ভারত

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা ভারতে নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাচ্ছেন, গ্রেপ্তারের দাবি মানবাধিকার সংস্থার

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা আইতান গিলবোয়া বর্তমানে ভারতে ছুটি কাটাচ্ছেন। চাঞ্চল্যকর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে ব্রাসেলস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন’ (HRF)। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ব্যুরো এবং পুলিশের কাছে একটি জরুরি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, গিলবোয়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ২৭১তম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের একজন রিজার্ভ সেনা হিসেবে গাজার আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন, যা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ।   হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশনের জমা দেওয়া বিস্তারিত প্রমাণাদিতে দেখা গেছে, গিলবোয়া গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলে বেসামরিক ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই ধ্বংসযজ্ঞ উদযাপনের ভিডিও নিজেই ধারণ করেছেন। পরবর্তীকালে তার পরিবারের সদস্যরা সেই ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।   মানবাধিকার সংস্থাটির দাবি, একজন সাধারণ পর্যটকের আড়ালে গিলবোয়া মূলত তার অপরাধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতেই ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালি ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন।   ভারত ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার আইনি বাধ্যবাধকতা ভারতের রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছে হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির জেনারেল ডিরেক্টর দিয়াব আবু জাহজাহ এক বিবৃতিতে জানান, ভারতকে অবিলম্বে আইতান গিলবোয়াকে গ্রেপ্তার করতে হবে।   বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও ধ্বংস উদযাপনকারী কোনো অপরাধীর জন্য ভারতের মাটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই গুরুতর আইনি অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি
মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি, তৃণমূলের ভেতরে অস্থিরতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে তার বাসভবনে পৌঁছেছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক এমন এক সময় এই তদন্তের মুখে পড়লেন, যখন তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে আসছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়নের সমর্থন জানানো হয়। এই চিঠি ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত।   তৃণমূলের দুই সংসদ সদস্য ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা গত ২৭ মে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে জানান, ৬ মে অনুষ্ঠিত দলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অথচ দলীয়ভাবে পাঠানো চিঠিতে এমন দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, তারা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ১৯ মে স্বাক্ষর করেছিলেন, ৬ মে নয়।   এই দুই সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, ৬ মে তারিখ দেখিয়ে যে প্রস্তাবটি দেখানো হয়েছে, তা পরে তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে থাকা বেশ কিছু স্বাক্ষর জাল। তাদের দাবি, মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি স্বাক্ষর বড় হাতের অক্ষরে লেখা, যা সন্দেহজনক।   এ ঘটনার পর দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে সিআইডির তিনটি পৃথক দল একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এর মধ্যে একটি দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে ঘটনার সময় তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। অন্য একটি দল তার ভাতিজা ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, পাশাপাশি আরেকটি দল তার বাসভবনেও অনুসন্ধান করছে।   এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ ও তদন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।   তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী পরিস্থিতি।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের পারমাণবিক কৌশলে পরিবর্তন, ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন
ভারতের পারমাণবিক কৌশলে পরিবর্তন, ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন

ভারত প্রথমবারের মতো তার পারমাণবিক অস্ত্রকে সরাসরি মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এসআইপিআরআই বলছে, এটি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এতদিন ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থাকে আলাদা করে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এখন সেই নীতি থেকে সরে এসে অস্ত্রগুলোকে কার্যকরভাবে মোতায়েনযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১২টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো বহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা—পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।   এসআইপিআরআইয়ের তথ্য বলছে, গত বছর ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করে এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনা করে। একই সঙ্গে দেশটির মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।   সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিনভিত্তিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো’র অংশ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল জোরদার করার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, শান্তিকালেও কিছু পারমাণবিক অস্ত্র সরাসরি লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত রাখা হতে পারে। এটি দেশটির পূর্বের সতর্ক ও বিচ্ছিন্ন সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   তবে ভারতের সরকারি অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আগে ব্যবহার নয়’ (নো ফার্স্ট ইউজ) নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ, ভারত কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেবলমাত্র নিজ ভূখণ্ডে বা বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার পাল্টা জবাব হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা মূলত প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে আক্রমণ থেকে বিরত রাখা, অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়া নয়। তবে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ারের ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্কের ভারতে বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি আগামী কয়েক বছরে ভারতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার বেশি।   জানা গেছে, এই বিনিয়োগ মূলত ভারতের ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে ডাটা সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বড় আকারের অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। সেই চাহিদাকে সামনে রেখেই ভারত এখন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।   রবিন খুদা বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তার পড়াশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ডাটা সেন্টার কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশেও নানা ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একজন সফল উদ্যোক্তা কেন এত বড় বিনিয়োগ ভারতের মতো দেশে করলেন, বাংলাদেশে নয়। অনেকে মনে করছেন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি।   অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশের সমপরিমাণ। যদিও বাজেট ও ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী এ হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে ভারতের বর্তমান অবস্থান এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা এই ঘোষণার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনের অর্থনীতিতে ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই এই খাতে যে দেশ যত বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে, প্রযুক্তি অর্থনীতিতে তাদের অবস্থান তত শক্তিশালী হবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ফেরত পাঠানোর দাবি, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রোববার (৭ জুন) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।   তবে কখন, কোন সীমান্ত দিয়ে এবং কীভাবে এই ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। এমনকি তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।   বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সীমান্তের ৫৫৬ কিলোমিটার এলাকায় এখনো বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি ইতোমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় না পড়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে বহু অবৈধ অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছেন।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্ত এলাকার ফ্লাডলাইট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।   সীমান্তে এমন ঘটনাগুলো নতুন নয়। অতীতেও ‘পুশইন’ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নানা সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নীলুফা নিশাত জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত
‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের পর এবার তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ভারতের প্রধান বিচারপতির

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তরুণ আইনজীবী ও আইনক্ষেত্রের নতুন প্রজন্মকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কিছুদিন আগে বেকার তরুণদের নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার পর এবার তিনি তরুণদের ভূমিকা ও সক্ষমতার প্রশংসা করলেন।   রোববার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির ভূমিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।   বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারতের আইনক্ষেত্রের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম এবং প্রযুক্তি গ্রহণে দ্রুত সক্ষমতা দেখাচ্ছে। জেলা আদালত থেকে শুরু করে সরকারি আইনজীবী ও করপোরেট লিগ্যাল অ্যাডভাইজরদের মধ্যে এই প্রজন্ম বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তিনি আরও বলেন, এই তরুণ প্রজন্মই ভারতের বিচারব্যবস্থার চলমান সংস্কার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ‘সংবিধানের প্রতিশ্রুতি থেকে ডিজিটাল বাস্তবতায়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগে ন্যায়বিচার রক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বিচারব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের দিক নিয়েও আলোচনা করেন।   প্রধান বিচারপতি জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রযুক্তিকে মানবিক বিচারবোধের বিকল্প হিসেবে দেখে না। এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার একটি মাধ্যম মাত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘স্বদেশি জুরিসপ্রুডেন্স’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন, যা ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ, প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি বিচারব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সহজ করেছে এবং বৈশ্বিক বিচারিক সংলাপকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক না কেন, তা মানবিক বিচারবোধ, সহানুভূতি ও নৈতিক উপলব্ধির বিকল্প হতে পারে না।   এর আগে গত ১৫ মে এক শুনানিতে বেকার তরুণদের নিয়ে করা তাঁর মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় তিনি কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই মন্তব্যের পর এবার তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করলেন তিনি, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
মোদি সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে তরুণদের আলোচিত ‘তেলাপোকা পার্টি’

ভারতে জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা এখন দেশটির রাজনৈতিক মহলে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ব্যাপক বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার একের পর এক কেলেঙ্কারিতে ক্ষুব্ধ তরুণদের সমর্থনে রাতারাতি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা পার্টি’।   মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে এই কাল্পনিক রাজনৈতিক দলটির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ পার হয়ে গেছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল ফলোয়ার সংখ্যার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। ব্যতিক্রমী এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি একটি মামলার শুনানির সময় কিছু বেকার যুবককে ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন—এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেই বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও ততক্ষণে তরুণদের রাগ ক্ষোভে রূপ নেয়।   এই অপমানকে পুঁজি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র একটি ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া পেজ খোলেন। তিনি একে ভারতের ‘অলস, বেকার ও অবহেলিত’ তরুণদের একমাত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে ঘোষণা করলে তা নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়।   অনলাইনের এই বিপুল জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু স্ক্রিনের ভেতর সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি আছড়ে পড়েছে দিল্লির রাজপথে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরেই গত শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে এক বিশাল যুব সমাবেশের ডাক দেন। ভারতের সাম্প্রতিক বড় বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়, যেখান থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।   মাথায় তেলাপোকার মাস্ক এবং হাতে ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজার হাজার তরুণ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। অনলাইনের ভার্চুয়াল ফলোয়াররা বাস্তবে এসে মাঠের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই প্রতিবাদ ছিল মোদি সরকারের জন্য তার প্রথম বাস্তব পরীক্ষা।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদি সরকারের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে, অথচ দেশটির নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতাদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০-এর কোঠায়। এই বিশাল প্রজন্মের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক শ্রেণীর যে একটি বড় দূরত্ব তৈরি হয়েছে, ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ তারই বহিঃপ্রকাশ। ভারতের অর্থনীতি বড় হলেও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশে ঠেকেছে।   এর ওপর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস যেখানে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক আন্দোলন অনমনীয় সরকারের পতন ঘটিয়েছে, সেখানে সিজেপির এই উত্থানকে অনেকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন। শুরুতে বিজেপি একে ‘অনলাইন স্টান্ট’ বলে উড়িয়ে দিলেও, দিল্লির রাজপথে তেলাপোকা বাহিনীর গর্জন মোদি সরকারের দীর্ঘ ১২ বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিতকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
যন্তর মন্তরে স্লোগান দিচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে । ছবি: এএফপি
‘আমরা তেলাপোকা, আমরা থাকব’: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ভারতের জেএনজিদের আন্দোলন

ভারতের তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ নতুন এক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার নানা অসংগতি এবং বেকারত্বের হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাস্তায় নেমেছে।   ১৭ বছর বয়সী সৌরভ কুশওয়াহা সেই আন্দোলনেরই একজন অংশগ্রহণকারী। ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এক কাপড়ে ট্রেনে চড়ে তিনি রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শনিবার ভোরে দুই ভাই দিল্লিতে এসে ফুটপাতে বসে অপেক্ষা করছিলেন, কখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসবেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।   ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই ব্যঙ্গ ও ঠাট্টার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দলটি তরুণদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়। রাজধানী নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে ‘সব তেলাপোকাকে’ একত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।   গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি একদল বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। অনেকের কাছে মন্তব্যটি অপমানজনক বলে মনে হয়।   এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে জড়ো হয়, তাহলে কী হবে?’ এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেখান থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে ব্যঙ্গ করেই দলটির নামকরণ করা হয়।   অভিজিৎ দীপকের এই উদ্যোগ অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা বিজেপির অনুসারীর সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ব্যঙ্গাত্মক এই উদ্যোগ এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। শনিবার নয়াদিল্লিতে শত শত তরুণ-তরুণী সমবেত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।   বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, “মোদি সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে হবে। তা না হলে আমরা এখান থেকে যাব না।”   মধ্যপ্রদেশের শিক্ষার্থী সৌরভ কুশওয়াহা বলেন, তিনি প্রথমে মজা করেই এই আন্দোলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু এখন তাঁর বিশ্বাস, আন্দোলনের মাধ্যমে সত্যিই পরিবর্তন আনা সম্ভব।   সম্প্রতি ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কুশওয়াহা। তবে ফলাফল প্রকাশ এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।   কুশওয়াহা বলেন, “আমি জানি না উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করতে পারব কি না। কিন্তু আরও বড় কষ্ট হলো, যারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে, তারা জনগণের সমস্যার প্রতি উদাসীন।” শিক্ষা ব্যবস্থার এই বিতর্কের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতিবছর ঘটলেও এর জন্য রাজনৈতিকভাবে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না।   এদিকে গত কয়েক বছরে মোদি সরকারের আমলে কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ দেশকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বিজেপি ও সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা আইন ও সংবিধান মেনেই কাজ করছে।   মাত্র দুই বছর আগে জনসংযোগ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে। এখন তিনি নিজেকে একটি বৃহৎ তরুণ আন্দোলনের নেতৃত্বে দেখতে পাচ্ছেন। সম্প্রতি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগ যে বিপুল সাড়া পেয়েছে, তা তাঁকে দায়িত্বশীল করে তুলেছে।   শনিবারের সমাবেশে অনেক অংশগ্রহণকারী তেলাপোকার মুখোশ পরে উপস্থিত হন। কারও হাতে ছিল গোলাপ, কারও হাতে ফুলের তোড়া। অনেকেই বই নিয়ে এসেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষ থেকে এমন আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের নীল জার্সি পরে আবার বক্তব্য দেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, “যাঁরা মনে করেন ভারতের তরুণেরা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়, তাঁরা এখানে এসে এই দৃশ্য দেখে যান।” এরপর তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ভাবছেন আমরা শুধু স্লোগান দিয়ে চলে যাব, আমি তাঁদের বলছি, আমরা তেলাপোকা। আর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব।” অভিজিৎ দীপকেকে কাছ থেকে দেখার জন্য একটি গাছে উঠে বসেছিলেন ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আফতাব। দিল্লির উপকণ্ঠের একটি স্যাটেলাইট শহরে বসবাসকারী আফতাব আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি মুদি পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। তেলাপোকার মুখোশ পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া আফতাব বলেন, “একদিন কাজ না করলে হয়তো রাতের খাবারের অর্থও জুটবে না। তারপরও আমি এখানে এসেছি।”   তিনি আরও বলেন, “আমি স্কুল শেষ করতে পারিনি। কিন্তু লাখো শিক্ষার্থী আছে, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ওই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করাটা আমাদের দায়িত্ব।”   এদিকে মোদি সরকার এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি দায়িত্ব পালন করছিলেন শিবানি নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বড় মেয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তবে এতে তিনি আপত্তি দেখাননি।   নিজের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে শিবানি বলেন, “এই ছেলেমেয়েরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। একজন অভিভাবক হিসেবে আমিও উদ্বিগ্ন।”   তিনি আরও বলেন, “একটা সময় তো আসে, যখন মানুষের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না, তাই না?”

শাহারিয়া নয়ন জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, হবেও না—জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর, এর কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি বিশ্বমঞ্চে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।   জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যা আজও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় গুরুত্বের সঙ্গে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।   এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন সংকট আজও সমানে প্রাসঙ্গিক এবং এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই মূলত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়।   রাষ্ট্রদূত আসিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নজরে আনা হয়েছে। এমনকি ওই বছরের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে, যা প্রমাণ করে সাত দশক পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীর বিরোধ এখনো আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তির স্বার্থে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ভিত্তিতে এই বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির দাবি জানায় ইসলামাবাদ।   কাশ্মীর ছাড়াও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম আহমেদ। গাজায় চলমান রক্তপাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বস্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানায় পাকিস্তান।   পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের একক সম্প্রসারণ ও ‘ভেটো’ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পাকিস্তানি দূত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ফাইল ছবি
অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ঢাকার সহযোগিতা চাইল ভারত

ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও দ্রুত ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।   সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই সমস্যার মূল কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি জানান, ভারত সরকার অভিবাসীদের বিশদ বিবরণ বাংলাদেশকে প্রদান করেছে যাতে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে ভারত।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ এই বিষয়ে যথাযথ এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমটি তারা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে চায়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।   ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ইস্যুটি দীর্ঘদিনের এবং এটি সমাধানে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক সাড়া পেলে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
থালাপতি বিজয় । ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসের সমর্থনে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।   সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে।   এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, নতুন সরকারে অংশীদার হিসেবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাইতে পারে।   দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।   টিভিকে ডিএমকেকে পেছনে ফেলে এবং এআইএডিএমকেকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে। চেন্নাইয়ে দলীয় বৈঠকের পর জানা গেছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন।   এদিকে বামপন্থী দলসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন পেলে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।  

শাহারিয়া নয়ন মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
অপারেশন ‘উইংস অফ ডন’, কেন ভারতের একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইসরায়েলে?

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর ও মিজোরামে বসবাসরত ‘ব্নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই সম্প্রদায়টি বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের ‘দশটি হারিয়ে যাওয়া গোত্র’ বা ‘লস্ট ট্রাইবস’-এর বংশধর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ওফির সোফার সম্প্রতি এই আবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’ (Operation Wings of Dawn) বা 'কানফেই সাহার' নামক এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫,৮০০ জন ভারতীয় ইহুদিকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,২০০ জন ব্নেই মেনাশে সদস্যকে ইসরায়েলে আনা হবে। অবশিষ্ট ৪,৬০০ জনকে পরবর্তী ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ইসরায়েল সরকার প্রায় ৯০ মিলিয়ন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) বরাদ্দ করেছে।   ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের লোকেরা কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। মণিপুরে সাম্প্রতিক জাতিগত সংঘাতের ফলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাইকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিলি (Galilee) ও নোফ হাগালিল এলাকায় পুনর্বাসিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোকে একত্রিত করা হবে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ইহুদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশলও নিয়েছে তেল আবিব। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের দাবি, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ সালে আসিরীয়দের আক্রমণের পর তারা ইসরায়েল থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। মধ্য এশিয়া ও চীন হয়ে একসময় তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থিতু হন। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের প্রধান রাবাই (ধর্মগুরু) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রদায়কে ‘ইসরায়েলের বংশধর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। গত দুই দশকে প্রায় ৪,০০০ ব্নেই মেনাশে সদস্য ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

ইসমাইল হোসাইন মে ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ শুরু, অস্তিত্ব বনাম আধিপত্যের লড়াইয়ে মুখোমুখি তৃণমূল ও বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক মহাসন্ধিক্ষণ। শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধ। এবারের নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন এটি 'অস্তিত্ব রক্ষার' লড়াই, তেমনই বিরোধী দল বিজেপির জন্য এটি রাজ্যপাট 'দখলের' চূড়ান্ত পরীক্ষা। তৃণমূলের লক্ষ্য চতুর্থ জয় : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসনে জিতে বিপুল জনমত নিয়ে তারা প্রত্যাবর্তন করেছিল। ২০২৬-এ এসে ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য টানা চতুর্থবারের মতো নবান্ন দখল করা এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা। বিজেপির মরণপণ লড়াই : অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এবার ক্ষমতা হস্তান্তরে মরিয়া। গত বিধানসভা নির্বাচনে তারা ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। যদিও পরবর্তীতে উপনির্বাচন ও দলবদলের কারণে সেই সংখ্যা ৭৫-এ নেমে আসে। এবার গেরুয়া শিবির সেই ক্ষতি পুষিয়ে রাজদণ্ড নিজেদের হাতে নিতে সবটুকু শক্তি নিয়োগ করেছে। অস্তিত্ব সংকটে বাম-কংগ্রেস : বিগত নির্বাচনে বিধানসভায় খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া বাম দল এবং কংগ্রেসের জন্য এবারের লড়াই মূলত শূন্যস্থান পূরণের। বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলবদলের রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের মাঝে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে বাংলার মসনদে শেষ হাসি কে হাসছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি পদ্ম শিবির।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
লোকসভায় সরকারের দাবি খণ্ডন করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী সংসদ সদস্যরা
মোদীর বড় ধাক্কা: ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নাকচ

ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখছে ভারত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য (প্রত্যর্পণ) আনুষ্ঠানিক অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখছে ভারত সরকার। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আইনি ও অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উঠছে বাংলাদেশে। আজ (১৭ এপ্রিল, ২০২৬) সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা সমস্ত বিষয়গুলো খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" তবে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী দিল্লি। জয়সওয়াল জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বর্তমান সরকারের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার প্রশ্ন। তবে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চায়। শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রুপির পতন: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধাপ নামল ভারত

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় রদবদল। পঞ্চম স্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। মূলত ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) ক্রমাগত দরপতন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি সংশোধনের প্রভাবেই এই অবনমন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই তালিকায় ভারতের সামনে রয়েছে আমেরিকা, চীন, জার্মানি, ব্রিটেন এবং জাপান। তালিকার শীর্ষে থাকা আমেরিকার অর্থনীতির আকার ৩০.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের ১৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ব্রিটেনকে টপকে ভারত পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছিল। তখন ভারতের অর্থনীতির আকার ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তবে সাম্প্রতিক এই পতন সেই লক্ষ্যমাত্রায় সাময়িক ধাক্কা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত এই ষষ্ঠ অবস্থানেই থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, ২০২৭ সালে পুনরায় ব্রিটেনকে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আইএমএফের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, র‍্যাঙ্কিংয়ে সামান্য পিছিয়ে গেলেও ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এমনকি মাঝারি মেয়াদেও ভারত ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার ৬.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটিকে জার্মানির খুব কাছাকাছি নিয়ে আসবে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ তিনে পৌঁছানোর দৌড়ে ভারত এখনও টিকে থাকলেও, ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকা নিজের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
কাশিশ মেথওয়ানি
গ্ল্যামার জগত মাতিয়ে এবার ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট হলেন 'মিস ইন্ডিয়া' কাশিশ

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর সামরিক জীবনের কঠিন শৃঙ্খলা— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাশিশ মেথওয়ানি। ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’র মুকুট জয়ী এই সুন্দরী এখন আর কেবল র‍্যাম্পের মডেল নন, তিনি এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত লেফটেন্যান্ট। ভারতের পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কাশিশের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাঁর মনে ছিল দেশসেবার অদম্য বাসনা। ২০২৩ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছোঁয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে যোগ দেন কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষায়। সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি, অর্জন করেন সর্বভারতীয় দ্বিতীয় র‍্যাঙ্ক। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে টানা ১১ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কাশিশ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে একই অঙ্গে রূপ আর শৌর্যের মিলন ঘটানো সম্ভব। উল্লেখ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাশিশ পিছিয়ে নেই। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কজ’ নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রক্তদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। র‍্যাম্পের মোহময়ী জগত ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষার এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই নতুন সেনাসদস্য।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
কলকাতার ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নাখোদা মসজিদ—যার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ব্যস্ত শহরের জীবন।
পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ, নিশানায় মুসলিমরা!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যের কয়েক মিলিয়ন মানুষ। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিতর্কিত 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (SIR) প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের প্রায় ৯৩ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে একটি বড় অংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে 'অনুপস্থিত' বা 'মৃত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর বাকি ৩০ লাখের ভাগ্য ঝুলে আছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর। তবে ভোটের আগে এই বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি শেষ হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণা এবং মালদহের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ভোটার বাতিলের হার সবচেয়ে বেশি। মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগণায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদহে ২ লাখ ৪০ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই মুসলিম। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নথিপত্রে নামের বানানে সামান্য অমিল বা ডাকনাম ব্যবহারের কারণে যুগ যুগ ধরে ভোট দিয়ে আসা মানুষগুলো আজ রাষ্ট্রহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মন্ডল জানান, গত ৫০ বছর ধরে ভোট দিলেও এবার তার নাম তালিকায় নেই। আধার কার্ডে 'নবীরুল' আর ভোটার কার্ডে 'নবীজান' থাকার অজুহাতে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াকে বিজেপির একটি 'পরিকল্পিত চক্রান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিকভাবে জিততে না পেরে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধী ভোট ব্যাংক ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' ও 'রোহিঙ্গাদের' ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। নির্বাচন বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এই প্রক্রিয়া নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের পর নারীদের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে তারা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ভোটের মুখে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার হারানোর এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ন্যায়বিচারের আশায় হাজার হাজার মানুষ এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, যদিও তাদের ভোট দেওয়ার স্বপ্ন এখন অনেকটাই ফিকে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনারপ্রণয় ভার্মার এর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।   আলোচনায় স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় হয়েছে। সে সময় ভারত সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী।   এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়নে ভারতের সমর্থনকে তিনি দুই দেশের আন্তরিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।   অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।   এ সময় হাইকমিশনার স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন। এছাড়া ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পরিকল্পিতভাবে বাদ দেয়া হচ্ছে মুসলিম ভোটারদের, নির্বাচনে জিততে ধর্মীয় মেরুকরণই ভরসা মোদির

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। কিন্তু বর্তমানে ভারতে এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিচয়হীন করে তোলার অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি 'কাউন্টার কারেন্টস'-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিকীকরণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ভোটার তালিকা থেকে সুপরিকল্পিতভাবে নাম মুছে ফেলা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মুসলিম নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধের লেখক একে 'Identity Erasure' বা পরিচয় মুছে ফেলার রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারানো। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল ভোট দেওয়ার অধিকারই হারাচ্ছেন না, বরং রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতেই পরবাসী করে তুলছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে অনেক সময় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। তথাকথিত 'ডি-ভোটার' (Doubtful Voter) বা 'সন্দেহভাজন ভোটার' তকমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আইনি লড়াইয়ের গোলকধাঁধায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ছিটকে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রবণতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যখন কোনো রাষ্ট্রের একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে এবং উগ্রবাদের পথ প্রশস্ত করে। গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাধিক্যের শাসন নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার নাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের মাধ্যমে যে প্রান্তিকীকরণের খেলা শুরু হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। নাগরিকের পরিচয় এবং ভোটাধিকার রক্ষা করা না গেলে প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যাবে। তথ্যসূত্র: কাউন্টার কারেন্টস ডট অর্গ।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতের মাটির নিচে ‘স্বর্ণের পাহাড়’। ছবি: সংগৃহীত
মাটির নিচে বিপুল স্বর্ণভাণ্ডার, তবুও আমদানিনির্ভর ভারত

ভারত-এর ভূগর্ভে প্রায় ৫০ কোটি টন স্বর্ণ আকরিক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এত বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশটি এখনো স্বর্ণের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে শশী থারুর এই পরিস্থিতিকে ভারতের জন্য এক ধরনের ‘স্বেচ্ছায় তৈরি সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তার মতে, ভারতে স্বর্ণ শুধু গয়না নয়—এটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু এই বিশাল চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত, বছরে আনুমানিক দেড় টনের মতো। ফলে অস্ট্রেলিয়া, ঘানা এবং পেরুসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আমদানি করতে হচ্ছে, যার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ বাইরে চলে যাচ্ছে।   কেন পিছিয়ে খনি খাত? শশী থারুরের বিশ্লেষণে ভারতের খনি শিল্প পিছিয়ে থাকার কয়েকটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে— জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: খনি চালুর জন্য দীর্ঘ ও জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। উচ্চ করের চাপ: খনি খাতে কর ও রয়্যালটির পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক কোম্পানির জন্য এই খাতে বিনিয়োগ লাভজনক হয় না। নীতিগত সীমাবদ্ধতা: খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এখনও রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।   কী করা যেতে পারে? এই পরিস্থিতি বদলাতে কয়েকটি সংস্কারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে— সহজ অনুমোদন ব্যবস্থা: দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা দিয়ে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ পদ্ধতিতে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। কর ছাড়: নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রাথমিক পর্যায়ে কর সুবিধা দেওয়া। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ খনন নিশ্চিত করা।   বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির অস্থিরতায় স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ভূগর্ভস্থ সম্পদ কাজে লাগাতে না পারলে ভারতের আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতি ও সংস্কারের মাধ্যমে এই লুকিয়ে থাকা সম্পদকে কাজে লাগানো গেলে দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি অনেকটাই বাড়তে পারে।   সূত্র: এনডিটিভি

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলে দ্রুত মিলবে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0