বিশ্বের প্রভাবশালী জি-২০ জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে সৌদি আরব। দেশটির জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিসটিকস সম্প্রতি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ডেটা ব্যবহার করে একটি বিশেষ নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, উন্নত বিশ্বের বহু দেশকে পেছনে ফেলে নাগরিক সুরক্ষায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সৌদি আরবের সামগ্রিক জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ রাতের বেলা নিজের এলাকায় একা হেঁটে চলাফেরা করাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করেন। ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ নাগরিকদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই রাতে একা চলাচলে কোনো ধরনের ভীতি অনুভব করেন না। এই পুরুষদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ বিষয়টিকে 'খুবই নিরাপদ' এবং ১১ শতাংশ 'কোনোভাবে নিরাপদ' বলে উল্লেখ করেছেন। জননিরাপত্তার এই তালিকায় সবচেয়ে ইতিবাচক ও চমকপ্রদ চিত্র উঠে এসেছে দেশটির নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে। তথ্য অনুযায়ী, সৌদিতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশই রাতের অন্ধকারে নিজ এলাকায় একা হাঁটাকে নিরাপদ মনে করেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই রাতের পরিবেশকে 'খুবই নিরাপদ' বলে রেটিং দিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তরুণ বা যুবকদের পাশাপাশি দেশটির প্রবীণ ও বয়োবৃদ্ধ নাগরিকেরাও রাতের বেলা একা যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে সৌদি আরবের এমন অবস্থান দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার এক বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের শক্তিশালী জি-২০ জোটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বড় বড় পরাশক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকান ইউনিয়নও এই জোটের অংশ। এই সমস্ত অঞ্চলের জননিরাপত্তার মানদণ্ডকে ছাড়িয়ে সৌদি আরবের এই অর্জন বৈশ্বিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উন্মুক্ত নথিপত্র এবং বিভিন্ন ছবি বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, এই গোপন অস্ত্র বিক্রির তালিকায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট এবং বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিরক্ষা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী দুই আরব দেশের সাথে ইসরাইলের এই অস্ত্র বাণিজ্যের খবর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ১১টি বিমানের মধ্যে অন্তত তিনটিতে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এলবিটের তৈরি বিশেষ ‘সি-মিউজিক’ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। জনসমক্ষে আসা বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে যখন বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল, মূলত তখনই এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থাগুলো যুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কোটি ডলারের সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপ-চুক্তি লাভ করেছিল। এই চুক্তির অধীনে কাতারি যুদ্ধবিমানের জন্য প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের ১৬০টি জেএইচএমসিএস কম্পিউটারাইজড হেলমেট এবং এএন/এভিএস-৯ নাইট ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়। একইভাবে সৌদি আরবের কাছেও ইসরাইলি সামরিক প্রযুক্তি পৌঁছানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোয়িং কোম্পানির মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫ এসএ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তির অংশ হিসেবে রিয়াদকে ৪৬২টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং সমসংখ্যক নাইট ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়েছিল। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সৌদি বিমানবাহিনী বর্তমানে এই হেলমেটগুলো ব্যবহার করছে। কাতারের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কিছু সদস্যের সঙ্গে দোহার গোপন যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে ‘কাতারগেট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে দুই প্রভাবশালী আরব দেশের কাছে ইসরাইলি যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রার যোগ করেছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত ১৪ জনই সৌদি নাগরিক। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সৌদি আরামকোর মালিকানাধীন ছিল। সৌদি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি। দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরামকো জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিঘ্নের কারণে তারা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেলের একটি অংশ বিকল্প পথে রপ্তানি করছে। তবে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সঙ্গে এ পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আফ্রিকার তিন দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে ওই দেশগুলো থেকে আগত যাত্রীদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান ও সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এবং দেশটির পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আগত ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ইবোলার সম্ভাব্য বিস্তার রোধে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু সরাসরি ওই তিন দেশ থেকেই নয়, অন্য কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে প্রবেশ করতে চাইলেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এছাড়া সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে ডিআরসি, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ওয়াকায়া বলেছে, সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার ঠেকাতে দেশটির স্বাস্থ্যঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ও মহামারি মোকাবিলা ব্যবস্থা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশ হালনাগাদ করা হবে। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, ইবোলা-প্রভাবিত অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের জন্য প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে দেশটির জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইবোলার সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করেছে। বিশেষ করে ডিআরসি, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম তেল রপ্তানি টার্মিনাল রাস তানুরা থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের শিপিং প্রতিষ্ঠান বাহরির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বর্তমানে রাস তানুরা বন্দরে অপরিশোধিত তেল লোড করছে। এছাড়া আরও একটি জাহাজ বন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। জাহাজগুলোর তেল লোডিং কার্যক্রম সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র থেকে পুনরায় রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিটি ভিএলসিসি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে সক্ষম। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টার মধ্যে এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু করল। বিশ্লেষকদের মতে, রাস তানুরা থেকে রপ্তানি পুনরায় চালু হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আফ্রিকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে পূর্বসতর্কতা হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে নিজেদের নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিনটি দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান এবং দেশটিতে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই জরুরি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৈশ্বিক মহামারী রুখতে এবং দেশের অভ্যন্তরে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতেই মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের পাবলিক হেলথ অথরিটি বা উইকায়া জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল সরাসরি আসা যাত্রীদের জন্য নয়, বরং গত ২১ দিনের মধ্যে এই তিনটি আক্রান্ত দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরবে আসতে চাওয়া ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে। ইবোলার মতো ছোঁয়াচে রোগ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে কোনোভাবেই দেশের ভেতর প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্যই এই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। দেশের প্রবেশপথগুলোতে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। উইকায়ার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সৌদি আরবের স্বাস্থ্য নজরদারি ও মহামারী মোকাবিলা ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করছে। এর পাশাপাশি ইবোলা আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী অঞ্চল যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্যও পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে রিয়াদ। এসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রবেশপথে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে বর্তমানে সৌদি আরবের সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে। এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলো চালু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত কিংবা রেকর্ড করা হয়নি। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরবর্তী সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত আপডেট করা হবে। সূত্র: গালফ নিউজ
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সৌদি আরবে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি পাকিস্তানি ভিক্ষুককে আটক করা হয়েছে। শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও (ইউএই) পাকিস্তানি নাগরিকদের এভাবে দলে দলে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে খোদ দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এই লজ্জাজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পার্লামেন্টে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, "আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র সৌদি আরব যখন ৫ হাজার ৫০০ ভিক্ষুককে আটক করে আমাদের বলে যে এদের আপনারা পাঠিয়েছেন, তখন আমাদের আর কী করার থাকে? একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন এই বিপুল সংখ্যক ভিক্ষুকদের নিয়ে আমাদের কাছে কৈফিয়ত চায়, তখন আমরা কী জবাব দেব?" মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ পাকিস্তানি প্রবাসী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন, যা দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা রেমিট্যান্সের মূল উৎস। কিন্তু সেখানে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক ভিক্ষাবৃত্তি সিন্ডিকেট এবং অবৈধ অভিবাসন নেটওয়ার্কের কারণে বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক দীর্ঘদিনের মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে পাকিস্তানকে এখন তীব্র খোঁটা ও কূটনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক এই সংকটের আলোচনার মাঝেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের নাগরিকত্ব ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানোর তথ্যও জানান। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বৈত নাগরিকত্ব চুক্তি রয়েছে এবং আরও পাঁচটি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পাকিস্তান একাধারে চরম অর্থনৈতিক মন্দা, অভ্যন্তরীণ উগ্রপন্থী হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। এই দ্বিমুখী সংকট সামাল দিতে ইসলামাবাদ তাদের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং অবৈধ অভিবাসন রোধকে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ‘গাস ফ্রিং’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি নতুন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অবস্থানকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হওয়ার এই বড় সিদ্ধান্তটি নেন। রোববার (২১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল প্রতিবেদনে হলিউডের এই বর্ষীয়ান ও প্রখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটির জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (জিইএ) চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় সাক্ষ্য বা কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরপরই তিনি সৌদি আরবের একটি স্থানীয় মসজিদে গিয়ে তার নতুন ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্যান্য মুসলিম কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে নামাজ আদায় করেন। জিইএ চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এই বিখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তটি মূলত সৌদি আরবে কাটানো তার চমৎকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মুসলিমদের সাথে কাজের সুবাদে ঘনিষ্ট মেলামেশার ফসল। আরবে অবস্থানকালে তিনি সেখানকার ইসলামি সংস্কৃতি, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় জীবনযাপন এবং প্রোডাকশন টিমের মুসলিম সহকর্মীদের আন্তরিক আচরণ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। অভিনেতা এস্পোসিটো শুটিং চলাকালীন আরবের স্থানীয় সমাজব্যবস্থা, তাদের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি নিজের গভীর মুগ্ধতা ও প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন। এদিকে হলিউডের এই প্রভাবশালী অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মসজিদে নামাজ আদায়ের একটি বিশেষ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রখ্যাত এই অভিনেতা তার ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত নম্র ও সারিবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করছেন, যা বিশ্বজুড়ে তার কোটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করছেন এবং বিশ্বজুড়ে তার এক বিশাল অনুসারী রয়েছে। ব্রেকিং ব্যাড ছাড়াও তিনি ‘বেটার কল সল’ এবং ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাড়াজাগানো আন্তর্জাতিক সিরিজে দুর্দান্ত অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। গাস ফ্রিং চরিত্রের জন্য তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। সৌদি গেজেটের তথ্যমতে, তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মূলত সৌদি আরব তাদের বিনোদন ও চলচ্চিত্র খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকর্ষণের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই চলচ্চিত্রটি তারই একটি অন্যতম অংশ।
ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করে ৫ কোটি ৯৭ লাখ বা প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার (২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সৌদি আরব। শুক্রবার (১৯ জুন) ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সৌদি নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে 'সৌদি প্রোগ্রাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অব ইয়েমেন'-এর (এসপিডিআরওয়াই) মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ তহবিল ছাড় করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, মূলত ইয়েমেন সরকারের আর্থিক বাজেট ঘাটতি কমানো এবং রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের কর্মচারীদের বেতন প্রদান নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই এই সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ইয়েমেন সরকারের আর্থিক প্রবাহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট দূর করতে সরাসরি সাহায্য করবে। একই সঙ্গে ইয়েমেনি রিয়ালের মান স্থিতিশীল রাখা, সাধারণ জনগণের জন্য মৌলিক পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অনুদানের ঘোষণার আগে, ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের মধ্যে ১৫ কোটি বা ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসপিডিআরওয়াই-এর অর্থায়নে এবং ইয়েমেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেওয়া। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্যতম প্রধান মিত্র ও সমর্থক হিসেবে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মানবিক সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি এসেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমানকে একক রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গালফ রেলওয়ে কেবল একটি পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অতিক্রম করে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। জিসিসি পরিবহনমন্ত্রীদের বৈঠকে বলা হয়, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কুয়েত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটি শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা তৈরির জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। একই সঙ্গে কুয়েত পৌর কাউন্সিল সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীবাহী ট্রেন ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত, নিরাপদ ও কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে, যা আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে এই রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বহু বছর ধরে পরিকল্পনাধীন গালফ রেলওয়ে প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ আন্তঃদেশীয় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতায় নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য নতুন করে কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌদি আরবের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিউয়া’ (Qiwa)-এর নতুন নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে দ্য ইকোনোমিক টাইমস। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি হোল্ডারদের জন্য নির্ধারিত এই ওয়ার্ক পারমিটের ফি ধরা হয়েছে ১০০ সৌদি রিয়াল। সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কিউয়া প্ল্যাটফর্ম দেশটির শ্রমবাজার সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটালভাবে পরিচালনা করে থাকে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, পদত্যাগ প্রক্রিয়া এবং ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। কিউয়ার নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ করা হবে কোম্পানির আকার এবং ইউনিফায়েড নম্বরের আওতায় নিবন্ধিত কর্মীর সংখ্যার ভিত্তিতে। অর্থাৎ বড় কোম্পানি ও বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ফি কাঠামো ভিন্ন হবে। এছাড়া সৌদি সরকারের ‘তামহীর’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় থাকা চুক্তিগুলো এখন থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। তবে এসব প্রশিক্ষণ চুক্তি সৌদিকরণ নীতির হিসাব বা বিদ্যমান কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে গণ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। পেমেন্ট ব্যবস্থাতেও এসেছে আধুনিকায়ন। সেবা ফি পরিশোধ করা যাবে ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট সিস্টেম এবং কিউয়ার ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে। পদত্যাগ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তা আবেদন গ্রহণ বা স্থগিত না করলে কর্মীরা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করতে পারবেন। তবে নোটিশ পিরিয়ডের শর্ত চাকরির চুক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে ভিসা সংক্রান্ত নিয়মেও কঠোরতা আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একবার ভিসা ইস্যু হওয়ার পর তার কোনো তথ্য সংশোধন করা যাবে না। কোনো ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ভিসা বাতিল করে নতুন করে আবেদন করতে হবে। শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। স্থানীয় দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, এই বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটটি পাওয়ার জন্য প্রতি আবেদনকারীকে ১০০ সৌদি রিয়াল ফি প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি কিওয়া প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, কর্মীদের পদত্যাগ এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন মাশুল এক রকম হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার এবং কোম্পানির ইউনিফাইড নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত মোট কর্মকর্তা-कर्मचारियों সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে। এই সেবামূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর এবং কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া, সৌদির জনপ্রিয় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘তামহীর’-এর আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন থেকে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে নথিভুক্ত করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ বা নির্দিষ্ট হারে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবতকতার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। একই সাথে এটি কর্মসংস্থান চুক্তি ডকুমেন্টেশনের বর্তমান কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধাটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি উক্ত সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করে থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখে। পাশাপাশি, চাকরি ছাড়ার আগের নোটিশ পিরিয়ড বা সময়সীমা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া স্পষ্ট করেছে যে একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। যদি ভিসায় কোনো ভুল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই ভিসাটি বাতিল করতে হবে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আরেকটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প রুট ব্যবহার করে ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সৌদি আরব। লোহিত সাগর ঘেঁষা ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে চলতি জুনেই দেশটি ইউরোপের বাজারে আগের চেয়েও বেশি জেট ফুয়েল পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকার কেপলার ও ভরটেক্সার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কেপলারের হিসাবে, জুনের প্রথম সপ্তাহে ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট জ্বালানি পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ভরটেক্সার হিসেবে এই সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই রুট দিয়ে সৌদির দৈনিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৭৭ হাজার ব্যারেল। তবে সাম্প্রতিক এই সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে সৌদি আরব দ্রুত বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরকে ব্যবহার করে ইউরোপমুখী জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই ইউরোপে সবচেয়ে বেশি জেট জ্বালানি যেত এবং তখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিবহন করা হতো। একই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি মিলিয়ে ইউরোপের মোট চাহিদা ছিল গড়ে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বেড়েছে। গত মে মাসে এই দুই দেশ থেকে সম্মিলিত সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। এর আগে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে জুন মাসেই ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে ইউরোপের কয়েকটি বড় এয়ারলাইনস এই আশঙ্কাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের দাবি, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব যদি দীর্ঘমেয়াদে এই বিকল্প রুটে সরবরাহ ধরে রাখতে পারে, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বাড়িয়েছে সৌদি আরব। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার এবং ভরটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ইউরোপে সৌদির জেট ফুয়েল সরবরাহ হরমুজ প্রণালি খোলা থাকার সময়ের তুলনায়ও বেশি হয়েছে। কেপলারের তথ্য বলছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট ফুয়েল রপ্তানি হয়েছে। এটি ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবাহ। অন্যদিকে ভরটেক্সারের হিসাব অনুযায়ী এই সময়কালে রপ্তানির পরিমাণ আরও বেশি, দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে। কেপলারের পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ ছিল জানুয়ারিতে, তখন দৈনিক গড় রপ্তানি ছিল ৭৭ হাজার ব্যারেল। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইউরোপে জেট ফুয়েল রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ হতো, যা ইউরোপের প্রধান জোগানদাতাদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যকে শীর্ষে রেখেছিল। ওই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে মোট আমদানি ছিল প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ লাখ ব্যারেল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এতে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এদিকে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকেও জেট ফুয়েল আমদানি বাড়িয়েছে। মে মাসে এই দুই দেশ থেকে ইউরোপে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হয়েছে।
পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি। মিনা থেকে যাত্রা করে তারা আরাফাতে পৌঁছে দিনভর ইবাদত, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মশগুল থাকেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছেন। জিলহজ মাসের নবম দিনে ফজরের পর থেকেই তাঁরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন। গতকাল মিনায় অবস্থান শেষে হজযাত্রীরা সকালে আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হন। পবিত্র এই প্রান্তরে পৌঁছে তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদত ও আত্মসমীক্ষায় সময় কাটান। হাজিদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় তালবিয়া, তাকবির ও দোয়া। আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকে হজের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই দিনটিকেই হজের পরিপূর্ণতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়। দুপুরের দিকে আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে কসর আদায় করবেন, যা হজের বিশেষ একটি বিধান। হাদিস অনুযায়ী, আরাফাতের দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করেন। এই বিশ্বাস থেকেই হাজিরা দিনটিকে ইবাদত ও প্রার্থনার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিদায় হজের সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। সেখানে ন্যায়বিচার, মানবসমতা ও পারস্পরিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আরাফাতের ময়দানের অন্যতম স্থান ‘জাবাল আর-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়, যেখানে বহু হাজি দোয়ার জন্য সমবেত হন। বিশ্বাস করা হয়, এটি আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। হজযাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবা। এ বছর উচ্চ তাপমাত্রার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং রোদ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তাঁরা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন এবং রাতটি ইবাদত ও বিশ্রামে কাটাবেন। ফজরের পর শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের জন্য সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। পরবর্তী ধাপে ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং ইহরাম পরিবর্তনের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গত এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৪৮৭ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৯১১ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৫৮৮ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৯৮৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬১ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন আরও ৪৩ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেবেন, পরিবহন সুবিধা দেবেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এই অপরাধে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯ হাজার ২৫৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭৯৮ জন নারী। ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এ বছরের হজের প্রথম কাফেলা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পথচলা। মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও খেজুর দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজযাত্রীদের মদিনার মসজিদে নববীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কয়েক দিন অবস্থানের পর হজের মূল কার্যাদি পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আরও অসংখ্য ফ্লাইট মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য পরিবহন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে আলাদা সহায়তা দল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে আগত লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পরিবহন ও লজিস্টিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এবারের হজে আকাশ, স্থল, রেলপথ ও সমুদ্রপথে সমন্বিত পরিষেবার মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি হজ মৌসুমে বিমান চলাচলের জন্য ৩১ লাখেরও বেশি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক হজযাত্রীকে আনা-নেওয়ার জন্য ১২ হাজারেরও বেশি নির্ধারিত এবং চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেদ্দা, মদিনা ও রিয়াদসহ দেশটির ছয়টি প্রধান বিমানবন্দরকে হজের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে ২২ হাজারেরও বেশি অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। হজযাত্রীদের কষ্ট কমাতে এবার 'ব্যাগেজ-ফ্রি ট্রাভেলার' বা লাগেজমুক্ত ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হজযাত্রীদের মালামাল সরাসরি তাদের আবাসন থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া জমজমের পানি পরিবহনেও বিশেষ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ যাতায়াতেও নেওয়া হয়েছে অভাবনীয় পদক্ষেপ। পবিত্র মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের মধ্যে যাতায়াতের জন্য 'মাশায়ের ট্রেন' ২ হাজারের বেশি ট্রিপ দেবে, যার মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। এছাড়া মক্কা ও মদিনার মধ্যে সংযোগকারী হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ৫,৩০৮টি ট্রিপের মাধ্যমে ২২ লাখের বেশি যাত্রী সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সড়কপথের প্রস্তুতি হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছে এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার লাইটিং ইউনিট সচল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩৩ হাজার বাস ও ৫ হাজার ট্যাক্সি সার্বক্ষণিক হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান-এর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করতে রিয়াদ নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বৈঠকে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, সৌদি আরবের এই অর্থ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সামাল দিতে সহায়ক হবে। এর আগে দেশটি পাকিস্তানের কাছে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদও বাড়িয়েছে। ফলে নতুন সহায়তা যুক্ত হয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে পাকিস্তান বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত-কে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সহায়তাকে দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ করা হয়েছে এবং আইএমএফ-এর ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ১.২ বিলিয়ন ডলার শিগগিরই পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও করাচি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়াকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত ও সামরিক ক্ষেত্রেও গভীর। অতীতেও সংকটের সময়ে দুই দেশ একে অপরকে সহায়তা করেছে। সাম্প্রতিক সহায়তাও সেই দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: সামা টিভি।
মার্কিন অবরোধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপের বিপরীতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, আর এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের লক্ষ্য ছিল দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলা। তবে আরব কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিচালিত হয়। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি-তে হামলার মাধ্যমে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে, যার ফলে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায় এবং তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি হরমুজের পাশাপাশি বাব এল-মান্দেব প্রণালীতেও বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এদিকে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীদের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান তাদের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। গাজা যুদ্ধের সময় হুতিরা এই পথে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ওয়াশিংটন। তবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে। তাদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, পবিত্র হজ পালনের জন্য শুধুমাত্র নির্ধারিত ‘হজ ভিসা’ই গ্রহণযোগ্য হবে। এর বাইরে অন্য কোনো ভিসা ব্যবহার করে হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়া যাবে না। দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা স্পষ্ট করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য হজ পালনের একমাত্র বৈধ উপায় হলো সরকার অনুমোদিত হজ ভিসা গ্রহণ করা। অন্য কোনো ধরনের ভিসা ব্যবহার করে হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ভ্রমণ, ট্রানজিট, ওমরাহ বা পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে কেউ হজের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এসব ভিসাধারীদের হজের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে সৌদি আরবের ভেতরে অবস্থানরত নাগরিক ও প্রবাসীদের জন্য আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। তাদের নির্ধারিত সরকারি পদ্ধতির মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে হজের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করে বলেছে, হজ সংক্রান্ত সব বুকিং ও নিবন্ধন শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই করতে হবে। কোনো ভুয়া বা অননুমোদিত মাধ্যমে বুকিং করলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।