বিশ্ব

‘ভেবেছিলাম মানুষ খামেনি ঘৃণা করে কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’– ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ২৩:৩৮
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, খামেনির প্রতি মানুষের এত আবেগ ও শোক তিনি আশা করেননি।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করলে জানাজায় উপস্থিত সবাইকে তিনি “নির্মূল” করতে পারতেন। তবে এমন কিছু করলে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকত না বলেও মন্তব্য করেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির জানাজা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “জানাজার সময় দুই পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো হামলা চালাবে না।”

 

এদিকে শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে শুরু হওয়া খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় রাজধানীর রাস্তায় লাখো মানুষ জড়ো হন। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইরানের পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানও দেন উপস্থিত অনেকে।

 

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মরদেহ তেহরান থেকে কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে তার জন্মস্থান মাশহাদে নেওয়া হবে। কয়েক দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজায় বিপুল জনসমাগম ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
কস্তিয়ানতিনিভকা দখল নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দাবি
কস্তিয়ানতিনিভকা দখল নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দাবি, পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কস্তিয়ানতিনিভকা শহরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে আসায় বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।   রাশিয়া দাবি করছে, শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন তাদের হাতে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, কস্তিয়ানতিনিভকা এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে প্রতিরোধ অব্যাহত আছে।   শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি রাশিয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার প্রচারণা যুদ্ধেরই অংশ। তার ভাষায়, “যদি সত্যিই শহরটি রাশিয়ার দখলে থাকত, তাহলে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনার জন্য পুতিনের সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করতে কোনো বাধা থাকত না।”   ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাদের সেনারা এখনো শহরের ভেতরে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে। রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেখানে তীব্র লড়াই চলছে বলেও জানানো হয়েছে।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের এই অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জেলেনস্কির মন্তব্যকে বিদ্রূপ করে বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকা ইতোমধ্যেই রাশিয়ার অংশ। তিনি জেলেনস্কিকে মস্কো সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগের আমন্ত্রণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দাবি করেছে, শহরটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এসেছে এবং অবশিষ্ট ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ দ্রুত দমন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সোমবার (৬ জুলাই) ছয় ঘণ্টার একটি মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।   এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইউক্রেনকে রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর ৯টা (জিএমটি) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রতিরক্ষা বলয়ে কস্তিয়ানতিনিভকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে গেলে ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলের দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার পথও আরও সুগম হয়ে উঠবে।   ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দোনেৎস্ক অঞ্চলটি উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে, যা পুরো সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে কস্তিয়ানতিনিভকার প্রকৃত পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ০:১৩
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

‘ভেবেছিলাম মানুষ খামেনি ঘৃণা করে কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’– ট্রাম্প

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশ, রাশিয়া থেকে চীন, খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় শতাধিক দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সমাগম

পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নতুন বাড়ি কেনা এবং মেয়ের ডিজনিল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছে পরিবারটি। ছবি: সংগৃহীত

৪ বছরের অপেক্ষার পর ২ কোটি ৫০ লাখ দিরহাম জিতলেন, পূরণ হচ্ছে বাড়ি ও মেয়ের স্বপ্ন

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে জমি ও বাড়ি দখলের ঘটনাও। ছবি: সংগৃহীত
নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ফিলিস্তিনির বাড়ি দখলে নিলো ইহুদি দখলদাররা

ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি ও বাড়ি দখলকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি তৈরি করছিলেন ফিলিস্তিনি বাসিন্দা মোহাম্মদ সালামাহ। ছেলের বিয়ের পর নতুন সংসার শুরু করার কথা ছিল সেই বাড়িতে। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাড়িটি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স যাচাই করা ভিডিও এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   রয়টার্সের যাচাই করা চলতি সপ্তাহের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত দুই তলা নির্মাণাধীন বাড়িটির ছাদে কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী অবস্থান করছেন। ভিডিওটি ধারণের সময় অন্তত ছয়জনকে বাড়িটির ছাদে চলাফেরা করতে দেখা যায়। ঘটনাটি পশ্চিম তীরের নাবলুস এলাকার জালুদ গ্রামের কাছে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মোহাম্মদ সালামাহ জানান, বাড়ি দখলের পর তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। তার ভাষায়, চারপাশে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইসরায়েলি বসতি ও নিরাপত্তা চৌকি গড়ে ওঠায় বাড়িটি ফেরত পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। সালামাহ বলেন, যদি একটি নির্মাণাধীন বাড়ি দখল করে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে আশপাশের অন্য বাড়িগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পুরো এলাকাই ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনিদের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।   রয়টার্স জানায়, অভিযুক্ত বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি। ইসরায়েলি পুলিশও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   নতুন উদ্বেগের কারণ   জালুদ গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল বা বসতি সম্প্রসারণের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার যে বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে, তা হলো নির্মাণাধীন একটি বাড়ি দখলের অভিযোগ। গ্রাম কাউন্সিলের প্রধান রায়েদ আল-হাজ মোহাম্মদ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা এখন গ্রামের সর্বশেষ বসতবাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তার দাবি, গত কয়েক বছরে জালুদ অন্তত পাঁচবার বড় ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, যানবাহন ভাঙচুর এবং জলপাইসহ বিভিন্ন গাছপালা উপড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।   কেন বাড়ছে উত্তেজনা?   পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি এবং প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এবং জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। তাদের মতে, দখলকৃত ভূখণ্ডে দখলদার রাষ্ট্রের বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তর চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, পশ্চিম তীর একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড এবং সেখানে ইহুদিদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে।   হামলা বেড়েছে বলে জাতিসংঘের দাবি   জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের পর থেকে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে হামলার হার প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব হামলার কারণে বহু ফিলিস্তিনি পরিবার নিজ বাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ আরও গতি পেয়েছে। কারণ জোট সরকার টিকিয়ে রাখতে বসতি-সমর্থক কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের ওপর সরকার অনেকটাই নির্ভরশীল। একই কারণে বসতি সম্প্রসারণ ও সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা ভবিষ্যতেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।   মোহাম্মদ সালামাহ জানান, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার ছেলে চাকরি হারান। আর্থিক সংকটের কারণে বাড়ির নির্মাণকাজও দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। অনেক কষ্টে আবার কাজ শুরু করলেও এখন সেই বাড়িটিই হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ২১:১২
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত

ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত, সুবিধা বাড়ল প্রবাসী ও পর্যটকদের

ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

দোনেৎস্কে কৌশলগত শহর দখলের দাবি রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে থাই বিমানকর্মীদের দিয়ে মাদক পাচার, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র থাইল্যান্ডের বিমানসংস্থাগুলোর পাইলট, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য বিমানকর্মীদের টার্গেট করছে। আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ কিংবা সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের একটি অংশকে মাদক বহনে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।   সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারকারী চক্রগুলো প্রথমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে বিদেশে ছোট প্যাকেট বা লাগেজ বহনের প্রস্তাব দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্যাকেটে যে অবৈধ মাদক রয়েছে, তা শুরুতে বহনকারীদের জানানো হয় না।   থাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি বিমানবন্দরে একাধিক থাই বিমানকর্মী মাদক বহনের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এসব ঘটনার পর তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যোগসূত্র সামনে আসে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানকর্মীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সহজে প্রবেশাধিকার থাকায় অপরাধচক্র তাদের ব্যবহার করতে আগ্রহী। তবে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, চাকরি হারানো এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থাই কর্তৃপক্ষ বিমানকর্মীদের জন্য সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব বা লাগেজ বহনের অনুরোধ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ৪:৩১
সংযুক্ত আরব আমিরাত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুদ্ধের উত্তেজনা কমতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন, রেকর্ড গড়ল আমিরাত

চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই

চার মাস পর খামেনির দাফন ৯ জুলাই, মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশে ৩৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু

জুনের তাপপ্রবাহে ইউরোপের তিন দেশে ৩৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যু

0 Comments