সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধন শুরু, যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১২:৮
যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত
যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য ওপেন এনরোলমেন্ট বা নতুন করে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নতুন ইনস্যুরেন্স কেনা, পুরোনো প্ল্যান নবায়ন কিংবা পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন বাসিন্দারা। তবে শুধু মাসিক প্রিমিয়াম কম দেখে প্ল্যান বেছে নিলে চিকিৎসার সময় বড় অঙ্কের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ইনস্যুরেন্স বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

ফক্স বিজনেসের প্রতিবেদনে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স প্রফেশনালসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল উইন্টার বলেছেন, প্রথমেই গত এক বছরে চিকিৎসার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, নিয়মিত ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নেওয়ার হিসাব বিবেচনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি আগামী বছরে পরিবারের সদস্যদের কী ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও পরিকল্পনায় রাখা জরুরি।

 

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাসিক প্রিমিয়াম। আগের বছরের তুলনায় ২০২৭ সালে অনেক হেলথ ইনস্যুরেন্স প্ল্যানের খরচ পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব প্রিমিয়ামের ওপর পড়তে পারে। ফলে আগের বছরের প্ল্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন না করে নতুন প্রিমিয়াম এবং সম্ভাব্য সরকারি আর্থিক সহায়তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

তৃতীয়ত, পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতাল আগের বছর ইন-নেটওয়ার্কে থাকলেও নতুন বছরে সেই সুবিধা নাও থাকতে পারে। আউট-অব-নেটওয়ার্ক চিকিৎসা নিলে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধগুলো প্ল্যানের আওতায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

 

চতুর্থ বিষয় ডিডাক্টিবল ও আউট-অব-পকেট খরচ। ডিডাক্টিবল হলো ইনস্যুরেন্স নির্দিষ্ট চিকিৎসা খরচ বহন শুরু করার আগে গ্রাহককে নিজে যে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। যেমন, কোনো প্ল্যানের ডিডাক্টিবল দুই হাজার ডলার হলে সাধারণত নির্দিষ্ট চিকিৎসাসেবার প্রথম দুই হাজার ডলার গ্রাহককেই দিতে হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের ফি, কো-পেমেন্ট, কো-ইনস্যুরেন্স এবং বার্ষিক সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত খরচের সীমাও তুলনা করা জরুরি। কম প্রিমিয়ামের প্ল্যানে ডিডাক্টিবল বেশি থাকতে পারে।

 

পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা এইচএসএ। যোগ্য ইনস্যুরেন্স প্ল্যানের সঙ্গে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চিকিৎসার জন্য কর-সুবিধাসহ অর্থ সঞ্চয় করা যায়। নির্ধারিত চিকিৎসা খরচে ব্যবহার করলে সাধারণত এই অর্থ উত্তোলনে ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না। অ্যাকাউন্টে অব্যবহৃত অর্থ পরবর্তী বছরেও রাখা যায়। তবে সব ইনস্যুরেন্স প্ল্যান কিংবা গ্রাহক এই সুবিধার যোগ্য নন।

 

এদিকে ফেডারেল মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কভারেজ পেতে ২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যান নির্বাচন করতে হবে। সাধারণ ওপেন এনরোলমেন্ট চলবে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে সময়সীমা আলাদা। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নিবন্ধন চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। নিউইয়র্কে জানুয়ারি থেকে কভারেজ পেতে ১৫ ডিসেম্বর এবং নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে।

 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন প্ল্যান বেছে নেওয়ার আগে পারিবারিক আয়, সরকারি প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্যতা এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট খরচ বিবেচনা করা উচিত। মেডিকেইড ও শিশুদের চিপ কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিরা বছরজুড়ে আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে মেডিকেয়ার ও চাকরিদাতার মাধ্যমে পাওয়া ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধনের নিয়ম ও সময়সীমা আলাদা হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ, স্কুলে ছুটি ও জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ব্রেভার্ড কাউন্টিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার (২ নভেম্বর) কাউন্টির সব সরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে আদালতের কার্যক্রম। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ব্রেভার্ড কাউন্টির কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট মেলবোর্ন ও পাম বে এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে এই দুই এলাকার জন্য বিশেষ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি জারি করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকা, রাস্তাঘাট এবং আন্ডারপাসে জীবনহানির ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ জানিয়েছে, বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হেলেন স্ট্রিটের কাছে মিন্টন রোডের উত্তরমুখী অংশ এবং ইউএস-১৯২ সড়কের কাছে মিন্টন রোডের দক্ষিণমুখী অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্টুয়ার্ট রোডের কাছে অরোরা রোড এবং সার্নো রোডের কিছু অংশ বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক বন্ধের তালিকাও পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমে বেশ কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়েছে। কোথাও কোথাও পানির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ায় চালকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগ বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি নিয়ে বের হওয়া উচিত নয়। কোনো অবস্থাতেই পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা অতিক্রমের চেষ্টা করা যাবে না।   বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির সব সরকারি স্কুলে সোমবারের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্টির ক্যাথলিক স্কুলগুলোও বন্ধ রয়েছে। একই কারণে ইস্টার্ন ফ্লোরিডা স্টেট কলেজের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।   শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ব্রেভার্ড কাউন্টির আদালত এবং স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রমও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।   ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পূর্ব-মধ্য ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কাজনিত সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা। দিনের বাকি সময়ে আরও ১ থেকে ৩ ইঞ্চি এবং বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৫ ইঞ্চি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। আগে থেকেই মাটি পানিতে সম্পৃক্ত থাকায় নতুন বৃষ্টিতে দ্রুত জলাবদ্ধতা ও বন্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে এবং পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলেছে। একই সঙ্গে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব কিংবা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:১৭
যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত

যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধন শুরু, যে পাঁচ বিষয় বাঙালি অভিবাসীদের অবশ্যই জানা উচিত

আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে  চাকরি ছাড়লেন মুসলিম  শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা

আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন মুসলিম শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা

হ্যালোইন উৎসবে শিশুদের পাওয়া চকলেট ও ক্যান্ডির ভেতরে সূচ

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যে হ্যালোইনের ক্যান্ডিতে সূচ ও ধাতব বস্তু, বিশেষ সতর্কতা জারি ; তদন্তে পুলিশ

২৮ বছর বয়সী কেটি সুয়ারেজ
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় তরুণীকে গলায় ছুরিকাঘাত,হামলাকারীকে ধরতে ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে জগিং করার সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক তরুণী। কেটি সুয়ারেজ নামের ওই তরুণী বর্তমানে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালের ব্রুকলিন শাখায় লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার তিন দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।   গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ব্রুকলিনের বাথ বিচ এলাকায় শোর পার্কওয়ে গ্রিনওয়ের একটি পথ ধরে দৌড়ানোর সময় হামলার শিকার হন কেটি। পুলিশ জানায়, বেল্ট পার্কওয়ের কাছে বে ১৭তম স্ট্রিট এলাকায় তাঁর গলায় একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।   তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিজার্স বে শপিং সেন্টারে নিজের কর্মস্থল থেকে বের হন কেটি। এরপর পোশাক পরিবর্তন করে দৌড়াতে যান। রাত ৮টার দিকে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানান, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার নির্ধারিত স্থান থেকে তিনি প্রায় আধা মাইল দূরে রয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানো এবং পরবর্তী ফোনকলের উত্তর না দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর বাবা।   পরে মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে বেল্ট পার্কওয়ের পাশের পথের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন বাবা। খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের ধারণা, কেটি নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনের প্রস্তুতি হিসেবে দৌড়াচ্ছিলেন। তবে এবারের ম্যারাথনে তাঁর নিবন্ধন ছিল না বলে জানিয়েছে এবিসি৭ নিউইয়র্ক।   নিউইয়র্ক পুলিশের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোসেফ কেনি জানিয়েছেন, হামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ব্যাপক তল্লাশি চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর, ডুবুরি দল ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ধারণা, হামলাটি আকস্মিক হতে পারে। তবে এর উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার পর কেটির মোবাইল ফোন ও গয়না তাঁর কাছেই পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন না তাঁরা। হামলাকারীর পরিচয় কিংবা কোনো সন্দেহভাজনের বর্ণনাও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত দৌড়বিদদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে কেটির ছবি প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১২ মিনিটের মধ্যে বে ৮তম স্ট্রিট থেকে বে ১৭তম স্ট্রিটের মধ্যবর্তী পথে কেউ তাঁকে দেখে থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য জানাতে এনওয়াইপিডি ক্রাইম স্টপার্সের ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।   সংবাদসূত্র: এনওয়াইপিডি, ABC7 New York

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ১০:২৩
নিউইয়র্কে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে লেটিশিয়া জেমস

নিউইয়র্কে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে লেটিশিয়া জেমস

টিকাদান

যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ১৪০০ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচ কাউন্টির কাছে ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি, আর সময় নেই’, ফ্লোরিডায় মৃত্যুর আগে পাইলটের শেষ বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের অসুস্থ বা বয়স্ক স্বজনদের দেখাশোনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন স্বজনেরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ স্বজনের যত্নে ঋণ নিচ্ছেন মার্কিনিরা, বছরে খরচ সাড়ে ১১ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ, বয়স্ক কিংবা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন স্বজনদের দেখাশোনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন অনেক পরিবার। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার জন্য সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে নিজের পকেট থেকে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এই ব্যয় তাঁদের পারিবারিক আয়ের গড়ে ৩১ শতাংশ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে স্বজনের দেখাশোনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। বাড়তি ব্যয় সামলাতে কেউ ঋণ নিচ্ছেন, কেউ অতিরিক্ত চাকরি করছেন, আবার কেউ অবসরজীবনের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে গবেষণায় সব সেবাদানকারীর ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এএআরপি গত ২৮ অক্টোবর এই গবেষণা প্রকাশ করেছে। জুন ও জুলাই মাসে দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ হাজার ৫৩৮ জন সেবাদানকারীর তথ্য নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো আত্মীয় বা পরিচিত মানুষের নিয়মিত দেখাশোনা করেন। গবেষণায় চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি সেবাদানকারীদের কর্মজীবন ও আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাবও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বজনের যত্নে একজন সেবাদানকারীর বার্ষিক গড় ব্যয় ছিল ৭ হাজার ২৪২ ডলার। ২০২৬ সালে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫০৮ ডলারে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে ৪ হাজার ২৬৬ ডলার। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি প্রায় ৫৯ শতাংশ। বর্তমান হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯৫৯ ডলার ব্যয় হচ্ছে। তবে গবেষণা পরিচালনার পদ্ধতি ও ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন থাকায় পুরো বৃদ্ধিকে শুধু মূল্যস্ফীতির ফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন কম আয়ের পরিবারের সেবাদানকারীরা। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার ডলারের কম, তাঁদের গড়ে আয়ের ৭৬ শতাংশ স্বজনের যত্নে ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে বছরে ৪০ হাজার থেকে ৮৪ হাজার ৯৯৯ ডলার আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ১৭ শতাংশ। যাঁদের আয় ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ ডলার, তাঁদের ক্ষেত্রে গড় ব্যয়ের হার ৯ শতাংশ। ফলে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও পরিবারের আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হচ্ছে।   স্বজনের দেখাশোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত বাসস্থান ও সংসার পরিচালনা। গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাতে বছরে গড়ে ৪ হাজার ৭৯৭ ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা মোট ব্যয়ের ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে খাবার, বাসাভাড়া, মর্টগেজ এবং প্রপার্টি ট্যাক্সের মতো খরচ রয়েছে। অনেক সেবাদানকারীকে নিজের পরিবারের পাশাপাশি অসুস্থ কিংবা বয়স্ক স্বজনের দৈনন্দিন প্রয়োজনও মেটাতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত সংসার খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব যুক্ত হচ্ছে।   চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচও সেবাদানকারীদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠেছে। এএআরপির হিসাবে, চিকিৎসা খাতে বছরে গড়ে ৩ হাজার ৩১৩ ডলার ব্যয় হচ্ছে। এটি মোট খরচের প্রায় ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, চিকিৎসকের ফি, কোপে, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং হাসপাতাল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাসস্থান ও চিকিৎসা খাত মিলিয়ে সেবাদানকারীদের মোট ব্যক্তিগত ব্যয়ের ৭১ শতাংশ চলে যাচ্ছে।   বিশেষ করে আলঝেইমার কিংবা অন্য ধরনের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত স্বজনের যত্ন নেওয়ার খরচ তুলনামূলক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির দেখাশোনায় বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে ডিমেনশিয়া নেই এমন ব্যক্তির যত্নে গড় খরচ ১০ হাজার ২২১ ডলার। দুই ধরনের সেবাদানকারীর ব্যয়ের পার্থক্য ৫ হাজার ৬২৫ ডলার। ফলে অসুস্থতার ধরন এবং প্রয়োজনীয় যত্নের মাত্রা ব্যয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।   যাঁদের একাধিক চিকিৎসা বা নার্সিংসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাঁদের খরচও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, তিনটি বা তার বেশি চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ করেন এমন সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৬৪৮ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে যাঁদের এ ধরনের কোনো কাজ করতে হয় না, তাঁদের গড় ব্যয় ৭ হাজার ৯৪৮ ডলার। অর্থাৎ জটিল চিকিৎসাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারীদের খরচ প্রায় দ্বিগুণ। তবে এটি গবেষণায় পাওয়া গড় ব্যয়ের পার্থক্য, সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই পরিমাণ খরচ হবে এমন নয়।   স্বজনের যত্ন নেওয়ার আর্থিক চাপ সামলাতে অনেকেই ঋণের ওপর নির্ভর করছেন। এএআরপির গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব সেবাদানকারী অর্থ ধার করেছেন কিংবা ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৫৮০ ডলার। এই গোষ্ঠীর সেবাদানকারীরা পারিবারিক আয়ের গড়ে ৫০ শতাংশ যত্নের পেছনে ব্যয় করছেন। তবে এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে সব সেবাদানকারী ঋণগ্রস্ত। বরং গবেষণায় ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি আর্থিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে।   কেউ কেউ স্বজনের চিকিৎসা ও দেখাশোনার ব্যয় মেটাতে অবসরকালীন সঞ্চয়ও ব্যবহার করছেন। গবেষণা অনুযায়ী, যাঁরা অবসরজীবনের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থ ব্যবহার করেছেন, তাঁদের বছরে গড়ে ১৭ হাজার ৯০৭ ডলার ব্যয় হচ্ছে। এটি তাঁদের পারিবারিক আয়ের গড়ে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে স্বজনের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে কিছু সেবাদানকারীকে ভবিষ্যতের জন্য রাখা অর্থও খরচ করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সেবাদানের দায়িত্ব চাকরি ও আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মরত সেবাদানকারীদের ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বজনের যত্ন নেওয়ার কারণে তাঁদের কর্মজীবনে অন্তত একটি পরিবর্তন বা সমস্যা হয়েছে। এর মধ্যে কাজের সময় পরিবর্তন, ছুটি নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত কাজ করার মতো বিষয় রয়েছে। চাকরিজীবী সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে ১২ হাজার ৬০৬ ডলার খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে যাঁরা অতিরিক্ত চাকরি নিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৮৫১ ডলার।   অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলভেদেও স্বজনের যত্নের খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। এএআরপির তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও পেনসিলভানিয়া নিয়ে গঠিত মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৫ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে আইওয়া, কানসাস, মিনেসোটা, মিসৌরিসহ পশ্চিম উত্তর-মধ্য অঞ্চলে গড় ব্যয় ৭ হাজার ৯৫৫ ডলার। অর্থাৎ একই দেশে বসবাস করলেও অঞ্চলভেদে স্বজনের যত্নের আর্থিক চাপ অনেকটাই আলাদা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ স্বজন কিংবা নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন এমন সদস্য রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বহন করতে হতে পারে। তবে গবেষণায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য পৃথক কোনো ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জাতীয় গড়কে বাংলাদেশি পরিবারের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   এএআরপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ পরিবারের সদস্য কিংবা পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়মিত যত্নে সহায়তা করেন। ওষুধ ব্যবস্থাপনা, খাবার তৈরি, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের মাধ্যমে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সংগঠনটির হিসাবে, এসব সেবাদানকারীর অধিকাংশই বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। তাঁদের সম্মিলিত সেবার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে সেবাদানকারীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে এএআরপি। সংগঠনটি করছাড়, সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়িভিত্তিক সেবা, বেতনসহ পারিবারিক ছুটি এবং যোগ্য স্বজনদের সেবাদানের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবের সবগুলো বর্তমানে দেশজুড়ে কার্যকর সরকারি সুবিধা নয়। কোন ব্যক্তি কী ধরনের সহায়তা পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।   সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনের যত্ন নেওয়ার ব্যয় পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরে গড়ে সাড়ে ১১ হাজার ডলারের বেশি খরচের পাশাপাশি অনেক সেবাদানকারীকে ঋণ, অতিরিক্ত চাকরি কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবার এবং জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন এমন স্বজনের সেবাদানকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ বেশি। ফলে অসুস্থ বা বয়স্ক প্রিয়জনের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব অনেক পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।   সূত্র: ফক্স লোকাল

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৬:৪৪
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে মার্কিন সাধারণ মানুষের খরচ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির পেছনে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার ব্যয় ড্রাইভারদের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমপিএইচ ও পিএইচডি আবেদনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চিকিৎসকদের স্কলারশিপ ফান্ডিং নিয়ে রয়েছে ২ টি ট্র্যাক, জানুন বিস্তারিত

0 Comments