আমেরিকা

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে আটটি এটিএম থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এটিএম হ্যাক করে ৫ লাখ ডলারের বেশি চুরি, গ্রেফতার ৪ জন

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটিএম থেকে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তারা বিশেষ ধরনের হার্ডওয়্যার ও ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে এটিএমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে মেশিন থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নিতেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ১০ দিনের অভিযানে কানেকটিকাটের ইন্টারস্টেট-৯৫ (I-95) মহাসড়কের বিভিন্ন বিশ্রামকেন্দ্রে থাকা এটিএমকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। ওই সময়ে অন্তত নয়টি এটিএমে হামলার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে আটটি এটিএম থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ ডলার চুরি হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, অভিযুক্তরা এটিএমের ভেতরের যন্ত্রাংশে প্রবেশ করে বিশেষ হার্ডওয়্যার ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করতেন। এরপর মেশিনকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো, যাতে সেটি প্রায় সীমাহীনভাবে টাকা বের করে দিতে থাকে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই কৌশলটি 'জ্যাকপটিং' নামে পরিচিত।   অভিযোগ অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটে কানেকটিকাটের ফেয়ারফিল্ড এলাকায় আই-৯৫ মহাসড়কের উত্তরমুখী বিশ্রামকেন্দ্রের একটি এটিএমে। সেখান থেকে এক অভিযানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ডলার তুলে নেওয়া হয়। তবে একই সময় অ্যানসোনিয়ার একটি এটিএমে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। কারণ, ওই মেশিনে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছিল, যা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চারজন হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানারে (২৮), উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস (৪৯), আলবার্তো হোসে ফ্রেইতেস আরভিলা (৪১) এবং লুইস হোসে ফ্রেইতেস আরভিলা (৩৮)। তারা সবাই ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাদের মধ্যে দুজন নিউইয়র্কে, একজন নর্থ ক্যারোলাইনায় এবং অপরজন ম্যাসাচুসেটসে বসবাস করতেন।   প্রসিকিউটরদের দাবি, প্রতিটি চুরির সময় অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের ধরণ প্রায় একই ছিল। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লুইস ফ্রেইতেস আরভিলা আশপাশে নজরদারির দায়িত্ব পালন করতেন। অন্যদিকে আলবার্তো ফ্রেইতেস আরভিলা এটিএমের ঢাকনা খুলে ভেতরের যন্ত্রাংশে প্রবেশ করতেন। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে অন্য সদস্যরা পালাক্রমে এটিএম থেকে টাকা তুলে নিয়ে যেতেন।   তদন্তে আরও জানা গেছে, সন্দেহ এড়াতে তারা একই এটিএমে বারবার যাওয়ার আগে পোশাক পরিবর্তন করতেন এবং নিজেদের চেহারা আড়াল করারও চেষ্টা করতেন। গত বৃহস্পতিবার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), কানেকটিকাট স্টেট পুলিশ এবং নিউইয়র্ক ও নর্থ ক্যারোলাইনার স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।   বর্তমানে তারা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে চুরি করা সম্পদ অঙ্গরাজ্যের সীমানা পেরিয়ে পরিবহন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথম অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং দ্বিতীয় অভিযোগে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার সঙ্গে প্রকাশ করা কয়েকটি ছবিতে অভিযুক্তদের এটিএমের যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করতে এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতে নিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিএমে জ্যাকপটিং পদ্ধতির হামলা নতুন নয়। ২০১৮ সালেই বিশ্বের কয়েকটি বড় এটিএম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস সতর্ক করেছিল যে সাইবার অপরাধীরা বিশেষ ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে এটিএমের নিরাপত্তা ভেঙে নগদ অর্থ চুরির চেষ্টা করছে। এরপর থেকে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করলেও এ ধরনের হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে মার্কিন নাগরিক গ্রেফতার

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন।   দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও দ্য জেরুজালেম পোস্ট ইসরায়েলি পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন তথ্য ও ছবি পাঠানোর প্রতিটি কাজের জন্য তিনি কয়েক ডলার থেকে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   পুলিশ জানায়, গত ৯ জুন জেরুজালেম জেলা পুলিশের সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন দাখিল করা হয়েছে। ইসরায়েলের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের আগের ধাপ। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেসব স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোর মধ্যে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানও রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব স্থাপনার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে তেহরান।   এদিকে একই দিনে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের বিষয়টি একটি বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত হয় এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।   এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফ্রান্স তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে। তাঁর ওই মন্তব্যের পরই ইরান জানিয়ে দেয়, এ বিষয়ে তারা কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা মেনে নেবে না।   মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।   সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, দ্য জেরুজালেম পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে কবরস্থান থেকে স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কনরো শহরে কবরস্থানের একটি মাউসোলিয়াম (সমাধি ভবন) থেকে স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ তদন্ত ও নজরদারির পর বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।   হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল প্রিসিঙ্কট-৫-এর কার্যালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া নারীর নাম রেনি অ্যাম্বার ফেনেল। চলতি মাসের শুরুতে হিউস্টনের একটি কবরস্থানের মাউসোলিয়ামে স্থাপিত নজরদারি ক্যামেরায় তাকে সমাধির কুঠুরি ভেঙে সেখানে রাখা স্মারক ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার পর প্রিসিঙ্কট-৫-এর গোয়েন্দা, ডেপুটি এবং স্ট্র্যাটেজিক রেসপন্স ইউনিট (এসআরইউ) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।   তদন্ত শেষে বুধবার কনরো শহরের নর্থ থ্র্যাশার স্ট্রিটের ১৬৭০০ ব্লকে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার ছোট সন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের একজন সদস্যের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেনেলের বিরুদ্ধে চুরি এবং কবরস্থান থেকে চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হ্যারিস কাউন্টিতে তার বিরুদ্ধে এর আগেও জালিয়াতি, চুরি, নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখার অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হামলাসহ একাধিক মামলার রেকর্ড রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর তাকে মন্টগোমেরি কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই কাউন্টির অধিক্ষেত্রে সংঘটিত আরও কয়েকটি অপরাধের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল প্রিসিঙ্কট-৫-এর কার্যালয় জানিয়েছে, কবরস্থানে রাখা মৃত ব্যক্তিদের স্মারক ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র চুরির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
টিপিএসধারী অভিবাসীদের স্থায়ী বৈধতা নিতে হবে, না হলে দেশে ফিরতে হবে: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) নিয়ে বসবাসকারী অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বৈধ থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রধান মার্কওয়েন মুলিন।   রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিপিএস কোনো স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা নয়। তাই যাঁরা এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁদের উচিত স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করা। অন্যথায় সরকার তাঁদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।   মুলিন বলেন, "যাঁরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করুন। আর যদি তা না করেন, তাহলে আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব।" তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বিমান টিকিটের পাশাপাশি পুনর্বাসনের প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টিপিএস সুবিধা বাতিলের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতির এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিক ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন।   টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বড় মানবিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।   তবে টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি রেখেছে। দুই দেশেই সহিংসতা, সংঘাত, সন্ত্রাসী তৎপরতা, অপহরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অভিবাসী অধিকারকর্মী ও হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের নেতারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বহু মানুষ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন। হঠাৎ করে সুরক্ষা তুলে নেওয়া হলে তাঁদের পরিবার, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।   ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরে বসবাসকারী হাইতিয়ানরাও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিবাসীরা বলছেন, গত এক দশকে হাইতিয়ান সম্প্রদায় শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন টিপিএস বাতিল হলে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।   উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুধু ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেই আসেনি। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান হাইতির পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্য, দুর্বল সরকারি ব্যবস্থা এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতির কারণে এখনই মানুষকে ফেরত পাঠানো যুক্তিযুক্ত হবে না। নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান মাইক ললার এবং নেব্রাস্কার কংগ্রেসম্যান ডন বেকনও হাইতির নাগরিকদের জন্য টিপিএসের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।   বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর টিপিএস সুবিধাও বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৯৯০ সালে চালু হওয়া এই মানবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনাকবলিত ডাক বোট, যা উল্টে যাওয়ার সময় অর্ধেক পানির ওপরে ছিল | ছবি: সিবিএস বোস্টন
যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে পর্যটকবাহী ‘ডাক বোট’ উল্টে আহত ১১, ঘটনাস্থলে ব্যাপক আতঙ্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কেমব্রিজে চার্লস নদী থেকে ওঠার সময় যাত্রীসহ একটি পর্যটকবাহী বিশেষ ‘ডাক বোট’ উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলের এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং বোটের যাত্রীদের চিৎকারে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।   প্রত্যক্ষদর্শী ও ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ৩টার পরপরই লিঞ্চ ফ্যামিলি স্কেট পার্কের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বোটটি নদী থেকে অর্ধেক উপরে ওঠার পর হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে একপাশে কাত হয়ে পুরোপুরি উল্টে যায়। কেমব্রিজ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই জলযানটিতে চালকসহ মোট ৩২ জন যাত্রী আরোহী হিসেবে ছিলেন।   মূলত বোটটি নদীতে থাকা অবস্থাতেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়েছিল। এরপর আরেকটি বোট দিয়ে সেটিকে দড়ি বেঁধে টেনে তীরের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু নদী থেকে ওঠার র‍্যাম্পে ওঠার মুহূর্তে টানার দড়িটি হঠাৎ ছিঁড়ে যায়। এতে বোটটি দ্রুত পেছনের দিকে যেতে শুরু করে এবং দুপাশের পাথরের সাথে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।   দুর্ঘটনার সময় বোটে থাকা পর্যটকদের কোনো সিটবেল্ট বাঁধা ছিল না। ফলে বোটটি উল্টে যাওয়ার সাথে সাথে ভেতরের সমস্ত যাত্রী একে অপরের ওপর ছিটকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই চারদিকে মানুষের কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু হয় এবং অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বোস্টন ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।   দুর্ঘটনার পর ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ এবং কেমব্রিজ ফায়ার সার্ভিস দ্রুত উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে বোটে থাকা সব যাত্রীর অবস্থান নিশ্চিত করে। এই ঘটনার পর ‘বোস্টন ডাক ট্যুরস’ কর্তৃপক্ষ ইউএস কোস্ট গার্ডের সাথে মিলে তদন্ত শুরু করেছে এবং সাময়িকভাবে তাদের সকল বোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফায়ার হোসের পানিতে ভেসে আসা ময়লা ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন 'সিগন্যাল'-এর কর্মীরা | ছবি: শাটারস্টক
আমেরিকায় ৪ কোটি পাউন্ড খাবার পচে একাকার, গন্ধে টিকতে পারছে না মানুষ!

আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের বয়েল হাইটস এলাকার একটি বিশাল কোল্ড স্টোরেজে (হিমাগার) সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এখন এক অদ্ভুত ও মারাত্মক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগুনে হিমাগারটির প্রায় ৪ কোটি পাউন্ড হিমায়িত খাবার (মাংস, মাছ ও সবজি) নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এগুলো এখন প্রচণ্ড গরমে পচতে শুরু করায় পুরো এলাকা জুড়ে লাশের মতো দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই পুতিগন্ধময় পরিবেশের কারণে তাদের শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।   গত ১৭ জুন ৫ লাখ বর্গফুটের এই বিশাল গুদামটিতে আগুন লাগে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা এই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের লাখ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের পর গত বুধবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হিমাগারে থাকা সাড়ে ৮ কোটি পাউন্ড খাবারের মধ্যে অর্ধেকই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় পচে গেছে। হিমাগারের ঠিক এক ব্লক দূরে থাকা কেলভিন ভাসকুয়েজ নামের এক বাসিন্দা জানান, "এখানকার গন্ধটা একদম কোনো মরা পশুর বা লাশের গন্ধের মতো। গত কয়েকদিন ধরে এখানকার মানুষেরা মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং বমি বমি ভাবসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।"   হিমাগারটি লিজ নিয়ে পরিচালনা করত 'লিনেজ লজিস্টিকস' নামের একটি কোল্ড-স্টোরেজ কোম্পানি। তারা এলাকা পরিষ্কার করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিলেও এই বিপুল পরিমাণ পচা খাবার কীভাবে এবং কোথায় ফেলা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি লস অ্যাঞ্জেলেসের স্বাস্থ্য বিভাগ। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হিমাগারের ছাদে থাকা বিশাল সোলার প্যানেলে পরীক্ষার কাজ চলার সময় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। লিনেজ লজিস্টিকস এই ঘটনার জন্য সোলার কোম্পানি 'আল্টাস পাওয়ার'-কে দায়ী করেছে। উল্লেখ্য, দুই বছর আগেও এই ভবনের সোলার প্যানেলে আগুন লেগেছিল, কিন্তু সে যাত্রায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশের রাস্তাঘাট এখন পুড়ে যাওয়া খাবার এবং নোংরা পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে, যা দ্রুত পরিষ্কার না করলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: গেটি ইমেজেস
মেয়েদের গোপন কক্ষে ছেলেদের প্রবেশের সুযোগ, আমেরিকার তিন স্কুলের বিরুদ্ধে বড় তদন্ত

আমেরিকার মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা বিভাগসহ তিনটি সরকারি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ক্রীড়া দল এবং লকার রুমে ছেলেদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন শিক্ষা বিভাগ। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই স্কুলগুলোতে ছেলেদের মেয়েদের অ্যাথলেটিক দলে যোগ দেওয়ার এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। মন্টগোমারি, প্রিন্স জর্জ এবং ফ্রেডরিক কাউন্টির পাবলিক স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে যে তারা ১৯৭২ সালের শিক্ষা সংশোধনীর ‘টাইটেল নাইন’ আইন লঙ্ঘন করেছে কি না।   আমেরিকার ঐতিহাসিক টাইটেল নাইন আইন অনুযায়ী, যেকোনো সরকারি শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘনের অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ডিস্ট্রিক্টগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকা সমস্ত সরকারি তহবিল বাতিল হয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেরিল্যান্ড স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছে এবং তারা সমস্ত শিক্ষার্থীর পাশে থাকতে ও দেশের আইন বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ‘অফিস অব সিভিল রাইটস’ বা নাগরিক অধিকার বিষয়ক দপ্তরে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ার পর এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই অভিযোগে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে যে, মেরিল্যান্ডের বর্তমান নির্দেশিকা এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নীতিমালার কারণে স্কুলগুলো ছেলেদের মেয়েদের অ্যাথলেটিক্সে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর ফলে ছেলেরা মেয়েদের লকার রুম, বাথরুম এবং রাতে থাকার আবাসনগুলোতেও অনায়াসে প্রবেশাধিকার ও সুবিধা পাচ্ছে।   দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেয়েরা যখন ছেলেদের সাথে একই গোপন স্থান বা লকার রুম ভাগাভাগি করার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানায়, তখন স্কুল ডিস্ট্রিক্ট উল্টো মেয়েদের ওপরেই অন্য বিকল্প ব্যবস্থা বা বাথরুম খুঁজে নেওয়ার বোঝা চাপিয়ে দেয়। নাগরিক অধিকার বিষয়ক সহকারী সচিব কিম্বার্লি রিচি এই বিষয়ে বলেন, শুধুমাত্র নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয়ের দাবির ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের আলাদা লিঙ্গের কর্মসূচি এবং সুযোগ-সুবিধায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার এই চর্চা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি মারাত্মক আইনি প্রশ্ন তোলে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসকে দ্বিতীয় বার্ষিক ‘টাইটেল নাইন মাস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু মেরিল্যান্ডেই নয়, বরং নর্থ ক্যারোলিনা এবং মিশিগানেও একই ধরনের টাইটেল নাইন লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি একই বিষয়ে কলোরাডো এবং কানসাসের বিভিন্ন স্কুল ডিস্ট্রিক্টকেও ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা বা ওয়ার্নিং লেটার পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ওয়াশিংটনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | ছবি: এপি
আমেরিকায় লাখ লাখ অভিবাসীর থাকার বিশেষ সুবিধা বাতিলের অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আমেরিকায় বসবাসরত হাইতি এবং সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য বরাদ্দ থাকা বিশেষ আইনি সুবিধা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস (TPS) পুরোপুরি বাতিল করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এক ঐতিহাসিক ৬-৩ ব্যবধানের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী টিপিএস সুবিধা দেওয়া বা তা বাতিলের মতো সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। একই সাথে বর্ণ বৈষম্যের কারণে হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল বলে চ্যালেঞ্জকারীদের করা দাবিটি আদালতে টেকেনি।   সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের পক্ষে লেখা রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো উল্লেখ করেন, সিরিয়া ও হাইতির নাগরিকদের জন্য সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা বা টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এই আদেশ স্থগিত রাখার কোনো আইনি অধিকার চ্যালেঞ্জকারীদের নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং বিচারপতি ব্রেট কাভানো এই রায়ের পক্ষে একমত পোষণ করেন। এর আগে নিম্ন আদালত এই টিপিএস সুবিধা বাতিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।   প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধবিগ্রহের কারণে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যদি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী না থাকে, তবে তাদের সুরক্ষায় মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯০ সালে এই টিপিএস প্রথা চালু করে। এর মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকরা বৈধভাবে আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ পান এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ থাকে। ২০১০ সালে হাইতিতে হওয়া এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে অসংখ্য হাইতিয়ান নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে আসছিলেন।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিলের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, হাইতিয়ান গ্যাং বা অপরাধী দলগুলো, যাদের মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুবিধাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও আদালতে যুক্তি দেখিয়েছে যে, তারা সমস্ত সংবিধবদ্ধ বাধ্যবাধকতা মেনেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই টিপিএস সুবিধা বাতিলে পদক্ষেপ নিয়েছে।   অন‍্যদিকে, হাইতি এবং সিরিয়ার নাগরিকদের পক্ষে লড়াই করা মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো আইনি নিয়ম অনুসরণ করে করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সরকার সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করে হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের এই আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই দুই দেশের নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিল করার পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেল।   মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে হাইতি ও সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসী এখন চরম বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়লেন। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চলার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।  

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: গেটি ইমেজেস
মেডিকেইড জালিয়াতিতে ৪৩ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন ডাক্তার গ্রেফতার

আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে একজন নামকরা চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম মুরেল কার্নেল রুটলেজ জুনিয়র, যিনি ইস্ট পয়েন্টের ‘রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীদের কোনো চিকিৎসা সেবা না দিয়েই ভুয়া বিল জমা দিয়ে জর্জিয়া মেডিকেইড থেকে প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, ডাক্তার রুটলেজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছিলেন। এসব দাবিকৃত বিলের সিংহভাগই ছিল রোগীদের মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক থেরাপি বা সাইকোথেরাপি দেওয়ার ভুয়া বিবরণী। এ ছাড়া সিস্ট অপসারণ, বিশেষ অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং ক্ষতস্থানের চিকিৎসার মতো জটিল কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তিনি রোগীদের কখনোই দেননি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে নিয়মিত ভুয়া বিল পেশ করেছিলেন।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডাক্তার রুটলেজ জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে মোট ৪৩ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি সাবমিট করে ইতিমধ্যেই ২৬ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার মোট ৪০টি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরকারি মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে অর্থ চুরি করবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং চুরির সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।   মার্কিন আইন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা বড় ধরনের অভিযোগটি মূলত মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ‘ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের একটি অংশ। দেশজুড়ে চালানো এই বিশাল ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই দেশব্যাপী অভিযানে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯০ জনই হলেন লাইসেন্সধারী ডাক্তার এবং উচ্চ পদমর্যাদার অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবী।   এই একই তদন্তের অংশ হিসেবে লোনি রেলেফোর্ড নামের ৫৭ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে জর্জিয়ার প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং জালিয়াতির একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের নার্সিং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নিজের অপরাধের সমস্ত ইতিহাস সম্পূর্ণ গোপন করে জর্জিয়ায় নার্স হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে তিনি ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়ে এবং একজন আসল রেজিস্টার্ড নার্সের পরিচয় বা আইডি চুরি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির পুরোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সদাতাদের ডলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও ফেডারেল অংশীদাররা একযোগে কাজ করছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আরও জানান, এই দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চিকিৎসা খাতের এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
প্রাইভেট জেটে চড়ে লাখ টাকার সামার ক্যাম্পে ধনকুবেরদের সন্তানরা

আমেরিকার শীর্ষ ধনী ও ধনকুবের পরিবারের সন্তানরা সাধারণ কোনো উপায়ে নয়, বরং লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রাইভেট জেটে চড়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিভিন্ন বিলাসবহুল বা অভিজাত ‘সামার স্লিপঅ্যাওয়ে ক্যাম্পে’। গ্রীষ্মকালীন এই ক্যাম্পগুলোর একেকটির ফি ১৭ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত বিশ্বের বড় বড় শিল্পপতিদের সন্তানদের সাথে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক বা আজীবন টিকে থাকার মতো বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ জীবনমুখী দক্ষতা অর্জন করতেই ধনী অভিভাবকরা সন্তানদের পেছনে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছেন।   ফ্লোরিডার বোকা রাটন-এর বাসিন্দা এবং পেশায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এলিজাবেথ ওয়েপ্রিন জানান, নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত রাকুয়েট লেক ক্যাম্পে তাঁর দুই মেয়ের সাত সপ্তাহের সামার ক্যাম্পিংয়ের জন্য তিনি এক দশকে প্রায় ছয় অঙ্কের ডলার বা কোটি টাকার ওপরে খরচ করেছেন। সেখানে প্রতি বছর জনপ্রতি ফি শুরু হয় ১৭ হাজার ৪৫০ ডলার থেকে। ডিজিটাল ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে মুক্ত রাখার পাশাপাশি বড় বড় করপোরেট লিডার বা টাইকুনদের পরিবারের সাথে গভীর যোগাযোগ তৈরি করাই ছিল এই খরচের মূল উদ্দেশ্য। এলিজাবেথ বলেন, তিনি সবসময় তাঁর সন্তানদের বলেন যে নিজেদের পরিচিতি বা নেটওয়ার্কই হলো পৃথিবীর সবকিছু, কারণ ইন্টার্নশিপ, চাকরির সুযোগ বা নতুন অভিজ্ঞতা সবই নির্ভর করে কার সাথে কার চেনা-জানা আছে তার ওপর।   আরেক লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার রাচেল পটাশ তাঁর দুই মেয়েকে মেইন অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও মেয়েদের জন্য বিশেষায়িত ‘ক্যাম্প ভেগা’-তে পাঠাতে বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন। প্রাইভেট স্কুলের পুরো বছরের ফির সমান টাকা ক্যাম্পিংয়ে দেওয়ার পরও, এবার তিনি তাঁর ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে ও তাদের বান্ধবীদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে একটি ‘প্রাইভেট জেট’ ভাড়া করেছেন। নিউ ইয়র্ক থেকে মেইনের ক্যাম্প গ্রাউন্ডে সরাসরি পৌঁছাতে এই প্রথম শ্রেণির বিলাসবহুল ভ্রমণের আয়োজন করেছেন তিনি। রাচেল পটাশ স্পষ্ট করে বলেন, টাকা আসবে এবং যাবে, কিন্তু বাচ্চাদের সাবলম্বী ও স্বাধীন নারী হিসেবে গড়ে তুলতে সামার ক্যাম্পের চেয়ে ভালো বিনিয়োগ আর কিছুই হতে পারে না।   মে মাসের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকার প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ অভিভাবক চান তাঁদের সন্তানরা এমন সামার ক্যাম্পে যাক। তবে অত্যন্ত চড়া খরচের কারণে ৩৮ শতাংশ পরিবারই শেষ পর্যন্ত এর নাগাল পায় না। সাধারণ বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মাত্র ১৩ শতাংশ শিশু এই সুযোগ পায়, যেখানে ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ। হ্যাম্পটনসের একটি এআই-চালিত সামার ডে ক্যাম্পের সাপ্তাহিক ফিই ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যেখানে শিশুদের ওমাকাসে বা জাপানি খাবার তৈরির বিশেষ ক্লাস এবং ট্রোজান-হর্স ওয়ার্কশপের মতো অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় সব বিষয় শেখানো হয়, যার ফলে সেখানেও ধনী অভিভাবকদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।   এমনকি এই অভিজাত ক্যাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট ইউনিফর্মের কঠোর নিয়ম থাকলেও নামী ব্র্যান্ডের দামি নাইটড্রেস, দামি প্রসাধনী এবং বিলাসবহুল ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলে ধনী সন্তানদের মাঝে। ক্যাম্পের জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য ‘ডেনি’স অ্যান্ড লেস্টার’স’-এর মতো নামী বিপণিবিতানগুলোতে অভিভাবকরা জানুয়ারি মাস থেকেই বুকিং দেওয়া শুরু করেন, যেখানে শুধু কেনাকাটাতেই একেকজন অভিভাবক ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেন। ক্যাম্প শুরুর পর অভিভাবকরা দামি গাড়ি বা আরভি ভাড়া করে ক্যাম্পের মাঝামাঝি সময়ে সন্তানদের সাথে দেখা করতে ‘ভিজিটিং ডে’-তে যান এবং তাদের জন্য বিলাসবহুল খাবার ও নানা উপহার নিয়ে আসেন। খরচের অঙ্কটা আকাশচুম্বী হলেও, প্রভাবশালী মহলে সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে অভিভাবকরা এই বিপুল পরিমাণ অর্থকে একবাক্যে স্বার্থক বলেই মনে করছেন।   সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জেপি মর্গান এর সিইও জেমি ডিমোন | ছবি: রয়টার্স
আমেরিকার বিখ্যাত ব্যাংক জেপিমরগান-এ বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ২৪৪ কর্মী

আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ ও ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ‘জেপিমরগান চেজ’ তাদের ব্যবসায়িক পরিচালন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে টেক্সাসের একটি কল সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনের কাছে জমা দেওয়া এক নোটিশের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আগস্ট মাসে এই কল সেন্টারটি বন্ধ হতে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির টেক্সাস ক্যাম্পাস থেকে ২৪৪ জন কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন।   নিউ ইয়র্কভিত্তিক এই ব্যাংকটির নিউ ইয়র্কের বাইরে অন্যতম বৃহত্তম কর্মসংস্থান হাব বা কেন্দ্র হলো টেক্সাসের প্ল্যানো ক্যাম্পাস। এই বড় ক্যাম্পাসে বর্তমানে সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি কর্মী কর্মরত আছেন। সেখানে নতুন এই ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি মূলত এই ক্যাম্পাসের মোট জনবলের প্রায় ২ শতাংশ। তবে একই সাথে সিবিএস নিউজ উল্লেখ করেছে, কল সেন্টারটি বন্ধ করা হলেও প্ল্যানো শাখার প্রতি ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে এবং বর্তমানে ওই লোকেশনে ৮০০-র বেশি শূন্য পদ খালি রয়েছে।   জেপিমরগান চেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত একটি ছোট অপারেশন টিমকে তাদের অন্যান্য বড় অপারেশন সেন্টারের সাথে একীভূত বা কনসোলিডেট করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি জানায়, তারা নিয়মিতভাবে ব্যবসায়িক চাহিদার নিরিখে কর্মী সংখ্যা পর্যালোচনা করে থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ তৈরি বা কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চাকরি হারানো এই ২৪৪ জন কর্মীকে যাতে ব্যাংকের অন্য কোনো বিভাগে পুনর্বাসন বা পদায়ন করা যায়, তার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   ডালাস বিজনেস জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল ‘ওয়ার্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যান্ড রিট্রেনিং নোটিফিকেশন’ আইনের আওতায় ইতিমধ্যে টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট থেকে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং এর ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন ‘ফ্রড স্পেশালিস্ট’ বা জালিয়াতি প্রতিরোধ বিষয়ক পদের কর্মীরা। ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী সেভারেন্স বেনিফিট বা চাকরিচ্যুতির আর্থিক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, কোম্পানির ভেতরে অন্য পদে চলে যাওয়া কিংবা আউটপ্লেসমেন্ট সার্ভিসের মাধ্যমে নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রেও তাঁদের সহায়তা করা হবে।   আমেরিকার শ্রম আইন অনুযায়ী, যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যান্ট বন্ধ করার কিংবা গণছাঁটাইয়ের অন্তত ৬০ দিন আগে কর্মী, সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক। জেপিমরগান চেজও এই নিয়ম মেনেই ৬০ দিনের আগাম নোটিশ দিচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান এই আইন অমান্য করলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ৬০ দিনের বকেয়া বেতন ও সুযোগ-সুবিধা জরিমানা হিসেবে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। একই সাথে স্থানীয় সরকারকে দৈনিক ৫০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত ট্রাম্প, জরুরি সহায়তার ঘোষণা

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে ওয়াশিংটন দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে।   বুধবার (২৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “ভেনেজুয়েলার মহান জনগণের ওপর আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্প অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।”   এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ফেডারেল সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, এই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে থাকবে।   তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা কার্যক্রম শুরু হতে পারে।   এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় ক্যারিবীয় উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপ এলাকার কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। এর প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।   প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পরপরই ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পের প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।   তবে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার, উদ্ধারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় স্টুডেন্ট লোনে বড় ছাড়, স্বস্তিতে লাখো ঋণগ্রহীতা

ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ বা অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত গ্রাহকদের জন্য সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড় পাবেন।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পর নেওয়া যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের গ্রাহকেরাই অতিরিক্ত সুদ-ছাড়ের আওতায় আসবেন।   অটো-পে হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ অটো-পে ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। তবে মহামারির পর সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এই হার পুনরায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অটো-পে ব্যবস্থায় বেশি মানুষকে যুক্ত করা গেলে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা ইতোমধ্যে অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সুদ-ছাড়ের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যারা এখনও অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত নন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় নাম নিবন্ধন করে ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই সুদ-ছাড় কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নতুন নীতির ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   সূত্র: মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রস্তাবে আমেরিকায় গ্রাহকদের ক্ষোভ, কাঠগড়ায় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এক্সেল এনার্জি' গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, নিয়মিত চড়া বিল পরিশোধ করলেও তারা কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না। গত মঙ্গলবার কলোরাডো পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের এক গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ এই ক্ষোভের কথা জানান। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেল এনার্জি শুরুতে রাজ্য সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৩৫৫.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের আবেদন করেছিল। তবে গ্রাহকদের প্রবল আপত্তির মুখে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২২৪.৯ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কলোরাডোর একজন সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৫.৮৬ শতাংশ বা মাসে গড়ে ৬.১৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাবে।   কলম্বাইন নোলস এলাকার বাসিন্দা ক্যারি কার্টার শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে, সেখানে কেন বাড়তি বিল দেওয়া হবে? তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে তাদের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো সপ্তাহান্ত জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে তাদের। এতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়া, ক্যাম্পিং স্টোভে রান্না করা এবং তীব্র গরমে বরফ কিনে খাবার তাজা রাখার মতো বাড়তি মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এমনকি অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীকে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল।   গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বলেন, এক্সেল এনার্জি যেহেতু এই অঞ্চলে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, তাই সেবার মান উন্নত না করে তাদের বিল বাড়ানোর কোনো অধিকার নেই।   এদিকে এক বিবৃতিতে এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে তারা কলোরাডোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার পোল পরিবর্তন, ৪০০ মাইলের বেশি নতুন সঞ্চালন লাইন এবং নতুন সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, এই বিল বৃদ্ধির হার বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম এবং কলোরাডোর মানুষের বিদ্যুৎ বিল এখনো আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যের গড় বিলের চেয়ে কম রয়েছে।   তবে গ্রাহক ক্যারি কার্টারের মতে, এটি এখন স্রেফ বিশ্বাসের বিষয়। তিনি বলেন, "আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের এলাকায় সেবার কোনো উন্নতিই চোখে পড়েনি।" বিল বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বর্তমানে পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
২০২৬ সালের বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্স তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন্স

বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের 'এয়ারলাইন প্যাসেঞ্জার এক্সপেরিয়েন্স অ্যাসোসিয়েশন' (APEX) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বৈশ্বিক তালিকায় গ্রাহকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য শীর্ষস্থান অর্জনকারী বিমান সংস্থাগুলোকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এবারের ফলাফল বেশ হতাশাজনক।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিমান সংস্থা হিসেবে বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্সের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে ডেল্টা এয়ারলাইন্স। মূলত ১,২০০টি উড়োজাহাজে বিনামূল্যে উন্নত ওয়াই-ফাই সেবা দেওয়ার অনন্য নজির গড়ে বৈশ্বিক ক্যাটাগরিতে ‘সেরা ওয়াই-ফাই’-এর পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে বিশ্বের মাত্র ৪০টি বিমান সংস্থার ভাগ্যলিপি হিসেবে খ্যাত 'এপেক্স ফাইভ স্টার গ্লোবাল এয়ারলাইন' পুরস্কারও নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে ডেল্টা।   বিশ্বসেরা বিমান সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় অন্যান্য প্রধান ক্যাটাগরির মধ্যে সেরা কেবিন সার্ভিসের পুরস্কার জিতেছে কোরিয়ান এয়ার। ইন-ফ্লাইট বিনোদনের জন্য সেরা নির্বাচিত হয়েছে এমিরেটস এবং সেরা খাবার ও পানীয় ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কাতার এয়ারওয়েজ। এছাড়া যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক আসনের স্বীকৃতি পেয়ে বিশ্বসেরা নির্বাচিত হয়েছে ইভা এয়ার। এদিকে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পুরস্কারে এবার এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে মেক্সিকোর এরোমেক্সিকো।   যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিমান সংস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো তারা এই অঞ্চলের সামগ্রিক সেরা গ্লোবাল এয়ারলাইন্সের খেতাব লুফে নিয়েছে। এই অঞ্চলে সেরা মেজর এয়ারলাইন্স হিসেবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ, সেরা লো-কস্ট ক্যারিয়ার হিসেবে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং সেরা আঞ্চলিক বিমান সংস্থা হিসেবে জেএসএক্স (JSX) পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় সেরা খাবার ও আরামদায়ক আসনের ডাবল পুরস্কার জিতেছে জেটব্লু এয়ারওয়েজ।   বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০টি বিমান সংস্থার ১০ লক্ষাধিক ফ্লাইটের ওপর নজর রেখে 'ট্রিপইট' (TripIt) অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীদের দেওয়া বেনামী রেটিং ও মতামত বিশ্লেষণ করে এই নিরপেক্ষ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এপেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জো লিডার জানান, যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াই হলো বিমান সংস্থাগুলোর সেবার মান বোঝার সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশক।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের ঘাটতি, ফ্লাইট বাতিল এবং বাড়তি লাগেজ ফির মতো নানা বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় উত্তর আমেরিকায় বিমানযাত্রীদের সার্বিক সন্তুষ্টির হার ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের প্রিমিয়াম ইকোনমি বা 'ডেল্টা কমফোর্ট' শ্রেণির যাত্রীরা অতিরিক্ত লেগরুম, ডেডিকেটেড লাগেজ স্পেস এবং উন্নত খাবার ও পানীয়ের সুবিধার কারণে বিমান সেবায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ব্যর্থ, এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টে বড় ধরনের হামলার এক ভয়াবহ ছক বানচাল করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এই নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অন্তত ১২ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ বা চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো। ড্রোন ও স্নাইপার দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হোয়াইট হাউসে একটি নারকীয় পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তারা।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল। তবে এফবিআইয়ের তৎপরতায় এবং এক সন্দেহভাজনের মায়ের সতর্কতায় ভেস্তে যায় পুরো ব্লুপ্রিন্ট। গত ১০ জুন ওহাইও থেকে টাইসেন প্রপার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়, মূলত যার মায়ের সন্দেহ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে। ছেলের অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তিনি স্থানীয় পুলিশকে জানান। প্রপারের মা জানান, অনলাইনে কিছু কথিত সাবেক সেনা সদস্য ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ছেলের যোগাযোগ ছিল। এই গোষ্ঠীটি মূলত সরকারি দুর্নীতি, জেফরি এপস্টেইন ইস্যু এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।   তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির এই হামলার ছকটি ছিল কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হতো। এর ফলে ইভেন্টে আসা দর্শনার্থীরা ভয়ে হোয়াইট হাউসের আঙিনার বাইরে পালাতে বাধ্য হতেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা স্নাইপার দল তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাত। ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিকসবার্গে জড়ো হয়ে সেখান থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা ছিল তাদের। এমনকি হোয়াইট হাউসের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পরিকল্পনাও ছিল এই চরমপন্থি দলটির।   এই চক্রের হিটলিস্টে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদের নামও ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC)-এর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার কারণে তারা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিকে টার্গেট করেছিল। এদের মধ্যে সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন, জিম জাস্টিস, শেলি মুর ক্যাপিটো এবং প্রতিনিধি ক্যারল মিলার ও রাইলি মুরের নাম উল্লেখযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ প্রপারের ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ট্যাকটিক্যাল পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, হাইস্কুল পাসের পর উপহার হিসেবে পাওয়া তিন হাজার ডলার দিয়ে সে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছিল। এছাড়া অনলাইনে হিটলারের প্রতি সহানুভূতি ও ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন মন্তব্যও করেছিল সে। ১১ জুনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রপার স্বীকার করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘বিপ্লব’ শুরু করার লক্ষ্যেই তারা এই সংঘবদ্ধ হামলার ছক কষেছিল।   এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাইকেল অ্যালান থমাস ও ব্রায়ান ওমা রোয়া, নেব্রাস্কা থেকে আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ এবং মিসৌরি থেকে ড্যানিয়েল এসক্রিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ২৩ সদস্যের এই উগ্রপন্থি গ্রুপটির অনেকেই প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে যুক্ত হয় এবং পরে সিগন্যাল অ্যাপে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত। এই চরমপন্থি দলটি মূলত ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ মতাদর্শ ধারণ করত, যে মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত মাসে সান দিয়েগোর মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় সামনে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ড্রিমারদের দুঃস্বপ্ন, ড্যাকা নবায়ন জটিলতায় কর্মহীন হাজারো অভিবাসী তরুণ

আমেরিকায় অভিবাসী তরুণ বা 'ড্রিমার'রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস বা ড্যাকা (DACA) কর্মসূচির আওতায় থাকা এই তরুণরা তাদের স্ট্যাটাস নবায়নের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নবায়ন প্রক্রিয়ায় এই অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই তাদের চাকরি হারাচ্ছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একসময়ে যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগত, বর্তমানে তা মাসের পর মাস আটকে থাকছে। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল শৈশবে নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের নির্বাসন থেকে রক্ষা করা, যা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।   ক্লাউদিয়া নামের এক ড্রিমার গত ডিসেম্বরে তার ড্যাকা নবায়নের আবেদন করেছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে আমেরিকায় আসা এই তরুণী জানান, নির্ধারিত সময়ে আবেদন ও সব নিয়মকানুন মেনে বায়োমেট্রিক্স সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তিনি কোনো উত্তর পাননি। ওয়ার্ক পারমিটের (কাজের অনুমতি) মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার শিক্ষা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি 'ব্যক্তিগত আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সিজার নামের আরেক তরুণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এইচআর (HR) বিভাগের চাকরি হারিয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় বুরিটো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হতাশাগ্রস্ত সিজার বলেন, "মনে হচ্ছে আমি আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এখানেই বড় হয়েছি, আমাদের কমিউনিটি এখানেই, আর এখন মনে হচ্ছে আমাদের আমেরিকান স্বপ্নটা হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেছে।"   এই প্রশাসনিক বিলম্ব এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ড্রিমাররা ক্রমবর্ধমান বৈরিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে গত এক বছরে শত শত ড্যাকা গ্রহীতাকে গ্রেপ্তার ও অনেককে বিতাড়িত করা হয়েছে। প্রশাসন যদিও দাবি করছে যে তারা অপরাধের রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করছে, তবে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নির্বাসনের মুখোমুখি হওয়া ৭৭ শতাংশ মানুষেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০০টি ভিন্ন দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি সক্রিয় ড্যাকা গ্রহীতা রয়েছেন, যারা মার্কিন অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রেখে চলেছেন। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ইউনাইটেড উই ড্রিমের উপ-পরিচালক জুলিয়ানা ম্যাসেডো দো নাসিমেন্তোর মতে, এই বিলম্ব আসলে ড্রিমারদের কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে ফেলার একটি সুকৌশল। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ড্যাকা গ্রহীতাদের জন্য নতুন কিছু কাজের বিধিনিষেধও প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে নিয়োগকর্তাদের 'ই-ভেরিফাই' ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যতম। ম্যাসেডো দো নাসিমেন্তো একে একটি "ব্যাপক অবৈধকরণ প্রচেষ্টা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।   এদিকে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ড্যাকা দেশে কোনো আইনি বৈধতা দেয় না এবং সংস্থাটি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় অভিবাসীদের আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা মার্কিন কংগ্রেসের কাছে একটি দ্বিদলীয় 'ড্রিম অ্যাক্ট' পাসের আহ্বান জানাচ্ছেন, যা এই তরুণদের স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা ও নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত করবে। দ্য ড্রিম ডট ইউএস-এর প্রেসিডেন্ট গ্যাবি পাচেকো বলেন, বছরের পর বছর অবদান রাখা এই মানুষগুলো আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে সবকিছু হারাচ্ছে, যা আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষ্ঠুর একটি অধ্যায়।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম | ছবি: সংগৃহীত
ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ায় আমেরিকার জর্জিয়ায় এক আইনজীবীর ১ বছরের জেল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় চার বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আমজাদ ইব্রাহিম নামের এক লাইসেন্সধারী আইনজীবীকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস হার্টজবার্গ জানান, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা সত্ত্বেও আমজাদ ইব্রাহিম সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের বিপুল আয় গোপন করেছিলেন।   মার্কিন কর বিভাগ বা আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখার বিশেষ কর্মকর্তা ডিমেট্রিয়াস হার্ডেম্যান এই বিষয়ে বলেন, এই মামলার রায় দেশের সব কর ফাঁকিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। কেউ যদি অবৈধভাবে আয় গোপন করে কর ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইআরএস-এর দক্ষ গোয়েন্দারা জটিল সব জালিয়াতি উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।   আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সাল থেকে ওকালতি পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ কর বছরে জর্জিয়ার জনস ক্রিক এলাকায় বসবাসকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেন। যার ফলে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত ট্যাক্স বকেয়া পড়ে যায়, যা তিনি পরিশোধ করেননি।   তদন্তে দেখা গেছে, কর ফাঁকি দেওয়া ওই চার বছরে আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম অন্তত সাতটি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এই কোম্পানিগুলো থেকে নিজের আসল আয় গোপন করার জন্য তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নামে কমপক্ষে ৭০টি চেক ইস্যু করেছিলেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার।   গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন জেলা আদালতের প্রধান বিচারক লেই মার্টিন মে এক শুনানির মাধ্যমে আমজাদ ইব্রাহিমকে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাভোগের পর আরও দুই বছর তাঁকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বা সুপারভাইজড রিলিজে থাকতে হবে। একই সাথে আদালত তাঁকে আইআরএস-এর বকেয়া বাবদ ১৯ লাখ৩৪ হাজার১১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আলাদাভাবে ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন।   এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমজাদ ইব্রাহিম আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর কর ফাঁকির তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় করা অপরাধ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে আমজাদ ইব্রাহিম ২০১৬ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত বকেয়া ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা এই পুরো জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ৩৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতি আটকে রাখার নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কঠোর আদেশের মুখে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশের সাথে তারা "তীব্র দ্বিমত" পোষণ করলেও মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেলের রায় মেনে নেবে।   গত সপ্তাহে বিচারক ম্যাককনেলের দেওয়া ওই আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আদালতের নির্দেশটি কেবল প্রাথমিক ছিল এবং এটি এখনও "কার্যকর" হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিচারক ম্যাককনেল এই টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক রায় জারি করেন এবং সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি রায়ে স্পষ্টভাবে লেখেন, "এবার আর কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারের দায়িত্ব এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা।"   বিচারকের এই কড়া আলটিমেটামের পর ইউএসসিআইএস-এর উপ-পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো-রয়্যালস শুক্রবার আদালতে একটি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো "আর কার্যকর নেই" বলে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী অভিবাসীর আবেদন পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হলো।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ইউএসসিআইএস এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুন দেওয়া রায়ে ওবামা আমলে নিযুক্ত বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্পের এই নীতি বাতিল করে বলেন, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্রিজ বা আটকে রাখার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ইউএসসিআইএস-এর নেই। তিনি এই নীতিকে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বলে অভিহিত করে বলেন, কেবল জন্মসূত্রের কারণে এই মানুষদের সাথে এমন আচরণ করা অবৈধ।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।   ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।   চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার গ্রামে প্রযুক্তি পার্ক বন্ধের দাবিতে সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক গণভোটের ডাক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত কোয়েটা কাউন্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য বিশাল কম্পিউটার ডাটা সেন্টার বা প্রযুক্তি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘প্রজেক্ট সেল’ নামের আটশ একরেরও বেশি বড় এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ রুখে দিতে তারা সেখানে এক বিশাল গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সামগ্রিক প্রকৃতি রক্ষা করতে এবার সম্পূর্ণ একজোট হয়েছেন আমেরিকার এই প্রান্তিক অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা।   কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর আন্দোলনে ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার স্থানীয় মানুষ নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের নিশ্চিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। যদি এই গণস্বাক্ষর অভিযান সফল হয়, তবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এটি হবে মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে।   সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মানুষই তাদের বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন বড় কোনো প্রযুক্তি পার্ক বা ডাটা সেন্টার তৈরির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের কারণে গ্রামীণ এলাকায় মারাত্মক শব্দদূষণ বাড়বে এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ পড়বে।   পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের গবেষকরাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, এই বিশাল কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণকাজের ফলে স্থানীয় নদীগুলোতে পলি জমে পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সাথে বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।   কোয়েটা কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জমিটিকে গ্রামীণ সংরক্ষণ এলাকা থেকে শিল্প এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্ক নামক শহরটি আমেরিকার প্রথম শহর হিসেবে এই ধরনের ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণভোটে জয়লাভ করেছিল। আমেরিকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও বড় বড় কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন সাহস জোগাচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০