আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি গাড়িতে লুকিয়ে থাকা ৩৪ অভিবাসীকে আটক করল মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২১:৫৩
এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত
এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কাউন্টিতে পৃথক দুটি অভিযানে দুটি যানবাহনের ভেতর লুকিয়ে থাকা মোট ৩৪ জন অভিবাসীকে আটক করেছে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী (ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল)।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম FOX 5/KUSI–এর প্রতিবেদন এবং ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলো ঘটেছে ইম্পেরিয়াল কাউন্টির ওয়েস্টমোরল্যান্ড এলাকায়, যা হাইওয়ে–৭৮–এর পাশে অবস্থিত।

 

সীমান্ত টহল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রথম অভিযানে একটি শেভ্রোলেট তাহো (Chevy Tahoe) এসইউভি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটির ভেতরে সাতজন অভিবাসীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটি একটি মানবপাচারের প্রচেষ্টা বলে সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ।

 

একই এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে একটি মিনি বটম ডাম্প ট্রেইলার থেকে আরও ২৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ট্রেইলারের ভেতরে তাদের গোপনে বহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সীমান্ত টহল বাহিনী।

 

দুটি অভিযানে মোট ৩৪ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের জাতীয়তা, পরিচয়, স্বাস্থ্যগত অবস্থা কিংবা মানবপাচারের অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

 

এল সেন্ট্রো সেক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অতিরিক্ত ভিড় করে বা গোপনে যানবাহনে মানুষ পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে যাত্রীদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

ইম্পেরিয়াল কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চল দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এবং মানবপাচারের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি পরিচালনা করে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় পরিবর্তন। ছবি সংগৃহীত
বড় করপোরেট নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সক্রিয় এখন ছোট বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে আবারও বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি। তবে এই প্রবৃদ্ধির নেতৃত্বে নেই ওয়াল স্ট্রিটের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। বরং স্থানীয় ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীরাই এখন সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনছেন এবং আবাসন বাজারে তাদের প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।   Newsweek–এর এক প্রতিবেদনে Realtor.com–এর নতুন গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বাড়ি বিক্রির ১১ দশমিক ৩ শতাংশই বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ১১ শতাংশ। যদিও এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়, তবুও এটি দেখাচ্ছে যে সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় বিনিয়োগকারীরা এখনো বাজারে তুলনামূলকভাবে সক্রিয়।   গবেষণা অনুযায়ী, গত বছর বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার বাড়ি কিনেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সাধারণ ক্রেতাদের বাড়ি কেনার সংখ্যা ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। উচ্চ সুদের হার, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা এখনো চাপের মধ্যে রয়েছেন।   অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার বাড়ি বিক্রি করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম এবং ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে মহামারির সময় কেনা সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে এবং বাজার এখন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি কংগ্রেসে উত্থাপিত ২১শ শতকের ‘রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট’-এও বড় বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই আইনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেননি এবং নাগরিকত্ব যাচাইসংক্রান্ত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট আগে পাস করার দাবি জানান। ফলে আইনটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।   তবে গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা। বর্তমানে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যারা বছরে ৩৫০টির বেশি বাড়ি কেনেন, তারা মোট বিনিয়োগকারী ক্রয়ের মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি ২০১১ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় তাদের বাড়ি কেনার পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।   Realtor.com–এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হান্না জোন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বাজার এখন একটি নতুন ভারসাম্যে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে মোট বিনিয়োগকারী ক্রয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশই ছোট বিনিয়োগকারীদের, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন বদলাচ্ছে, যদিও বিশেষ করে তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকার বাড়িগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোট বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও সান বেল্ট অঞ্চলে। কারণ এসব এলাকায় বাড়ির দাম তুলনামূলক কম, ভাড়ার চাহিদা শক্তিশালী এবং আবাসন বাজারে লেনদেনও সক্রিয়।   ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে মেমফিস (টেনেসি) বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। সেখানে বিক্রি হওয়া মোট বাড়ির ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কিনেছেন বিনিয়োগকারীরা। এরপর রয়েছে কানসাস সিটি (২১ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সেন্ট লুইস (২১ দশমিক ১ শতাংশ)। এছাড়া বার্মিংহাম (আলাবামা) এবং ওকলাহোমা সিটিতেও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।   অন্যদিকে, পোর্টল্যান্ড, হার্টফোর্ড, স্যাক্রামেন্টো, সিয়াটল এবং বোস্টনে বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার সবচেয়ে কম। এসব এলাকায় আবাসনের সরবরাহ সীমিত এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহামারির পর বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কমে গেলেও ছোট বিনিয়োগকারীরা এখনো সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ২০২১-২২ সালের বাজারের সর্বোচ্চ সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রি ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। কিন্তু একই সময়ে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় কমেছে মাত্র ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।   এ ছাড়া মহামারির আগের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সামগ্রিক বাড়ি বিক্রি এখনো ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ কম থাকলেও বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   Realtor.com জানিয়েছে, তাদের এই গবেষণায় করপোরেট মালিকানার দলিল বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে তথ্যগুলো মূলত সীমিত পরিসরে করপোরেট কাঠামো, যেমন এলএলসি (LLC), ব্যবহার করে বাড়ি কেনা ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রমকে প্রতিফলিত করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২২:৫০
মেয়ে অক্ষত, কিন্তু হাঁটুর নিচের অংশ হারিয়েও অনুতপ্ত নন তিনি। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কা থেকে ২ বছরের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে পা হারালেন বাবা

এসইউভি ও ট্রেইলারে গোপনে বহন করা হচ্ছিল অভিবাসীদের। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি গাড়িতে লুকিয়ে থাকা ৩৪ অভিবাসীকে আটক করল মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি লটারির জ্যাকপট জেতেন মানুষ, জিতলে কেমন বাড়ি কেনা সম্ভব?

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় তিন বিল অনুমোদন করল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ইহুদিবিদ্বেষমূলক বৈষম্য মোকাবিলার লক্ষ্যে তিনটি বিল এগিয়ে দিয়েছে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটি (House Committee on Education and Workforce)।   গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কমিটির এক বৈঠকে বিল তিনটি অনুমোদন পেয়ে পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার জন্য এগিয়ে যায়। ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সংগঠন Combat Antisemitism Movement (CAM) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রস্তাবিত তিনটি বিলের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও মূল উদ্দেশ্য একই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইহুদিবিদ্বেষমূলক আচরণ প্রতিরোধ, বৈষম্যের অভিযোগ তদন্তের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক একাডেমিক বা বাণিজ্যিক বয়কট ঠেকানো।   প্রথম বিল ‘নো অ্যান্টিসেমিটিজম ইন এডুকেশন অ্যাক্ট’ (H.R. 8476) উপস্থাপন করেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। বিলটি আইনে পরিণত হলে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থায়ন পায়, তাদের ইহুদিবিদ্বেষজনিত বৈষম্যকে সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল VI–এর আওতায় থাকা অন্যান্য বৈষম্যের মতোই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশে ব্যবহৃত ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা অনুসরণ করা হয়েছে।   দ্বিতীয় বিল ‘প্রোটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ (H.R. 4795) উত্থাপন করেন রিপাবলিকান সদস্য ভার্জিনিয়া ফক্স এবং ডেমোক্র্যাট সদস্য জশ গটহাইমার। এই বিলে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র দেশগুলোর, বিশেষ করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক একাডেমিক বা বাণিজ্যিক বয়কটে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেল আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।   তৃতীয় বিল ‘স্টুডেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট’ (H.R. 9203) উপস্থাপন করেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক এবং ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান লরা গিলেন। এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কাছে সেই প্রক্রিয়া প্রকাশ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়মিত কংগ্রেসকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের অফিস ফর সিভিল রাইটস (OCR) অন্য কোনো সংস্থা একই ঘটনার তদন্ত করছে, এই অজুহাতে অভিযোগ খারিজ করতে পারবে না। আইন না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।   কমিটিতে কণ্ঠভোটের পাশাপাশি পৃথক ভোটাভুটিতেও বিলগুলো সমর্থন পায়। এর মধ্যে H.R. 8476 বিলটি ২০-১২ ভোটে, H.R. 4795 বিলটি ২৪-৯ ভোটে এবং H.R. 9203 বিলটি ১৮-১৫ ভোটে অনুমোদিত হয়। CAM-এর যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক সভাপতি আলাইজা লেউইন বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   তিনি বলেন, প্রতিটি বিল শিক্ষা ব্যবস্থায় ইহুদিবিদ্বেষের ভিন্ন ভিন্ন দিক মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় দ্রুততা ও গুরুত্বের সঙ্গে অভিযোগগুলোর সমাধান করতে পারেনি। ফলে বহু ইহুদি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মী হয়রানি, ভয়ভীতি ও সামাজিক বঞ্চনার মুখোমুখি হচ্ছেন। CAM-এর অ্যান্টিসেমিটিজম রিসার্চ সেন্টার (ARC)–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১ হাজার ৯৫৫টি ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩১টি ঘটনা ঘটেছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।   লেউইনের দাবি, ‘নো অ্যান্টিসেমিটিজম ইন এডুকেশন অ্যাক্ট’ কার্যকর হলে বিদ্যমান জবাবদিহির ঘাটতি কমবে এবং ইহুদি শিক্ষার্থীরা আইনগত সুরক্ষা আরও কার্যকরভাবে পাবেন। তিনি আরও বলেন, ইহুদিরা কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ নয়, তাদের একটি অভিন্ন জাতিগত ও ঐতিহাসিক পরিচয়ও রয়েছে। ফলে সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার হলে টাইটেল VI–এর সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   অন্যদিকে ‘প্রোটেক্ট ইকোনমিক অ্যান্ড একাডেমিক ফ্রিডম অ্যাক্ট’ সম্পর্কে তিনি বলেন, ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সব কৌশলগত অংশীদার দেশের সঙ্গে সমান আচরণ করা। তাঁর মতে, এই বিল বৈষম্যমূলক একাডেমিক বয়কট প্রতিরোধের পাশাপাশি বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানার সুযোগও সুরক্ষিত রাখবে।   ‘স্টুডেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট’ প্রসঙ্গে লেউইন বলেন, অভিযোগের তথ্য নিয়মিত সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবে এবং কংগ্রেসও জানতে পারবে কোন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর মতে, এই আইন শুধু ইহুদি শিক্ষার্থীদের নয়, সব শিক্ষার্থীর জন্যই নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।   বিলগুলোর অন্যতম প্রস্তাবক র্যান্ডি ফাইন বলেন, সঠিক আইন প্রণয়ন করা গেলে বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এই বিলগুলো সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এদিকে CAM প্রতিনিধি পরিষদের শিক্ষা ও কর্মশক্তি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান টিম ওয়ালবার্গসহ বিলগুলোর প্রস্তাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইহুদি নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে বিলগুলো এখনো আইন হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আইনে পরিণত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ২০:৩৮
ছবি: মাইলস গুও (সংগৃহীত)

নিউইয়র্কে ১৩০ কোটি ডলারের প্রতারণায় দোষী চীনা ব্যবসায়ী মাইলস গুওর ৩০ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস (সংগ্রহীত)

মুসলিম অভিবাসনে আমেরিকার কী লাভ?’ কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেসের পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

নর্থ ক্যারোলিনার কারাগারে কয়েদিদের দখলচেষ্টা, জিম্মি দুই কারারক্ষীকে ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
একদিনে ট্রাম্পের দুই আইনি জয়, অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একই দিনে অভিবাসন-সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আদালতের এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য রায়ে সীমান্তে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনকারীদের সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি পুনরায় চালুর আইনি পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে বহুল আলোচিত মামলার রায় এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে।   ৬-৩ ভোটের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিকের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের অনুমতি দিয়েছে। টিপিএস এমন একটি কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য "বিশাল জয়" বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে টিপিএস কখনোই স্থায়ী বসবাসের পথ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।   অন্যদিকে, টিপিএস সুবিধাভোগীদের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা রায়টিকে "দুঃখজনক দিন" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এতে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। একই দিনে মুলানি বনাম ওট্রো ল্যাবো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের একটি আদেশ বাতিল করেছে, যা সীমান্তে দৈনিক অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত করার 'মিটারিং' নীতি স্থগিত রেখেছিল।   বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ভিন্নমত দিয়ে বলেন, এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল না। কারণ সংশ্লিষ্ট নীতিটি ২০২১ সালেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যদিও বর্তমানে নীতিটি কার্যকর নেই, আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসন চাইলে ভবিষ্যতে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে আইনি বাধার মুখে পড়বে না।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত মামলা ট্রাম্প বনাম বারবারা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটিতে প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধভাবে অথবা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া হবে কি না।   এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কয়েকজন বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের উপস্থাপিত আইনি যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেলকে বলেন, "এটা একই সংবিধান।"   এই মামলার রায় আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গত ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। এতে হাজারো আবেদনকারী সাময়িক স্বস্তি পান।   বর্তমানে ইউএসসিআইএস ২০২২ সালের তুলনামূলক শিথিল 'পাবলিক চার্জ' নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতিতে কেবল নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।   তবে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যয় বহনের সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিতের সিদ্ধান্তও এখনও কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ নীতি বাতিল করে আরও কঠোর নীতি কার্যকরের একটি প্রস্তাব বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সেটি ২০২৬ সালের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার এখনও ভুল ধারণার কারণে এসএনএপি বা ডব্লিউআইসির মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন। অথচ বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা 'পাবলিক চার্জ' নির্ধারণে গণনা করা হয় না।   অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, একের পর এক আদালতের রায় এবং পরিবর্তিত নীতিমালার কারণে লাখো অভিবাসী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে।   এসিএলইউর আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, "আমরা যারা এই দেশে জন্মেছি, সবাই আমেরিকান। কোনো রাজনীতিবিদ ঠিক করতে পারেন না কে এই দেশে জন্ম নেওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। আদালতের সামনে থাকা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলার রায়ের দিকেও এখন নজর রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ১৬:২৩
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে তাপপ্রবাহে ১৪ লাখ শ্রমিকের সুরক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, বাধ্যতামূলক ‘হিট সেফটি’ পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

কয়েকশ ডলার আর একটি ব্যাকপ্যাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটর, এমডি মাসুদুর রহমানের অনুপ্রেরণার গল্প

0 Comments