নিউ ইয়র্ক

ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে প্রাইভেট স্কুলে কর ছাড় সুবিধা, শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ গভর্নর হোকুলের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ফেডারেল সরকারের প্রাইভেট স্কুল ট্যাক্স ক্রেডিট প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্ক দ্বিতীয় ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে।   প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় করদাতারা নির্দিষ্ট শিক্ষা সহায়তা সংস্থায় অনুদান দিলে কেন্দ্রীয় কর থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন। এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট স্কুলের বেতন, টিউশনি, অতিরিক্ত শিক্ষাসহায়তা এবং অন্যান্য শিক্ষা ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে।   বৃহস্পতিবার রাতে এক সভায় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নিউ ইয়র্কের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।   শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন গভর্নরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, কর্মসূচিটি বহু পরিবারের শিক্ষা ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।   তবে সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এই উদ্যোগ সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি স্কুল ব্যবস্থার বাইরে অর্থায়নের সুযোগ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।   এর আগে গভর্নর হোকুল চার্টার স্কুল সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ করেছিলেন। নতুন এই কর সুবিধা কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তকে নিউ ইয়র্কের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে বাড়ি ভর্তি বিস্ফোরক রাসায়নিক উদ্ধার, বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

নিউ ইয়র্কের নাসাউ কাউন্টির সায়োসেট এলাকায় একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা ফ্রান্সিসকো সানলেস এবং তার ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকগুলো বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে জননিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বোম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলেই সেগুলো ধ্বংস করে।   তদন্তের সূত্রপাত হয় সায়োসেট হাই স্কুলের বাথরুমের দেয়ালে স্বস্তিকা চিহ্ন ও বিদ্বেষমূলক বার্তা পাওয়ার মধ্য দিয়ে। সেই ঘটনার সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে প্যাট্রিসিয়া লেনের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় আইউইটনেস নিউজ ও পুলিশ বাহিনী। ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বাড়ির ভেতর থেকে বেশ কিছু বিপজ্জনক রাসায়নিক বাইরে বের করে আনছেন। কর্মকর্তাদের দাবি, সানলেস অর্থের বিনিময়ে একাধিকবার এসব নিষিদ্ধ রাসায়নিক সংগ্রহ করেছেন।   আটককৃত বাবার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখা, অপরাধে সহায়তা, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা এবং বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তার কিশোর ছেলের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা, ভাঙচুর, গুরুতর হয়রানি এবং দেয়ালে ঘৃণামূলক বর্ণবাদী চিহ্ন আঁকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের দুজনকে পৃথকভাবে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।   এই ঘটনার পর সায়োসেট হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্কুলে স্বস্তিকা ও বর্ণবাদী লেখা পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ব্রুকলিনে ৭ মাসের শিশুকে গুলি করে হত্যা নিউ ইয়র্কে অপরাধীর বদলে বন্দুককে দায়ী করায় সমালোচনার মুখে মামদানি
ব্রুকলিনে ৭ মাসের শিশুকে গুলি করে হত্যা নিউ ইয়র্কে অপরাধীর বদলে বন্দুককে দায়ী করায় সমালোচনার মুখে মামদানি

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে ৭ মাস বয়সী শিশু কাওরি প্যাটারসন-মুর-এর মৃত্যুর পর সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, এটি আমাদের শহরের প্রথম পরিবার নয় যারা এই যন্ত্রণা ভোগ করছে। বুধবার একটি সন্দেহভাজন গ্যাং-সংক্রান্ত ঘটনায় মোপেডে থাকা বন্দুকধারীর ছোড়া গুলিতে স্ট্রোলারে থাকা অবস্থায় ওই শিশুটি নিহত হয়। মামদানি আরও বলেন, অনেক শিশু বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে। যেসব বাবা-মা তাদের সবচেয়ে প্রিয়জনকে হারিয়েছেন আমরা এটিকে আমাদের শহরে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। এই যন্ত্রণার প্রতি আমরা অসাড় হয়ে যেতে পারি না। আজকের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শহরে বন্দুক সহিংসতা মোকাবেলায় এখনও অনেক কাজ বাকি। তবে তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন কুইন্সের সিটি কাউন্সিলর ভিকি পালাদিনো। তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের দোষারোপ না করে বন্দুককে দায়ী করা মামদানির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, অপরাধীদের দোষ না দিয়ে সবকিছুই বলা হচ্ছে যাদের আমাদের সিস্টেম বারবার ছেড়ে দেয়, কোনো পরিণতি ছাড়াই। এটি সম্পূর্ণ লজ্জাজনক। ডানপন্থী ভাষ্যকার ব্রিটানি হিউজ-ও সমালোচনা করে বলেন, গত মাসে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক ৮৩ বছর বয়সী ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রবীণ রিচার্ড উইলিয়ামস-কে সাবওয়ে ট্র্যাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করা হলেও, সে বিষয়ে মামদানি কোনো মন্তব্য করেননি। ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের ফেলো রাফায়েল এ. মাঙ্গুয়াল বলেন, এই ঘটনাকে বন্দুক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা থেকে বোঝা যায়, মেয়র প্রকৃত অপরাধীদের ভূমিকা স্বীকার করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী আমুরি গ্রিন-কে শিশুটির হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ রড্রিগেজ (১৮) শুক্রবার পেনসিলভানিয়ায় গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজ একটি মোপেড চালাচ্ছিলেন, যার পেছনে থাকা বন্দুকধারী ব্রুকলিনের বুশউইক এলাকায় হামবোল্ট ও মুর স্ট্রিটের কোণে গুলি চালায়। 

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
জান্নাত নিশাত
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণী নিশাতের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটিত

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্কের কুইন্সে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি তরুণী জান্নাত নিশাত তার ছোট বোনের জন্মদিনের জন্য কেক কিনতে গিয়েছিলেন এমন তথ্য জানিয়েছেন তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা।   জান্নাত নিশাতের অকাল মৃত্যুর খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিউ ইয়র্কসহ গোটা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের বন্ধু আমিন মেহেদি বলেন, তার ছোট বোন তাকে কেক কিনে আনতে বলেছিল। সে দোকানে গিয়েছিল এবং বাড়ি ফিরছিল। পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছিল, কিন্তু সে ফিরছিল না। পরে তার ফোনের শেষ লোকেশন দেখে এক বোন তাকে খুঁজে পায়। জানা যায়, নিশাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে খণ্ডকালীন ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কেক কিনতে থামেন। এরপরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রবিবার রাত প্রায় ১১টা ৫৫ মিনিটে উডসাইড এলাকায় ৬২তম স্ট্রিট পার হওয়ার সময় একটি বেসরকারি স্যানিটেশন ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ থেকে মোড় নিচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থলটি তার বাড়ি থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে ছিল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিশাত ম্যানহাটনের সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্ক -এর একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই মৃত্যু পরিবারে গভীর শোক নেমে এনেছে, বিশেষ করে তার ছোট বোনের জন্য, যার জন্মদিন এখন চিরদিনের জন্য এই দুঃখজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আমিন মেহেদি বলেন, আমরা সবাই ভীষণ শোকাহত। এত অল্প বয়সে কেউ এভাবে জীবন হারাবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। সে ছিল পরিশ্রমী একটি মেয়ে, পড়াশোনা করছিল, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিল। নিহতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সিদ্দিক বলেন, পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। সে খুবই ভালো ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। বাবা-মায়ের প্রতি খুব যত্নশীল ছিল। ছোট বয়সেই পরিবারকে সহায়তা করতে কাজ শুরু করেছিল। মঙ্গলবার তার বাড়ির কাছে বাইতুল জান্নাহ মসজিদ মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ৩৮ বছর বয়সী ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি। নিশাত তার বাবা-মা এবং চার বোনকে রেখে গেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
বিধ্বস্ত বিমান। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে অবতরণের সময় বিমান ও ফায়ার ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট-কো-পাইলট নিহত

নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের সংঘর্ষে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও নয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পোর্ট অথরিটি অব নিউ ইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানায়, অন্য একটি বিমানের জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দিতে যাওয়ার সময় রানওয়েতে এ সংঘর্ষ ঘটে।   জ্যাজ এভিয়েশন পরিচালিত এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের সিআরজে-৯০০ মডেলের বিমানটি ৭২ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে মন্ট্রিল থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার-২৪ জানায়, প্রায় ২৪ মাইল বেগে অবতরণের সময় বিমানটি ট্রাকটিকে আঘাত করে।   দুর্ঘটনার সময়কার রেডিও বার্তায় শোনা যায়, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার একটি যানবাহনকে রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিলেও মুহূর্ত পর সেটিকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি বারবার ‘ট্রাক-১ থামো’ বলে সতর্ক করলেও ততক্ষণে সংঘর্ষ ঘটে যায়। এরপর দ্রুত অন্যান্য আগত বিমানকে অবতরণ না করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   দুর্ঘটনার পর বিমানের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অগ্নিনির্বাপক ট্রাকটি উল্টে একপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক গন্ধ পাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেই সহায়তা দিতেই ট্রাকটি সেখানে যাচ্ছিল।   ঘটনার পর লা গার্ডিয়া বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ১৮টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।   মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ছুটি, নিউ ইয়র্কে যুগান্তকারী পদক্ষেপ মেয়র মামদানির
কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ছুটি, নিউ ইয়র্কে যুগান্তকারী পদক্ষেপ মেয়র মামদানির

নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে নগরীতে সম্প্রসারিত ‘প্রটেক্টেড টাইম অফ’ (Protected Time Off) বা সংরক্ষিত ছুটি আইন কার্যকর শুরু হয়েছে।    এই নতুন আইনের আওতায় কর্মীরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়তি ছুটির সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রাপ্য ছুটি দিতে অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র।   নতুন আইনে যা থাকছে: লোকাল ল-১৪৫ (Local Law 145) এর অধীনে এখন থেকে নিউ ইয়র্কের নিয়োগকর্তাদের তাদের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ৩২ ঘণ্টার অবৈতনিক সংরক্ষিত ছুটি বরাদ্দ রাখতে হবে। এই সুবিধাটি নিয়োগের সাথে সাথেই কার্যকর হবে এবং প্রতি ক্যালেন্ডার বছরের শুরুতে নবায়ন করা হবে। ছুটি ব্যবহারের সুযোগও আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে অসুস্থতা ছাড়াও সন্তান দেখাশোনা (Childcare), প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের সেবা, আবাসন বা সরকারি সুবিধার জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজিরা দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হলে বা জরুরি দুর্যোগের সময় কর্মীরা এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন।   নিয়োগকর্তাদের প্রতি কড়া বার্তা: মেয়র মামদানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। শুক্রবারই শহরের ৫৬ হাজার প্রতিষ্ঠানে এই নতুন আইন মেনে চলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। মেয়র বলেন, "নিউ ইয়র্কবাসীকে কাজ এবং পরিবারের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা যাবে না। আপনার জীবনের সংকটে আপনার চাকরি যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, আমরা সেটিই নিশ্চিত করছি।"   তিনি আরও জানান, কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন বিভাগ (DCWP) একটি বিশেষ অভিযান (Enforcement Blitz) শুরু করবে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ছুটির হার অস্বাভাবিকভাবে কম, সেগুলোকে ডেটা-চালিত প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে তদন্ত করা হবে।   জরিমানা ও দণ্ড: আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি কর্মীর জন্য ২৫০ থেকে ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত ছুটি দিতে ব্যর্থ হবে, তাদের প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অন্তত ৫০০ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং সমপরিমাণ অর্থ সিটির সিভিল পেনাল্টি হিসেবে দিতে হবে।   প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, এই আইনটি এর আগে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিটি কাউন্সিল সেই ভেটো বাতিল করে আইনটি পাসের পথ প্রশস্ত করে। মেয়র মামদানি তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন।   শুক্রবার কুইন্সে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র যখন এই ঘোষণা দেন, তখন তার সাথে আমাজন (Amazon) কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে ছুটির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে আসছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0