যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি কর্মীরা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত ও চরম হয়রানিমূলক জটিলতার মুখে পড়ছেন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান এবং কাজ করার আইনি অধিকার বহাল থাকলেও, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ (ডিপিএস)-এর অনেক কার্যালয় কর্মীদের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। মূলত একটি সাধারণ 'ভিসার সিল' এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ 'অভিবাসন মর্যাদা'র মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, পাসপোর্টের ভিসার সিল হলো মূলত একটি ভ্রমণ নথি, যা কেবল দেশে প্রবেশের সময় ব্যবহৃত হয়। দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ অবস্থান নির্ধারিত হয় ‘আই-৯৪’ ফর্ম এবং ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামূকন সেথুরজোথি ও এমিলি নিউম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈধ ‘আই-৭৯৭’ অনুমোদনপত্র এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া ‘আই-৯৪’ ফর্ম থাকলে একজন ব্যক্তি আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পূর্ণ যোগ্য। এমনকি টেক্সাসের নিজস্ব নিয়মেও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার সিলসহ বৈধ আই-৯৪ গ্রহণ করার কথা বলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ের ডিপিএস কর্মীদের অভিবাসন আইন সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি বা অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই সমস্যা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগামী ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত সরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবেও ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং লটারি ব্যবস্থার বদলে উচ্চ বেতনের ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ, কঠোর নিয়ম ও ব্যয়ের কারণে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য এইচ-১বি ভিসার আবেদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে গেছে। লাইসেন্স নবায়নে এই বিলম্ব বা আবেদন বাতিলের কারণে গাড়ি-নির্ভর টেক্সাসের বিদেশি কর্মীরা চরম বিপাকে পড়ছেন। বৈধ কাগজপত্র ও কর্মানুমতি থাকার পরও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তারা দৈনন্দিন কাজ ও কর্মস্থলে যাতায়াতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ডিপিএস কর্মকর্তারা সাধারণত কেন্দ্রীয় 'সেইভ' (SAVE) সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদনকারীদের অভিবাসন মর্যাদা যাচাই করে থাকেন। কিন্তু সিস্টেমে তথ্য আপডেট হতে দেরি হলে লাইসেন্স নবায়নেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। অভিবাসন আইনজীবীরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের মতো জটিল বিষয় সাধারণ ফ্রন্টলাইন কর্মীদের মাধ্যমে ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়ার ফলেই এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে, যা প্রবাসী কর্মীদের কাছে নিজেদের অবাঞ্ছিত মনে হওয়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে কিছু এইচ-১বি ভিসাধারী বিদেশি কর্মী ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে জটিলতার মুখে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের কিছু কার্যালয় লাইসেন্স নবায়নের আবেদন গ্রহণ করছে না। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হলেও বৈধ অভিবাসন মর্যাদা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজ করার অধিকার বহাল থাকে। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক এইচ-১বি কর্মী এমন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীদের কাছেও অভিযোগ পৌঁছেছে। তাদের ধারণা, অভিবাসন আইন সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি অথবা বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণে অসামঞ্জস্যের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামূকন সেথুরজোথি জানান, বৈধ আই-৭৯৭ অনুমোদনপত্র এবং মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া আই-৯৪ নথি থাকলে একজন এইচ-১বি কর্মী আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে গণ্য হন। তাঁর ভাষায়, পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিল কেবল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত একটি ভ্রমণ নথি। দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তির বৈধ অবস্থান নির্ধারণ করে আই-৯৪ এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবার অনুমোদনপত্র। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবী এমিলি নিউম্যান। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভিসার সিলের মেয়াদ শেষ হওয়াকে ভুলভাবে অভিবাসন মর্যাদা শেষ হয়ে যাওয়ার সমতুল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর মতে, আইনগতভাবে বৈধ অবস্থান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আই-৯৪-ই মূল নথি, ভিসার সিল নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত খাতে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবী টেক্সাসে বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করলেও পাসপোর্টে থাকা ভিসার সিল নবায়ন করেন না, কারণ নতুন ভিসার সিল সাধারণত বিদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকেই নিতে হয়। এদিকে টেক্সাস জননিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব এইচ-১বি কর্মীর বৈধ আই-৯৪ এবং আই-৭৯৭ থাকা সত্ত্বেও লাইসেন্স নবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ পুনরায় আবেদন করুন এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিন। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, ভিসার সিল, অভিবাসন মর্যাদা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে এ ধরনের জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মীদের জন্য অভিন্ন নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গত বছরের ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড আইস (ICE) কারাগারের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ওই বিক্ষোভে আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই বুধবার আদালত নতুন করে এই সাজার রায় ঘোষণা করেছে। বুধবার সাজাপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে ছয়জনই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। দোষ স্বীকার করায় আদালত তাদের দুই থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে ইনেস সোতো নামের এক আসামি কোনো আপস-রফা বা দোষ স্বীকার না করায়, তাকে সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাকে সর্বোচ্চ ৫০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এই একই ঘটনায় বিচার শেষে আরও আটজন আসামিকে অস্বাভাবিক কঠোর সাজা প্রদান করেছিল আদালত। সেই রায়ে তাদের ৩০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো। আইস কারাগারের বাইরের ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন বিচারব্যবস্থায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে এমন কঠোর শাস্তির বিষয়টি এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও স্টেট আইডি কার্ড পাওয়ার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কর্মরত অনেক অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য টেক্সাসে প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্স বা স্টেট আইডি সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবীরা। প্রস্তাবটি দিয়েছে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি (DPS)। সংস্থাটি রিয়েল আইডি (REAL ID)-সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে পরিচয় প্রমাণের জন্য বিদেশি পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেয়াদোত্তীর্ণ বা কার্যকর—যেকোনো ভিসা গ্রহণ করা হয়, যদি আবেদনকারীর কাছে বৈধ ফর্ম আই-৯৪ (Form I-94) থাকে। এই নথির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অনুমতির তথ্য যাচাই করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নিয়ম থেকে "মেয়াদোত্তীর্ণ" শব্দটি বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে পরিচয়পত্র হিসেবে বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হলে তাতে কার্যকর (Valid) মার্কিন ভিসা থাকতে হবে। টেক্সাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো অঙ্গরাজ্যের নিয়মকে ফেডারেল রিয়েল আইডি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এ বিষয়ে জনমত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউস্টনভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি (Reddy Neumann Brown PC)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অনেক বৈধ অভিবাসী অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়বেন। আইনজীবীরা বলছেন, ভিসা এবং বৈধ অভিবাসন মর্যাদা এক বিষয় নয়। পাসপোর্টে থাকা ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু দেশে প্রবেশের পর একজন ব্যক্তি কতদিন বৈধভাবে থাকতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে ফর্ম আই-৯৪ অথবা পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (USCIS)-এর অনুমোদন। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, একজন এইচ-১বি (H-1B) কর্মীর পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ইউএসসিআইএসের অনুমোদনের কারণে তিনি আরও কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার রাখতে পারেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এমন একজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাসহ বৈধ আই-৯৪ দেখিয়ে টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না। রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি এক বিশ্লেষণে বলেছে, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক বৈধ অভিবাসী পরিচয় প্রমাণে সমস্যায় পড়তে পারেন, যদিও ফেডারেল সরকারের সেভ (SAVE) তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও অভিবাসন মর্যাদা সহজেই যাচাই করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এই সংশোধনী কার্যকর হলে বৈধভাবে অস্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা ধরে রাখা অনেক মানুষের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, শুধুমাত্র তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে টেক্সাসে নতুন আসা এবং প্রথমবার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীদের ওপর। তবে যাদের ইতোমধ্যে টেক্সাসের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে এবং সময়মতো সেটি নবায়ন করবেন, তারা সাধারণত আগের লাইসেন্স ব্যবহার করেই পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছে, সম্ভব হলে পাসপোর্টে থাকা মার্কিন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টেক্সাসের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে। বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তন বা মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন, তারা কিছু ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের অনুমোদনপত্র ব্যবহার করতে পারবেন বলে ডিপিএস থেকে নির্দেশনা পাওয়া গেছে। রেড্ডি নিউম্যান ব্রাউন পিসি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন বাসিন্দাদের আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত নিয়মের ওপর মতামত জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, একটি বৈধ পাসপোর্ট এবং বর্তমান ফেডারেল অভিবাসন নথি, যেমন কার্যকর ফর্ম আই-৯৪, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীর পরিচয় প্রমাণে যথেষ্ট হওয়া উচিত, পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক চরম অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মায়েরা যখন নিজেদের সন্তানদের একটি তালাবদ্ধ নোংরা ফ্ল্যাটে ফেলে রেখে হোটেলে মদ ও মাদকের পার্টিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অন্য দুই শিশুর নির্মম মারধরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছে দুই মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মেডিক্যালি ইনডিউসড কোমা এবং ভেন্টিলেশনে রেখেছেন। স্মিথ কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী সিডনি হুইট এবং ২৯ বছর বয়সী জ্যাকুলিন মোরালেস তাদের সন্তানদের ইঁদুরের মল ও মাছিতে ভরা একটি অস্বাস্থ্যকর অ্যাপার্টমেন্টে ফেলে রেখে এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন। ফ্ল্যাটে দুই মাসের ওই শিশুটির সঙ্গে ছিল চার ও ছয় বছর বয়সী আরও দুই শিশু। মায়েরা না থাকার সুযোগে ওই বড় দুই শিশু মিলে অবুঝ শিশুটির ওপর ভয়ংকর নির্যাতন চালায়। তারা শিশুটিকে ছুড়ে মারে এবং তার মাথায় পা দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে শিশুটির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং খিঁচুনি শুরু হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার সময় শিশুদের পাহারায় ছিলেন জ্যাকুলিনের ১৮ বছর বয়সী বোন শেলবি মুনোজ। তিনি তদন্তকারীদের জানান, চোখের সামনে এমন নির্যাতন হতে দেখলেও তিনি বাধা দেননি, কারণ তিনি মনে করেছিলেন ওই শিশুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার নয় যেহেতু তারা তার নিজের সন্তান নয়। মায়েরা যখন ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন, তখন তারা শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা পরের দিন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন। চাইল্ড প্রোটেকটিভ সার্ভিসেস (সিপিএস) পরবর্তীতে ওই বাড়িতে তদন্তে গেলে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। টেক্সাসের প্রচণ্ড গরমের মাঝেও ফ্ল্যাটে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছিল না, ঘরভর্তি মাছি উড়ছিল এবং মেঝেতে ইঁদুরের মল, নোংরা ডায়াপার ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এই চরম অবহেলার দায়ে সিডনি, জ্যাকুলিন এবং শেলবি—এই তিনজনের বিরুদ্ধেই শিশুকে বিপন্ন করা এবং আঘাত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পাঁচ লাখ ডলারের সম্মিলিত জামিন বন্ডে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের করা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের মামলাটি খারিজের আবেদন নাকচ করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ফলে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। অস্টিনের ফেডারেল বিচারক ডেভিড অ্যালান এজরা সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন (টিএফএসসি) এবং সংস্থাটির সাবেক প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস্টিন টিপসের দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইআরএ নিউজ (KERA News) জানিয়েছে, বিচারকের মতে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে এবং সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত। মামলাটি করেছে টেক্সাসের ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার (ইপিক)। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের কার্যক্রমকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় কমিশন অভিযোগ তোলে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ইপিক একটি ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশও পাঠানো হয়। এর চার মাস পর ইপিক ফেডারেল আদালতে মামলা করে জানায়, তারা কোনো বাণিজ্যিক ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে না। বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্ত চলাকালে কমিশনের তৎকালীন প্রধান ক্রিস্টিন টিপসের কিছু ব্যক্তিগত বার্তা মুসলিমদের প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। কেইআরএ নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে তিনি ইসলামবিরোধী বিভিন্ন লেখা, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব তথ্যই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে দাবি করে ইপিক। রায়ে বিচারক এজরা উল্লেখ করেন, আদালতের সামনে এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো পক্ষই দাবি করেনি যে ইপিক তাদের কার্যক্রমে শরিয়া আইন প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের পাঠানো নোটিশে ইপিকের কোন নির্দিষ্ট কার্যক্রম টেক্সাসের আইন লঙ্ঘন করেছে, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, অতীতে ১৯৮৭ ও ২০১৪ সালে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন অন্য দুটি মসজিদকে রাজ্যের আইন মেনে ধর্মীয় দাফনের আচার পরিচালনার সুযোগ দিয়েছিল। সেই নজিরের পরও ইপিকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগকে আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ মামলায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেইআরএ নিউজের হাতে আসা কিছু নথি ও রেকর্ড করা ফোনালাপ অনুযায়ী, ইপিকের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পক্ষপাতের প্রভাব থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কমিশনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে গভর্নরের কার্যালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রাজ্যের আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছে। আদালতের সর্বশেষ এ আদেশের অর্থ এই নয় যে ইপিক ইতোমধ্যে মামলায় জয়ী হয়েছে। বিচারক কেবল বলেছেন, মামলাটি খারিজ করার মতো পরিস্থিতি নেই এবং অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচার হওয়া প্রয়োজন। এখন উভয় পক্ষ আদালতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে, এরপর মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। এদিকে মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-টেক্সাস আদালতের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ শাখার নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা ক্যারল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ইপিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাঁচ সন্তানের এক মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা (৩২) হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে তার দীর্ঘদিনের এক বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১টা ৩৫ মিনিটে ক্যারোলিন পেনা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ক্রিস্টিনা সালিনাসকে ফোন করেন। তবে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি। এর কয়েক মিনিট পরই ডেল রিও এলাকায় তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কিটি মিয়া ডিয়াজ (২১), আমায়া "কুকি" ডিয়াজ (১৯) এবং কিয়ান্দ্রা রেনে ফাজ (২১) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও পড়ুন...নিউইয়র্কের কারাগারের অন্ধকার জগৎ: নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিনা সালিনাস বলেন, তিনি যদি ফোনটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো ঘটনাটি এভাবে ঘটত না। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আমি যদি ফোনটি ধরতাম, তাহলে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। হয়তো এমন কিছু ঘটত না।" সালিনাস জানান, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যারোলিন পেনাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানযোগে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি রক্তাক্ত ছবি দেখে চুল বাঁধার ধরন ও পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন সেটি তারই বন্ধু। বন্ধুকে স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় সালিনাস লেখেন, "তুমি একা চলে যেতে, আমি কখনও তা হতে দিতাম না। তুমি নেই, কিন্তু কখনও ভুলে যাওয়ার নও।" তিনি তাদের একসঙ্গে তোলা সর্বশেষ একটি ছবিও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নিজের বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, "তোমার আমার বাড়িতে আসা, একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা আর হাসির মুহূর্তগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।" এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত কিটি ডিয়াজকে হাসিমুখে পুলিশি গাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে তার বোন আমায়া ডিয়াজকে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে "রেকর্ড করা বন্ধ করো" বলতে শোনা যায়। আরও পড়ুন... ‘সাইকেলে ধাওয়া করে অপহৃত ৫ বছরের শিশুকে উদ্ধার করেছিল ১৫ বছরের কিশোর স্বাধীন সাংবাদিক মাইকেল এলিজোন্ডোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আমায়া ডিয়াজকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। পুলিশের গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে জিভ দেখানোসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিও করেন তিনি। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে চার সন্তানের জনক কার্ক ফয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে অস্টিনের গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ রেস্তোরাঁর খোলা প্যাটিওতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী কার্ক ফয়েল। এ সময় এলাকায় ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি বড় পেকান গাছ গোড়া থেকে ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মামলায় গাছটিকে ‘উইডো মেকার’ বা প্রাণঘাতী গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গাছটি পাশের একটি সম্পত্তিতে ছিল, এর বড় অংশ গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর খোলা বসার জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অ্যাসপেন হ্যাটারের মালিকরা গাছটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন অথবা যথাযথ তদারকি করলে জানতে পারতেন। কিন্তু তারা গাছটি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেননি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্যও কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। মামলায় গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পচন, রোগ এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছিল। সাধারণ পরিদর্শনেই এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। ট্রাভিস কাউন্টির ডেপুটি মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছের বড় ডালের আঘাতে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতেই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর দাবি, দুর্ঘটনার রাতে গাছটিতে বজ্রপাত হয়েছিল এবং সেটিই গাছ ভেঙে পড়ার কারণ। তবে ফয়েলের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাত নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়েলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর গাছটি যে সম্পত্তিতে ছিল, সেই সম্পত্তির মালিকরা ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের একটি ডিড অব ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সম্পন্ন করেন। পরিবারের দাবি, বিবাদীরা চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। তাই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু, পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং আইনি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ ও অ্যাসপেন হ্যাটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কনরো শহরে কবরস্থানের একটি মাউসোলিয়াম (সমাধি ভবন) থেকে স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ তদন্ত ও নজরদারির পর বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল প্রিসিঙ্কট-৫-এর কার্যালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম রেনি অ্যাম্বার ফেনেল। চলতি মাসের শুরুতে হিউস্টনের একটি কবরস্থানের মাউসোলিয়ামে স্থাপিত নজরদারি ক্যামেরায় তাকে সমাধির কুঠুরি ভেঙে সেখানে রাখা স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার পর প্রিসিঙ্কট-৫-এর গোয়েন্দা, ডেপুটি এবং স্ট্র্যাটেজিক রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে বুধবার কনরো শহরের নর্থ থ্র্যাশার স্ট্রিটের ১৬৭০০ ব্লকে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার ছোট সন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের একজন সদস্যের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেনেলের বিরুদ্ধে চুরি এবং কবরস্থান থেকে চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হ্যারিস কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে এর আগেও জালিয়াতি, চুরি, নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখার অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হামলাসহ একাধিক মামলার রেকর্ড রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে মন্টগোমেরি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই কাউন্টির অধিক্ষেত্রে সংঘটিত আরও কয়েকটি অপরাধের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল প্রিসিঙ্কট-৫-এর কার্যালয় জানিয়েছে, কবরস্থানে রাখা মৃত ব্যক্তিদের স্মারক ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কনরো এলাকার একটি গ্রোসারি শপে হিজাব পরিহিত দুই মুসলিম নারীকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনার পর টেক্সাসের এক আইনপ্রণেতা তীব্র নিন্দা জানালেও কট্টরপন্থী কনজারভেটিভ ও ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সাররা ওই নারীর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। ক্রিশ্চিয়ান ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘গিভসেন্ডগো’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে তার জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারেরও বেশি (প্রায় দেড় কোটি টাকা) তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেডিকেল স্ক্রাব পরা এক নারী ওই গ্রোসারি শপে থাকা দুই মুসলিম নারীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, "আপনাদের এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। আপনাদের এখানে কোনো স্বাগত জানানো হবে না। এটি কোনো মুসলিম দেশ নয়, এটি একটি খ্রিস্টান দেশ।" ভিডিওটি টেক্সাসের বিখ্যাত চেইন শপ ‘এইচ-ই-বি’ (H-E-B)-এর ভেতরে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ওই নারী তার চাকরি হারিয়েছেন বলে তহবিলের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সুগার ল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট স্টেট প্রতিনিধি সুলেমান লালানি এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো, এই নারী বিশ্বাস করেন যে এইচ-ই-বি-তে কেনাকাটা করতে আসা তার প্রতিবেশীরা তার এবং তার দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ‘ঘৃণার ভাইরাস’ একটি সংক্রামক ব্যাধি, যা আমাদের তথ্য, সত্য এবং ঐক্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।" অন্য দিকে, ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সাররা ওই নারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর তার সুরক্ষায় এই অর্থ সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেন। ফান্ড রাইজিংয়ের বর্ণনায় মুসলিম অভিবাসীদের ইঙ্গিত করে লেখা হয়েছে, "আমরা যখন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করার চেষ্টা করছি, তখন তিনি গ্রোসারি শপের আইলে দাঁড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের মনের লুকিয়ে থাকা কথাটিই উচ্চস্বরে বলেছেন।" কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-এর টেক্সাস শাখা এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির হিউস্টন চ্যাপ্টারের পরিচালক ইমরান গনি এক বিবৃতিতে বলেন, "টেক্সাসের নির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তারা যখন মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে ঘৃণ্য বক্তব্য ব্যবহার করেন, তখন ঠিক এমনই ঘটে। মুসলিমরা প্রতিদিন মৌখিক ও শারীরিক আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, আর এখন সময় এসেছে প্রতিটি নির্বাচিত নেতার এই ঘৃণার বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে কথা বলার।" সূত্র: হিউস্টন ক্রনিকল
টেক্সাস প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে প্রকাশ্য দিবালোকে পাঁচ সন্তানের জননী ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুই বোনসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ডেল রিও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ব্যস্ত সড়কের পাশে ওই নারীর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ২১ বছর বয়সী এক নারী, তার ১৯ বছর বয়সী বোন এবং তাদের ২১ বছর বয়সী এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনের বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছেন এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে কাজ করছেন। নিহত নারীর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, তিনি অত্যন্ত সহৃদয় ও পরোপকারী ছিলেন। পাঁচ সন্তানের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের প্রয়োজনেও সবসময় এগিয়ে আসতেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও পরিচিতদের গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের একজনের হাসিমুখে পুলিশের গাড়িতে ওঠার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ‘স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন’ পাবলিক স্কুলগুলোর প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী (K-12) পর্যন্ত ইংরেজি ও সাহিত্য পাঠ্যক্রমে বাইবেলের বাণী এবং গল্প অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই নতুন পরিকল্পনার ফলে টেক্সাসের ৫০ লাখেরও বেশি সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হবে। আমেরিকার ক্লাসরুমগুলোতে খ্রিষ্টীয় শিক্ষা যুক্ত করার জন্য রক্ষণশীলদের জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে টেক্সাস এখন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি গ্রেডের জন্য নির্দিষ্ট কিছু বই বা লেখার তালিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ পড়তে হবে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডেভিড অ্যান্ড গোলিয়াথ’-এর সচিত্র রূপান্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আদম ও ইভ’-এর মতো বাইবেলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক অধ্যায় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সাথে আব্রাহাম লিংকনের বিখ্যাত ‘গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস’-সহ ঐতিহাসিক মার্কিন দলিল এবং ক্লাসিক সাহিত্যের ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ২০৩০-২০৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করবে বলে শিক্ষা বোর্ড নিশ্চিত করেছে। এই একই সভায় শিক্ষা বোর্ড রাজ্যের সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের একটি বড় পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। নতুন এই সংশোধনীতে বৈশ্বিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাঠ কমিয়ে টেক্সাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ‘ওয়ার্ল্ড কালচারস’ কোর্সটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সাম্যবাদ বা কমিউনিজম সম্পর্কিত পাঠ্যসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এই আমূল পরিবর্তনটি শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র মতভেদ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, বাইবেলকে একটি অপরিহার্য সাহিত্যিক পাঠ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, যা শিক্ষার্থীদের পশ্চিমা ইতিহাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি বুঝতে সাহায্য করবে। রিপাবলিকান পার্টির সদস্য এবং স্প্রিংটাউনের যাজক ব্র্যান্ডন হল বলেন, মার্কিন ইতিহাসকে হালকাভাবে দেখানোর দিন শেষ। আমাদের জাতি একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং টেক্সাস একটি খ্রিষ্টান রাজ্য। আইনের ওপর বাইবেলের গভীর প্রভাব রয়েছে এবং এটি শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন যে এই সিদ্ধান্তটি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। টেক্সাসের পাবলিক স্কুলগুলোতে ইসলাম, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মসহ বিভিন্ন বিশ্বাসের শিক্ষার্থী রয়েছে, যেখানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাগরিক অ-খ্রিষ্টান। বোর্ডের একমাত্র রিপাবলিকান সদস্য ইভলিন ব্রুকস এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে এটিকে ‘অসংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। হিউস্টনের একজন ইহুদি ধর্মগুরু বা রাব্বি জোশুয়া ফিক্সলার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই তালিকা শিক্ষকদের সাধারণ শিক্ষার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি ধর্ম শেখাতে বাধ্য করবে, যা জনশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বাইবেলের নির্বাচিত গল্প পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুক্রবার টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন নতুন পাঠ্যতালিকা অনুমোদন দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের বাধ্যতামূলক পাঠ্যতালিকা অনুমোদনের ঘটনা এই প্রথম। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন নতুন পাঠ্যতালিকায় বাইবেলের বিভিন্ন অংশ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর আওতায় টেক্সাসের সরকারি স্কুলের ৫০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে বাইবেলের গল্প পড়তে হবে। নতুন পাঠ্যতালিকায় শুধু বাইবেলই নয়, ই. বি. হোয়াইটের Charlotte's Web এবং চার্লস ডিকেন্সের Great Expectations-এর মতো সাহিত্যকর্মও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নিউ টেস্টামেন্ট এবং বুক অব জব থেকে নির্বাচিত অংশ পড়তে হবে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে টেক্সাসজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন পাঠ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে স্বীকৃত ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথক অবস্থানের নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠ্য নির্বাচন করার স্বাধীনতাও সীমিত হবে বলে তাদের দাবি। প্রগতিশীল সংগঠন টেক্সাস ফ্রিডম নেটওয়ার্ক-এর আইনবিষয়ক যোগাযোগ কর্মকর্তা এলভা মেনডোজা বলেন, টেক্সাসের সরকারি স্কুলে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শিশুদের কাছে এমন বার্তা দিতে পারে যে, কেবল খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থই বাধ্যতামূলক পাঠ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে সিদ্ধান্তের সমর্থকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সরকারি স্কুলের পাঠ্যক্রমেও সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলন থাকা উচিত। টেক্সাসের লাবক শহরের বাসিন্দা ব্রুক মাজেল শিক্ষা বোর্ডকে বাইবেলভিত্তিক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পারিবারিক আদর্শ অনুসরণ করে বড় হয়েছে। তাঁর মতে, স্কুলের পাঠ্যক্রমেও সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত। শিক্ষাবিদদের মতে, নতুন এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকায় মে মাসে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭৩৫ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্ট এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। গ্রেপ্তারকৃত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৭১১টি অপরাধের সাজা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অপরাধ সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিপজ্জনক গ্যাং বা অপরাধী চক্রের সদস্য, খুনি, শিশু যৌন নির্যাতনকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশি পলাতক আসামি রয়েছে। হিউস্টনের আইসিই এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসে মোট ৭৩৫ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬২৫ জন সরাসরি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী। মোট অপরাধের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৮২টি অপরাধ ছিল চরম সহিংস প্রকৃতির, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং বাকি অপরাধগুলো মার্কিন নাগরিকদের সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নৃশংস আন্তর্জাতিক এবং কারাবন্দী গ্যাংয়ের সদস্য বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে ৫টি হত্যাকাণ্ড, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা, ৩৮টি যৌন অপরাধ, ১২টি মানব পাচার, ১৭০টি চুরি-ডাকাতি এবং ২২৪টি মারাত্মক শারীরিক আক্রমণের ঘটনা। এছাড়া তালিকায় ৪টি অগ্নিসংযোগ, ৩২টি অভিবাসী চোরাচালান, ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালানো, ৩০টি অস্ত্র অপরাধ, ৩টি অপহরণ, ২৩টি পারিবারিক সহিংসতা, ৮টি শিশু নির্যাতন এবং ৪৯৫টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা রয়েছে, যার মধ্যে বারবার এই একই অপরাধ করা ব্যক্তিরাও রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া বিপজ্জনক অপরাধীদের মধ্যে হন্ডুরাসের ৪৩ বছর বয়সী হুয়ান এস্তেবান জেলায়া হার্নান্দেজ রয়েছেন, যিনি চারবার বিতাড়িত হওয়ার পরও ফিরে এসে অপরাধে জড়ান এবং তিনি পাইসাস গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যান্যদের মধ্যে ভিয়েতনামের দিন কুয় নগুয়েন পুলিশকে হত্যার চেষ্টায় সাজাপ্রাপ্ত এবং মেক্সিকোর মিগুয়েল রোসাস ভেঞ্চুরা ও জাভিয়ের মোয়া-টেনটোরি উভয়ই পূর্বে বিতাড়িত হওয়া সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামি। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জোসে ওলবান মার্টিনেজ এবং ১২ বার অনুপ্রবেশকারী মাদক পাচারকারী আলোনসো রাফায়েল ব্যারেরা-ডি লিওনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হন্ডুরাসের হুয়ান জোসে আগুইলেরা-লেমুস এবং মেলভিন হার্নান্দেজ নামক দুই চরম সহিংস অপরাধীসহ পাকিস্তানের বুরহান কুরেশি এবং এল সালভাদরের ফেলিসিয়ানো লুনা-মেন্ডোজার মতো বহুবার বিতাড়িত অপরাধীদের আটক করা হয়। এছাড়াও আইসিই আরও ২০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেমন হন্ডুরাসের ওয়ান্টেড পলাতক আসামি কার্লোস গ্যালিয়ানো লারা। সংস্থাটির মাঠ কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেজ বলেন, এরা নিরীহ অর্থনৈতিক অভিবাসী নয়, এরা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি। সূত্র: আইসিই
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ‘জেপিমরগান চেজ’ তাদের ব্যবসায়িক পরিচালন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে টেক্সাসের একটি কল সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনের কাছে জমা দেওয়া এক নোটিশের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আগস্ট মাসে এই কল সেন্টারটি বন্ধ হতে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির টেক্সাস ক্যাম্পাস থেকে ২৪৪ জন কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই ব্যাংকটির নিউ ইয়র্কের বাইরে অন্যতম বৃহত্তম কর্মসংস্থান হাব বা কেন্দ্র হলো টেক্সাসের প্ল্যানো ক্যাম্পাস। এই বড় ক্যাম্পাসে বর্তমানে সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি কর্মী কর্মরত আছেন। সেখানে নতুন এই ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি মূলত এই ক্যাম্পাসের মোট জনবলের প্রায় ২ শতাংশ। তবে একই সাথে সিবিএস নিউজ উল্লেখ করেছে, কল সেন্টারটি বন্ধ করা হলেও প্ল্যানো শাখার প্রতি ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে এবং বর্তমানে ওই লোকেশনে ৮০০-র বেশি শূন্য পদ খালি রয়েছে। জেপিমরগান চেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত একটি ছোট অপারেশন টিমকে তাদের অন্যান্য বড় অপারেশন সেন্টারের সাথে একীভূত বা কনসোলিডেট করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি জানায়, তারা নিয়মিতভাবে ব্যবসায়িক চাহিদার নিরিখে কর্মী সংখ্যা পর্যালোচনা করে থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ তৈরি বা কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চাকরি হারানো এই ২৪৪ জন কর্মীকে যাতে ব্যাংকের অন্য কোনো বিভাগে পুনর্বাসন বা পদায়ন করা যায়, তার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ডালাস বিজনেস জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল ‘ওয়ার্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যান্ড রিট্রেনিং নোটিফিকেশন’ আইনের আওতায় ইতিমধ্যে টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট থেকে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এর ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন ‘ফ্রড স্পেশালিস্ট’ বা জালিয়াতি প্রতিরোধ বিষয়ক পদের কর্মীরা। ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী সেভারেন্স বেনিফিট বা চাকরিচ্যুতির আর্থিক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, কোম্পানির ভেতরে অন্য পদে চলে যাওয়া কিংবা আউটপ্লেসমেন্ট সার্ভিসের মাধ্যমে নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রেও তাঁদের সহায়তা করা হবে। আমেরিকার শ্রম আইন অনুযায়ী, যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যান্ট বন্ধ করার কিংবা গণছাঁটাইয়ের অন্তত ৬০ দিন আগে কর্মী, সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। জেপিমরগান চেজও এই নিয়ম মেনেই ৬০ দিনের আগাম নোটিশ দিচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এই আইন অমান্য করলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ৬০ দিনের বকেয়া বেতন ও সুযোগ-সুবিধা জরিমানা হিসেবে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। একই সাথে স্থানীয় সরকারকে দৈনিক ৫০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
কলেজ অ্যাথলিটদের অপ্রয়োজনীয় কার্ডিওভাসকুলার বা হার্ট স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ৮৯ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে টেক্সাসের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিকিৎসক কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই টেস্ট রিপোর্টগুলোতে 'স্বাভাবিক' বা 'নরমাল' সিল মেরে দিতেন। এই জালিয়াতির কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ৫৩ বছর বয়সী জেসন ফিনকেলস্টেইন নামের ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকে গত বছরের শেষভাগ পর্যন্ত ফিনকেলস্টেইন ও তার দুই অজ্ঞাত সহযোগী মিলে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি কার্ডিওভাসকুলার টেস্টিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অভিনব জালিয়াতি চালিয়েছিলেন। হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মাঠে মারা যাওয়ার যে ভয় অ্যাথলিটদের মধ্যে কাজ করে, মূলত সেটাকেই পুঁজি করেছিলেন তারা। পূর্বের কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও সুস্থ অ্যাথলিটদের ভুল বুঝিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হতো। যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের জালিয়াতির বিরুদ্ধে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের যে দেশব্যাপী জোরালো অভিযান চলছে, ফিনকেলস্টেইনের মামলাটি তারই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রধান এবং স্বনামধন্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. মেহমেত ওজ এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি শুধু অর্থই চুরি করে না, এটি মানুষের জীবনও কেড়ে নিতে পারে।” তবে গত সোমবার ফ্লোরিডার আদালতে এক সংক্ষিপ্ত শুনানিতে ফিনকেলস্টেইন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। জালিয়াতির সুকৌশল সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানান, ফিনকেলস্টেইন এবং তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিক ট্রেইনারদের ইমেইল পাঠিয়ে বিনামূল্যে হার্ট স্ক্রিনিংয়ের প্রলোভন দেখাত। এমনকি শিক্ষার্থীদের তাদের কাছে পাঠাতে স্কুল কর্মকর্তাদের অবৈধ আর্থিক সুবিধাও বা কমিশন দেওয়া হতো। ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো যেহেতু অকারণে এসব টেস্টের খরচ বহন করে না, তাই টাকা আদায়ের জন্য ফিনকেলস্টেইন রোগীদের উচ্চ রক্তচাপের মতো ভুয়া শারীরিক কারণ দেখিয়ে ইনস্যুরেন্স বিল জমা দিতেন। এর জন্য তিনি এমন সব টেকনিশিয়ানদের ব্যবহার করতেন যাদের এই ধরনের পরীক্ষা করার বৈধ যোগ্যতাই ছিল না। সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক বিষয় হলো, ফিনকেলস্টেইন টেস্টের রিপোর্টগুলো না পড়েই তা চূড়ান্ত করতেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এক রোগীর প্রায় ৬৩টি টেস্ট ইমেজে মাত্র ১১ সেকেন্ডের মধ্যে স্বাক্ষর করে তাকে ‘ফিট’ বা স্বাভাবিক ঘোষণা করেছিলেন তিনি। অথচ সেই টেস্টের রিপোর্টে একাধিক কার্ডিয়াক সমস্যা স্পষ্ট ছিল। সেগুলো ধরা না পড়ায় বিনা চিকিৎসায় পরবর্তীতে ওই অ্যাথলিটের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিচার বিভাগ এই নির্মম জালিয়াতি চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস হিল কান্ট্রি এলাকায় গত বছরের ৪ঠা জুলাই ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্কারী বন্যার প্রায় এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ভয়াবহ সেই বন্যায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৩৭ জন মানুষ, যাদের মধ্যে ৩৭ জনই ছিল শিশু। সেই দুর্যোগের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে এবং এখনো নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্থায়ী আবাসন বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকে বসছেন স্থানীয় নেতারা। ক্যারভিলের নতুন গড়ে ওঠা মারিসপোসা এলাকায় সকাল ১০টায় 'কমিউনিটি ফাউন্ডেশন অব দ্য টেক্সাস হিল কান্ট্রি'র উদ্যোগে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই ব্রিফিংয়ে নগর নেতারা বন্যার্তদের নিরাপদ ও স্থায়ী বাসস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চলমান গৃহনির্মাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের সবচেয়ে বিস্তারিত ও ব্যাপক তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মঙ্গলবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি 'হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ক্যার কাউন্টি', 'টেক্সাস স্টেট অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং কর্পোরেশন', 'কানেক্টিভ' এবং 'হান্ট প্রিজারভেশন সোসাইটি'র শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। ১৯৮২ সালে ক্যারভিলে প্রতিষ্ঠিত এই অলাভজনক ফাউন্ডেশনটি মূলত অনুদানকারীদের সাথে স্থানীয় চাহিদার সমন্বয় ঘটিয়ে পুরো হিল কান্ট্রি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। গত বছরের সেই আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি টেক্সাসের এই পুরো অঞ্চল জুড়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই বন্যায় এই অঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি (১৮-২২ বিলিয়ন) ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যার ধকল এখনো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে স্থানীয় মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি অটো বডি শপে নিলামে কেনা একটি গাড়ির ভেতর থেকে দুই পুরুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকায় অটো বডি শপের কর্মীরা বিষয়টি টের পান এবং পরে গাড়ির ভেতরে মরদেহ দুটি খুঁজে পান। পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হয়। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফ এড গঞ্জালেজ জানান, ডেপুটিরা 13600 ব্লক রিভেস্টন রোডে পৌঁছান, যেখানে গাড়িটি একটি টো ট্রাকের মাধ্যমে বডি শপে আনা হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানায়, গাড়িটি হ্যারিস কাউন্টির বাইরে অনুষ্ঠিত একটি নিলাম থেকে কেনা হয়েছিল। নতুন মালিক মেরামতের উদ্দেশ্যে গাড়িটি অটো বডি শপে পাঠান, কারণ এটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য ছিল। কর্তৃপক্ষের ধারণা, গাড়িটি বডি শপে আনার পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মরদেহ দুটি সেখানে ছিল এবং ধীরে ধীরে পচন শুরু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সার্জেন্ট মাইকেল রিচি, যিনি এবিসি হিউস্টনের সহযোগী চ্যানেল KTRK-কে বিষয়টি জানান। তবে এখনো পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, টো ট্রাক চালক যিনি গাড়িটি বডি শপে পৌঁছে দেন, তার সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় বা ‘সেলফ-ড্রাইভিং’ মোডে থাকা একটি আধুনিক টেসলা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকা একটি আবাসিক ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। এই ভয়াবহ ও নজিরবিহীন সড়ক দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে থাকা এক নারী গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে টেক্সাসের কেটি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। রোববার (২১ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের কেটি এলাকায় মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি নিজের টেসলা মডেল-৩ গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালানোর সময় চালক সেটিকে স্বয়ংক্রিয় অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমে দিয়ে রেখেছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি হঠাৎ করেই নিজের সুনির্দিষ্ট লেন ছেড়ে সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায় এবং তীব্র গতিতে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে সোজা রাস্তার পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবনে সজোরে আঘাত করে। টেসলা গাড়িটির গতি এত বেশি ছিল যে, সেটি মুহূর্তের মধ্যে ওই বাড়ির শক্ত ইটের দেয়াল ভেঙে সরাসরি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। হ্যারিস কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনার রোমাঞ্চকর ও ভয়াবহ বিবরণ দিয়ে জানানো হয়েছে, চালক মাইকেল বাটলার যখন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তখন টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমটি সচল বা অপারেটিং মোডে ছিল। গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চ গতিতে একটি ইটের তৈরি আবাসিক বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সে সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করা এম. আভিলা নামের এক সাধারণ নারীকে সরাসরি প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। গাড়িটির সরাসরি ধাক্কায় ওই নারী ঘরের ভেতরেই মারাত্মকভাবে পিষ্ট হয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরক এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় এম. আভিলাকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘরের ভেতরে থাকা একজন নিরীহ মানুষের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টেক্সাস অঙ্গরাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ এবং গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টেক্সাসের স্থানীয় তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সময় টেসলা গাড়ির চালক মাইকেল বাটলার নিজেও বেশ কিছুটা শারীরিক জখম ও আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরের ভেতর কোনো ধরণের মাদক বা অ্যালকোহলের উপস্থিতি অর্থাৎ মাতাল হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই চালক বাটলার স্থানীয় পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সব ধরণের তদন্ত কাজে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। টেসলার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেরিফ কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি নিয়ে ঘটা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তাদের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চলমান রয়েছে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চালক মাইকেল বাটলার বা টেসলা কোম্পানির বিরুদ্ধে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলা গাড়ির স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং মোডের নিরাপত্তা এবং এর প্রযুক্তিগত নিখুঁত কার্যকারিতা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিভিন্ন ধরণের বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি টেসলা গাড়ি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শনিবার হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি তার টেসলা মডেল-৩ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, গাড়িটি নির্ধারিত লেনে চলতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি আবাসিক বাড়ির দিকে চলে যায়। পরে উচ্চগতিতে বাড়িটির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এম. আভিলা নামে এক নারী। গাড়ির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আবাসিক এলাকার সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িটিতে আঘাত হানে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ফলে বাড়িটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইটের দেয়াল ভেঙে গাড়িটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চালক মাইকেল বাটলারও আহত হয়েছেন। তবে তার মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) টেসলার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চালনা সহায়তা প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও এসব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও চালকের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করছিল এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।