সূর্য

ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন আধিপত্যের অবসান: সব সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিল সিরিয়া

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার দেশটির সমস্ত সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে সিরিয়া সরকার। বৃহস্পতিবার হাসাকা প্রদেশের ‘কাসরাক’ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের শেষ বহরটি চলে যাওয়ার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আইএস বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ায় পা রাখা মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ ১২ বছর পর তাদের উপস্থিতি গুটিয়ে নিল। সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)-কে জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনার সফল প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন এই ঘাঁটি দখল। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কে এসডিএফ-এর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মাজলুম আবদি এবং রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইলহাম আহমদকে স্বাগত জানান। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পুরো রাষ্ট্রকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার লক্ষ্যে এটি একটি বিশাল মাইলফলক। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, একটি সুপরিকল্পিত ও শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরিয়ার প্রধান ঘাঁটিগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দামেস্ক ও এসডিএফ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় কুর্দি যোদ্ধারা এখন সিরীয় জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত নভেম্বরে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক জোট (Coalition against ISIL)-এ যোগদান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সিরীয় প্রশাসনের গঠনমূলক আলোচনার ফলে এই সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম হয়। উল্লেখ্য যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মার্কিন সেনাদের শেষ বহরটি ইরাকের পরিবর্তে জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সিরিয়া ত্যাগ করেছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই ঘটনাকে নতুন এক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা
ডাউনিং স্ট্রিটে শারা-স্টারমার বৈঠক: নতুন সিরিয়া গঠনে বিশ্বনেতাদের সমর্থন

সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা।  এরই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এই দুই নেতা। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সিরিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, লন্ডনে আসার ঠিক একদিন আগেই আহমেদ আল শারা বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পর পর এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ড্রোন হামল
ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলা প্রতিহত, সিরিয়ায় রক্ষা পেল মার্কিন ঘাঁটি

সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে সিরিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হামো জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের কার্সাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরাক থেকে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে সেগুলো আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে।   তিনি বলেন, “এই হামলার জন্য ইরাককে দায়ী করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”   এর আগে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-তানফ ঘাঁটিতেও একই ধরনের ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি ছিল।   আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশেষ করে ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনভিত্তিক সংগঠনগুলো ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
গত শুক্রবার দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালায় ইসরায়েল।
সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বললো সৌদি আরব

সিরিয়ার সরকারি সামরিক শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ এই আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ইসরায়েলি আইন লঙ্ঘনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও সৌদি আরবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার দাবি করেছিল, সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় এই আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, তারা সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই যুক্তিকে ‘বানোয়াট অজুহাত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।   দামেস্কের মতে, এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি জঘন্য আঘাত। গত বছরও ইসরায়েল একই ধরনের অজুহাতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে।   সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুয়েইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এরপর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে সুয়েইদা শহরের আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ থেকে সিরিয়া এখন পর্যন্ত নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে এই নতুন হামলা দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, তখন সিরিয়ায় এই নতুন ফ্রন্ট খোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ এখনই থামানো। সিরিয়া এই হামলাকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।   রিয়াদ ও আঙ্কারার এই যৌথ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। যুদ্ধের এই পর্যায়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
হেসা শাহেদ ১৩৬
সিরিয়ার জেলিন গ্রামে ইরানি ড্রোন পড়ল, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ সিরিয়ার জেলিন গ্রামে একটি ইরানি ড্রোন পড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সিরীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মনুষ্যবিহীন উড়োযানটি ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে।   আল-ইখবারিয়া টিভি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনেইত্রা প্রদেশের আকাশেও বেশ কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কুনেইত্রার গ্রামাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরেকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।   একই সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার সিরিয়ার দারা প্রদেশের আল-হারা শহরের আকাশে একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করে ইসরাইলি বাহিনী। এর একদিন আগে উত্তর দারার ইনখিল শহরেও আরও একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়।   তবে সিরিয়ায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার বিষয়ে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি: রয়টার্স
সিরিয়া থেকে সেনা সরাতে শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নিজেদের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। সোমবার সকালে হাসাকা প্রদেশের কাসরাক ঘাঁটি থেকে সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই ডজনখানেক ট্রাক বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ফুটেজে ট্রাকগুলোকে কামিশলি শহরের উপকণ্ঠ দিয়ে মহাসড়ক ধরে সরে যেতে দেখা যায়।     সিরীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, কাসরাক ঘাঁটি থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। তবে এই প্রত্যাহার স্থায়ী নাকি সাময়িক, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। কাসরাক ঘাঁটি থেকে সরে গেলেও ইরাক সীমান্তবর্তী রমেলান এলাকায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের আরও একটি ঘাঁটি রয়েছে।     গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী লড়াইয়ে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাসরাক ঘাঁটিটি ছিল মার্কিন বাহিনীর মূল কেন্দ্র। তবে সম্প্রতি সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-র নেতৃত্বাধীন সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর ধারাবাহিকতায় হাসাকার আল-শাদ্দাদি এবং ইরাক-জর্ডান সীমান্তসংলগ্ন আল-তানফ গ্যারিসন থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে।   ওয়াশিংটন স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনার সবাইকেই পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত সপ্তাহে এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ও শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়া।   তিনি বলেন, সিরীয় সরকার নিজ সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ দমনে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হওয়ায় সেখানে মার্কিন বাহিনীর বড় উপস্থিতির প্রয়োজন কমে এসেছে। যদিও আইএসের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় সাম্প্রতিক হামলায় একজন সৈন্য ও এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র ছবি এএফপি
ইরান সংকটের মাঝেই সিরিয়া থেকে সেনা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সিরিয়া সরকার নিজ সীমান্তের ভেতরে সন্ত্রাস দমনে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। ফলে সেখানে বড় আকারে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় কমে এসেছে।   ২০১৫ সাল থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় অবস্থান করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক সমীকরণের কারণে সেনা উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।   ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সিরিয়া থেকে প্রায় এক হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।   খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এমন সময় এ তথ্য সামনে এলো, যখন ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। এটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ ও একাধিক যুদ্ধবিমানসহ মোতায়েন রয়েছে।   এছাড়া বিশ্বের বৃহৎ যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি শিগগিরই সেখানে পৌঁছাবে।   জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক বাহিনীকে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তবে ইরানকে ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।   এরই মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ সিরিয়ার আল তানফ গ্যারিসন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল শাদ্দাদি ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দামেস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   নভেম্বরে হোয়াইট হাউজে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা এর সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠক করেন। দেশটির ইতিহাসে সিরিয়ার কোনো নেতার এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
সিরিয়ার রোজ ক্য়াম্পে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকেরা
সিরিয়ার ক্যাম্প থেকে আর ফিরতে পারবে না অস্ট্রেলীয়রা!

সিরিয়ার রোজ ডিটেনশন ক্যাম্পে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিক, যারা একসময় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। তাদের দেশে ফেরার সব পথ কি তবে বন্ধ?    সম্প্রতি এই ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার যে নাগরিকরা ইসলামিক স্টেটের দলে নাম লিখিয়েছিল, তাদের সিরিয়া থেকে দেশে ফেরানোর প্রশ্নই ওঠে না।   সিরিয়ার রোজ ডিটেনশন ক্য়াম্পে বেশ কিছু অস্ট্রেলীয় পরিবার আছে। যাদের সঙ্গে আইএস-এর সরাসরি সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ। দেশে ফেরার জন্য় তারা আবেদন জানিয়েছিলেন।    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশ ছেড়ে যারা বিদেশের মাটিতে গিয়ে 'খিলাফত' গড়ার চেষ্টা করেছিল, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি মেলে না। ফলে কোনোভাবেই তাদের দেশে ফেরানো হবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
Solar Flare
৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

শান্ত স্বভাব ভুলে সূর্য এখন রীতিমতো অগ্নিশর্মা। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌরপৃষ্ঠে ঘটে যাওয়া একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ কপালে ভাঁজ ফেলেছে মহাকাশবিজ্ঞানীদের। বিশাল এক সৌরকলঙ্ক থেকে ধেয়ে আসা আগুনের হলকা কি লণ্ডভণ্ড করে দেবে পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা? ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ঠিক কী ঘটতে চলেছে আমাদের ভাগ্যে?   সূর্যের বুকে এখন চলছে মহাপ্রলয়। ‘রিজিয়ন ৪৩৬৬’ নামক সানস্পটটি গত দু’দিনে সূর্যের বুকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে বিরল। রবিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে সৃষ্টি হওয়া ‘X8.1’ মাত্রার সৌর শিখাটি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষবার এমন ভয়াবহ রূপ দেখা গিয়েছিল।   মার্কিন সংস্থা NOAA-এর স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, ৫ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ভূ-চৌম্বকীয় কার্যকলাপ চরমে পৌঁছতে পারে। সূর্য থেকে প্লাজমার একটি বিশাল মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ আমাদের বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানার অপেক্ষায়। যদিও এটি সরাসরি পৃথিবীকে ধাক্কা না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবুও এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।   কী কী প্রভাব পড়তে পারে? ইতিমধ্যেই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আংশিক রেডিও ব্ল্যাকআউট শুরু হয়েছে। ৫ তারিখের এই মহাজাগতিক ঝাপটায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়া, জিপিএস বিকল হওয়া এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগে বড় ধরনের বিভ্রাট ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, নিম্ন অক্ষাংশের এলাকাগুলোতেও দেখা যেতে পারে অপূর্ব অরোরা বা মেরুজ্যোতি।   নাসার তথ্যমতে, সূর্য এখন তার ১১ বছরের চক্রের ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’ বা সর্বাধিক সক্রিয় পর্যায়ে রয়েছে, যা ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। আপাতত ৫ ফেব্রুয়ারি বড় কোনো বিপত্তি ঘটে কি না, সেদিকেই রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে বিশ্ববাসী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা

১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0