- প্রচ্ছদ
- Topic
টেক্সাস
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর আলী আহমদ নামে এক বাংলাদেশি উবার চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তার ব্যবহৃত গাড়ির ভেতর থেকেই মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে উবার চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন আলী আহমদ। প্রতিদিনের মতো রাতে কাজ শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শনিবার সকাল পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার। অভিযোগ পাওয়ার পর নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পার হলে টেক্সাস পুলিশ ঘটনাটিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করে। টানা চার দিন খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার পুলিশ তার নিজস্ব গাড়িটি থেকেই মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আলী আহমদ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া ত্রিমুখী এলাকার মরহুম আছার উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। তবে তাদের আদি নিবাস বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা গ্রামে। আলী আহমদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে টেক্সাসসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিয়ানীবাজারবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট স্ত্রীকে যথাযথভাবে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হিউস্টনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও হিরা আজহারের মামলায় আদালত বলেছে, স্ত্রী তালাকের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সময়মতো জানার এবং নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। গত শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আগের আদালতগুলোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালে পাকিস্তানে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে তাঁরা হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন। ২০১২ সালে ভিসা নবায়নের জন্য আজহার পাকিস্তানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে চৌধুরী ‘তালাক’ পদ্ধতিতে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আজহারের দাবি, তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি; বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর তিনি তা জানতে পারেন। চৌধুরীর পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে তালাকের প্রক্রিয়ার পাঁচ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই মামলায় শুধু ওই বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট ছিল না। স্ত্রীকে ফোন, বার্তা, ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে জানানোর সুযোগ ছিল না, এমন কোনো প্রমাণও আদালতে দেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে হিউস্টনে ফিরে আজহার টেক্সাসের আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও বৈবাহিক সম্পত্তি ভাগের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত পাকিস্তানের বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর আবেদন খারিজ করেছিল; আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। মামলার নথিতে দাম্পত্যকালে অর্জিত যৌথ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ আছে। সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে আজহারকে কোনো সম্পত্তির অংশ দেওয়া হয়নি। রায়ের ফল হলো, পাকিস্তানের ওই বিচ্ছেদকে ভিত্তি করে তাঁর টেক্সাসের আবেদন খারিজ রাখার সিদ্ধান্ত আর বহাল থাকছে না। মামলাটি এখন নিম্ন আদালতে ফিরে যাবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, বিদেশে দেওয়া সব বিবাহবিচ্ছেদের রায় বা সব তালাক টেক্সাসে অগ্রহণযোগ্য বলে তারা সিদ্ধান্ত দেয়নি। এই মামলার নির্দিষ্ট কারণ ছিল যথাযথ নোটিশ ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অভাব।
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ২৭৯ জন কমেছে। অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩১; পরের বছর তা নেমেছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫২ জনে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য টেক্সাস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটি কেডব্লিউটিএক্সও প্রকাশ করেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদারের সময়েই এই পতন ঘটেছে। অস্টিন ও হিউস্টনের স্কুল কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বা ফেরত পাঠানো নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ও ভর্তি থাকার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে রাজ্যের হিসাব থেকে শিক্ষার্থী কমার একটি নির্দিষ্ট কারণ প্রমাণ করা যায় না। হিসাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এখানে ‘অভিবাসী’ শব্দটি আইনি মর্যাদা বোঝায় না। শিক্ষা বিভাগের সংজ্ঞায় ৩ থেকে ২১ বছর বয়সী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির স্কুলে তিন পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের বেশি পড়েনি - এমন শিক্ষার্থী এই শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদা জানতে চায় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসে স্কুলে পড়ছে এমন বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুও এই নির্দিষ্ট হিসাবের বাইরে থাকতে পারে। বড় শহরগুলোর কয়েকটি স্কুল জেলায় পতন বেশি। টেক্সাস ট্রিবিউনের হিসাবে, হিউস্টন স্কুল জেলায় এক বছরে অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত শিক্ষার্থী কমেছে ২২ শতাংশ। কম ভর্তির কথা জানিয়ে নতুন আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত লাস আমেরিকাস স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে অঙ্গরাজ্যের সব জায়গায় একই চিত্র নয় - সান আন্তোনিওর নর্থসাইড স্কুল জেলায় এই শ্রেণির শিক্ষার্থী বেড়েছে ৯ শতাংশ। অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে কাজ করা সংগঠন ইমস্কুলসের কর্মকর্তা এসমেরালদা আলদে ট্রিবিউনকে বলেছেন, কিছু পরিবার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে; কারও মা-বাবা আটক হওয়ায় বড় সন্তানকে কাজেও নামতে হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য, আইসিই স্কুলকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না। পরিবারের অভিজ্ঞতা ও সরকারের বক্তব্য দুটিই প্রতিবেদনে এসেছে; রাজ্যজুড়ে শিক্ষার্থী কমার প্রত্যেকটি ঘটনার ব্যাখ্যা কোনো পক্ষই দেয় না। শিক্ষার্থী কমার প্রভাব শ্রেণিকক্ষের বাইরেও যায়। টেক্সাসে স্কুলের সরকারি অর্থায়নের বড় অংশ শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে উপস্থিতি ও ভর্তি কমলে স্কুল জেলার বরাদ্দে চাপ পড়তে পারে। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সব শিক্ষার্থী মিলিয়ে টেক্সাসের সরকারি স্কুলে আগের বছরের চেয়ে ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কম ছিল। এই মোট সংখ্যা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটি আলাদা হিসাব। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদা যা-ই হোক, সেই কারণে কোনো শিশুকে সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি থেকে বাদ দেওয়া যায় না।
দীর্ঘ ১৪ বছর কোমায় থেকে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা হিদার ব্রাউন। ২০১২ সালে কোমায় আচ্ছন্ন থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হিদারের স্বামী শন ব্রাউন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন হিদার। ২০১২ সালের দিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমের কারণে হিদারের তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে তিনি কোমায় চলে যান। সে সময় তাঁর স্বামী শন ব্রাউন সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর কোমায় থাকা অবস্থাতেই ৩৪ সপ্তাহের মাথায় জরুরি সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের পুত্রসন্তান জন। জন্মের সময় জনের ওজন ছিল মাত্র ৪ পাউন্ড ৬ আউন্স। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হিদারের চিকিৎসার খবর ও তাঁর জীবনের গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ব্রিংগিং হোম দ্য ব্রাউনস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। সেখান থেকেই শন নিয়মিত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাতেন। ২০১৩ সালে হিদারকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্তান জন্মের দুই বছর পর তিনি একবার অস্পষ্ট স্বরে ছেলের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, যা চিকিৎসায় বড় উন্নতির লক্ষণ বলে মনে করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আর কখনোই পুরোপুরি চেতনা ফিরে পাননি। গত বছরও ফেসবুকের একটি আপডেটে ছেলে জনকে মায়ের পাশে বসে বই পড়ে শোনাতে দেখা গিয়েছিল। হিদারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শনের দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিতে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মন্তব্য করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ২টায় টেক্সাসের লংভিউ এলাকার গ্রেগটন মিশনারি ব্যাপটিস্ট চার্চে এই লড়াকু মায়ের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে চার বছরের মেয়ে ভিভিয়ান সাভেলাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, আদালত শিশুটিকে বাবার জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর একই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মা আত্মহত্যার চেষ্টা করে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হিউস্টন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলে টেরা রিজার্ভ প্লেসের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখানে ভিভিয়ানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। গুরুতর আহত মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি বেঁচে যাবেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি জানিয়েছে, ওই দিন শিশুটির হেফাজত নিয়ে আদালতে শুনানি হয়েছিল। পরিবারের আইনজীবীর মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারক ভিভিয়ানকে তার বাবা অ্যারন সাভেলার প্রধান তত্ত্বাবধানে রাখার নির্দেশ দেন। সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবার কাছে যাওয়ার কথা ছিল। ঘটনার সময় শিশুটির সৎবাবা ও দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা গুলির শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনাটি সরাসরি দেখেননি। তদন্তকারীরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, আইনজীবীর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে পরিবার জানায়, ভিভিয়ানের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। বাবা ও কাছের মানুষদের স্নেহে বেড়ে উঠছিল শিশুটি। শোকের এই সময়ে পরিবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছে।
আজ ভ্যানেসা গিয়েন বেঁচে থাকলে ২৭ বছর পূর্ণ করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল টেক্সাসের ফোর্ট হুডে নিখোঁজ হওয়ার পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মাত্র ২০ বছর বয়সী এই মার্কিন সেনাসদস্য। তাঁর মৃত্যুর পর সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানি, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ভ্যানেসা ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ফোর্ট হুডে ৩য় ক্যাভালরি রেজিমেন্টের একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল তাঁকে তাঁর ইউনিটের কাছে শেষবার দেখা যায়। পরে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয় এবং দুই মাসের বেশি সময় পর ৩০ জুন লিওন নদীর কাছে তাঁর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, ভ্যানেসাকে সেনাসদস্য অ্যারন রবিনসন হত্যা করেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, রবিনসন ভ্যানেসার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার কথা তাঁর প্রেমিকা সিসিলি আগুইলারকে জানান। পরে ভ্যানেসার মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। রবিনসনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরে আগুইলার ভ্যানেসার মরদেহ গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৩০ বছরের কারাদণ্ড পান। ভ্যানেসার হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি তদন্তে আরও গুরুতর একটি বিষয় সামনে আসে। সেনাবাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত করা হয়, তিনি তাঁর ইউনিটে একজন ঊর্ধ্বতন নন-কমিশন্ড অফিসারের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি অভিযোগও করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগটি যথাযথভাবে রিপোর্ট করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সেনাবাহিনীর তদন্তে ভ্যানেসার যৌন হয়রানির অভিযোগের সঙ্গে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। একইভাবে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, এমন প্রমাণও তদন্তে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর ঘটনাকে যৌন নিপীড়নের কারণে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা না করে, যৌন হয়রানির অভিযোগের পাশাপাশি সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করাই তথ্যগতভাবে সঠিক। ভ্যানেসার পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন শুরু করে। তাঁর নামকে সামনে রেখে সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মোকাবিলার পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। এর ফল হিসেবে ‘আই অ্যাম ভ্যানেসা গিয়েন অ্যাক্ট’সহ সামরিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়, যার মাধ্যমে যৌন হয়রানি মোকাবিলা ও গুরুতর যৌন অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় কমান্ড চেইনের ভূমিকা কমানোর মতো পরিবর্তন আসে। মাত্র ২০ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া ভ্যানেসা গিয়েনের ঘটনা তাই শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি নয়। তাঁর পরিবার যে দীর্ঘ লড়াই করেছে, তার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে জবাবদিহি এবং স্বাধীন তদন্তের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। আজ তাঁর ২৭তম জন্মদিনে ভ্যানেসাকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর নামে হওয়া এই পরিবর্তনগুলোকেও স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের বেলেয়ারের কিটিং পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের ধারণা ছিল, তাঁর প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত অপরাধীদের লক্ষ্য করবে। এখন পরিবারের পুত্রবধূ আনিই হার্নান্দেজ-এসকোবারকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বামী, ছোট মেয়ে এবং সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে পরিবারটির সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত আসবে। হন্ডুরাসের নাগরিক আনিই ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিক প্যাট্রিক কিটিংকে বিয়ে করেন। তাঁদের একটি ছোট মেয়ে আছে। আনিইর আগের সম্পর্কের ছেলে ড্যানিয়েলকেও ছোটবেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো বড় করছেন প্যাট্রিক। বিয়ের ভিত্তিতে আনিইর অভিবাসন প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তাঁদের বিয়ে বৈধ বলে দাখিল করা আবেদন প্রায় দুই বছর পর গত জুনে অনুমোদন পায়। তবে সেই অনুমোদন নিজে থেকে আনিইকে গ্রিন কার্ড দেয়নি। আইনজীবী জেনিফার লোপেজের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে এগোনোর জন্য আদালতে চলা তাঁর অভিবাসন মামলাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন ছিল। গত মাসে একজন অভিবাসন বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেন। এর পেছনে রয়েছে অভিবাসন মামলার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার একটি নিয়ম নিয়ে পরিবর্তন। ২০২৪ সালে চালু হওয়া নিয়মটি এমন কিছু ক্ষেত্রে বিচারকদের মামলা স্থগিত রাখার সুযোগ দিয়েছিল, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অন্য কোনো পথের আবেদন করছিলেন। গত জুনে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের করা মামলার পর একটি ফেডারেল আদালত নিয়মটির প্রয়োগ বন্ধ করে দেন। পরিবারটির আইনজীবী হিউস্টন ক্রনিকলকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আনিইকে হন্ডুরাসে গিয়ে সেখান থেকে ভিসার প্রক্রিয়া চালাতে হতে পারে। তাঁর হিসাবে, তাতে অন্তত এক বছর অপেক্ষার পর আরও কয়েক মাস লাগতে পারে। এটি আইনজীবীর দেওয়া সম্ভাব্য সময়সীমা; আনিইর দেশ ছাড়ার বা ফিরে আসার কোনো চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। পরিবারটির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ড্যানিয়েলকে নিয়ে। আনিই, প্যাট্রিক ও তাঁদের ছোট মেয়ে হন্ডুরাসে গেলে সাত বছরের ড্যানিয়েলকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হতে পারে বলে পরিবারটি আশঙ্কা করছে। প্যাট্রিক জানান, তিনি ছেলেটিকে বড় করলেও এখনো তাঁর আইনগত অভিভাবকত্ব নেই। পরিবারটি ড্যানিয়েলের দেখাশোনার ব্যবস্থা করতে আইনি সহায়তা নিচ্ছে। আনিইর শাশুড়ি ইনগ্রিড কিটিং বলেন, তিনি এখনো সীমান্ত নিরাপত্তার পক্ষে। কিন্তু নীতির প্রভাব নিজের পরিবারে পড়ায় পরিস্থিতিটি তাঁর কাছে অন্য রকম হয়ে উঠেছে। আর প্যাট্রিক বলেন, ভোট বদলে দিয়ে যদি এই সংকট এড়ানো যেত, তাহলে তিনি ট্রাম্পের পরিবর্তে কমলা হ্যারিসকে ভোট দিতেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাসের মান তুলনামূলক ভালো—এ প্রশ্নের নতুন একটি গবেষণায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিনেসোটা। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত দ্বিদলীয় স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে ৩১টি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব সূচকের গড় অবস্থানের হিসাবে মিনেসোটা প্রথম হয়েছে। গবেষণায় শিক্ষা, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনসন্তুষ্টি, পরিবেশ, নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক সম্পর্ক, বৈষম্য ও নাগরিক স্বাধীনতাসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯০ সাল থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে রাজ্যগুলোর বর্তমান অবস্থার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের প্রবণতাও বিশ্লেষণ করেছেন। মিনেসোটা বিশেষভাবে ভালো করেছে নাগরিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের হিসাবে নাগরিকত্ব ও গণতন্ত্রের সূচকে রাজ্যটির অবস্থান দ্বিতীয়, শিক্ষায় চতুর্থ এবং সামাজিক পুঁজিতে চতুর্থ। ভোটার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও মিনেসোটা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও মিনেসোটার বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ মিনেসোটাবাসী স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত। এ ধরনের নাগরিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততাই রাজ্যটির সামগ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনের বিভিন্ন সূচক থেকে দেখা যায়। তবে গবেষণাটি মিনেসোটাকে সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকা রাজ্য হিসেবে দেখায়নি। পরিবেশ ও নাগরিক স্বাধীনতার কিছু সূচকে রাজ্যটির অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। তরুণদের বিষণ্নতার হারও একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে প্রথম হলেও মিনেসোটারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে, সিএনবিসির ২০২৬ সালের ‘আমেরিকাস টপ স্টেটস ফর বিজনেস’ প্রতিবেদনে টেক্সাস সামগ্রিকভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতি, কর্মশক্তি ও মূলধন পাওয়ার সুযোগের মতো ক্ষেত্রে রাজ্যটি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের উপশ্রেণিতে টেক্সাস ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৪৯তম হয়েছে। সিএনবিসির জীবনযাত্রার মানের মূল্যায়নে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, অপরাধ, কর্মীদের সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে টেক্সাসের ব্যবসায়িক অবস্থান শক্তিশালী হলেও জীবনযাত্রার মানের সূচকে তার অবস্থান তুলনামূলক নিচে এসেছে। দুটি গবেষণার পদ্ধতি অবশ্য এক নয়। টিউলেনের স্টেট অব দ্য স্টেটস প্রতিবেদনটি মূলত মানুষের জীবনযাপন ও সামাজিক অগ্রগতির ৩১টি সূচকের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। আর সিএনবিসির প্রতিবেদনটি ব্যবসার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নির্ধারণ করতে ১০টি বিভাগ ও ১৩৮টি সূচক ব্যবহার করেছে। তাই দুটি তালিকার ফলাফলকে একই ধরনের র্যাংকিং হিসেবে দেখা উচিত নয়। স্টেট অব দ্য নেশন প্রজেক্টের প্রতিবেদনে সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল ও নিউ ইংল্যান্ডের রাজ্যগুলো ৩১টি সূচকের গড় ফলাফলে তুলনামূলক ভালো করেছে। বিপরীতে দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলো গড়ে নিচের দিকে ছিল। একই সঙ্গে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, প্রায় সব রাজ্যই একাধিক ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে—বিশেষ করে জীবনসন্তুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য, আয়বৈষম্য ও দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের মতো বিষয়গুলোতে। সব মিলিয়ে, নতুন এই গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে—কোনো অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক জীবনযাত্রা, অর্থনীতি বা ব্যবসায়িক পরিবেশ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একাধিক সূচক বিবেচনা করা প্রয়োজন। মিনেসোটা জীবনযাত্রার বিভিন্ন সূচকের গড় ফলাফলে শীর্ষে থাকলেও, সেখানেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে। একইভাবে টেক্সাস ব্যবসায়িক দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও জীবনযাত্রার মানের কিছু সূচকে পিছিয়ে রয়েছে।
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইবিরোধী বি ক্ষো ভে অংশ নেওয়ার পর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনের প্রার্থী মিসায়েল রামোসকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রে প্তা র করেছে রাজ্যের জননিরাপত্তা বিভাগ। তাঁর বিরুদ্ধে দা ঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে এক হাজার ডলারের জা মি নে তিনি ছাড়া পান। রামোস অস্টিন সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ আসনের প্রার্থী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইউটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গু লিতে উইলবার গারসেস পেরেজ নামের এক ব্যক্তি আ হ ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রামোসের প্রচার ব্যবস্থাপকের ভাষ্য, শনিবার সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় তাঁকে গ্রে প্তা র করা হয়। সেদিনই তাঁকে ট্রাভিস কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয় এবং বিকেলে জা মি নে মুক্তি দেওয়া হয়। রামোসের বিরুদ্ধে আনা অ ভি যোগটি টেক্সাসে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অ প রা ধের শ্রেণিতে পড়ে। বি ক্ষো ভে তাঁর ঠিক কোন আচরণের ভিত্তিতে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশিত তথ্যে স্পষ্ট নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অ ভি যোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রামোসের প্রচার শিবির বলছে, তিনি আইসিই কর্মকর্তার গু লির ঘটনার প্র তি বা দ জানাতে অন্যদের সঙ্গে বি ক্ষো ভে যোগ দিয়েছিলেন। গ্রে প্তা রের বিষয়ে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে কেইউটি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডালাসের উত্তরে লেক লুইসভিলকে ঘিরে গ্রীষ্মকালজুড়ে চালানো এক অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (ICE)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবারই কোনো না কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে ভেনেজুয়েলাভিত্তিক ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইসিই। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইসিই জানায়, গত ২৭ জুন থেকে লেবার ডে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত এই অভিযান চলে। ডালাসের আইসিই কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থা সহায়তা করে। লেক লুইসভিল ডালাসের উত্তরে অবস্থিত একটি বড় জলাধার। গ্রীষ্মকালে এলাকাটি নৌবিহার ও বিনোদনের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আইসিই বলেছে, অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করা, হ্রদসংক্রান্ত বিভিন্ন তদন্তে সহায়তা করা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নৌযান নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। আইসিইর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অতীত রেকর্ডে হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক আঘাতের ঘটনা, চুরি, বাড়িতে অবৈধ প্রবেশ, শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন, শিশুর সঙ্গে যৌন আচরণজনিত অপরাধ, গাড়ি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, মদ্যপ অবস্থায় নৌযান চালানো এবং বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধের মতো ঘটনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ছিল না। আইসিই আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের ওই গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের লেক লুইসভিলে অনুমোদনহীন নৌযানভিত্তিক পরিবহন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে টেক্সাস পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের একটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে হন্ডুরাস ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ রয়েছেন। কয়েকজনের আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রেকর্ডও ছিল বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযান সম্পর্কে আইসিই ডালাস ফিল্ড অফিসের পরিচালক মিগুয়েল ভারগারা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমিত সরকারি সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। তার দাবি, অভিযানের ফলে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের আটক করা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা সম্ভব হয়েছে। লেক লুইসভিলকে ঘিরে এই অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছিল বলে আইসিই জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, গ্রীষ্মের ব্যস্ত নৌবিহার মৌসুমে পানিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থলভাগে অপরাধ ও অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজ চালিয়ে যেতে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আইসিইর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযান নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করার নীতি গ্রহণ করেছে। তবে এই নীতির প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ভাড়া কমার তথ্যও তুলে ধরে দাবি করেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার হওয়ার সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাড়ার বাজারে পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। সংস্থাটি সান অ্যান্টোনিও, অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ কয়েকটি শহরের ভাড়া কমার হার উল্লেখ করেছে। তবে ভাড়া কমার কারণ হিসেবে অভিবাসন অভিযানকে সরাসরি দায়ী করার এই ব্যাখ্যাটি স্বরাষ্ট্র বিভাগের নিজস্ব দাবি এবং এর সঙ্গে অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণের সম্পর্ক আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। টেক্সাসে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্প্রতি অস্টিনে একটি পৃথক ঘটনায় এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ভেনেজুয়েলার এক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ওই ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনাটি লেক লুইসভিল অভিযানের অংশ নয় এবং পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। লেক লুইসভিলের গ্রীষ্মকালীন অভিযানের বিষয়ে আইসিই জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম শেষ হয়েছে লেবার ডে সপ্তাহান্তে। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে চলতে পারে। সূত্র: ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে হাজার হাজার ডলার নগদ টাকা ছুড়ে ফেলার ঘটনা ধরা পড়েছে পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে। এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের খবর পাওয়ার পর দুই ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে গিয়ে এই ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা ৬ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে টেক্সাসের পিয়ারল্যান্ড শহরে ঘটে। পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রডওয়ে স্ট্রিটের ৯৯০০ ব্লকের একটি ব্যাংক থেকে এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান। পুলিশকে জানানো হয়েছিল, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি একাধিক কার্ড ব্যবহার করে পরপর কয়েকটি লেনদেনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা তুলছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে একটি সাদা রঙের জিএমসি সিয়েরা গাড়ির যাত্রী আসনে উঠতে দেখা যায়। গাড়িটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ড্রোনের সহায়তায় সেটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে স্মিথ র্যাঞ্চ রোডের ২৫০০ ব্লকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং এলাকায় গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে গাড়ির যাত্রী নেমে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে আটক করা হয়। তবে গাড়ির চালক পুলিশের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপর শুরু হয় পুলিশের গাড়ি ধাওয়া। ধাওয়ার সময় চালক গাড়ির জানালা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বাইরে ছুড়ে ফেলতে থাকেন। পুলিশের ড্যাশক্যামের ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত গাড়ি থেকে একের পর এক টাকার বান্ডিল বা নোট রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে ৬ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি স্মিথ র্যাঞ্চ রোড ধরে উত্তরে যাওয়ার পর ম্যাকহার্ড রোডে পূর্ব দিকে মোড় নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাক্স রোডের ১৬০০ ব্লকে গিয়ে থামে। সেখানে পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে এবং চালককে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ঘটনা ছাড়াই আটক করে। আটক চালকের নাম লেভন স্টিভেন জুনিয়র। তিনি ফ্লোরিডার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা এবং আলামত বিকৃত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাড়ির যাত্রী তারভেরেস গিভেন্সকেও আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিচয় জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটিএমে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। ওই লেনদেনের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক জালিয়াতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আরও জালিয়াতিসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হতে পারে। দুই ব্যক্তিকেই ব্রাজোরিয়া কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে এটিএম থেকে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছিল এবং ব্যবহৃত কার্ডগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পুরো তদন্তে পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ এটিএম লেনদেন, ব্যবহৃত কার্ড এবং গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা অর্থের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। সূত্র: পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ, রয়টার্স
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে ৮১ বছর বয়সেও হারিয়ে যাওয়া ও বিলম্বিত লাগেজ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন টেক্সাসের ডন জনসন। কখনো টানা ১৪ ঘণ্টা কাজ, কখনো শত শত মাইল গাড়ি চালানো—গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু একটি হারানো স্যুটকেস পৌঁছে দিতে গিয়ে অপরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বদলে গেছে তার জীবনের গল্প। এখন হাজারো মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ডন থাকেন টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ এলাকার দ্য কলোনিতে। তিনি স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া বা দেরিতে পৌঁছানো লাগেজ যাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। ডন জানিয়েছেন, এই কাজটি করার অন্যতম কারণ হলো ৮১ বছর বয়সে অন্য কোথাও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, এটিই ছিল তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হওয়া কাজ। ডনের স্ত্রী জোসেফিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ৫৭ বছর। ডন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমা চিকিৎসার কিছু ব্যয় বহন করলেও পুরো খরচ মেটে না। চিকিৎসা, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সংসারের বাড়তি ব্যয় সামলাতেই এই বয়সেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে। কাজটিও ছিল শারীরিকভাবে কঠিন। ডন কখনো দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন। লাগেজ পৌঁছে দিতে গাড়ি চালাতে হতো দীর্ঘ পথ। গোফান্ডমির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই কাজ করতে গিয়ে নিজের গাড়িতে ২ লাখ মাইলের বেশি চালিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে গাড়িটিতেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই ডনের জীবনে আসেন দ্য কলোনির বাসিন্দা এরিন হাওয়েল। সম্প্রতি ভ্রমণের সময় হারিয়ে যাওয়া তার লাগেজ পৌঁছে দিতে ডন তার বাড়িতে যান। দরজার ক্যামেরায় এরিন দেখতে পান, ৮১ বছর বয়সী মানুষটি ভারী স্যুটকেস নিয়ে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে কষ্ট করছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি বাইরে এসে ডনকে সাহায্য করেন। কথা বলতে গিয়ে এরিন জানতে পারেন ডনের জীবনের পেছনের গল্প। স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে এই বয়সেও ভারী লাগেজ বহন করছেন তিনি। ডনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কেন করছেন। তিনি জানান, অন্য কোথাও তাকে কাজ দেওয়া হচ্ছিল না। ডনের গল্প জানার পর তাকে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ‘হেল্প ডন রিটায়ার’ নামে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলেন এরিন। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তহবিলটির উদ্দেশ্য ছিল জোসেফিনের চিকিৎসা ব্যয়, দম্পতির দৈনন্দিন খরচ এবং ডনকে আর ভারী কাজ করতে না হওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অভাবনীয় সাড়া আসে। বুধবার সকালে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট যখন খবরটি প্রকাশ করে, তখন তহবিল ছিল মাত্র ৮৭ হাজার ডলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্লোবাল নিউজ জানায়, অঙ্কটি বেড়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে। আর আজ, ২৫ সেপ্টেম্বর, গোফান্ডমির লাইভ পেজে দেখা যাচ্ছে—তহবিল ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৪ হাজার ২১২ ডলারে পৌঁছেছে। অনুদান দিয়েছেন ১২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। তহবিলের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। অনুদান চলমান থাকায় অঙ্কটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের এমন সাড়া দেখে আবেগাপ্লুত ডন বলেছেন, এরিন যা করেছেন তা তার কাছে ‘অলৌকিক’ ঘটনার মতো। তারা কারও কাছে সাহায্য চাননি, কিন্তু মানুষের এই সহযোগিতা তাদের অনেক সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে যেভাবে মানুষ তাকে সাহায্য করেছে, তিনিও অন্যদের সেভাবে সাহায্য করতে চান। মানুষের এমন উদারতা তার মানুষের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডন। জোসেফিনও মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৫৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পাশে থাকার গল্প এখন হাজারো অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। আর যে মানুষটি কয়েক দিন আগেও ভারী স্যুটকেস নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন, মানুষের সহায়তায় তার সামনে এখন কাজ কমিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আদালতে এক নারী আইনজীবীর হাতাকাটা পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সান অ্যান্টোনিওর ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী মারিয়া মেডিনার দাবি, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অংশ নিতে গেলে বিচারক তার পোশাককে আদালতের জন্য ‘অনুপযুক্ত’ বলে প্রশ্ন তোলেন এবং সঙ্গে ব্লেজার আছে কি না জানতে চান। ঘটনাটি ২১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির একটি আদালতে ঘটে। ৩২ বছর বয়সী মেডিনা আগে সান অ্যান্টোনিওতে টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওই দিন তিনি ধূসর রঙের হাতাকাটা জে.ক্রু শিফট ড্রেস পরে আদালতে গিয়েছিলেন। পোশাকটি হাঁটুর কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের ছিল। মেডিনার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক তাকে বেঞ্চের কাছে ডেকে পোশাকটি দেখতে চান। অন্য আইনজীবী ও আসামিদের সামনেই তাকে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিচারক জানতে চান, তিনি সত্যিই মনে করেন কি না যে এই পোশাক পরে জুরি ট্রায়ালে অংশ নেওয়া উপযুক্ত। এরপর তার গাড়িতে কোনো ব্লেজার আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। ঘটনার পর নিজের পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেডিনা। তিনি জানান, একই পোশাক টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের সময় বহুবার পরেছেন এবং এর আগেও বিভিন্ন আদালতে এটি পরে গেছেন। কোথাও আপত্তির মুখে পড়েননি। তাই বিচারকের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানান। মেডিনা আরও দাবি করেন, আদালতের বাইরে পোশাকসংক্রান্ত যেসব নিষেধাজ্ঞা লেখা রয়েছে, তার পোশাক সেগুলোর কোনোটি লঙ্ঘন করেনি। বেক্সার কাউন্টির ক্রিমিনাল কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক বা পেশাদার পোশাক পরতে হয়। তবে নির্দিষ্ট আদালতে তুলনামূলক কম আনুষ্ঠানিক পোশাক গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে বিচারকের কিছু বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। মেডিনা জানিয়েছেন, ওই দিন তার মামলাটি জুরি ট্রায়ালে যাচ্ছিল না; এটি ছিল সংক্ষিপ্ত শুনানি। তারপরও ভবিষ্যতে ওই বিচারকের আদালতে গেলে তিনি ব্লেজার পরবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের কর্তৃত্বের প্রতি তার সম্মান রয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের প্রতি অসম্মান দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ মেডিনার পোশাককে পেশাদার ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ বলেছেন, আদালতের মতো আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আইনজীবীদের কাঁধ ঢাকা পোশাক বা ব্লেজার পরাই উচিত। তবে বিচারক ঠিক কী কারণে পোশাকটিকে অনুপযুক্ত মনে করেছিলেন, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির বর্ণনা মূলত মেডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও পরবর্তী সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস-নিউজ, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে দ্রুত বাড়ছে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনে টেক্সাস ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষে উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬ সালেও অঙ্গরাজ্যটিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের এই উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষিজমি, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত নতুন প্রকল্প স্থাপনের সুযোগ। অঙ্গরাজ্যের আলাদা বিদ্যুৎ গ্রিডে সৌর প্রকল্প যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় বিনিয়োগকারীরাও এখানে বড় আকারের প্রকল্প গড়ে তুলছেন। একই সময়ে টেক্সাসের জনসংখ্যা ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় নতুন উৎপাদন সক্ষমতার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। এর একটি বাস্তব উদাহরণ উভালডের কৃষক স্টিভ কারগিল। তাঁর পরিবার ১৯৫৩ সাল থেকে টেক্সাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক ও সমতল জমিতে কৃষিকাজ করছে। ৬৭ বছর বয়সী কারগিল একসময় ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর তিন সন্তানের একজন ভবিষ্যতে পারিবারিক খামারের দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু ২০১৮ সালের একটি ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির পর সেই পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কারগিল ও তাঁর ছেলে রায়ান কয়েক মাস ধরে বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের ফসল পরিচর্যা করেছিলেন। কিন্তু একটি রাতের ঝড়ে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাঁর ছেলে কৃষিকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। কারগিলও বুঝতে পারেন, তাঁর তিন সন্তানের কেউই পূর্ণকালীন কৃষিকাজে যেতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট অবসরভাতা না থাকায় নিজের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও তিনি চিন্তিত ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে কারগিল তাঁর মোট জমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ, ৬০০ একর জমি, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ইজারা দেন। ওসিআই এনার্জি সেখানে বড় একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে। এই ইজারা থেকে কারগিল বছরে প্রায় ২ লাখ ডলার আয় করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয় দীর্ঘস্থায়ী খরার মধ্যেও কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে তিনি নিজের চাষের জমিতে সেচের জন্য বরাদ্দ পানি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছেন এবং ডিজেল ও সারের দাম বাড়লেও আগের মতো চাপ অনুভব করছেন না। টেক্সাসের বিদ্যুৎ খাতেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টেক্সাসে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে ৫৮ হাজার ৬৩৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় উৎপাদন ছিল ৫৩ হাজার ৭১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা। তবে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ, যেমন বাড়ির ছাদে স্থাপিত ব্যবস্থা, যুক্ত করলে ক্যালিফোর্নিয়া এখনো এগিয়ে রয়েছে। টেক্সাসের সৌরবিদ্যুতের বিস্তার কতটা দ্রুত হচ্ছে, তার আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বাভাসে। জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানিয়েছে, টেক্সাসের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ গ্রিডে ২০২৬ সালে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৭৮ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং কয়লা থেকে উৎপাদন প্রায় ৬০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা হতে পারে। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার পেছনে খরচও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওসিআইয়ের প্রকল্প উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা জেমস স্কটের মতে, প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সৌরবিদ্যুতের ব্যয় কমেছে। একটি প্রকল্প চালু হওয়ার পর সূর্যের আলো জ্বালানি হিসেবে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তিতে স্থিতিশীল দাম নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়। সৌর প্রকল্পের কারণে কৃষকরাও নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বড় ও সমতল জমির প্রয়োজন হওয়ায় সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো কৃষকদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিচ্ছে। টেক্সাস সোলার অ্যান্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মার্ক স্টোভার বলেন, এসব ইজারা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত চলে এবং সময়ের সঙ্গে এর মূল্য বাড়তে পারে। এতে কোনো কোনো পরিবার অবসর নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, কেউ পারিবারিক তহবিল গড়ে তুলছে, আবার কেউ কৃষিখামার টিকিয়ে রাখতে পারছে। তবে সৌরবিদ্যুতের এই বিস্তার নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। উত্তর-পূর্ব টেক্সাসের ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির কিছু বাসিন্দা নতুন সৌর প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। স্থানীয় আইনজীবী বিএফ হিকসের অভিযোগ, সৌর প্রকল্প তৈরির জন্য পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং তাঁর পরিবারের কবরস্থানের পাশেও একটি প্রকল্প তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ডেভিড ট্রুসডেলও জমি পরিষ্কার, পানি প্রবাহ এবং বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির বাসিন্দারা একসময় নতুন সৌর প্রকল্প নির্মাণে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ কার্যকর করলেও পরে আইনি চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। সমালোচকদের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জমির দৃশ্যগত পরিবর্তন, গাছপালা পরিষ্কার করার পর পানি প্রবাহের প্রভাব এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা। তারপরও টেক্সাসে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যে নতুন বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৪০ শতাংশই টেক্সাসে হতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যে বড় ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রকল্পও বাড়ছে। ফলে তেল ও গ্যাসের জন্য পরিচিত টেক্সাসের জ্বালানি চিত্রে সৌরবিদ্যুৎ এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। উভালডের কৃষক কারগিলের মতো জমির মালিকদের জন্য এটি যেমন নতুন আয়ের উৎস তৈরি করছে, তেমনি অঙ্গরাজ্যের দ্রুত বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেও সৌরবিদ্যুতের ভূমিকা বাড়ছে। তবে গ্রামীণ জমি ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্কও একই সঙ্গে চলতে থাকছে। সূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সারোগেসিকে ঘিরে আলোচিত এক আইনি লড়াইয়ে সারোগেট মা ম্যাকেনা ওয়েস্টের করা জরুরি আবেদন খারিজ হয়েছে। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি নওশিন গিলকার ও ওমর আহমেদের কাছে তাদের সন্তান রুমি থাকার পথই বহাল থাকল। মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান ওয়েস্টের আবেদন খারিজ করেন। ঘটনার সূত্রপাত গিলকার ও আহমেদের সন্তান ধারণের দীর্ঘ প্রচেষ্টাকে ঘিরে। গিলকারের আট দফা আইভিএফ ব্যর্থ হওয়ার পর এবং জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর দম্পতি তাদের জৈবিক সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ওয়েস্টকে সারোগেট মা হিসেবে নিয়োগ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওয়েস্ট শিশুটির জেনেটিক মা নন। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, শিশুটির হৃদ্যন্ত্রে হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম নামে গুরুতর জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। এতে হৃদ্যন্ত্রের বাম পাশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে জন্মের পর একাধিক জটিল হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে এবং ভবিষ্যতে হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে। এই রোগ নির্ণয়ের পর গিলকার ও আহমেদ গর্ভধারণ শেষ করার জন্য ওয়েস্টকে অনুরোধ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের সারোগেসি চুক্তিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গর্ভধারণ শেষ করার বিধান ছিল। ওয়েস্ট প্রথমে এতে সম্মত হয়েছিলেন এবং নিজেই চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেছিলেন। পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ওয়েস্ট দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং শিশুটির হেফাজত পাওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন। তিনি আলাস্কা থেকে টেক্সাসে চলে যান। টেক্সাসে গর্ভপাতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় সেখানেই শিশুটিকে জন্ম দেওয়ার এবং তার হেফাজত পাওয়ার আইনি লড়াই শুরু হয়। ১২ আগস্ট ডালাসে ওয়েস্ট একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। গিলকার ও আহমেদ শিশুটির নাম রাখেন রুমি। ওয়েস্টের পক্ষ থেকে শিশুটিকে গ্যাব্রিয়েল নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। জন্মের পর শিশুটির গুরুতর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার শুরু হয়। শিশুটির হেফাজত নিয়ে এরপর ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের আদালতে একাধিক শুনানি হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত গিলকার ও আহমেদকে শিশুটির আইনগত বাবা-মা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। টেক্সাসের একটি আদালতও ওয়েস্টের হেফাজতের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ১৮ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের সর্বোচ্চ আদালত ওয়েস্টের করা আরেকটি আবেদন খারিজ করে। এর ফলে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় নেওয়ার আইনি পথ খুলে যায়। ওয়েস্ট পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করেন এবং আগের আদালতের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানান। ২২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি এলেনা কাগান সেই জরুরি আবেদন খারিজ করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আবেদন খারিজের বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। ওয়েস্টের পক্ষে আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিশুটির জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিয়ে তাদের উদ্বেগ থেকেই এই আইনি লড়াই করা হয়েছে। অন্যদিকে গিলকার ও আহমেদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সন্তানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় সম্মতি দিয়েছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রুমির আইনগত বাবা-মা হিসেবে গিলকার ও আহমেদের অবস্থান বহাল রয়েছে। সারোগেট মায়ের হেফাজতের আবেদনও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে সফল হয়নি। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসি চুক্তি, গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত, শিশুর চিকিৎসা এবং জৈবিক বাবা-মায়ের আইনগত অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে পিঠে গুলি থাকা অবস্থায় আটককেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ২৮ বছর বয়সী উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাটি রোববার টেক্সাসের অস্টিনে ঘটে। গার্সেস পেরেজ তখন ডোরড্যাশের হয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি তার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর সেটি পুলিশের গাড়ি হিসেবে থামানো হয় এবং আইসের এক কর্মকর্তা তার গাড়িতে গুলি চালান। গুলিতে তার শরীরের ওপরের অংশে আঘাত লাগে। গার্সেস পেরেজের নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি এসইউভি তার গাড়িকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি সেটিকে আক্রমণাত্মক চালকের আচরণ বলে মনে করেন এবং নিজের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে গাড়িটি আবার তার গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং পুলিশি বাতি জ্বালানো হয়। এক কর্মকর্তা তার কাছে অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান এবং গাড়ি থেকে নামতে বলেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি গাড়িটি রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় আইস কর্মকর্তা গুলি চালান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাইরেন ও গাড়ির টায়ারের শব্দের পর একটি অচিহ্নিত এসইউভি থেকে একজন কর্মকর্তাকে নামতে এবং এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও গুলির পরিস্থিতি তদন্তাধীন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সেস পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে অস্টিন থেকে প্রায় ১৩০ মাইল দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও তার শরীরে, মেরুদণ্ডের কাছাকাছি, গুলি আটকে ছিল বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। গার্সেস পেরেজ সাংবাদিকদের ফোনে জানান, তিনি ভালো নেই এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। তার আইনজীবীর দাবি, আটককেন্দ্রে তিনি তীব্র ব্যথায় ছিলেন এবং একপর্যায়ে শরীরের বাম পাশ, হাত ও পায়ে অনুভূতি কমে যায়। পরে পক্ষাঘাতের মতো উপসর্গের কথা জানানোর পর সোমবার রাতে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগটি জানিয়েছে, গার্সেস পেরেজ আটককেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা এবং ব্যথানাশক ওষুধ পাচ্ছিলেন এবং তিনি একটি বিছানায় ঘুমিয়েছেন। শরীরে গুলি থাকার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেনি। তবে গুলি অপসারণ করা হবে কি না, সেটি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছে বিভাগটি। ঘটনার পর গার্সেস পেরেজের আইনজীবীরা তার মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাকে অপসারণ বন্ধের দাবিতে মামলা করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবারের আপডেট অনুযায়ী, একজন ফেডারেল বিচারক আপাতত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ বন্ধ রাখার জন্য জরুরি আদেশও দিয়েছেন। গার্সেস পেরেজের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধতা নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, তিনি জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে তার আইনজীবী বলছেন, তিনি ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু থাকা সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে বৈধভাবে সীমান্তে প্রবেশের আবেদন করে একটি প্রবেশবন্দরে হাজির হন এবং সেখানেই তাকে পরীক্ষা করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের নির্দিষ্ট প্রবেশবন্দরে সাক্ষাতের সময় নিতে পারতেন। ট্রাম্প প্রশাসন পরে এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবেশ করা অভিবাসীদের বৈধ অবস্থান বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। এদিকে গার্সেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় তদন্তটি পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, গুলি চালানো আইস কর্মকর্তাকে তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন ঘটনাটির স্বাধীন ও তৃতীয় পক্ষের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আইস নিজেই এই ঘটনার তদন্ত করলে তা উপযুক্ত হবে না। তিনি অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রম ঘিরে ভয় ও উত্তেজনার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে এলো। এর আগে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের সময় গাড়ি থামিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা এবং গার্সেস পেরেজের ঘটনায়ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণ আইনসঙ্গত ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
টেক্সাসের আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে ১৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ছেলে আটকের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা তেরেসা ওচোয়া ব্রিসেনোকে আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। পরে একই দিন তাকে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশের আওতায় মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস জানিয়েছে। তেরেসার ছেলে লুইস ওচোয়া ১৭ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক। ১১ সেপ্টেম্বর আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখার সময় তিনি ও তার এক বন্ধু সেটি ভিডিও করছিলেন। পরে দুই কিশোরকেই আটক করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কিশোরকে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন। লুইসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার বন্ধু ইউএস মেরিন কোরে যোগদানের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখতে পেয়ে তারা গাড়ি থামিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিওতে কর্মকর্তাদের একজনকে একটি গাড়ির কাছে যেতে এবং পরে কিশোরদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াতে দেখা যায়। লুইসের দাবি, তাকে পেপার স্প্রে করা হয় এবং আটকের সময় তার কবজিতে আঘাত লাগে। তবে ঘটনাটি নিয়ে ফেডারেল সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। ডিএইচএস দুই কিশোরকে ‘অ্যান্টি-আইসিই অ্যাজিটেটর’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, তারা কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কিশোর সরকারি গাড়ির জানালায় বারবার আঘাত করার পর তাকে আটক করতে গেলে সে প্রতিরোধ করে। ঘটনাটিতে দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নেন বলেও ডিএইচএস দাবি করেছে। পরে দুই কিশোর আলামো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরদের আইনজীবী জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। এরপর তেরেসা ছেলের আটকের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আলামোর কাছে একটি রেস্টুরেন্টে কাজে যাওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার আইনজীবী কার্লোস গার্সিয়ার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৬টার দিকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা হয়েছিল বলেও আইনজীবী দাবি করেছেন। তেরেসার গ্রেপ্তার ও দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় তার পরিবার ও অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তার ছেলে লুইস দাবি করেছে, আটকের পর তার মা তাকে জানিয়েছিলেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আইসিই এ দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, ডিএইচএস বলেছে, তেরেসাকে একটি ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তেরেসা ২০০৫ সালে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ২০২৫ সালে তাকে মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি আবার অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ কার্যকর করে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়। তেরেসার গ্রেপ্তারের ফলে তার চার সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এদিকে, কয়েক দিন আগে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে লুইসের আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন কিশোরদের আটকের ঘটনা, তাদের পরিবারের ওপর এর প্রভাব এবং তেরেসাকে দ্রুত মেক্সিকোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
টেক্সাসের অস্টিনে আইসিইর এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি বুলেট আটকে আছে এবং তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন। ২০ সেপ্টেম্বর রোববারের ওই ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। সোমবার ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার থেকে আইনজীবীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ২৮ বছর বয়সী পেরেজ। পরে কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, তাকে চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার কথা বলার সময় পেরেজ স্প্যানিশ ভাষায় জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি মেরুদণ্ডের খুব কাছাকাছি আটকে থাকায় চিকিৎসকেরা সেটি অপসারণ করেননি। ঘটনার সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে খাবার ডেলিভারি করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। অস্টিনের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮৩ নম্বর হাইওয়ে ও অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকার কাছে রোববার দুপুরের আগে ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ডেল সিটন মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল থেকে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়। পেরেজের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি চিহ্নবিহীন এসইউভি তার গাড়ির পাশে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আইসিই কর্মকর্তাদের গাড়ি। তিনি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন এবং নিরাপদ জায়গায় থামার সুযোগ চান বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন। তবে গুলি চালানোর ঠিক আগে কী ঘটেছিল এবং আইসিই কর্মকর্তারা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এফবিআইয়ের সহায়তায় ওই কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্ত করছে। বিভাগের বক্তব্যে বলা হয়েছে, পেরেজ ভেনেজুয়েলার নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবীরা সরকারি এই বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। পেরেজের আইনজীবীদের দাবি, তিনি ২০২৪ সালে সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ইমিগ্রেশন কোর্টের শুনানির নোটিশ পুরোনো ঠিকানায় যাওয়ায় তিনি ওই শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি। আইনজীবীরা আরও বলেছেন, পেরেজের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল। তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং অপসারণের আদেশের বিষয়ে সরকারি নথিতে কী রয়েছে, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর পেরেজকে প্রায় দুই ঘণ্টা দূরের পিয়ারসালের সাউথ টেক্সাস আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পর্যাপ্ত ব্যথানাশক ও চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পেরেজের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিটেনশন সেন্টারে তিনি একটি ঠান্ডা কক্ষে মেঝেতে রাত কাটান। পরে একজন নার্স তাকে একটি ওষুধ দেন। ঘটনার পর কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ও প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইসিইর অভিযানে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও আইসিইর কাছে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। এদিকে অস্টিন পুলিশও ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে গুলিবর্ষণের সময় অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ফলে পেরেজের গাড়ির সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ির সংঘর্ষ কীভাবে হয়েছিল, গুলি চালানোর আগে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালান, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার জানান, পেরেজকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে তার শরীরে থাকা বুলেট অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার ফেডারেল তদন্তের পাশাপাশি পেরেজের চিকিৎসা এবং আইসিই হেফাজতে তার অবস্থার বিষয়টিও এখন আলোচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যালিস ওগলট্রি অসুস্থ নবজাতকদের সাহায্যে অবিশ্বাস্য পরিমাণ বুকের দুধ দান করে নতুন এক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের গড়া পুরোনো রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী। গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে তিনি এই অনন্য রেকর্ডটি নিজের করে নেন। অ্যালিসের এই মহৎ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় তার নিজের সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে এক নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, দান করা বুকের দুধ অন্যান্য অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে এ ধরনের অনুদান বা মিল্ক ব্যাংক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। তবে নার্সের দেওয়া ওই একটি তথ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয় এবং এরপর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত বুকের দুধ দান করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ লিটার বুকের দুধ দান করে প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন অ্যালিস। তবে রেকর্ড গড়ার পরও থেমে যাননি তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং নিজের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে যান। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংক ও অনেক পরিবারকে সরাসরি আরও হাজার হাজার আউন্স দুধ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালিস। একজন নার্সের দেওয়া ছোট্ট একটি ধারণা থেকে শুরু হওয়া তার এই অসাধারণ উদারতা আজ হাজার হাজার নবজাতক ও তাদের পরিবারের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গুলিতে ২৮ বছর বয়সী এক ডোরড্যাশ চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই যুবক ভেনেজুয়েলার নাগরিক। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে অস্টিনের উত্তরাংশে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বুকে গুলিবিদ্ধ পেরেজকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির ইএমএস প্রধান ও শহরের মেয়র কার্ক ওয়াটসন। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের কারণ বা পেছনের ঘটনা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। আহত পেরেজের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর সম্ভবত সরাসরি আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একটি আইনি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেরেজ একজন অনিবন্ধিত অভিবাসী এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগের চূড়ান্ত নির্দেশ ছিল। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, পেরেজের কাছে আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল এবং তিনি বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পেরেজের নীল রঙের টয়োটা করোলা গাড়ির দরজায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং জানালায় অন্তত দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আইসিই এজেন্ট হয়তো তাকে পায়ে হেঁটে ধাওয়া করেছিলেন; তবে স্থানীয় পুলিশ এই অভিযানে কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছেন। কাসার অবিলম্বে বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, আইসিই এজেন্টদের বারবার এমন বলপ্রয়োগ এবং সত্য গোপন করার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে, লাতিন আমেরিকানদের নাগরিক অধিকার রক্ষাকারী অন্যতম প্রধান সংগঠন লুলাক (LULAC) মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের ওপর স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি কড়া ভাষায় জানিয়েছে, কোনো এজেন্সিরই নিজের অপরাধের বিচারক নিজে হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়; সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষেরই আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
টেক্সাসের ঈগল পাস এলাকায় একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর থেকে চার অভিবাসীকে উ দ্ধার করেছে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। ট্যাংকটি এমনভাবে বন্ধ ছিল যে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষীরা। সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা একটি গ্রামীণ মহাসড়কে টহল দেওয়ার সময় ২০০৭ সালের একটি ফোর্ড পিকআপ ট্রাক থামান। তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকের পেছনে থাকা ছোট একটি বহনযোগ্য পানির ট্যাংকের ভেতর চারজনকে আ টকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান তারা। চারজনকে বের করে আনতে এজেন্টরা পাওয়ার টুল ব্যবহার করে ট্যাংকটি কেটে খোলেন। এরপর তাদের সেখান থেকে উ দ্ধার করা হয়। সীমান্তরক্ষীদের তথ্য অনুযায়ী, উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য উভালডে সাউথ স্টেশনে নেওয়া হয়। পিকআপটির চালক ছিলেন ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক। তার বিরুদ্ধে মানব পাচারের অ ভি যোগ আনা হয়েছে। তবে গ্রে প্তার ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল। ডেল রিও সেক্টরের প্রধান বর্ডার পেট্রোল এজেন্ট অ্যান্থনি গুড বলেন, পাচারকারীরা যাদের মানবপণ্য হিসেবে দেখে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয় না। কোনো বের হওয়ার ব্যবস্থা ছাড়া সীমিত জায়গার ওই ট্যাংকের ভেতর মানুষকে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, সীমান্তরক্ষী এজেন্টরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ঘটনাটি আরও গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারত। তবে উ দ্ধার হওয়া চার ব্যক্তির পরিচয় বা তাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বর্ডার পেট্রোল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।