ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প পুরোপুরি ব্যর্থ: নিউজার্সির গভর্নর
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিকি শেরিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসলে কী অর্জন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংঘাতের ব্যয়ও ক্রমাগত বেড়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করেছে এবং এর বাস্তব অর্জন কী।
মিকি শেরিলের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য সামনে এনেছে। কখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আবার কখনও সরকার পরিবর্তন কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে।
তার অভিযোগ, প্রশাসন ঘোষিত এসব লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শেরিল আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাই ওই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে জটিলতায় ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ; আগামী সপ্তাহে ইসরাইল ও মিশর সফরে যাচ্ছেন জ্যারেড কুশনার ও নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। কুশনারের সঙ্গে থাকবেন ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ। সফরটি শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকার কথা রয়েছে। এই সফরের পেছনে মূল কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের আপত্তি। গত মাসের শেষ দিকে ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি সমঝোতার কথা জানায়। পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথ রাখা হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিকল্পনাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর অবস্থান, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং সেনা প্রত্যাহার—কোনটি আগে এবং কোনটি কী শর্তে হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্য পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়নি। ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরাইলের আপত্তি সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি কার্যকর রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটন এখনো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা পুনর্বিন্যাস এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে। গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়েও পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী এবং নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ কাঠামোর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই পর্যায়ে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন, নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলো সামনে আসে। এরপর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। জানুয়ারিতে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয় এবং জ্যারেড কুশনারসহ একাধিক ব্যক্তিকে এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়। মার্চে বোর্ডের পক্ষ থেকে হামাসের কাছে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাবও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু ইসরাইলের আপত্তিই নয়, হামাসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। হামাস জানিয়েছে, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকেও পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে কুশনারের আসন্ন সফরকে এখন ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা কার্যকর রাখার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন—সবগুলো বিষয়েই সমঝোতা তৈরি করতে হবে ওয়াশিংটনকে। ইসরাইল সফরের পর মিশরে আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় আলোচনায় মিশর দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে কুশনার ও ম্লাদেনভের আঞ্চলিক সফরে শুধু ইসরাইলের আপত্তি মেটানো নয়, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে। হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হলেও ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের আগে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের নিশ্চয়তা চাইছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করতে পারাই কুশনারের আসন্ন সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জর্জিয়ার জঙ্গলে ব্যাগে ফেলে দেয়া হয় নবজাতকে, চার বছর পর ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত মা
শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হিজাব পরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আসমা আলী?
২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর কাছে গোলাগুলির পর পুরো ক্যাম্পাস কয়েক ঘণ্টার জন্য লকডাউন করে দেওয়া হয়। হামলায় একাধিক সন্দেহভাজন জড়িত বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত দেড়টার দিকে বোয়াসো স্ট্রিটের ৩৩০০ ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বাইরে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে পাওয়া যায়। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। চারজনের আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে। অন্য একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, গোলাগুলির ঘটনাটি ক্যাম্পাসের কোয়াড অ্যানেক্সেস এলাকার কাছে ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার সকালে ক্যাম্পাসের লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। তবে তদন্তের কারণে ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো এবং হ্যানোভার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় তদন্তে সহায়তা করছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। হামলার পেছনে কী কারণ ছিল এবং সন্দেহভাজনদের পরিচয় কী, সে বিষয়েও বিস্তারিত প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের চেস্টারফিল্ড কাউন্টি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। গোলাগুলির সময়টিও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফল সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে এ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার থেকে নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে নতুন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছিল। ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। এটি ভার্জিনিয়ার এট্রিক এলাকায়, রিচমন্ড শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। ক্যাম্পাসে গোলাগুলির পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
জুমে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সেই সিইও এবার নিজেই বরখাস্ত, পদ ফিরে পেতে লড়াই
আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন, আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়
রাজধানীর উত্তরায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি পিস্তল, গুলি, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ওয়াকিটকি ও হাতকড়াসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার ১৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইলিয়াস শিকদার, জাফর, মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল, মিন্টু রাড়ী ও সাগর বাড়ৈ। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ছিনতাইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে চারটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে। ডিএল পেট্রোল পাম্পের তিন কর্মচারী পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিনসহ তিন কর্মচারী একটি সিএনজিচালিত কভার্ডভ্যানে টাকা নিয়ে রওনা হন। বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয় থেকে সাতজন তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় ছিনতাইকারীরা আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং পিস্তল দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে নেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তারা আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। এরপর তদন্তে নামে ডিবি। ডিবি জানিয়েছে, তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেলের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া টাকার মধ্যে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তার কাছ থেকে আরও নয় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ১২ লাখ টাকা। ছিনতাই হওয়া ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে আটজনকে সরাসরি দেখা গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের পর টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় চক্রটি। যারা মূল পরিকল্পনা ও সরাসরি ছিনতাইয়ে যুক্ত ছিল, তারা তুলনামূলক বেশি টাকা নেয়। অন্যদিকে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে, তাদের ভূমিকা অনুযায়ী টাকা ভাগ দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১৩টি মামলা রয়েছে। ডিবির দাবি, তিনি পেশাদার অপরাধী এবং এর আগেও ঢাকায় একই কায়দায় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা পরিবহনের সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে চারটি, মিন্টুর বিরুদ্ধে তিনটি, জাফরের বিরুদ্ধে দুটি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ডিবি। তবে এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী এখনো গ্রেপ্তার হননি। তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। ডিবির ধারণা, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২০টির বেশি মামলা থাকতে পারে। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো চক্র এবং লুট হওয়া বাকি টাকার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা। পেট্রোল পাম্পটির মালিক তাসীন আক্তার হক। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন। এত বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে নেওয়ার তথ্য ছিনতাইকারীরা আগে থেকে কীভাবে জানতে পেরেছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে ডিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূল পরিকল্পনাকারীসহ পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া বাকি ১ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বোনের বিতর্কিত মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আব্দুলকে টার্গেট রিপাবলিকানদের, মিশিগান সিনেট নির্বাচনে নতুন বিতর্ক
শিকাগোর হাইড পার্কে বন্দুকধারীদের হাতে এক ব্যক্তির সম্পদ ছিনতাই, তদন্তে নেমেছে পুলিশ