ট্রাম্পের কানাডা শুল্ক ও ‘লেক আমেরিকা’ সিদ্ধান্তে নেই মার্কিনদের সমর্থন
কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বাড়ানো এবং লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নেই অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
তিন দিন ধরে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চালানো জরিপে ১ হাজার ২৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। এতে দেখা গেছে, কানাডীয় পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। আরও ২১ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।
কানাডা কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রে এমনিতেই জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
‘লেক আমেরিকা’ নিয়েও আপত্তি
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ একমত নন।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেন। তবে এই নাম পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কানাডা, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নাম ব্যবহারে বাধ্য করার ক্ষমতা এই সিদ্ধান্তে নেই।
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে মাত্র ১৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। বাকিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বা কোনো উত্তর দেননি।
লেক অন্টারিও নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি উত্তর আমেরিকার পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত।
এর আগে ট্রাম্প মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার কথাও বিভিন্ন সময় বলেছেন তিনি।
নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প
রয়টার্স/ইপসোসের জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ট্রাম্পের অনুমোদনযোগ্যতার হার তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ছে।
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াই করবে। ফলে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা ৪ শতাংশ পয়েন্ট।
আমেরিকাবাংলা/অলি
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য Resume পাঠানোর আগে এর ফরম্যাট, তথ্য ও শব্দচয়ন ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান Applicant Tracking System বা ATS ব্যবহার করে Resume স্ক্যান করে। এই সফটওয়্যার চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে থাকা নির্দিষ্ট Keyword, Skills ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রার্থীর Resume মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন বাছাই করতে পারে। তবে ATS সব Resume একইভাবে যাচাই করে না এবং কোনো Resume-কে ‘১০০ শতাংশ পাস’ করানোর নিশ্চয়তাও নেই। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সাম্প্রতিক Resume Guide এবং CareerOneStop-এর নির্দেশনায় ATS-এর উপযোগী সহজ ফরম্যাট ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিল রেখে তথ্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, Resume-তে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ চাকরির Resume-তে ছবি, বয়স, জন্মতারিখ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা বা বাবার নাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে নিজের নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল, City ও State এবং প্রয়োজন হলে LinkedIn প্রোফাইল দিতে পারেন। পুরো বাসার ঠিকানা দেওয়াও সাধারণত প্রয়োজন হয় না। দ্বিতীয়ত, Resume-এর দৈর্ঘ্য অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে ঠিক করুন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক পৃষ্ঠা যথেষ্ট হতে পারে। তবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর Resume প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পৃষ্ঠা পর্যন্ত হতে পারে। CareerOneStop সাধারণত দীর্ঘ কর্মজীবনের ক্ষেত্রে গত ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়। তাই বহু বছর আগের অপ্রাসঙ্গিক চাকরির তথ্য দিয়ে Resume ভারী করার দরকার নেই। তৃতীয়ত, Job Description ভালোভাবে পড়ুন। সেখানে যে Skills ও যোগ্যতাগুলো চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা মিললে একই ধরনের Keyword Resume-তে ব্যবহার করুন। যেমন Customer Service, Cash Handling বা Inventory Management। তবে এমন কোনো Skill লিখবেন না, যা আপনার আসলে নেই। চতুর্থত, Resume-এর শুরুতেই নিজের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা পরিষ্কার করুন। নাম, যোগাযোগের তথ্যের পর একটি সংক্ষিপ্ত Professional Summary দেওয়া যেতে পারে। এতে আপনি কোন ধরনের কাজ করেন, কত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরুন। নতুন গ্র্যাজুয়েট বা অল্প অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে Summary প্রয়োজন না-ও হতে পারে। পঞ্চমত, কাজের অভিজ্ঞতা শুধু দায়িত্বের তালিকা হিসেবে লিখবেন না। সম্ভব হলে কাজের ফলাফল সংখ্যা দিয়ে তুলে ধরুন। যেমন ‘প্রতিদিন ১০০-এর বেশি কাস্টমারকে সেবা দিয়েছি’ বা ‘প্রতিদিন ৫ হাজার ডলারের ক্যাশ লেনদেন পরিচালনা করেছি’। CareerOneStop-ও কাজের বর্ণনায় সংখ্যা, শতাংশ, বিক্রি বা সাশ্রয়ের পরিমাণ এবং অর্জন তুলে ধরার পরামর্শ দেয়। ষষ্ঠত, Education অংশে বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির জন্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করুন। ডিগ্রি, প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রাসঙ্গিক হলে গ্র্যাজুয়েশনের বছর উল্লেখ করুন। বাংলাদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যুক্তরাষ্ট্রে সমমান নির্ধারণের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক credential evaluation করা থাকলে, চাকরির ক্ষেত্রে সেটি প্রাসঙ্গিক হলে উল্লেখ করা যেতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ভুলভাবে ‘High School Diploma’ বা অন্য কোনো মার্কিন ডিগ্রির নামে পরিবর্তন করা উচিত নয়। সপ্তমত, Skills অংশে চাকরিটির সঙ্গে সম্পর্কিত Technical বা Job-specific Skills আগে রাখুন। যেমন POS, Excel, QuickBooks বা Forklift। Soft Skills-এর ক্ষেত্রেও শুধু সাধারণ শব্দের তালিকা না দিয়ে, সম্ভব হলে Professional Summary বা কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণ দেখানো বেশি কার্যকর। অষ্টমত, ATS-এর জন্য Resume-এর ডিজাইন যতটা সম্ভব সহজ রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ বলছে, অনেক ATS টেবিল, কলাম, ছবি, চার্ট বা গ্রাফিক্স ঠিকভাবে পড়তে পারে না। তাই একটি পরিষ্কার Single-column Layout এবং প্রচলিত Section Heading ব্যবহার করা নিরাপদ। Resume-এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Header বা Footer-এর ভেতরে না রাখাও ভালো। নবমত, Resume-এর File Format চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দিন। শুধু ATS-এর কারণে সবসময় PDF বাদ দিয়ে DOCX ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের গাইডে বলা হয়েছে, Job Posting-এ যে Format চাওয়া হয়েছে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট Format না দেওয়া থাকে, CareerOneStop সাধারণত PDF ব্যবহারের পরামর্শ দেয়, কারণ এতে ফরম্যাট ঠিক থাকে। File Name-এ নিজের নাম ও প্রয়োজনে Job Title রাখা যেতে পারে। দশমত, Resume-এর পাশাপাশি Cover Letter প্রয়োজন হলে সেটিও Job Description অনুযায়ী তৈরি করুন। কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, আপনার কোন অভিজ্ঞতা ওই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে এবং কেন আপনি উপযুক্ত, তা সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়। ChatGPT বা অন্য কোনো AI Tool দিয়ে খসড়া তৈরি করলেও তথ্য অবশ্যই নিজের হতে হবে এবং ভাষা নিজের মতো করে সম্পাদনা করা উচিত। CareerOneStop-ও Resume উন্নত করতে AI Tool ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করেছে। সবশেষে, ATS পাস করানোর কোনো নির্দিষ্ট ‘৯০+’ বা ‘১০০%’ স্কোর নিশ্চিত করার পদ্ধতি নেই। বরং চাকরির বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক Keyword মিল রাখা, সত্য তথ্য ব্যবহার করা এবং সহজে পড়া যায় এমন Resume তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ২০২৬ সালের Resume Guide অনুযায়ী, ATS অনেক ক্ষেত্রে Keyword ও Formatting দেখে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে পারে। তাই সুন্দর ডিজাইনের চেয়ে সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং পরিষ্কার ফরম্যাটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আমার ২০ বছরের ছেলেকে হত্যার হুমকি! ট্রাম্পের অভিযোগে ইরানের জবাব ‘জাহরা ছিল ১৪ মাসের’
ইরানে পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করবেন কি না জানালেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের কানাডা শুল্ক ও ‘লেক আমেরিকা’ সিদ্ধান্তে নেই মার্কিনদের সমর্থন
ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এবার চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে। মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আসছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবও কমে আসবে। ভেনেজুয়েলা সরকার নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সকে নতুন করে ১৪টি তেল প্রকল্প দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে ১৭টি প্রকল্প পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে। এসব প্রকল্পে উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স আগে মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টের মালিকানায় ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট। তিনি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে দেশটির মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই উপকৃত হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকবে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে। তবে কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের ওপর মার্কিন সরকারের অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সবার আগে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যকে হতে হবে মার্কিন নাগরিক। নতুন করে দেওয়া ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি আগে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালনা করত। আর একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রাশিয়ার একটি কোম্পানি। চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস দুটি প্রকল্প পরিচালনা করত। ইরান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আরেকটি প্রকল্প পরিচালনা করত চীনা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। অন্য একটি ছিল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীনে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, দেশটির তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে। এর আগে এসব তেলের একটি বড় অংশ চীনে পাঠানো হতো। কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে যাওয়া দুটি প্রকল্প আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্স সাবের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। সাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। আরেকটি তেলক্ষেত্র মাদুরুর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের এক ভাতিজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল’ তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এসব তেল টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল ও গ্যাস খাতের ব্যবসায়ী এবং শোধনাগার মালিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে। তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৈরি আইনি প্রশ্নের সমাধান করাই এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানের অধীনে সর্বশেষ নির্বাচিত ও কার্যকর আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও বর্তমানে ওই পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাসনক্ষমতা নেই।মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা হলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশটির তেল শিল্পকে আবার সচল করার পথও খুলে যেতে পারে। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রকল্পগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরা প্রথম নারী মারিয়া গার্সিয়া, মেক্সিকোয় গড়লেন ইতিহাস
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ
শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে দুই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের পর পুলিশের গুলিতে পামেলা সিসনেরোস (৪৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) কর্মকর্তারা জানান, সিসনেরোসের হাতে দুটি ছুরি ছিল। তিনি প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক পুরুষের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর ৩২ বছর বয়সী এক নারীর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত ওই নারীকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত পুরুষের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, হামলার পর সিসনেরোস ছুরি হাতে একটি পুলিশ সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি নির্দেশ মানেননি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ জানায়, তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। একপর্যায়ে ছুরি হাতে তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে এলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি অনেকটা আকস্মিক ও বিনা উসকানিতে হামলার মতো মনে হচ্ছে। ঘটনার সময় টাইমস স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক মানুষ, পর্যটক ও পরিবার উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসনেরোসের ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনায় NYPD-তে নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তবে হামলার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে। ঘটনায় নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।
"চুপ করে থাকতে পারেনি" মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের
কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান