যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের হার্টফোর্ড শহরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর আহত হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ম্যাডিসন স্ট্রিট এলাকায় এই সহিংস ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
হার্টফোর্ড পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৭টার কিছু পরে ম্যাডিসন স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে তারা ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গুরুতর ছুরিকাঘাতের শিকার অবস্থায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর জন্য সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) শুরু করেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত চলাকালেই পুলিশ জানতে পারে, একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুইজনকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ত্রিশোর্ধ্ব ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
অপর আহত ব্যক্তি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। তার শরীরেও গুলির আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরে হার্টফোর্ড পুলিশ নিহত দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করে। ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তি হলেন ৩৬ বছর বয়সী ট্রয়লন কুপার, যিনি ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা। আর গুলিতে নিহত ব্যক্তি ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান অর্টিজ-সান্তিয়াগো, যার বাড়ি হার্টফোর্ডে।
ঘটনার পরপরই ম্যাডিসন স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে। অপরাধস্থল ঘিরে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। আশপাশের ভবন ও সড়কের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট এবং ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ঘটনার আগে সংঘর্ষ কীভাবে শুরু হয়েছিল, কারা এতে জড়িত ছিল এবং কীভাবে ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল নাকি তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা ছড়ায়—সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
হার্টফোর্ড পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। যারা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন অথবা কোনো তথ্য, ভিডিও কিংবা ড্যাশক্যাম ফুটেজ সংরক্ষণ করেছেন, তাদের পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। সাইরেনের শব্দ ও জরুরি যানবাহনের আনাগোনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
হার্টফোর্ড শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস অপরাধের ঘটনা ঘটলেও, একই ঘটনায় একজন ছুরিকাঘাতে এবং আরেকজন গুলিতে নিহত হওয়ার মতো ঘটনা নতুন করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য তাদের হাতে নেই। তবুও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় কী কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, কারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
হার্টফোর্ডের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড এখন কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অন্যতম আলোচিত অপরাধ তদন্তে পরিণত হয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, সংগৃহীত আলামত, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পরিবেশের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হওয়া বার্মিজ অজগর নিয়ন্ত্রণে আবারও বিশেষ অভিযান শুরু করছে কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ২০২৬ ফ্লোরিডা পাইথন চ্যালেঞ্জ, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মোট ২৫ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি অজগর ধরতে পারা ব্যক্তি পাবেন ১০ হাজার ডলারের সর্বোচ্চ পুরস্কার। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন (এফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ দিন চলবে এই অভিযান। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিকারিদের পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়ম মেনে সাধারণ অংশগ্রহণকারীরাও অংশ নিতে পারবেন। মূল লক্ষ্য হলো ফ্লোরিডার বিখ্যাত এভারগ্লেডস জলাভূমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বার্মিজ অজগরের সংখ্যা কমানো এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অজগর প্রজাতি মূলত বিদেশি পোষা প্রাণীর ব্যবসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরবর্তী সময়ে কিছু অজগর পালিয়ে যায় বা প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা এভারগ্লেডসের প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে এই আগ্রাসী প্রজাতির কারণে খরগোশ, র্যাকুন, শিয়াল, বিভিন্ন পাখি এবং অন্যান্য দেশীয় প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি পূর্ণবয়স্ক বার্মিজ অজগরের দৈর্ঘ্য ১৭ ফুটেরও বেশি হতে পারে। একটি স্ত্রী অজগর একবারে প্রায় ১০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে সক্ষম, যা তাদের দ্রুত বংশবিস্তারে সহায়তা করে এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে। গত বছরের পাইথন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে টেইলর স্ট্যানবেরি একাই ৬০টি অজগর ধরেছিলেন। সেটি ছিল প্রতিযোগিতায় ধরা মোট অজগরের ২০ শতাংশেরও বেশি। তার এই সাফল্য অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিযোগিতার বাইরে সারা বছরই বার্মিজ অজগর অপসারণে কাজ করছে বিভিন্ন গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা। সম্প্রতি কনজারভেন্সি অব সাউথওয়েস্ট ফ্লোরিডা জানিয়েছে, তাদের গবেষকরা ১৭৭টি অজগর ধরেছেন, যেগুলোর সম্মিলিত ওজন ছিল প্রায় ৮ হাজার ৮০ পাউন্ড। একই সময়ে তারা প্রায় ৪ হাজার ১০০টি অনিষিক্ত ডিমও অপসারণ করেন, যা ফুটলে আরও হাজারো অজগর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারত। পরিবেশবিদদের মতে, বার্মিজ অজগরের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, গবেষণা, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিবছরের এই প্রতিযোগিতাকে তারা শুধু পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি নয়, বরং ফ্লোরিডার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাকুওয়েদার এবং ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এভারগ্লেডসের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে আগ্রাসী এই প্রজাতির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা এম্পায়ার স্টেট ভবনের চূড়ায় অনুমতি ছাড়া উঠে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অন্যান্য ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বুধবার এক নারী ও এক পুরুষ ভবনের সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ অংশে প্রবেশ করে ধাতব কাঠামো বেয়ে সর্বোচ্চ অংশে উঠে যান। সেখানে তারা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। পরে ওই ব্যক্তি নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই অভিযুক্ত নিরাপদে নিচে নেমে আসার পর তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। ভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আরোহনের জন্য কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং কীভাবে অভিযুক্তরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে ভবনের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ভবনের দর্শনার্থী বা কর্মীদের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনার সময় ভবনের কিছু অংশে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবনটি আবার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতীকী এই ভবনে অনুমতি ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আরোহনের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনার পর ভবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে বিক্ষোভ করার সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিউজউইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসন ইউনিফর্ম পরেই ক্যাপিটল ভবনের সামনে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। তাতে লেখা ছিল, "Impeach, Convict, Remove" অর্থাৎ "অভিশংসন করুন, দোষী সাব্যস্ত করুন, পদ থেকে অপসারণ করুন।" প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন বক্তব্যে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন, দোষী সাব্যস্ত এবং পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।" ঘটনার শুরুতে তার সঙ্গে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ওয়াটসনকে জানায়, কংগ্রেসের কোনো সদস্য সঙ্গে না থাকলে ক্যাপিটল ভবনের ওই স্থানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া যাবে না। নির্দেশ অমান্য করে তিনি ভবনের সিঁড়িতে উঠে অবস্থান নিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ডটি মাটিতে রেখে নিজের দুই হাত পেছনে নেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় উপস্থিত লোকজন করতালি দিয়ে সমর্থন জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন। পরে এক ভিডিওবার্তায় কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের দাবিতে অবস্থান নিতে দেখেছেন। তার ভাষায়, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে এমন সাহসের প্রয়োজন। বিক্ষোভের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিমুভাল কোয়ালিশন-এর প্রতিষ্ঠাতা জেসিকা ডেনসন। সংগঠনটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সদস্যদের ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে প্রচারণা চালায়। সংবাদ সম্মেলনে ডেনসন বলেন, মেজর জেসন ওয়াটসন বর্তমানে পোল্যান্ডে লজিস্টিকস রেডিনেস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ছুটিতে রয়েছেন। তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করেছেন। ডেনসনের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াটসন নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করতে অনুরোধ করেছিলেন। বক্তব্যে ওয়াটসন বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাট নন এবং আল গ্রিনের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও খুব বেশি জানেন না। তবে তার মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনে কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে আল গ্রিনই সবচেয়ে বেশি সাহসিকতা দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আল গ্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং দায়িত্বে বহাল থাকলে তিনি সহিংসতা উসকে দেওয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরি করবেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটিতে সেই প্রস্তাব ২৩৭ ভোটে বাতিল হয়। পক্ষে ভোট পড়ে ১৪০টি। এদিকে ফ্রি স্পিচ ফর পিপল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বোনিফাজ এক বিবৃতিতে ওয়াটসনের প্রশংসা করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন, যা অনেকের নীরবতার বিপরীত একটি উদাহরণ। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউজউইক। ওয়াটসনের আইনি লড়াইয়ের জন্য ইতোমধ্যে একটি অনলাইন তহবিল গঠন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশপ্রেমিক এই সামরিক কর্মকর্তার আইনগত ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই তহবিলে ২৪ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।