আমার ২০ বছরের ছেলেকে হত্যার হুমকি! ট্রাম্পের অভিযোগে ইরানের জবাব ‘জাহরা ছিল ১৪ মাসের’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ব্যারনের চলাফেরা ও তিনি যেসব স্থানে যান, সেসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কারের দাবি করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস।
ভিডিওটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির চ্যানেল থ্রিতে প্রচার করা হয়। এতে ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ ধরনের বার্তা দেখানো হয়। ভিডিওতে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ ব্যারনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে যেসব নিরাপত্তা ও নজরদারির দাবি করা হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিও নিয়ে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানান, সংস্থাটি ভিডিওটির বিষয়ে অবগত এবং সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে না।
ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রীয়পন্থী বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও হুমকিমূলক প্রচার দেখা গেছে। জুলাইয়ে তেহরানে প্রকাশিত একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল এবং ‘রক্তের বদলে রক্ত’ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় খামেনেই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। পরবর্তী সময়ে তার কফিন খামেনেইর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়।
মোজতবা খামেনেই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের কথা বলে আসছেন। তবে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রচারিত ভিডিওটি সরাসরি মোজতবা খামেনেইয়ের নির্দেশে তৈরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিওটির সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার দাবি নিশ্চিতভাবে করা যাচ্ছে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের জন্য নতুন একটি অনলাইন পোর্টাল নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক গোপন তথ্যদাতা। তার দাবি, মার্কিন ডাক বিভাগের নতুন ব্যবস্থাটি তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষা ছাড়াই চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে বিপুলসংখ্যক ডাক ব্যালট ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বিলম্বিত বা আটকে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আইনজীবীদের মাধ্যমে পরিচয় গোপন রাখা ওই তথ্যদাতা নিজেকে ডাক বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি অবগত একজন ফেডারেল কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের কাছে একটি লিখিত তথ্য প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার সেটি প্রকাশ্যে আসে। এরপর ব্লুমেনথাল ডাক বিভাগের মহাপরিচালক ডেভিড স্টেইনারের কাছে নতুন পোর্টাল তৈরির প্রক্রিয়া ও এর সক্ষমতা নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নতুন ব্যবস্থাটির নাম ‘ফেডারেল ব্যালট মেইল পোর্টাল’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করার নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এটি তৈরি করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের ডাকযোগে ব্যালট পাওয়া ভোটারদের নাম ও ঠিকানা এবং ব্যালটের নির্দিষ্ট বারকোডের তথ্য পোর্টালে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যদাতার অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন যাচাই পদ্ধতি। তার দাবি, একটি বড় ব্যাচের ব্যালট থেকে কিছু নমুনা স্ক্যান করে পোর্টালে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো একটি ব্যালটের বারকোড ঠিকভাবে স্ক্যান না হলে বা তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকলে পুরো ব্যাচটি প্রত্যাখ্যান করে রাজ্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এরপর সমস্যাটি সমাধান করে পুরো যাচাই প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হবে। তথ্যদাতার আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, এমন ব্যবস্থায় একটি ব্যাচে মাত্র একটি ত্রুটি থাকলেও হাজার হাজার ব্যালট আটকে যেতে পারে। ফলে বারবার যাচাইয়ের কারণে ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে এবং কিছু রাজ্যের বিপুলসংখ্যক ব্যালট সময়মতো পাঠানো সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এই ঝুঁকিগুলো তথ্যদাতার অভিযোগ ও সতর্কতার ভিত্তিতে উঠে এসেছে; ডাক বিভাগ এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। নতুন পোর্টাল নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন বেশ কয়েকটি রাজ্য নতুন নিয়মের বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্যগুলোর হাতে থাকা উচিত। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ডাকযোগে ভোটের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকরের বিষয়ে আদালতেও একাধিক মামলা চলছে। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত ডাক বিভাগের নতুন নিয়ম কার্যকর করার ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের একটি বাধা সাময়িকভাবে সরলেও আদালত জানিয়েছে, সরকারের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ যে আইনসম্মত হবে, সেই নিশ্চয়তা এই সিদ্ধান্ত দেয় না। ফলে নতুন ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন এখনো রয়েছে। তথ্যদাতার প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ডাক বিভাগ ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একই সময়ে কয়েকটি রাজ্যে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার মধ্যে নতুন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, যাচাই পদ্ধতি এবং আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
প্রেমিকের গোপন ছবি ফাঁসের হুমকিতে ২০ হাজার ডলার দাবি, তরুণী গ্রেপ্তার
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভিপি, উদ্যাপন করেছিলেন ২য় বিবাহবার্ষিকী
আমেরিকায় চাকরি খোঁজার আগে রেজুমে-তে যে ১০টি বিষয় ঠিক করতে হবে, জেনে নিন
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকিসংবলিত একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ব্যারনের চলাফেরা ও তিনি যেসব স্থানে যান, সেসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কারের দাবি করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। ভিডিওটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির চ্যানেল থ্রিতে প্রচার করা হয়। এতে ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে?’ ধরনের বার্তা দেখানো হয়। ভিডিওতে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারসহ ব্যারনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থান এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে যেসব নিরাপত্তা ও নজরদারির দাবি করা হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিও নিয়ে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং জানান, সংস্থাটি ভিডিওটির বিষয়ে অবগত এবং সুরক্ষাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তদন্ত করে। তবে অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে না। ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে এমন হুমকি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রীয়পন্থী বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়েও হুমকিমূলক প্রচার দেখা গেছে। জুলাইয়ে তেহরানে প্রকাশিত একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল এবং ‘রক্তের বদলে রক্ত’ ধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় খামেনেই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। পরবর্তী সময়ে তার কফিন খামেনেইর শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। মোজতবা খামেনেই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের কথা বলে আসছেন। তবে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে প্রচারিত ভিডিওটি সরাসরি মোজতবা খামেনেইয়ের নির্দেশে তৈরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিওটির সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার দাবি নিশ্চিতভাবে করা যাচ্ছে না।
ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কি না জানালেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের কানাডা শুল্ক ও ‘লেক আমেরিকা’ সিদ্ধান্তে নেই মার্কিনদের সমর্থন
চীন-রাশিয়ার হাতছাড়া, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে এবার মার্কিন কোম্পানি
মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এক রায়ে পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আদালত বলেছে, মুখমণ্ডল পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকলে ধর্মীয় পোশাক হিসেবে হিজাব পরা পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া এই রায়ে চিহুয়াহুয়া ও মেক্সিকো সিটির দুই মুসলিম নারীর করা মামলায় তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মামলাগুলোর একটি করেছিলেন মেক্সিকোর মুসলিম নারী আনা মারিয়া গার্সিয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মেক্সিকো সিটিতে পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, হিজাব পরে ছবি তোলা হলে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। এরপর তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন। মেক্সিকোর পাসপোর্ট বিধিমালায় সাধারণভাবে ছবি তোলার সময় মাথা অনাবৃত রাখার শর্ত রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেছে, ধর্মীয় কারণে কেউ হিজাব পরলে এবং তাতে তার মুখ শনাক্ত করতে কোনো সমস্যা না হলে ওই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, হিজাব মুখ ঢেকে না রাখায় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারও সমন্বয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে হিজাব পরার কারণে পাসপোর্টের আবেদন আটকে রাখা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রায়টি ৮-১ ভোটে গৃহীত হয়। সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে দুই মামলার আবেদনকারীকে অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিজাব পরা ছবি ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মেক্সিকোয় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হয়েছে। তবে আদালত পাসপোর্টের ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার সাধারণ নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করেনি; ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রে, যখন তা মুখ শনাক্তকরণে বাধা সৃষ্টি করে না, তখন ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ
শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু