রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে। রোববার (২৮ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ ইউক্রেনের মিকোলাইভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এ হামলায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দুটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিমান রানওয়ের পাশে অবস্থান করছিল, আর অন্যটি বাঙ্কারের ভেতরে জ্বালানি নেওয়ার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো দাবি করেছে, তাদের আঘাত ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে। অন্যদিকে একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যুদ্ধের এই অংশে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যে ইউক্রেন পাল্টা হামলার দাবিও জোরালো করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত টাইটান বারিকাদি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ওই কারখানায় কামান ব্যবস্থা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ফলে এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে কৌশলগতভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে। ইউক্রেনের এই দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়তে থাকায় রাশিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির কংগ্রেসে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও জানান, রুশ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশ প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষই এখনো পিছু হটার অবস্থায় নেই। বরং উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক রাতেই ৬৬০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন—এমন দাবি করেছে ক্রেমলিন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিকে এক রাতে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোনের সবকটিই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানী মস্কোসহ এক ডজনের বেশি অঞ্চলের আকাশে এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরসংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। সরকারি তথ্য প্ল্যাটফর্মে এই বিবরণ প্রকাশ করা হয়। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলেও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে। ওই অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ জানিয়েছেন, শেকিনো জেলার একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নারী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। এর আগে গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে, যা কয়েক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন দীর্ঘায়িত সংঘাতে পরিণত হয়েছে। স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষের ভেতরে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে জোর দিচ্ছে। এই সর্বশেষ হামলার ঘটনায় যুদ্ধের বিস্তার ও তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও রাশিয়া সব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: এএফপি
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর 'নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে দেখছে না রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর ইউরোপীয় পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিজের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে। মস্কোতে বিদেশি দূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। এর বদলে তারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা জ্বালানিখাতসহ নানা ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মাধ্যমে রাশিয়ার ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’র ওপর চাপ বাড়াতে একমত হন। ২০২৫ সালে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকেই আলোচনায় বসতে চাপ দিলেও, মার্কিন মধ্যস্থতার এই কূটনীতিতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। মূলত মস্কোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে নিজ ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনীর আকার সীমিত করা এবং পশ্চিমাদের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করার মতো কঠিন শর্তগুলো কিয়েভ মেনে না নেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে এ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। এদিকে, যুদ্ধ থামাতে কিয়েভকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউরোপের অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এক পৃথক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, ইউরোপ ট্রাম্পের প্ররোচনায় বিপুল অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য ‘প্রকাশ্যে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। সদ্য উত্তীর্ণ সামরিক ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে ক্রেমলিন প্রধান বলেন, "পশ্চিমারা এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে।" পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনকে পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রুশ সেনারা বর্তমানে ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই প্রথম মুখ খুলে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান হামলা পশ্চিমা সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ রুশ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সমাজব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
সিন্ধু নদীর পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের কোনো পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। রোববার পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ইতোমধ্যে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খাজা আসিফ বলেন, পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পাকিস্তান যদি মনে করে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানিতে তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বা পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাহলে দেশটি নীরব থাকবে না। তিনি আরও বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়েও আমরা দ্বিধা করব না।” তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি ভারতের জল শক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভারতের এমন সম্ভাব্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত সামনে আসার পর ইসলামাবাদে উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, সিন্ধু অববাহিকার পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে দেশটির কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এরপর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে না। সিন্ধু পানি চুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, তার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। ফলে দেশটির কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান বহুবার সতর্ক করে বলেছে, সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে তা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপও কামনা করেন। এর পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ইসলামাবাদের দাবি, এমন পদক্ষেপ সিন্ধু পানি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের কারণে পাকিস্তান আগে থেকেই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায় পানি নিয়ে এই বিরোধ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: এআরওয়াই নিউজ
ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে। ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার মারাকেহ শহরে চালানো এক বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের জেজ্জিন জেলায় আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি ও কাফর রেমানে পৃথক হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এনএএ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল এলাকায় ভোরের দিকে চালানো হামলায় একাধিক ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ে ও জেজ্জিন অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের “তৎক্ষণাৎ এলাকা ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের আওতায় রয়েছে দেইর আল-জাহরানি, আল-নামিরিয়ে, হারুফ, কফর রুমানসহ একাধিক এলাকা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলীয় মেতুলা শহরে “লেবানন থেকে আসা একটি শত্রু ড্রোন অনুপ্রবেশ” শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এমন সব এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলো তারা “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত সীমার অনেক উত্তরে অবস্থিত এলাকা হিসেবেও বিবেচনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে এবং দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অধিকার না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের প্রধান শর্ত ছিল। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদিত হয়নি। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছি। তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং এটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।” পরে একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি “চমৎকার চুক্তির” কাছাকাছি রয়েছে এবং প্রায় সব বিষয়েই সমঝোতা হয়ে গেছে। দিনের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও পরে ট্রাম্প জানান, কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় পরিকল্পিত নতুন বিমান হামলা স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, সমঝোতার খসড়া প্রায় প্রস্তুত এবং সপ্তাহান্তের মধ্যেই ইউরোপে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে দূরে রাখা। তিনি ইঙ্গিত দেন, সমঝোতা চূড়ান্ত হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-নিয়ন্ত্রণও তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের এই আশাবাদের বিপরীতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তার অভিযোগ, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নতুন শর্ত যোগ করছে, যা সমঝোতার পথকে জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পর কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই আলোচনায় দোহারের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে। সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। নতুন হামলার আশঙ্কা কমে আসায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। কারণ আলোচনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও ব্যবধান রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে আশাবাদ তৈরি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বনেতারা যখন লন্ডনে জড়ো হয়েছেন, ঠিক তখনই রোববার এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এদিকে, রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক সামরিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে এদিন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় একটি বাস স্টপেজে রুশ বোমা হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এর কাছাকাছি এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক মিনিবাস চালক প্রাণ হারান। অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় গভর্নর ওলেক্সান্ডার গাঞ্জা। হামলার তীব্রতা থেকে বাদ যায়নি চেরনোবিলও। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা এনার্গোঅ্যাটম জানিয়েছে, চেরনোবিলের এক্সক্লুশন জোনে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণের একটি স্থাপনা রুশ হামলায় 'আংশিকভাবে ধ্বংস' হয়েছে। তবে ভবনটি খালি থাকায় বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা এক্সে (সাবেক টুইটার) বলেন, রুশ বাহিনী এর আগেও পারমাণবিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্যমতে, রাতভর দেশটিতে ২৩৬টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া, যার মধ্যে ২১৫টিই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে কিয়েভ। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানিয়েছে, মে মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হারানোর চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বাত্মক হামলার পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে রাশিয়া। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর বৃদ্ধি, দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণের সুদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও চরম শ্রমিক সংকটে ভুগছে মস্কো। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন যে, একটি 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি'র জন্যও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও শুক্রবার রাশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে পুতিন রুশ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে। একদিকে ইরান দাবি করছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, অন্যদিকেযুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ দিয়ে রেখেছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য দায়ী করছে, ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন যে ইরান সব শর্তে সম্মত হয়েছে, তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর করবে না। এছাড়া জেডি ভ্যান্স ও জ্যারেড কুশনারের মতো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদে পাঠানো নিয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসায় পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন সপ্তম সপ্তাহে গড়িয়েছে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এই অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। কিন্তু আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ ও দ্রুত পরিবর্তনশীল কৌশলের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘোষণায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন এমন সময় এসেছে যখন তিনি এর আগেই বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করাকে একটি সম্ভাব্য “কৌশলগত বিকল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার প্রভাব এবার পড়ছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পণ্যের বাজারে। বিশ্বের বৃহত্তম কনডম প্রস্তুতকারক মালয়েশীয় কোম্পানি ‘কারেক্স’ তাদের পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কারেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোহিত সাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে নৌপরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। জাহাজ চলাচলে দীর্ঘসূত্রতার ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে অনেক আমদানিকারক ও বিক্রেতার গুদাম প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে, যা বাজারে এই পণ্যের চাহিদা ও সংকট উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারেক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। পরিবহন ও কাঁচামালসহ সবকিছুর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে উৎপাদনের বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।" উল্লেখ্য, কারেক্স বছরে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে। শুধু কনডমই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোকেমিক্যাল খাতে অস্থিরতা চলায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্লাভস উৎপাদনকারীরাও একই ধরনের সংকটে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের এই পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার দেশটির সমস্ত সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে সিরিয়া সরকার। বৃহস্পতিবার হাসাকা প্রদেশের ‘কাসরাক’ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের শেষ বহরটি চলে যাওয়ার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আইএস বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ায় পা রাখা মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ ১২ বছর পর তাদের উপস্থিতি গুটিয়ে নিল। সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)-কে জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনার সফল প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন এই ঘাঁটি দখল। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কে এসডিএফ-এর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মাজলুম আবদি এবং রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইলহাম আহমদকে স্বাগত জানান। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পুরো রাষ্ট্রকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার লক্ষ্যে এটি একটি বিশাল মাইলফলক। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, একটি সুপরিকল্পিত ও শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরিয়ার প্রধান ঘাঁটিগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দামেস্ক ও এসডিএফ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় কুর্দি যোদ্ধারা এখন সিরীয় জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত নভেম্বরে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক জোট (Coalition against ISIL)-এ যোগদান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সিরীয় প্রশাসনের গঠনমূলক আলোচনার ফলে এই সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম হয়। উল্লেখ্য যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মার্কিন সেনাদের শেষ বহরটি ইরাকের পরিবর্তে জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সিরিয়া ত্যাগ করেছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই ঘটনাকে নতুন এক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। পূর্বসূরিদের তুলনায় নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বর্তমানে মুষ্টিমেয় কিছু ‘স্বৈরাচারী’ শাসকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ক্যামেরুন সফরকালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এই প্রথম পোপ লিও এমন জোরালো বক্তব্য দিলেন। যুদ্ধ এবং ধ্বংসলীলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারিগররা এমন ভাব করেন যেন তারা কিছুই জানেন না। অথচ একটি সাজানো শহর বা সভ্যতা ধ্বংস করতে মাত্র কয়েক মুহূর্ত সময় লাগে, কিন্তু তা পুনর্গঠনে সারাজীবনও যথেষ্ট নয়।” পোপ আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্ব নেতারা ধ্বংসাত্মক কাজে এবং মানুষ মারার পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নেই। তিনি বলেন, “তারা জেনেশুনেই চোখ বন্ধ করে আছেন। যেখানে ধ্বংসের নেশায় অর্থ ঢালা হচ্ছে, সেখানে মানুষের কল্যাণে সম্পদের হাহাকার দেখা দিচ্ছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাম উল্লেখ না করলেও পোপের এই ইঙ্গিত সরাসরি ট্রাম্প এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক দেশগুলোর দিকেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া সমালোচনার জবাবে পোপের এই ‘স্বৈরাচারী’ তকমা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চীন এখন এক নজিরবিহীন ‘হিলিয়াম সংকটের’ মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকরা একে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ‘হিলিয়াম শক’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এরই মধ্যে চীনে এই গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চীনের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এমআরআই-এর মতো জীবন রক্ষাকারী মেডিকেল ইমেজিং ব্যবস্থার ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। চিপ উৎপাদন ব্যাহত হলে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে অটোমোবাইল শিল্প—সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা চীনের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। জ্বালানি খাতে চীন অনেকটা স্বনির্ভরতা অর্জন করলেও হিলিয়াম গ্যাসের ক্ষেত্রে দেশটি এখনো আমদানিনির্ভর। ফলে চলমান যুদ্ধ চীনের এই দুর্বল জায়গাতে বড় আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণার পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্বের মোট হিলিয়াম চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ এবং চীনের হিলিয়াম চাহিদার ৫৪ শতাংশই মেটায় কাতার। কিন্তু কাতারে হিলিয়াম উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। সাংহাই-ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন কনসালটেন্সি ‘টাইডালওয়েভ সলিউশনস’-এর সিনিয়র পার্টনার ক্যামেরন জনসন বলেন, "কাতার সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক সরবরাহকারী সরাসরি জানাচ্ছেন যে তাদের কাছে বিক্রির মতো কোনো পণ্য নেই। এখন ১০ লক্ষ ডলার দিলেও হিলিয়াম পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।" বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে হিলিয়ামের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা দেশটির প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতের জন্য এক অশনিসংকেত।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে চলাচল এখন ইতিহাসের সবচাইতে কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব ও আকাশছোঁয়া দাম বিমান সংস্থাগুলোকে চরম বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে বিমানের জ্বালানি বা কেরোসিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে দ্বিগুণ বেড়েছে যা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, তাদের কাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ আছে। জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে তাদের বেশ কিছু বিমান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা ভাবছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সব রুটে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। অনেক সংস্থা লোকসানি রুটগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার টি-অ্যাওয়ে এয়ার ইতিমধ্যে তাদের অনেক কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। হরমজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহের এই সংকট সহসা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাসেলসের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। তারা বিমানের জ্বালানি কেনায় বিশেষ সরকারি ছাড় এবং পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন কর সাময়িকভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। যুদ্ধের কারণে এই খরচ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক দুর্বল সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের ফলে অনেক ছোট বিমান সংস্থা টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সাথে একীভূত হতে পারে। আমেরিকার বড় দুটি এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় যা এখন যুদ্ধের কারণে প্রায় অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের সময় ও ব্যয় দুটিই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিটি স্তরে। বিমান চলাচল সংকট, জ্বালানি তেলের দাম, ইরান যুদ্ধ ২০২৬, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আকাশপথের বিপর্যয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই সংঘাতের জেরে চলতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফ-এর সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ। যা গত জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ কম। আইএমএফ এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুদ্ধ ‘স্বল্পকাল’ স্থায়ী হবে—এমন ধারণা থেকে। তবে সংস্থাটি দুটি নেতিবাচক পরিস্থিতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং এর ফলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গত জানুয়ারির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তবে প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসতে পারে মাত্র ২ শতাংশে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হঠাৎ করেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এমন এক ‘জ্বালানি সংকট’ তৈরি করতে পারে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে মাত্র চারবার ২ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যে পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশ্ব আবারও সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিনে এই দুই বিশ্বব্যক্তিত্বের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও কড়া সমালোচনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তির আহ্বান জানান পোপ লিও। তিনি এই যুদ্ধকে একটি 'অতল গহ্বর' হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত সহিংসতা বন্ধের অনুরোধ জানান। এরপর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সময়সীমা মেনে না চলে, তবে 'একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে'। পোপ লিও এই হুমকিকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এরই প্রেক্ষিতে রোববার ট্রাম্প তার নিজের প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পোপের দীর্ঘ সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে 'দুর্বল' এবং 'পররাষ্ট্র নীতিতে ভয়াবহ' বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি এমন কোনো পোপকে পছন্দ করেন না যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন। একই দিনে ট্রাম্প একটি এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি) ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে যিশু খ্রিস্টের আদলে লাল-সাদা পোশাকে দেখা যায়। যদিও বিতর্ক তীব্র হওয়ায় গতকাল তিনি ছবিটি সরিয়ে নিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি ভেবেছিলেন এটি তাকে একজন 'ডাক্তার' হিসেবে উপস্থাপন করেছে। গতকাল সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ লিও জানান, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং চার্চের শান্তির লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, পোপের কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ক্ষমা চাইবেন না, কারণ পোপ ইরান ইস্যুতে ভুল বলছেন। ট্রাম্পের দাবি, কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া যাবে না। দুই প্রভাবশালী নেতার এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো সমঝোতা ছাড়াই। টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টার এই আলোচনার পর রোববার দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে।' তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা না এলেও, আলোচনায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে রাখার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে। আলোচনার পর ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা এগোতে চেয়েছি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই আস্থা তৈরি করতে পারেনি।” অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে ইরান, ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।” তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের কারিগরি দল এখনো প্রস্তাব ও খসড়া বিনিময় করছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে প্রথম বৈঠকেই চুক্তি হওয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত ছিল না। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথে ইতিবাচক ধারা তৈরি করবে। আলোচনায় প্রধান যে বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করুক। তবে ইরান এটিকে তাদের অধিকার বলে মনে করে এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর। ইরান এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং একে ‘চূড়ান্ত সীমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে চায়। যুদ্ধ আপাতত বন্ধ থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগারগুলো দ্রুত সচল করতে কাজ করছে ইরান। দেশটির লক্ষ্য, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আগের সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা। ইতিমধ্যে মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দম্ভের চরম পতন ঘটেছে। গত ৩৮ দিনের যুদ্ধে একের পর এক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়ে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পেন্টাগন। সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার (৩ বিলিয়ন ডলার) বেশি মূল্যের যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার পর বাধ্য হয়েই যুদ্ধবিরতির পথে হেঁটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপর্যয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এক মাস পার হতেই সেই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৭টি চালকবাহী ফাইটার জেট এবং ২০টিরও বেশি ড্রোন হারিয়েছে। নিজেদের ভুলেই বিশাল ক্ষতি প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২ মার্চ কুয়েতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ৫ এপ্রিল ইরানের মাটিতে আটকা পড়া প্রযুক্তি পাচারের ভয়ে নিজেদের ২টি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান নিজেরাই ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বাহিনী, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ইরানি হামলায় ধূলিসাৎ মার্কিন অহংকার ইরানি বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ই-৩ সেন্টি (E-3 Sentry) এবং পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান। পেন্টাগন দাবি করেছিল এফ-৩৫ রাডারে ধরা পড়ে না, কিন্তু ইরানি মিসাইল সেই গর্ব চুরমার করে দিয়েছে। এছাড়া হরমোজ প্রণালীতে খোয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton), যার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। কেন হঠাৎ যুদ্ধবিরতি? বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিন আগেও যারা ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন, সেই ট্রাম্প প্রশাসনের হঠাৎ যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার পেছনে কাজ করছে এই বিপুল আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতি। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং হরমোজ প্রণালী সচল করার শর্তে ইরান রাজি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত। তবে পর্দার আড়ালের খবর ভিন্ন। যুদ্ধের ব্যপক খরচ এবং একের পর এক যুদ্ধবিমান হারিয়ে মার্কিন কোষাগারে যে ‘বিরাট গর্ত’ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই ট্রাম্পের এই ‘ইউ-টার্ন’ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় এক অর্থনৈতিক ও মানসিক ধাক্কায় পরিণত হলো।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। বছরের পর বছর ধরে চলা বৈরিতা আর সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক উত্তজনা প্রশমনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, ইসলামাবাদ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইরান এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সক্রিয় তৎপরতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। যেখানে খোদ পরাশক্তিগুলো যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছিল, সেখানে পাকিস্তানের এই 'পিস মেকার' ইমেজ বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির গুরুত্ব এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও দেশের মধ্যে উঠছে প্রশ্ন। শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)–এর নেতা সঞ্জয় রাউত বুধবার বলেন, ‘ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ থামিয়ে পাকিস্তান বিশ্বকে শান্তিবার্তা দিয়েছে। আমাদের মহাবিশ্বগুরু (পড়ুন মোদি) কেন এই কৃতিত্ব নিতে পারলেন না? কারণ, তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। বিশ্বে একটা যুদ্ধ হচ্ছে, আর মহাবিশ্বগুরু পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ুতে গিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের কথার বোমায় বিঁধছেন! মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতের এটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা!’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে গোলাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বিরতিকে যুদ্ধের শেষ হিসেবে দেখা যাবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে সামরিক বাহিনীর সব ইউনিটকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখতে হবে। তেহরান থেকেও একই ধরনের সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক পদক্ষেপ—এটি কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তির ইঙ্গিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, বিরতি মানে যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। শত্রুপক্ষের সামান্যতম পদক্ষেপেরও শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এক মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা সাধারণত যুদ্ধ বা সংঘাত সমর্থন করেন না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন ঈশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি সমর্থনশীল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈশ্বর মানুষের কল্যাণ চান এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ জনগণের সুরক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, এই অবস্থান বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই সময়ই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইস্টারের পর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করে একে দেশের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কখনোই কাম্য নয় এবং এতে কেউ আনন্দ পায় না—তবুও পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান নিয়েছে, তা প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিতর্কের জন্ম দিলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি অভ্যন্তরীণ সমর্থন জোরদারের কৌশল নিচ্ছেন। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।