গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে মানুষের মতো শেখার সক্ষমতাসম্পন্ন একটি পরীক্ষামূলক ‘কৃত্রিম মস্তিষ্ক’ বা নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ সাফল্যের মাধ্যমে উদীয়মান ‘অর্গানয়েড ইন্টেলিজেন্স’ (OI) প্রযুক্তির বৈশ্বিক গবেষণায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো ইরান।
ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী দেশটির বার্তা সংস্থা মেহর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।
তার দাবি, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ (নিউরন) বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এখন ইরানের হাতে রয়েছে। এসব নিউরন গবেষণাগারে মানুষের মস্তিষ্কের মতো সিন্যাপস তৈরি করতে এবং নিজেদের মধ্যে এমন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, যা নতুন তথ্য বা কাজ শিখতে পারে।
আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মানব মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি হতে পারে। তার ভাষ্য, ইরানের একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে।
তিনি দাবি করেন, নতুন প্রযুক্তিটির দুটি বড় সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ গুণ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং সিলিকন চিপের সীমাবদ্ধতার কারণে কোষভিত্তিক প্রসেসর প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। এ পর্যায়ে এটি গবেষণা ও পরীক্ষামূলক উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেশীয়ভাবে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে ‘অর্গানয়েড ইন্টেলিজেন্স’ বা জৈবিক কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। এ প্রযুক্তিতে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে এমন কম্পিউটেশনাল সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা মানুষের মস্তিষ্কের মতো সমান্তরালভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং তুলনামূলকভাবে অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক যাচাই বা পিয়ার-রিভিউড গবেষণার তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই অর্জনকে তিনি ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার কোম শহর সফরে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থীরাও নিহত হয়েছেন। তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল অর্থনৈতিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের নীতি এবং এখনো বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরানের সব কার্যক্রম দেশের প্রয়োজন ও ঘোষিত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে। তিনি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্কাইডাইভারদের বহনকারী একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে টমব্লাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে একজন পাইলট ও ১০ জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন প্রশিক্ষণার্থী স্কাইডাইভার এবং পাঁচজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক রয়েছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা কেউই বেঁচে যাননি। মার্থ-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ইভ সেগুই বলেন, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশেই আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি। স্থানীয় একটি প্যারাস্যুট প্রশিক্ষণ স্কুলের পরিচালিত বিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উড়ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশে ওঠার পর বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে দুলতে শুরু করে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় রানওয়ের কাছে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর পরিবারের সদস্য ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকেই চোখের সামনে বিমানটি বিধ্বস্ত হতে দেখেছেন, যা এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। এছাড়া দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কারিগরি ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের করাচি শহরে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, করাচির ঘটনাকে ঘিরে ভারতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে বলেন, “অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।” ভারতীয় মুখপাত্র আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের উচিত তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে ইসলামাবাদের সরে আসা প্রয়োজন। এর আগে করাচিতে হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এই ঘটনায় ভারতের গোপন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিকে করাচির ওই হামলার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে নিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পদাতিক বাহিনীর স্থল অভিযানও পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তানের দাবি, এই অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল। গত শনিবার করাচিতে রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় একদল সশস্ত্র হামলাকারী। পরে জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীটি এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তাদের নয়জন সদস্য এতে অংশ নেয়। এই হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং একজন আফগান নাগরিককে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান প্রশাসন তাদের দেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনার জেরে গত বছরের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। করাচির হামলাকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং আফগান সীমান্তে নতুন সামরিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।