আমেরিকা

লস এঞ্জেলেসে ‘ডেলাইটিং’ আইন কার্যকর, ক্রসওয়াকের কাছে পার্কিং করলেই ৬৩ ডলার জরিমানা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১২:৫৮
লস এঞ্জেলেসে ‘ডেলাইটিং’ আইন কার্যকর I ছবি: সংগৃহীত
লস এঞ্জেলেসে ‘ডেলাইটিং’ আইন কার্যকর I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে পথচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে নতুন পার্কিং বিধিমালা। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেলাইটিং’ (Daylighting) পার্কিং আইন এবং নির্দিষ্ট বড় আকৃতির যানবাহনের পার্কিং-সংক্রান্ত বিধিমালা বাস্তবায়নে এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট (এলএএসডি)। এখন থেকে এসব নিয়ম ভঙ্গ করলেই চালকদের সরাসরি ৬৩ ডলারের জরিমানার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রধানত দুটি পার্কিং লঙ্ঘনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেলাইটিং’ আইন, যা ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, চিহ্নিত কিংবা অচিহ্নিত যেকোনো ক্রসওয়াকের অন্তত ২০ ফুটের মধ্যে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

তবে যদি কোনো ক্রসওয়াকে কার্ব এক্সটেনশন (Curb Extension) থাকে, সেক্ষেত্রে পার্কিংয়ের জন্য ন্যূনতম ১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির ‘নন-কনফর্মিং ভেহিকল অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী, বড় আকারের বা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ যান কেবল অনইনকরপোরেটেড (Unincorporated) এলাকার নির্ধারিত স্থানেই পার্ক করা যাবে। যত্রতত্র বড় গাড়ি রাখলে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

উপরোক্ত দুটি নিয়মের যেকোনো একটি অমান্য করলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে ৬৩ ডলার জরিমানা গুণতে হবে। পাশাপাশি বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন অমান্য করলে কর্তৃপক্ষের গাড়ি টো (Tow) করে নিয়ে যাওয়ারও পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। গাড়ি টো করা হলে সেটি উদ্ধার এবং সংরক্ষণের যাবতীয় ব্যয়ভার সম্পূর্ণভাবে গাড়ির মালিককেই বহন করতে হবে। শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য হলো পথচারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। মোড় বা ক্রসওয়াকের কাছাকাছি গাড়ি পার্ক করা না থাকলে চালক ও পথচারী উভয়েই রাস্তা স্পষ্টভাবে দেখতে পান, যা ট্রাফিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে।

 

এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি জরিমানার টিকিট ইস্যু করা হয়েছে বা কাউন্টির কোন কোন অনইনকরপোরেটেড এলাকায় বেশি অভিযান চলছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট। তবে চালকদের অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়াতে গাড়ি পার্ক করার আগে আশপাশের পরিস্থিতি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোড় বা ক্রসওয়াকের কাছে গাড়ি রাখার সময় অন্তত ২০ ফুট (প্রায় একটি বড় এসইউভি গাড়ির সমান দূরত্ব) ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বড় বা বিশেষ ধরনের যানবাহনের মালিকদের কাউন্টির পার্কিং বিধিমালা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং কেবল অনুমোদিত স্থানেই গাড়ি পার্ক করার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১০ I ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছরের কিশোরীদের টার্গেট, ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১০

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশাল ফেডারেল অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। "অপারেশন ব্রোকেন ব্লেড" নামের এই সাঁড়াশি অভিযানটি মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের কুখ্যাত ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকাকে কেন্দ্র করে চালানো হয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন শোষণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মোটেল এবং একাধিক বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।   দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরের কাছে অবস্থিত 'স্টেডিয়াম ইন অ্যান্ড স্পাস' নামক ওই মোটেলে তল্লাশি চালিয়ে এর ৪৫ বছর বয়সী অন-সাইট ম্যানেজার মুকেশকুমার রামভাই আহিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি সরাসরি মানবপাচারে জড়িত না থাকলেও যৌনপাচারের অবৈধ আয় থেকে লাভবান হওয়া এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে সেই অর্থ আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই স্থানীয় কুখ্যাত 'হুভার গ্যাং'-এর সদস্য কিংবা সহযোগী। দীর্ঘ সময় ধরে ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকায় যৌনপাচার ও পতিতাবৃত্তির পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল এই চক্রটির হাতে। বুধবার প্রকাশিত ফেডারেল অভিযোগপত্রে অন্তত ৫১ জন ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে যৌনপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তদন্তে উঠে এসেছে এই চক্রের নির্মমতার চিত্র। তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল কিশোরী এবং তরুণীদের টার্গেট করত। বিশেষ করে ফস্টার কেয়ারের মেয়েদের বা বাড়ি থেকে পালানো শিশুদের বিলাসবহুল জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো।   পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং অক্সিকোডন ও অ্যামফেটামিনের মতো ভয়ংকর মাদকে আসক্ত করে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দালাল ভুক্তভোগীদের শরীরে জোরপূর্বক দাগ বা ব্র্যান্ডিং করে দিত। এমনকি এক ভুক্তভোগীকে জোর করে গর্ভপাত করানোর পর একই রাতে পুনরায় যৌনকাজে বাধ্য করার মতো শিউরে ওঠা তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, গত বছর ওই এলাকা থেকে ৫৪ জন এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। মানবপাচার ও এ ধরনের নিষ্ঠুর যৌন শোষণ পুরোপুরি নির্মূল করতে ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১৩:৫৯
ছবি: লরা পিনহো ও সালেম এস. ই. আবু আমরা। (সংগৃহীত)

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গাজার বাসিন্দাকে বিয়ে করেছেন মার্কিন শিক্ষিকা, তদন্তের ইঙ্গিত হোমল্যান্ড সিকিউরিটির

লস এঞ্জেলেসে ‘ডেলাইটিং’ আইন কার্যকর I ছবি: সংগৃহীত

লস এঞ্জেলেসে ‘ডেলাইটিং’ আইন কার্যকর, ক্রসওয়াকের কাছে পার্কিং করলেই ৬৩ ডলার জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ল্যাম্পেডুসা দ্বীপ পরিদর্শনে যাওয়া পোপ লিও | ছবি: ভ্যাটিকান মিডিয়া/এএফপি/গেটি

আমেরিকার জন্মদিনে অভিবাসীদের প্রশংসা পোপের, ট্রাম্পকে দিলেন পরোক্ষ বার্তা

ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা শহরে দীর্ঘ এক দশক ধরে বন্ধ থাকা ঐতিহাসিক পোস্ট অফিস ভবনটিকে বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার পরিত্যক্ত ডাকঘর ভেঙে পাঁচ তারকা হোটেল বানানোর বড় উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা শহরের দীর্ঘ এক দশক ধরে বন্ধ থাকা প্রধান ডাকঘর বা পোস্ট অফিস ভবনটিকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে স্থানীয় নগর পরিকল্পনা কমিশন সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।   গত ২০১৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নাপার এই প্রধান পোস্ট অফিস ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষতির কারণে একপর্যায়ে ভবনটি ভেঙে ফেলারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এটিকে একটি ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি লোহার বেষ্টনী দিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।   নতুন অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক্তন এই পোস্ট অফিসের জায়গায় একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট বুটিক লাক্সারি হোটেল নির্মাণ করা হবে। এই হোটেলে ৯৪টি কক্ষের পাশাপাশি একটি আধুনিক রেস্তোরাঁ এবং স্পা সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ডেভেলপার ডেভিড অলিভার জানান, নাপা কাউন্টির ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ বিষয়ক স্থানীয় সংগঠন 'নাপা কাউন্টি ল্যান্ডমার্কস' এই প্রকল্পে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ভবনটির ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী যতখানি সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখেই এই হোটেলটি তৈরি করা হবে।   ভবনটির ঠিক পাশেই 'কিন্ডলড অ্যান্ড গ্রাউন্ডেড' নামের একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কোর্টনি লেস্টার এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ১০ বছর ধরে এই সড়কটি মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। এখানে নতুন একটি হোটেল চালু হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে, যা স্থানীয় ছোট বড় সব ব্যবসার পরিধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। নাপা শহরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   অবশ্য নাপা উপত্যকায় নতুন হোটেলের চাহিদা নিয়ে কিছুটা বাজারভিত্তিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে হোটেলের রাজস্ব বাড়লেও কক্ষের বুকিং বা চাহিদা আশানুরূপ বাড়েনি। এছাড়া মদ্যপান ও ওয়াইন শিল্পের বাজারে কিছুটা মন্দা চলছে। তবে সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ডেভেলপার ডেভিড অলিভার জানান, সামগ্রিক ওয়াইন শিল্পে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও নাপা শহরের প্রাণকেন্দ্র বা ডাউনটাউন এলাকার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটিকে আরও কিছু প্রক্রিয়া পার করতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১২:৯
মিশিগানে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কথা বলছেন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী | ছবি: আমেরিকা বাংলা

ঝড়ে অন্ধকারে মিশিগানের বহু এলাকা, তীব্র গরমে দুর্ভোগে বাংলাদেশি পরিবার

মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন

কিশোরদের যৌন নির্যাতনকারী স্ত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মার্কিন স্বামী

২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ অখণ্ডতা নিয়ে নাগরিকদের সংশয় | ছবি: রয়টার্স/হ্যানা বেয়ার

আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী, আরও ২৫০ বছর টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ে ৪০ শতাংশ নাগরিক

বাল্টিমোরে পুলিশের ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোপেড চালকের মৃত্যু | ছবি: সিবিএস নিউজ
আমেরিকায় ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা, মোপেড চালকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে পুলিশের একটি ট্রাফিক চেকপোস্ট বা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক মোপেড চালকের মৃত্যু হয়েছে। বাল্টিমোর পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার ঠিক কিছু আগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।   প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে বাল্টিমোরের ইউটা স্ট্রিটের ১০০ ব্লকে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা দুটি মোপেড বা ছোট মোটরসাইকেলকে থামার জন্য সংকেত দেন। ট্রাফিক পুলিশের সংকেত পেয়ে মোপেড চালকদের একজন ঘটনাস্থলেই থেমে যান। তবে অপর চালকটি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তীব্র গতিতে নিজের মোপেড চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   পরবর্তীতে ফ্র্যাঙ্কলিন স্ট্রিটের ৬০০ ব্লকে পৌঁছালে দ্রুতগতির মোপেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইটের দেয়ালের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতায় চালক মোপেড থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তরুণকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   বাল্টিমোর পুলিশের ক্র্যাশ টিম বা দুর্ঘটনাবিষয়ক বিশেষ তদন্ত দল ইতিমধ্যেই এই ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন এই দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে। তথ্যদাতারা চাইলে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেও অপরাধ দমন শাখার হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য দিতে পারবেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে গিগ ইকোনমির মাধ্যমে বৈধভাবে অতিরিক্ত বা নিয়মিত আয় করার বিভিন্ন সুযোগ | ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থাকলে আয়ের ১১ কার্যকর উপায়, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সিটির কাছে অ্যাসপেন এক্রেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে পানি বর্ষণ করছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান | ছবি: এপি

আমেরিকায় ভয়াবহ দাবানল, ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত ও নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে শতকোটি ডলার আয় করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: কেভিন ওয়ার্ম/রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট হয়েই ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলার! ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন মার্কিনিরা

0 Comments