালে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। এর ফলে মোংলাকে ঘিরে চীনের বিনিয়োগ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে বেইজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে—ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প হারানোর বিষয় নয়, বরং ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চীনের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ খুলে দিতে পারে। এদিকে তিস্তা নদী প্রকল্পও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা চান। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বিরোধ দীর্ঘদিনের। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও বর্তমান সরকার অপেক্ষা না করে নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চায়। দ্য প্রিন্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তিস্তা প্রকল্প ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ এই নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এর অবস্থান শিলিগুড়ি করিডোরের খুব কাছাকাছি—যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হওয়ায় সেখানে চীনের যেকোনো সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও নদী ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন খাতে এসব চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যা আগের বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোরের একটি বিকল্প রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে। বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে এই মডেলের দ্বিতীয় বিদেশি ব্যবহারকারী। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার হতে পারে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে। আউটলুক ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের উদ্বেগ মূলত অর্থনৈতিক নয়; বরং ভূগোল ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত। মোংলা বন্দর, তিস্তা প্রকল্প এবং সম্ভাব্য লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের জন্য নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তবে ভারতও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে চীনের অর্থনৈতিক সহায়তা গ্রহণ, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্ক বজায় রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশলই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের অন্যতম উচ্চতম ভবন ১০৯ তলা বিশিষ্ট সিটিক টাওয়ারে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত বেইজিংয়ে এমন ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটার পরপরই ভবনটিতে থাকা লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং নিরাপদ স্থানে জড়ো করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আঘাতের পর ভবনটির ওপরের দিক থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে বিমানের লেজের একটি অংশও দেখা গেছে। এছাড়া ভবনের নিচে থাকা একটি ট্যাক্সিক্যাবের জানালা ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়, যা দুর্ঘটনার তীব্রতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। ঘটনাস্থলে থাকা সিএনএনের এক সাংবাদিক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, পুলিশ সদস্য এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়। উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু করা হয়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধন নম্বর বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি চীনে নির্মিত ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০এল অরোরা’ মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। বিমানটি একটি স্থানীয় সাধারণ উড্ডয়ন সংস্থার মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিমানটির মালিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে সিএনএন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে কীভাবে একটি বেসামরিক ছোট বিমান এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানল, তা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এ ঘটনা শহরের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও বেসামরিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা শুরু করতে চাইলে চীন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট—দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান। এই লক্ষ্যেই সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে চায়। মাহদী আমিন আরও জানান, চীন আশ্বাস দিয়েছে—বাংলাদেশ যখন প্রয়োজন মনে করবে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেবে, তখন তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। অতীতেও বাংলাদেশের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কিছু উদ্যোগ সফল হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেন, অতীতে সরকারের দুর্বলতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমাবদ্ধতার কারণে সংকটটি জটিল আকার ধারণ করেছে। তবে বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের পথে এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বাংলাদেশ নিজ উদ্যোগে আলোচনা শুরু করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে চীনকে পাশে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে সফল হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তায় একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ শতকের সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক বিজয়ী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটি শুধু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করেনি, সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং উদার গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। তবে কয়েক দশকের ব্যবধানে সেই একচ্ছত্র আধিপত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা এখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। মার্কিন আধিপত্যের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হয় উনিশ শতকে। সে সময় বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল ইউরোপীয় শক্তিগুলোর হাতে। বিশেষ করে বিশাল উপনিবেশিক সাম্রাজ্য এবং শিল্পবিপ্লবের সুবিধাভোগী যুক্তরাজ্য ছিল বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্র। কিন্তু শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতকের শুরুর দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব বিশ্ব ক্ষমতার মানচিত্র পাল্টে দেয়। রসায়ন, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ওষুধশিল্প, অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন, চালিত উড্ডয়ন এবং রেডিও প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বিশ্বায়নের নতুন যুগেরও সূচনা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় রদবদল দেখা দেয়। ইউরোপে জার্মান সাম্রাজ্যের উত্থান এবং এশিয়ায় জাপানের উত্থান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত অর্থনৈতিক বিকাশ। ১৯১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। সে সময় ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকলেও প্রকৃত প্রশ্ন ছিল, বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আবির্ভাব কবে ঘটবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় রাজনীতিতে নির্ধারক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিচুক্তিকে কার্যকর রাখার দায়িত্ব থেকে দেশটি ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ১৯২০-এর দশকের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং মহামন্দার সময়কার ব্যাপক বেকারত্ব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তোলে। সেই প্রেক্ষাপটই পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। সোভিয়েত কমিউনিজমের সঙ্গে আদর্শিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকতে বাধ্য করে। শুরু হয় দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধ। এই সময়ে ইউরোপ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পশ্চিম ইউরোপ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হতে থাকে। স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে পশ্চিমা বিশ্বে সামাজিক গণতান্ত্রিক ঐকমত্য গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত পুঁজিবাদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮০-এর দশকের নব্যউদারবাদী সংস্কারের পরও সেই কাঠামোর মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকে, যদিও এর পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার প্রভাববলয় ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফ্যাসিবাদ, কমিউনিজম এবং জার্মানি, জাপান, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর বিজয়ের এই সময়কে ওয়াশিংটন আখ্যা দেয় ‘ইউনিপোলার মোমেন্ট’ বা একমেরু মুহূর্ত হিসেবে। তবে ইতিহাসের গতি দীর্ঘদিন এক জায়গায় স্থির থাকেনি। বিজয়ের মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যে ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। যেমন উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, তেমনি নতুন অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল চীনের উত্থান। ১৯৭০-এর দশকে বেইজিংকে মস্কোর প্রভাববলয় থেকে দূরে আনার কৌশলগত প্রচেষ্টার পর দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে চীন ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ’ নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হয় এবং কয়েক দশকের মধ্যে চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো সমমর্যাদার একটি প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়। একই সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপ্লব বিশ্বায়নের দ্বিতীয় ধাপকে আরও গতিশীল করে। বিশ্ব অর্থনীতি আরও আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। তবে এর সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। আর্থিক সংকট, ব্যাপক অভিবাসন এবং সামাজিক পরিবর্তন রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। উনিশ শতকের শেষভাগে যেখানে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল শ্রেণি ও জাতিগত প্রশ্ন, সেখানে বর্তমান সময়ে লিঙ্গ, বর্ণ ও পরিচয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক আন্দোলনেরও উত্থান ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। দেশটির নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে। রাজনৈতিক বিভাজন, আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস বিশ্ব রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন আধিপত্যের উত্থান ও ক্ষয়ের ইতিহাস শুধু একটি রাষ্ট্রের কাহিনি নয়; এটি আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনশীল চরিত্র এবং ক্ষমতার চক্রাকার রূপান্তরেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াংয়ের তাকলামাকান মরুভূমিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আদলে তৈরি একটি নতুন ত্রিমাত্রিক (৩ডি) লক্ষ্যবস্তুর ছবি ধরা পড়েছে উপগ্রহে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার অস্ত্র পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই এই নতুন স্থাপনা বেইজিংয়ের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিউজউইক–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপগ্রহে ধরা পড়া লক্ষ্যবস্তুটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আর্লি বার্ক শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের আদলে নির্মিত। এই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দূরপাল্লার হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক অভিযানে এ ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে। জাপানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহরের অধীনে থাকা ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন–১৫–এ এই শ্রেণির ১০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এসব যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে চীনের নৌবাহিনীর নিয়মিত মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটে। তাইওয়ানভিত্তিক উন্মুক্ত তথ্য বিশ্লেষক জোসেফ ওয়েন প্রথম ১১ মে তোলা একটি উপগ্রহ ছবিতে নতুন লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। ছবিটি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারিতে তোলা আরেকটি ছবিতে লক্ষ্যবস্তুর অভ্যন্তরীণ কাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) রুওচিয়াং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্মিত হয়েছে। ওই এলাকায় আগে থেকেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরীর দ্বিমাত্রিক (২ডি) প্রতিরূপ ছিল। তবে এবার প্রথমবারের মতো বাস্তব আকারের ত্রিমাত্রিক যুদ্ধজাহাজের প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে। জোসেফ ওয়েন জানান, লক্ষ্যবস্তুর পাশেই একটি রেলপথ রয়েছে, যা চলমান লক্ষ্যবস্তু মরুভূমির বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব কৃত্রিম জাহাজে এমন যন্ত্র বসানো হতে পারে, যা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ইলেকট্রনিক সংকেতের অনুকরণ করতে সক্ষম। এতে বাস্তবসম্মত পরিস্থিতিতে চীনের রাডার, নজরদারি ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা পরীক্ষা করা সহজ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই প্রস্তুতির অন্যতম সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট তাইওয়ান ইস্যু। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও বহুবার বলেছে। অন্যদিকে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে দূরপাল্লা থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। এটি চীনের একমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র নয়। তাকলামাকানের আরও উত্তর-পূর্বে আরেকটি পরীক্ষাকেন্দ্রে আগে থেকেই মার্কিন এফ-৩৫ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমানের আদলে তৈরি লক্ষ্যবস্তুর অস্তিত্ব উপগ্রহ ছবিতে ধরা পড়েছে। এছাড়া গত বছর প্রকাশিত উপগ্রহ ছবিতে দেখা যায়, চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার ঝুরিহে সামরিক ঘাঁটিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের আদলে নির্মিত স্থাপনাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব প্রতিরূপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউজউইক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
চীনকে অনেকেই সম্ভাবনা ও স্বপ্নপূরণের দেশ হিসেবে দেখেন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশটি এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা পারভীনের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সেই বাস্তব চিত্র—যেখানে রয়েছে নিরাপদ, নিরিবিলি ও মনোযোগী পড়াশোনার পরিবেশ। বর্তমানে তিনি চীনের শিয়ামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনোমেট্রিক্স বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। তিনি জানান, অনার্স সম্পন্ন করার পর আবারও চীনে ফিরে আসার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিল এখানকার শিক্ষার পরিবেশ। পাশাপাশি পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া তার জন্য বড় একটি সুযোগ হয়ে এসেছে। চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের শিয়ামেন শহরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিক নগরায়নের এক অনন্য উদাহরণ। দ্বীপঘেরা এই শহরের একদিকে বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকত, অন্যদিকে সারিবদ্ধ পাহাড়মালা—যা পুরো পরিবেশকে করেছে মনোমুগ্ধকর। শহরের রাস্তাঘাট পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন এবং সবুজে ঘেরা। পথচারী, সাইকেল ও মোটরযানের জন্য আলাদা লেন থাকায় চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এমনকি জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারী দাঁড়ালেই যানবাহন থেমে যায়—যা নাগরিক সচেতনতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে মুমতাহিনা বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন মেধা গড়ার কেন্দ্র। লাইব্রেরিগুলোতে প্রবেশ করলে নীরবতা ও মনোযোগের এক ভিন্ন জগৎ অনুভব করা যায়। বসার জন্য আগাম নিবন্ধনের ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং বিপুলসংখ্যক বই—সব মিলিয়ে পড়াশোনার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চীনের সংস্কৃতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। বিভিন্ন উৎসবে পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার দেশটির সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। ডাম্পলিং ও নানা ধরনের নুডলস তার পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়েছে। তুলনামূলক কম মসলা ব্যবহার এবং সেদ্ধ বা হালকা রান্নার কারণে খাবারগুলো স্বাস্থ্যকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভাষাগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমানে চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠছেন, পাশাপাশি চীনা ভাষা শেখার জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা। ফলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে চীন যে অনেক এগিয়ে, সেটিও তার অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট। দৈনন্দিন জীবনে মোবাইলভিত্তিক লেনদেন এখন সাধারণ বিষয়। উইচ্যাট ও আলিপে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিল পরিশোধ—সবকিছুই সহজে সম্পন্ন হয় মোবাইলের মাধ্যমে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় প্রবেশে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও চীন অনেক এগিয়ে। তাওবাও ও পিনদুওদুওর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তা পৌঁছে যায় গ্রাহকের কাছে। পরিবহন ব্যবস্থাও অত্যন্ত উন্নত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশেই বাস, সাবওয়ে, বিআরটি ও সাইকেল স্টেশনের সুবিধা থাকায় চলাচল সহজ হয়েছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ট্যাক্সি ডাকা যায়, যা সময় বাঁচাতে সহায়ক। মুমতাহিনা পারভীনের মতে, চীনের উন্নয়নের যাত্রা একসময় বাংলাদেশের মতোই ছিল। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশটি আজ অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি মনে করেন, চীনের ইতিবাচক দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশও উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস বারে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। বিশাল পর্দায় জাপানের আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই আয়াসে উয়েদার হেডে বল জড়িয়ে গেল জালে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের চতুর্থ গোল। সঙ্গে সঙ্গে নীল জার্সি পরা সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বার। দৃশ্যটি হয়তো খুব স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরে এমন উন্মাদনা প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল। যারা জাপানের গোল উদযাপন করছিলেন, তারা জাপানি নন; তারা চীনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সীমান্ত, জাতীয়তা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সাংহাইয়ের সেই সমর্থকগোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠক ফ্যান বলেন, তাদের জাপান-প্রেমের উৎস রাজনীতি নয়, শৈশবের স্মৃতি। তার ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জাপানি অ্যানিমে দেখে বড় হয়েছি। বিশেষ করে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই।” তবে শুধু অ্যানিমেই নয়, জাপানকে সমর্থনের পেছনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্যানের মতে, জাপান এখন এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে সফল প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন কোনো এশীয় দল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে, তখন অনেক চীনা সমর্থকও নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান সেই দলে। এই অনুভূতির পেছনে বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। চীনের ফুটবল এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। দেশটি মাত্র একবার, ২০০২ সালে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জাপান নিয়ে বই লেখা চীনা লেখক ফু জিনইউর মতে, দেশটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতি। তার ভাষায়, জাপান এখন এমন একটি দল, যারা ইউরোপীয় মানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে সক্ষম। তবে চীনে জাপানকে সমর্থন করা সব সময় সহজ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে অনেক ভক্তকে সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ কেউ তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেন। পূর্ব চীনের ৩০ বছর বয়সী আকি ইয়াং জাপান জাতীয় দলকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ পরিচালনা করেন। অনুসারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কটূক্তিও বেড়েছে। তবু তিনি থামেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে। একই বিশ্বাস পোষণ করেন ফ্যানও। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি সেতু তৈরি করা।” কথাগুলো হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই খেলা এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা রাজনীতি পারে না। এটি অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানায়, প্রতিপক্ষ দেশের পতাকাকেও সম্মান করতে শেখায় এবং কখনো কখনো পুরোনো বৈরিতার মধ্যেও একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে। সাংহাইয়ের সেই উচ্ছ্বসিত বিকেল তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প নয়। এটি এমন এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কখনো কখনো জাতীয়তার চেয়ে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালোবাসা এবং রাজনীতির চেয়ে খেলাকে বড় করে দেখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণেই এই তিন দেশ সংঘাত থেকে দূরে থেকেছে। ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন নেতার সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। তার মতে, রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ অবস্থান সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রতি এরদোয়ানের অবস্থানের কারণে তিনি চাইলে ইরানের পক্ষে সরাসরি ভূমিকা নিতে পারতেন। তবে ট্রাম্পের অনুরোধে তিনি সংঘাত থেকে দূরে থাকেন। ট্রাম্প এরদোয়ানকে একজন শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকাও প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের বিপুল জ্বালানি আমদানি হওয়ায় বেইজিংয়ের এই সংঘাতে জড়ানোর অর্থনৈতিক কারণ ছিল। কিন্তু তার অনুরোধে শি জিনপিংও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কেও ট্রাম্প বলেন, পুতিন এই সংঘাত থেকে দূরে ছিলেন। যদিও বর্তমানে রাশিয়ার নিজস্ব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে, তারপরও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াননি। ট্রাম্পের ভাষায়, বিশ্বের তিনটি শক্তিধর দেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ছিল “অবিশ্বাস্য” এবং “চমকপ্রদ” একটি কূটনৈতিক সাফল্য। তিনি মনে করেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়েছে। সূত্র: তাস
চীনের দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড ট্রেনে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর চাউমিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্টেশনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। এসময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, যিনিও একই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। সংবর্ধনা শেষে সেখান থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা সেখানেই অবস্থান করবেন। এর আগে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে দালিয়ান উত্তর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেইজিংয়ে পৌঁছানোর আগে সকালে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত সোমবার মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছেছে চীনের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বহর। মঙ্গলবার চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএ নেভি) টাস্ক ফোর্স-৮৩ রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সদর দপ্তর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে পৌঁছানো জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘চি জিগুয়াং’ এবং উভচর অবতরণ জাহাজ ‘কুনলুনশান’। রুশ নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফরে চীনা নাবিকরা রুশ নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বন্দরে জাহাজ দুটি পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা পতাকা নাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি নিয়মিত সামরিক বিনিময় কর্মসূচি নয়; বরং এটি বেইজিং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতারও প্রতীক। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানির মাধ্যমে চীন রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ভাষ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সে সময় উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী সহযোগিতা আরও বাড়াবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন নিয়মিত যৌথ নৌ ও বিমান মহড়া পরিচালনা করছে। যদিও ২০২৫ সালে দুই দেশের যৌথ মহড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল, তবুও ওই বছর প্রথমবারের মতো যৌথ সাবমেরিন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা সামরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুই দেশের নৌ সহযোগিতার গভীরতা আগের তুলনায় বেড়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাশিয়া তার নৌবাহিনীকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখে। সে কারণেই রাশিয়া-চীন নৌ সহযোগিতা স্থলবাহিনীর যৌথ কার্যক্রমের তুলনায় বেশি বিস্তৃত হয়ে উঠেছে। এদিকে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে আলাস্কার কাছাকাছি এলাকায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখছে। গত ডিসেম্বরে জাপান সাগর এবং ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান টহল পরিচালনার ঘটনায় জাপান তাদের যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সে সময় মন্তব্য করেন, ওই অভিযান ছিল জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা এবং এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। যদিও চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নেই, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সামরিক আধিপত্যের বিকল্প একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশ্নে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভ্লাদিভস্তকে চীনা যুদ্ধজাহাজের এই সফর শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের প্রতীক নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নতুন করে গতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া এই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারও বহাল রেখেছে এবং বিষয়টি নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। সরকারি একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার পৃথক বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের সামগ্রিক সহযোগিতার পাশাপাশি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ সফরে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “এখনো আলোচনা পর্যায়েই বিষয়টি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ নিয়ে কথা হবে, তবে মূলত দরকষাকষি বা আলোচনাই হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে।” গত শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সার্বিক দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে সামরিক ক্রয়সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এ ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়া মূলত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের এবং এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বছরের মার্চে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের সময়ও মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কিনতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ। বর্তমানে বিমান বাহিনীর বহরে থাকা এফ-৭ সিরিজের পুরোনো যুদ্ধবিমান এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ ধীরে ধীরে অপ্রচলিত হয়ে পড়ছে। এসবের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুদ্ধবিমান যুক্ত করা জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং সমুদ্রসীমায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করা যায়। নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান যুদ্ধবিমানগুলোর বেশিরভাগই পুরোনো মডেলের। আধুনিকায়নের জন্য নতুন যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে—এটা ইতিবাচক দিক।” জে-১০ সিই মূলত চীনের বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত জে-১০সি মডেলের রপ্তানি সংস্করণ। গত বছর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময় পাকিস্তান এই মডেলের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতের ফরাসি নির্মিত রাফায়েল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করায় এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। বাংলাদেশে যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সাল থেকেই এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছিল। ফ্রান্সের রাফায়েল, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়ামের ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৬—এই তিন ধরনের যুদ্ধবিমান নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরকালে রাফায়েল কেনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে চলমান আলোচনা সফল হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
বাংলাদেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলমান চীন সফরের মধ্যেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারত ও চীনের উচ্চপর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ কয়েক বছর ধরে সীমান্ত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস জোটের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ভারত ২৩ ও ২৪ জুন দিল্লিতে সদস্য দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের আয়োজন করেছে। এই বৈঠকের সাইডলাইনে অজিত দোভাল ও ওয়াং ইয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ হিসেবে উল্লেখ করে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উভয় দেশের উচিত একে অপরের মৌলিক স্বার্থকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা। একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সংলাপ কাঠামো পুনরায় সক্রিয় করার আহ্বান জানান তিনি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং গণমাধ্যম পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেন চীনের শীর্ষ এই কূটনীতিক। বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে ব্রিকসের ভূমিকা নিয়ে ওয়াং ই গুরুত্বারোপ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে যায়। দীর্ঘ সময় দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করলেও ২০২৪ সাল থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ দেখা যায়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বর্তমানে ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোটটি সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এই বৈঠক ভারত-চীন সম্পর্কের চলমান স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ঢাকা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রে জানা গেছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সামরিক আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে। চলমান বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যৎ এর অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করার জোর প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে, যার ফলে মংলার এই কৌশলগত জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে, যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে বলে সরকার আশা করছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন, যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে। সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে, যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তাত্ত্বিকভাবে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে কিছুটা অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল ও সংবেদনশীল, তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর সৃষ্ট মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের বড় ধরণের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু হলে বেইজিং তাদের অন্যতম বন্ধুভাবাপন্ন একটি দেশের সরকার পতনের বাস্তব আশঙ্কা দেখছিল। তবে যুদ্ধের চার মাস পর বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং তেহরানের বর্তমান সরকার বহাল থাকার পাশাপাশি এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধকালীন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের নিজস্ব কূটনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাত চলাকালীন সময়ে চীন একের পর এক প্রভাবশালী বিশ্বনেতাকে আতিথ্য দিয়েছে এবং নিজেদেরকে শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বদরবারে অত্যন্ত সফলভাবে তুলে ধরেছে। এমনকি এই সংকটের সময় বেইজিংয়ের সুনিপুণ ও সতর্ক কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একাধিকবার ভূয়সী প্রশংসাও কুড়িয়েছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের গ্রিন টেকনোলজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) দ্রুত প্রসার এবং বিপুল পরিমাণ কৌশলগত তেল মজুত থাকার কারণে তারা এই বৈশ্বিক শক্তি সংকট অনেক প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং যেকোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর পেছনে চীনের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করার জন্য চীন তাদের নিজস্ব নৌ-শক্তি ব্যবহার না করায় ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরো সংঘাত জুড়ে চীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একদিকে যেমন মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে ও ইরান থেকে তেল কেনা সচল রেখেছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগের রাস্তাও খোলা রেখেছে। এই যুদ্ধকে চীনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের পতন বা এক প্রকার "সুয়েজ মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুন দেগাংয়ের মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রধান মিত্রদের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক জোটে ফাটল ধরেছে। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হু সিজিন মনে করেন, এই সংঘাতের ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক গোলাবারুদের সীমাবদ্ধতা এখন সবার সামনে নগ্নভাবে উন্মোচিত। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংই পর্দার আড়াল থেকে ইরানকে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছিল বলে মনে করা হয়। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ও শিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ফেলো সুন চেংহাওয়ের মতে, আমেরিকার এই ধাক্কার মানে এই নয় যে চীন একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার স্থান দখল করবে। বরং এর মূল অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ওয়াশিংটনকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হচ্ছে, যা বেইজিংয়ের বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা আলোচনার প্রেক্ষাপটে চীনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে চীন সরাসরি অংশ না নিয়ে কৌশলগতভাবে নিজ অবস্থান শক্ত করার সুযোগ নিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রায় চার মাস পর পরিস্থিতি বদলেছে। ইরান সরকারের স্থিতি বজায় আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়েন বলেন, বেইজিং সব পক্ষকে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে সমন্বিত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেইজিং সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরো সংঘাতের সময় চীন একদিকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ চালু রেখেছে। ফলে বেইজিং নিজেকে একটি “স্থায়ী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি” হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। সংঘাত চলাকালে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হলেও চীন তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনে কৌশলগত তেল মজুদ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রেখেছে। চীনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব হ্রাসের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের “একক আধিপত্যের” ধারণাকে দুর্বল করেছে। ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষক বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের কিছু নীতি-নির্ধারক এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি বেইজিংয়ের “মাল্টিপোলার বিশ্ব” ধারণাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে, যেখানে কোনো একক শক্তি নয় বরং একাধিক শক্তি বৈশ্বিক ভারসাম্য নির্ধারণ করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেই বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জন সম্ভব নয়। বাস্তব কূটনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতে চীনের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতের নীতিনির্ধারক মহলে। চীনের এই প্রকল্পটি মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প নামে পরিচিত, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসইউএমপি প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি। তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যেখানে ভারতের এসইউএমপি এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজান থেকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি মোকাবিলা করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। ফলে প্রকল্পটি অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।