শিশুকে গরম গাড়িতে রেখে কাজে যান মা, মৃত্যুর ঘটনায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ১৫ মাস বয়সী ছেলেকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একটি পার্ক করা গাড়িতে রেখে কর্মস্থলে যাওয়ার ঘটনায় ভেনেসা এসকুইভেল (২৭) নামে এক নারীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় গাড়িতে একা ফেলে রাখার কারণেই তার মৃত্যু হয়।
ফ্রিসকো পুলিশ বিভাগ, আদালতের নথি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে। সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এয়ার কন্ডিশনিং) বন্ধ থাকা অবস্থায় শিশুটিকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়ির পেছনের আসনে একা রেখে যান এসকুইভেল।
তদন্তে জানা যায়, তিনি সেদিন Hand & Stone Massage and Facial Spa-তে দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, শিশু দেখাশোনার কাউকে না পাওয়ায় তিনি ছেলেকে গাড়িতেই রেখে কাজে যান।
পরে শিশুটিকে Medical City Plano হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর সময় শিশুটির শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছিল, যা প্রাণঘাতী মাত্রা।
মামলার তদন্তে প্রকাশিত একটি রেকর্ড করা ফোনালাপে এসকুইভেল এক সহকর্মীকে বলেন, শিশু দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, ঘটনাটি তার ভুল ছিল এবং এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছিলেন।
প্রসিকিউটর অ্যাশলি উডল আদালতে বলেন, “এত ছোট একটি শিশুকে কখনোই গাড়িতে একা রেখে যাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এবং টেক্সাসের মতো উষ্ণ অঞ্চলে। প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, আর আমরা চাই না এটি আবার ঘটুক। এই রায় সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”
ফ্রিসকো পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে শিশুটিকে গাড়িতে রেখে যাওয়ার মাধ্যমে তার জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছিল। সেই অবহেলার ফলেই শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় টেক্সাসের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
টেক্সাসের আইন অনুসারে, হত্যা মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্যারোলের জন্য বিবেচিত হওয়ার আগে অন্তত অর্ধেক সাজা ভোগ করতে হয়।
এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় সম্প্রতি ফ্লোরিডায় সমুদ্রসৈকতের একটি পার্কিং এলাকায় গরম গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়ার পর দুই বছর বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায়ও তদন্ত চলছে।
এই ঘটনাগুলোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিভাবক ও শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পার্ক করা গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই গাড়ি থেকে নামার আগে পেছনের আসন অবশ্যই পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more৪০তম ফোবানা কনভেনশন শেষ হওয়ার পর এবার ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে টেক্সাসের হিউস্টনে। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় এই আয়োজনের হোস্ট হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন। এরই মধ্যে সম্মেলনের ভেন্যু, হোস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটি এবং বিভিন্ন স্তরের স্পনসরশিপ প্যাকেজের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৪১তম ফোবানা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে হিউস্টনের Wyndham Houston-এ। ভেন্যুটির ঠিকানা ৮৬৮৬ কিরবি ড্রাইভ, হিউস্টন, টেক্সাস ৭৭০৫৪। সম্মেলনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪১তম ফোবানার আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি নিবন্ধিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। গ্রেটার হিউস্টনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সংগঠনটি কাজ করে আসছে। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হেলথ ক্লিনিক, বাংলা ক্লাস, ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, SAT/PSAT প্রোগ্রাম, দুর্যোগ সহায়তা, খেলাধুলা, কনস্যুলার সার্ভিস, ফুড ব্যাংক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পরিবারকে সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ। ৪১তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটিতেও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। কমিটির কনভেনার হিসেবে রয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল। মেম্বার সেক্রেটারি খন্দকার ইসলাম রিয়াজ এবং ডেপুটি কনভেনার ইশফাক হোসাইন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন সোহেলা সাবুর হাসান লাভলি। এ ছাড়া চিফ অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, চিফ প্যাট্রন ইকবাল চৌধুরী, ডিরেক্টর অব ফাইন্যান্স মুহাম্মদ মান্নাফ ডায়মন্ড, চিফ কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ জামান টুটুল এবং কালচারাল কমিটির চেয়ার হিসেবে রয়েছেন কায়সার আবেদিন শিবলী। এবারের আয়োজনকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিভিন্ন স্পনসরশিপ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড স্পনসরশিপের মূল্য ৫০ হাজার ডলার, টাইটেল স্পনসরশিপ ২৫ হাজার ডলার, প্লাটিনাম স্পনসরশিপ ১০ হাজার ডলার, গোল্ড স্পনসরশিপ ৫ হাজার ডলার এবং সিলভার স্পনসরশিপের মূল্য ১ হাজার ৮০০ ডলার। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫০ হাজার ডলারের গ্র্যান্ড স্পনসর প্যাকেজ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে টাইটেল, প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার স্পনসরশিপ প্যাকেজগুলোর মধ্যে এখনও অ্যাভেলেবেল আছে। সিলভার স্পনসরদের জন্য রয়েছে আর্লি বার্ড অফারও। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলভার স্পনসরশিপের মূল্য ১ হাজার ৮০০ ডলারের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফোবানা ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ও কমিউনিটিকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির বার্ষিক কনভেনশনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ থাকে। ৪০তম ফোবানা শেষ হওয়ার পর এবার হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বড় পরিসরের অংশগ্রহণের লক্ষ্য, বিভিন্ন স্পনসরশিপ সুবিধা এবং হিউস্টনের সক্রিয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে ২০২৭ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা
গ্রেফতারের হুমকির পরও জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেতানিয়াহু!
কানাডায় দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ, ছেলের পা বাঁচাতে লড়াই চলছে
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা ডব্লিউইউএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন যোগ্য শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত প্রচারণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য এই সুযোগ নির্ধারিত ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রোগ্রামে প্রযোজ্য এবং পূর্ণ টিউশন সহায়তার জন্য হাইস্কুলে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫ জিপিএ বা সমমানের ফল প্রয়োজন। আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত ডব্লিউইউএসটির এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে যেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে না পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচারণায় ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক ডিগ্রি, হাতে কলমে শেখার সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউইউএসটির নিয়মিত টিউশন সহায়তা ব্যবস্থাতেও মেধাভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হারে টিউশন সহায়তা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার করে আসা শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এসব সহায়তার জন্য বিবেচিত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমতে, আর্থিক সহায়তা সাধারণত টিউশন ক্রেডিট হিসেবে দেওয়া হয় এবং সব ধরনের সহায়তা মিলিয়ে কোনো টার্মে টিউশনের ১০০ শতাংশের বেশি দেওয়া হয় না। ডব্লিউইউএসটির বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবুবকর হানিপ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ একাডেমিক ক্যাটালগে আবুবকর হানিপকে নতুন মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তার মালিকানায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়। আবুবকর হানিপের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে তিনি পিপলএনটেক ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও চাকরিমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। পিপলএনটেকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৮০০ এর বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন চাকরিতে প্লেসমেন্ট পেয়েছেন। পিপলএনটেকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ওপর প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এই দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ডব্লিউইউএসটির শিক্ষাদর্শনেও ডিগ্রির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলরের বার্তায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য, যাতে গ্র্যাজুয়েশনের পর তারা নিজেদের ক্ষেত্রে চাকরির জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন। ডব্লিউইউএসটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ সালের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৯০ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন তথ্যপ্রযুক্তি এবং ১০৭ জন ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। এদিকে, ডব্লিউইউএসটির আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির এক বাসিন্দা। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি আমেরিকা বাংলাকে বলেন, তার ছোট ভাই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একটি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং তিনি একজন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট। ওই বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে তিনি তার ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপের বিষয়ে সরাসরি আবুবকর হানিপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, বিষয়টি জানার পর আবুবকর হানিপ তাৎক্ষণিকভাবে তার ছোট ভাইয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেন। তিনি জানান, পুরো মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের ওপর পড়াশোনার খরচের চাপ অনেকটাই কমেছে। ওই বাংলাদেশি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসেবে তার ছোট ভাইয়ের জন্য এই স্কলারশিপ বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা। এর ফলে ভবিষ্যৎ পড়াশোনার খরচ নিয়ে পরিবারের উদ্বেগও অনেকটা কমেছে। তিনি আবুবকর হানিপ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত টিউশন সহায়তা নীতিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ট্রান্সফার শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাভিত্তিক সহায়তার সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার করে আসা শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট স্কলারশিপ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সহায়তার পরিমাণ শিক্ষার্থীর যোগ্যতা, প্রোগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষিত নতুন কর্মসূচির আওতায় ১০০ জন যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্যাচেলর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন সহায়তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিং বেড়েছে ২০০%, স্কুলব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে মুখ ফিরাচ্ছে পরিবারগুলো
আইসিই এজেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ‘আক্রমণের’ আহ্বানে বিতর্কে ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক
নিউইয়র্কে টাকা ছাড়াই খাবার! ৮০০ জায়গায় মিলছে ফ্রি গ্রোসারি, জানুন ঠিকানা ও সময়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এমন পর্যায়ে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে - এমন আশঙ্কা জানিয়ে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়েছেন। ২৭ বছর বয়সী জ্যাকব কক্সন বলেছেন, এআই শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কক্সন আগে অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক - দুই প্রতিষ্ঠানেই এআই মডেলের প্রশিক্ষণ বা প্রি-ট্রেনিং নিয়ে কাজ করেছেন। অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ২০২৩ সাল থেকে অপেনএআইয়ের প্রযুক্তিগত কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অ্যানথ্রপিকে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কক্সন অভিযোগ করেন, অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক কেউই যথেষ্ট দায়িত্বশীলভাবে এগোচ্ছে না। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উন্নত করতে সক্ষম ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির প্রতিযোগিতায় এমনভাবে ছুটছে, যা শেষ পর্যন্ত মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কক্সনের মতে, এআই নিয়ে কাজ করা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন, আগামী দশকের মধ্যেই এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এই আশঙ্কা কোনো প্রচারণার কৌশল নয় - বরং এআই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যানথ্রপিকের ভেতর থেকেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইভান হুবিঙ্গার, যিনি প্রতিষ্ঠানটির অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্সের নেতৃত্ব দেন। কক্সনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি নিজেও মনে করেন এআই সব মানুষকে হত্যা করার মতো ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আগামী দশকে এমন ঘটনার সম্ভাবনা তাঁর হিসাবে ১০ শতাংশের বেশি। তবে হুবিঙ্গার একই সঙ্গে বলেন, অ্যানথ্রপিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে। তাঁর উদ্বেগ মূলত আরও শক্তিশালী এআই বা ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি হওয়ার পর সেটিকে মানুষের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রযুক্তিগত সমাধান এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। কক্সনের এই পদত্যাগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই মডেলের পরীক্ষামূলক পরিবেশের বাইরে যাওয়ার এবং অনুমতি ছাড়া অন্য সিস্টেমে প্রবেশের ঘটনাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কক্সন বলেছেন, শিল্পের প্রতিযোগিতা যদি বর্তমান গতিতে চলতে থাকে, তাহলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিছু সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে কক্সনের বক্তব্য এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করবেই - এমন কোনো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস নয়। এটি একজন এআই গবেষকের ব্যক্তিগত ঝুঁকি-আশঙ্কা। তাঁর পদত্যাগ এবং অ্যানথ্রপিকের আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষকের মন্তব্য মূলত অত্যন্ত শক্তিশালী ভবিষ্যৎ এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে এনেছে।
‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’! বিদেশির চেয়ে দেশের উগ্রপন্থীদের বেশি ভয় মার্কিনদের
এক দশক অপহৃত ছিলেন, পালিয়ে বেঁচে ফেরা আমান্ডার সহায়তায় নিখোঁজ ৭৯ শিশু উদ্ধার