ড্রোন হামলা

ছবি: রয়টার্স
রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন ও গোলাবর্ষণ, দুই পক্ষেই বেসামরিক নিহত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে উভয় পক্ষেই বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় সীমান্তসংলগ্ন একটি গ্রামের কাছে একটি গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইয়েগর কোভালচুক টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছেন।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ১২৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।   এদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানীমুখী একাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, শনিবার মস্কোর দিকে অন্তত ২৪টি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।   অন্যদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা জানিয়েছেন, নিকোপোল শহরে রাশিয়ার ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।   দনিপ্রো নদীর তীরে অবস্থিত নিকোপোল শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীত পাশে অবস্থিত। শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।   এদিকে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশের প্রধান ডেনিস পুশিলিন দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় হরলিভকা ও মাকিইভকা শহরে দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।   রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই নিয়মিত একে অপরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের অভিযোগ করে আসছে। তবে এসব দাবির সত্যতা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সামরিক স্থাপনায় মুহুর্মুহু মার্কিন হামলা l ছবি: সংগৃহীত
তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ইরানের সামরিক স্থাপনায় মুহুর্মুহু মার্কিন হামলা

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।   মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব দিতেই এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় ইরান।   এই ঘটনার পরপরই মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, ড্রোন সংরক্ষণের গুদাম এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা পরিচালনা করে।   তবে ইরানের ঠিক কোন কোন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে, সেন্টকমের ওই বিবৃতিতে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে মার্কিন বিমান হামলা l ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা

হরমোজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার কড়া জবাব হিসেবে শুক্রবার (২৬ জুন) ইরানের ওপর সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সামরিক পদক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেন্টকম জানায়, বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এম/ভি এভার লাভলি’-তে ইরানের ড্রোন হামলার জোরালো প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।   মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মূলত ইরানের মিসাইল ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হেনেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার সময় কার্গো জাহাজটি ওমান উপকূল ঘেঁষে হরমোজ প্রণালি অতিক্রম করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এই অকারণ আগ্রাসন সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।   এদিকে, ইরানে এই প্রতিশোধমূলক হামলার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সামনে আসে। বৃহস্পতিবার হরমোজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে ইরানকে কোনো পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে কি না— ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "আপনারা শিগগিরই তা দেখতে পাবেন।" আর এর পরপরই ইরানে এই মার্কিন হামলার খবর প্রকাশ্যে এলো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
এক রাতেই ৬৬০ ড্রোন হামলার দাবি রাশিয়ার
এক রাতেই ৬৬০ ড্রোন হামলার দাবি রাশিয়ার, সব ভূপাতিত করার কথা বলছে মস্কো

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক রাতেই ৬৬০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন—এমন দাবি করেছে ক্রেমলিন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিকে এক রাতে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।   শুক্রবার (২৬ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোনের সবকটিই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানী মস্কোসহ এক ডজনের বেশি অঞ্চলের আকাশে এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরসংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। সরকারি তথ্য প্ল্যাটফর্মে এই বিবরণ প্রকাশ করা হয়।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলেও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে। ওই অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ জানিয়েছেন, শেকিনো জেলার একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নারী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।   এর আগে গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে, যা কয়েক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন দীর্ঘায়িত সংঘাতে পরিণত হয়েছে। স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষের ভেতরে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে জোর দিচ্ছে।   এই সর্বশেষ হামলার ঘটনায় যুদ্ধের বিস্তার ও তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও রাশিয়া সব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: এএফপি

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মস্কোর তেল শোধনাগার অচল, উৎপাদন বন্ধ অন্তত ছয় মাস

রয়টার্সের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর মস্কোর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত একটি বড় তেল শোধনাগারের উৎপাদন অন্তত ছয় মাসের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গত বুধবার এই তথ্য জানানো হয়। গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনাটিতে গত ১৬ জুন প্রথম হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারটির ৫৩ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিস্টিলেশন (পাতন) ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে। এরপর ১৮ জুন দ্বিতীয় হামলায় অপেক্ষাকৃত আধুনিক 'ইউরো+' ইউনিটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বাকি ৪৭ শতাংশ উৎপাদনের জন্য দায়ী ছিল।   সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের একজন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মস্কোর এই শোধনাগারটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। রয়টার্সের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই শোধনাগারটিতে ১১.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল পরিশোধন করা হয়েছিল, যা থেকে ২.৯ মিলিয়ন টন পেট্রোল এবং ৩.২ মিলিয়ন টন ডিজেল উৎপাদিত হয়। তবে গ্যাজপ্রম নেফট-পরিচালিত এই স্থাপনার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রুশ কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।   চলতি বসন্তকাল থেকে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেন তাদের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদনের একটি বড় অংশের যোগানদাতা স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নতুবা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে বাধ্য হয়ে জ্বালানি রেশনিং বা সীমিতকরণ ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে।   এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতিতে। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে পেট্রোলের গড় দাম ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ জুনের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৬৯.১১ রুবেলে (প্রতি গ্যালন ৩.৫৬ মার্কিন ডলার) গিয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের বর্তমান অবস্থা 'চ্যালেঞ্জিং হলেও তা এখনো কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে'। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, পেট্রোল এবং জেট ফুয়েল রপ্তানির ওপর বর্তমানে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তার পাশাপাশি এখন ডিজেল রপ্তানির ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
মস্কোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৫

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সোমবার ভোরে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয় বলে জানায় মস্কোর প্রশাসন। একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, শহরের দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব স্থানে ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান কয়েকটি বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো, ডোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকভস্কি সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করে। পরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে সেগুলো পুনরায় চালুর কথা জানানো হয়।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সার্বিকভাবে রাতভর ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত ড্রোনও রয়েছে।   এর আগে কয়েক দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানে, যা ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর শহরটিতে অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়।   অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে একজন মিশরীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন।   সুমি অঞ্চলের প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী দাদি। একই ঘটনায় শিশুটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান।   অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি কৃষি স্থাপনায় যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন ধরে যায়।   এছাড়া রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরে সব ধরনের উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে সাধারণ জ্বালানি বিক্রি সীমিত করে শুধুমাত্র সরকারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   রুশ নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পালাউ ও বেলিজ পতাকাবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তুরস্কের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে এক মিশরীয় ক্রু নিহত এবং কয়েকজন নাবিককে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, দক্ষিণ ফ্রন্টে অস্থিরতা

রাশিয়ার দক্ষিণ ফ্রন্টে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের মধ্য-পাল্লার ড্রোন হামলা রুশ লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। ব্রিজ, ট্রেন ও জ্বালানি ট্রাকসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্রিমিয়া ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে সরবরাহ চেইনে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।   ফরাসি ওপেন সোর্স বিশ্লেষক ক্লেমেন্ট মোলিন এবং স্বেচ্ছাসেবী OSINT গ্রুপ জিওকনফার্মডের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি হামলার ভিডিও ও ছবি যাচাই করা হয়েছে। এসব ফুটেজে রুশ জ্বালানি ট্যাঙ্কার, সামরিক ট্রাক এবং রেল নেটওয়ার্কে ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের সরবরাহ রুটগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের “কিল জোন” তৈরি হয়েছে।   ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মধ্য-পাল্লার ড্রোন মিশনের সংখ্যা ২৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের লক্ষ্য রুশ বাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং দখলকৃত অঞ্চলের লজিস্টিক চেইন অকার্যকর করা।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিমিয়া থেকে রুশ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী একাধিক সড়ক এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাইওয়েতে জ্বালানি ট্যাঙ্কার ও সামরিক যানবাহনে নিয়মিত হামলার কারণে পরিবহন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলো একাধিক সড়ক ও সেতু লক্ষ্য করে আঘাত হানায় বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে রুশ বাহিনী। তবে সেসব বিকল্প রুটও হামলার ঝুঁকির বাইরে নেই বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সামরিক সূত্র।   ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগকারী কের্চ ব্রিজ এখন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে আরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ড্রোন কৌশল রুশ বাহিনীর জন্য “লজিস্টিক লকডাউন” তৈরি করছে, যার ফলে সামনের সারিতে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে।   রুশ সামরিক ব্লগারদের দাবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ঘাটতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। রাশিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মস্কোয় আগুনের নরক! ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়ার তেল সাম্রাজ্য

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে এই প্রথম রুশ রাজধানী মস্কোয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই নজিরবিহীন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফটের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   হামলার পর কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী মস্কোর আকাশকে পুরোপুরি আচ্ছন্ন করে ফেলে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও, বেশ কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে এই বৃহৎ আকারের হামলা প্রতিহত করতে কাজ শুরু করে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে মস্কোর জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহকারী এই গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারটি ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও এই স্থাপনাটিতে আরেকটি সফল হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে ইতিমধ্যে সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।   এই দফায় উপর্যুপরি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের এই রেকর্ডসংখ্যক ড্রোন হামলা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করেনি, বরং সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যেও তৈরি করেছে তীব্র আতঙ্ক। শোধনাগারের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পূর্ব মস্কোর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর ৫টা থেকেই বিমান বিধ্বংসী গোলার তীব্র শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। হামলার পর সংলগ্ন এলাকায় বিষাক্ত ছাই ও ধোঁয়া মিশ্রিত ক্ষতিকর কালো বৃষ্টির (ব্ল্যাক রেইন) সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে বাড়ির ভেতরে থাকার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।   তবে এই চরম সংকটের মাঝেও সাধারণ নাগরিকদের ফোনে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক বার্তা বা এসএমএস অ্যালার্ট না পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।   এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। দেশের ব্যস্ততম শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরসহ মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর সমস্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং বিমানের যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লট এবং রোসিয়া ইতিমধ্যেই ১৭০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।   একই সঙ্গে মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাজানেও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের সাথে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন। পুতিন প্রকাশ্যে হামলার বিষয়ে কথা না বললেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনকে এর জন্য চরম মূল্য চোকাতে হবে এবং রাশিয়া এর পাল্টা জবাবে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে ইউক্রেনীয় শহরগুলোর ওপর চালানো রুশ বর্বরতার একটি ‘সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায় প্রতিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে এই অর্থনৈতিক আঘাতের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনকে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।   এই বসন্ত থেকেই ইউক্রেন কৌশলগতভাবে রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোকে টার্গেট করে আসছে, যা ইতিমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে তীব্র জ্বালানি সংকট ও রেশনিং ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল रूप নিয়েছে যে, চলমান গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও কৃষি মৌসুমের মাঝেই রাশিয়াকে দূরবর্তী এশিয়া থেকে সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরে সর্বোচ্চ ড্রোন হামলা, মস্কোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণ—দাবি রুশ গণমাধ্যমের

ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।   এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে।   ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ রয়টার্স
মস্কোসহ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, একাধিক স্থানে আগুন

রাতের আঁধারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে আগুন ধরে গেছে। এই হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, মধ্য মস্কো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে অন্তত একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, ইউক্রেন রাতারাতি রুশ রাজধানীর দিকে প্রায় ৬০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় ড্রোনটি ওই শোধনাগারে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেটি বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হচ্ছে।   তিনি এই হামলাকে ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের একটি 'ন্যায্য জবাব' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, "মস্কো অঞ্চল আজ ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার আঁচ টের পেয়েছে।"   মেয়র সোবিয়ানিন জানান, এই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে এই ঘটনার ফলে ওই তেল শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, পুরো মস্কোর প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করে এই শোধনাগারটি। পরবর্তীতে জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাজপ্রম নেফ্ট স্থাপনার আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার পর ওই এলাকায় যান চলাচল সীমিত করে দেন পরিবহন কর্মকর্তারা।   অন্যদিকে, ক্রাসনোদার অঞ্চলের স্থানীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সেন্টার জানিয়েছে যে, একটি ড্রোনের আছড়ে পড়ার ফলে পোলতাভস্কায়া তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এই ডিপোটি মূলত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ১৪টি অঞ্চল এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা অন্তত ১৭২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।   চলতি বসন্তকাল থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম থেকে ক্রেমলিন যেন কোনো অতিরিক্ত মুনাফা বা সুবিধা নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল বেছে নিয়েছে কিয়েভ। অব্যাহত এই ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম উৎপাদনের বড় অংশের জন্য দায়ী স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।   রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এপি
হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৫

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হেফাজতে ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।    তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজনরা হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল।    এফবিআই ১০ জুন সম্ভাব্য এই ষড়যন্ত্রের তথ্য পায় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে একাধিক অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালের বিভিন্ন চ্যাটও খতিয়ে দেখছেন।    এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, এফবিআই, বিচার বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সমন্বিত অভিযানের ফলে পরিকল্পিত হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।    উল্লেখ্য, ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টটি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এতে কয়েক হাজার দর্শক অংশ নেন।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় বাড়ছে অস্বস্তি, যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনে

রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। মস্কো অঞ্চলের আবাসিক ভবন, সেন্ট পিটার্সবার্গের আশপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জনমনে অস্বস্তি ও যুদ্ধ ক্লান্তির অনুভূতি বাড়ছে।   গত ১৭ মে মস্কোর উপকণ্ঠের জেলেনোগ্রাদ এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হন ৫৬ বছর বয়সী এলেনা ভ্লাদিমিরোভনা। ভোররাতে ড্রোনের শব্দে ঘুম ভাঙার পর তিনি জানালা দিয়ে একাধিক ড্রোন দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর একটি বিস্ফোরণে তার অ্যাপার্টমেন্টের একটি কক্ষে আগুন ধরে যায়।   এলেনা জানান, তিনি ও তার ছেলে প্রথমে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা পোষা কুকুরকে নিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। ওই হামলায় ভবনের কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি।   রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন ইউক্রেন ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে মস্কো অঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত হন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই হামলাকে “সম্পূর্ণ ন্যায্য” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ইউক্রেন রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন।   রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মস্থান সেন্ট পিটার্সবার্গেও সম্প্রতি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালে শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। পরে নতুন হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   ক্রনস্টাড এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রাতভর ড্রোনের গুঞ্জন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দে ঘুমানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ভবনটি আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত ছিলেন। ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের আঘাতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় পেট্রোল রেশনিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে।   এদিকে অর্থনৈতিক সংকোচন, ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।   ফ্রান্সভিত্তিক গবেষক ও সামাজিক নৃতত্ত্ববিদ আলেকজান্দ্রা আরখিপোভা বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর বাসিন্দাদের কাছে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে যুদ্ধ তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে না। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।   জেলেনোগ্রাদের বাসিন্দা ম্যাকসিম, যিনি নিরাপত্তার কারণে নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, ড্রোন হামলার পর তার বাসার দরজা কর্তৃপক্ষ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছে। এতে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।   তিনি বলেন, “মানুষ মারা যাচ্ছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই যুদ্ধের সমাপ্তি হওয়া উচিত।” রাশিয়ার স্বাধীন জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টারের এপ্রিল মাসের এক জরিপে দেখা যায়, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা শান্তি আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন ২৭ শতাংশ।   মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে খিমকি শহরেও একই দিনে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে। স্থানীয় বাসিন্দা নাদেজদা বলেন, হামলার পর থেকে সামান্য শব্দেও তিনি চমকে ওঠেন। আরেক বাসিন্দা ইয়েলেনা জানান, হামলার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে ড্রোনের শব্দ শুনেছেন তারা। তার প্রত্যাশা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শিশু নিহতের ঘটনার জবাবে ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক পাল্টা হামলা

রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া জ্বালানি অবকাঠামোতেও আঘাত হানা হয়েছে।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় বন্দরনগরী তুয়াপসে ৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয় বলে জানিয়েছে মস্কো।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত ৬ সেনা, নিরাপত্তা দাবিতে পেন্টাগনকে চ্যালেঞ্জ মার্কিন সেনাদের

গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় মার্কিন রিজার্ভ বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটিকে প্রথম বড় ধরনের মার্কিন সামরিক প্রাণহানি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে এই হামলাকে ঘিরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ও ঘটনাস্থলে থাকা সেনাদের বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি স্থাপনায় ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যা উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে প্রবেশ করেছিল।   কিন্তু আহত সেনাদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা জানিয়েছেন, হামলার আগে সতর্ক সংকেত দেওয়া হলেও পরে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণার কিছু সময় পরই ড্রোনটি সরাসরি আঘাত হানে। তাদের দাবি, যে স্থাপনাটিকে সুরক্ষিত বলা হচ্ছে, বাস্তবে সেটি ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং তারা যথেষ্ট প্রস্তুত ছিলেন না।   একজন সেনা সদস্যের বর্ণনায়, বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ছিল ভয়াবহ—চারপাশ কেঁপে ওঠে, ধোঁয়া ও ধুলায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা।   হামলার পর উদ্ধার তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আহত সেনাদের অভিযোগ, দ্রুত সহায়তা না পেয়ে তারা নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে বাধ্য হন এবং পরে বেসামরিক যানবাহনে করে হাসপাতালে যেতে হয়।   এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সেনাদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়—কারণ কোনো সতর্ক সংকেত শোনা যায়নি।   সব মিলিয়ে, এই ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।   সূত্র: এনডিটিভি

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এতে বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।   দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি জানান, ইরান এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হামলায় একটি জ্বালানি ট্যাংকারে আঘাত হানার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।   তিনি আরও জানান, জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ওই ঘটনার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় ইরান। এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের অভিযোগ, কিছু আরব দেশ তাদের বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।   এদিকে, একই দিনে বাহরাইনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতে আগুন লেগেছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। তবে ঠিক কোন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলোকেও তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।   সূত্র: আলজাজিরা

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণ! আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়? কি ঘটছে ইরানে?

ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ মার্চ) ভোরে এ ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। Fars News Agency জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।   অন্যদিকে Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের সাংবাদিকরা সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর তেহরানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এ সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে।   পরবর্তীতে Al Jazeera জানায়, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একাধিক বিস্ফোরণের পর একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে।   তবে এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক বসতিও রয়েছে, ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি স্পষ্ট নয়।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। চলমান এই সংঘাতে তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ড্রোন হামল
ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলা প্রতিহত, সিরিয়ায় রক্ষা পেল মার্কিন ঘাঁটি

সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করেছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে সিরিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হামো জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলের কার্সাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরাক থেকে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে সেগুলো আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে।   তিনি বলেন, “এই হামলার জন্য ইরাককে দায়ী করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”   এর আগে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-তানফ ঘাঁটিতেও একই ধরনের ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই ঘাঁটিতে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি ছিল।   আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলছে, ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশেষ করে ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনভিত্তিক সংগঠনগুলো ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর সমন্বিত রকেট ও ড্রোন হামলা
ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর সমন্বিত রকেট ও ড্রোন হামলা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) ভোর থেকে এ হামলার কারণে উত্তর ইসরাইলের শহর ও গ্রামে সাইরেন বাজতে শুরু করে।   হিজবুল্লাহ একাধিক বিবৃতিতে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় মেতুলা শহরে রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এরপর সকাল ৬টা ২০ মিনিটে শ্তুলা গ্রামে হামলা চালানো হয়।   এছাড়া হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, অধিকৃত গোলান মালভূমির রাওইয়া সামরিক ঘাঁটিতে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে গাজার গ্রামের একটি স্থাপনাকেও রকেট হামলার লক্ষ্য করা হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে ড্রোন ডিপোতে ইরানের হামলার দাবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ ইউক্রেনের একটি ড্রোন-বিধ্বংসী অস্ত্রের ডিপোতে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) চালানো ওই হামলায় ডিপোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।   ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ড–এর এক মুখপাত্র দাবি করেন, হামলার সময় সেখানে ২১ জন ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর ডিপোর ভেতরের অবস্থা স্পষ্ট না হওয়ায় তাদের সবাই নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গোপন স্থাপনা লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা ইউক্রেনের ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থার ডিপোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।   তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংস্থাটির মুখপাত্র জর্জি তিখি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান প্রায়ই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে।   এর আগে শনিবারই এক অনানুষ্ঠানিক সফরে আমিরাতে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সফরকালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান। তার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ড্রোন ডিপোতে হামলার দাবি সামনে আসে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় আমিরাতের অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় ব্যাপক ক্ষতি, আহত বহু কর্মী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান Emirates Global Aluminium-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে স্থাপনাটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।   শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আবুধাবির Khalifa Economic Zone-এ অবস্থিত আল তাওইলাহ উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া মিসাইল ও ড্রোনের আঘাতে কারখানার বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু কর্মী আহত হলেও কারও অবস্থা গুরুতর নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।   এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছিল, খলিফা অর্থনৈতিক জোন এলাকায় মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এবং এতে একাধিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার একদিনেই ইরান তাদের লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ৩৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে এর মধ্যে কতগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৯৮টি মিসাইল এবং ১,৮৭২টি ড্রোন প্রতিহত করেছে আমিরাত। এদিকে, ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন সামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্পাঞ্চলে আগুন
আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্পাঞ্চলে আগুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে একটি শিল্পাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। খবর এএফপি থেকে পাওয়া গেছে।   আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করতে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরান হামলা জোরদার করছে।   আবুধাবি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, খলিফা ইকোনমিক জোনস এলাকায় দুটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তার ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত করেছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০