স্ত্রী এবং ৫ মাসের সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে আফ্রিকায় ডিপোর্ট, আইসিইর সিদ্ধান্তে অসহায় বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় নির্বাসন দিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
কার্লোস টেলেজ সানচেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন যে তাকে সিয়েরা লিওন এবং আইভরি কোস্টের মধ্যবর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এর আগে তিনি কখনো এই দেশটির নামও শোনেননি।
হাতকড়া পরা অবস্থায় আটলান্টিকের ওপর দিয়ে ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বর্তমানে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন।
স্ত্রী এবং পাঁচ মাস বয়সী মার্কিন নাগরিক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি সিবিএস নিউজকে এক ভিডিও কলে বলেন, "আমি বুঝতে পারি না, যে দেশ নিজেকে 'গ্লোবাল হিরো' বা বিশ্বনেতা বলে দাবি করে, তারা একজন মানুষের সাথে কীভাবে এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে।"
২০২১ সালে নিজ দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সানচেজ। এরপর থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য দিনের বেলা ডালাসের একটি গাড়ির শোরুমে এবং রাতে উবার ইটসের চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এক ইমিগ্রেশন বিচারক সানচেজকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
কিন্তু সেই আইনি আদেশ আইসিই-কে তাকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে নির্বাসন দেওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি নিয়মিত ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে আইসিই-এর হাতে আটক হন সানচেজ। আট মাস ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর শেষমেশ তাকে আফ্রিকায় নির্বাসন দেওয়া হয়।
গত দেড় বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের সাথে তথাকথিত "তৃতীয় দেশ" বা থার্ড কান্ট্রি নির্বাসন চুক্তি করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মতো বিপজ্জনক দেশও রয়েছে।
লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরত্বের একটি অস্থায়ী হোটেলে সানচেজ এখন সময় কাটাচ্ছেন, যেখানে তার মতো ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং হন্ডুরাস থেকে নির্বাসিত অন্যান্যরাও রয়েছেন। ডালাসে বসবাসরত সানচেজের ভাই হুয়ান টেলেজ জানান, তার ভাইকে কেন লাইবেরিয়ায় পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি।
তিনি তার ভাইকে একজন ভালো ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সাথে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। এই ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে লাইবেরিয়ায় থাকা সানচেজ আক্ষেপ করে বলেন, "এটি এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা আমি আমার শত্রুর জন্যও কামনা করি না।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরে আয়োজিত 'বন্দে মাতরম' কর্মসূচি থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পুনর্দখলের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাঁর উপস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কণ্ঠে গীত হয় ‘বন্দে মাতরম’ গান। এই বিশাল জনসভা থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর ক্যাম্পাসে বর্তমানে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ বা থ্রেট কালচার চলছে এবং রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে আবাসিক ভবন থেকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতার স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা আসলে কীসের স্বাধীনতা চায়, মাদক গ্রহণের স্বাধীনতা কি না। এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলার মাটিতে ক্ষুদিরাম বসু হাতে গীতা নিয়ে এবং মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা ও অন্য হাতে শাঁখ নিয়ে ব্রিটিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ এবং মাস্টারদা সূর্যসেনের মতো অগণিত বিপ্লবীর রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই এই দেশ প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। যাদবপুরের একাংশের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলে তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ধর্ম ও পোশাক দেখে বাঁশদ্রোণীর বিটন অধিকারী এবং বেহালার সমীর গুহকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু যাদবপুরে তার প্রতিবাদে কোনো মিছিল হয়নি। একইভাবে অবন্তীপুরায় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শাহাদাতের পরও সেখানে কোনো শোকপ্রকাশ করা হয়নি। উল্টো পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতিবাদে যাদবপুরে যুদ্ধবিরোধী মিছিল হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আন্দোলনকারীদের প্রতি আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না।’ জনসভা থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করার পাশাপাশি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাদবপুরের এই সভায় জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই কড়া বক্তব্যের জেরে সেখানকার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে।
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির
স্ত্রী এবং ৫ মাসের সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে আফ্রিকায় ডিপোর্ট, আইসিইর সিদ্ধান্তে অসহায় বাবা
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে ভারতীয় তরুণী নিকিতা গোডিশালাকে (২৭) কুপিয়ে হত্যার দীর্ঘ আট মাস পর প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নববর্ষের প্রাক্কালে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে ভারতে আত্মগোপন করেছিল অর্জুন শর্মা (২৬) নামের ওই যুবক। সম্প্রতি প্রতারণার একটি মামলার তদন্তে নেমে হায়দরাবাদ পুলিশের একটি দল উত্তরপ্রদেশের আগ্রার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে শনাক্ত করে। বর্তমানে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ হন পেশায় ডেটা ও স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিস্ট নিকিতা। পরে ম্যারিল্যান্ডের কলম্বিয়ায় তারই সাবেক রুমমেট অর্জুন শর্মার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ছুরিকাঘাত করা অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে হাওয়ার্ড কাউন্টি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতেই তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অর্জুনের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ও সেকেন্ড-ডিগ্রি খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল মার্কিন পুলিশ। আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অর্জুনের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও ঠিক কবে নাগাদ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। মার্কিন পুলিশের বর্ণনায় অর্জুনকে নিকিতার সাবেক প্রেমিক বলা হলেও, নিহত তরুণীর বাবা আনন্দ গোডিশালা জানিয়েছেন, তারা কেবল রুমমেট ছিলেন। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূলত আর্থিক বিরোধই দায়ী। পরিবারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে চাকরি হারানোর পর নিকিতা ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার নিয়েছিল অর্জুন। সেই টাকা ফেরত না দেওয়ায় গত এপ্রিলে তেলেঙ্গানায় অর্জুনের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন আনন্দ। এই মামলার সূত্র ধরেই তদন্তে নেমে আগ্রায় তার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে তাকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করা হলে গত ২৫ আগস্ট আদালত তাকে রিমান্ডে পাঠায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চার বছর ধরে বসবাস করা নিকিতার পরিবার মেয়ের হত্যাকারীর এই গ্রেপ্তারকে বিচারের পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
জার্মানিতে মার্কিন পর্যটককে ধ র্ষণের পর হ ত্যা, ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে ৮১ বছরের বৃদ্ধের যাবজ্জীবন
ইরানের হু মকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিভৃতচারী জীবনযাপন করছেন ব্যারন ট্রাম্প
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি কর্মকর্তা, তালিকায় আরও ৬৫ মার্কিনি
পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত সোনার সন্ধান পেয়েছেন এক ছাগলপালক। এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাটিতে শুরু হয় ব্যাপক ‘গোল্ড রাশ’। রাতারাতি ভাগ্য বদলের আশায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ৩৩ বছর বয়সী ছাগলপালক মানাসে লোমাচার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। নিজের হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে তিনি নদীর তীরে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন নারীকে সোনা তুলতে দেখে কৌতূহলবশত তিনিও কাজে লেগে যান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি প্রায় ৩ গ্রাম সোনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এই সোনা বিক্রি করে স্থানীয় মুদ্রায় তিনি ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিং বা প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার আয় করেন। অভাবনীয় এই প্রাপ্তির খবর বাতাসে কানাকানি হতে সময় লাগেনি, যার ফলে গ্রামটিতে মানুষের ঢল নামে। ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারি জানান, আগস্টের শুরুতে কয়েকটি দল তুলনামূলক বেশি সোনা পাওয়ায় গুঞ্জনটি তীব্র রূপ নেয়। খনির কাজ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও চারপাশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসতে শুরু করে। বর্তমানে লোকসমাগম কিছুটা কমে আড়াই হাজারে নেমে এলেও সোনার অনুসন্ধান এখনো পুরোদমে চলছে। তবে মাটির নিচে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের মতো পর্যাপ্ত সোনা আছে কি না, তা ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে প্রত্যন্ত গ্রামটিতে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং বাসস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা চরম স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, বিশৃঙ্খল পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে সরকারি তত্ত্বাবধানে নিরাপদ খনি উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন মানাসে লোমাচার। তিনি মনে করেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খনি দারিদ্র্যপীড়িত চেপোরোর গ্রামের মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
পেটে তীব্র ক্ষুধা নিয়েই রাতে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে গাজার প্রায় অর্ধেক পরিবার: ডব্লিউএফপি
সহকর্মীদের সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছাড়লেন বেঙ্গালুরুর নারী