ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিকি শেরিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসলে কী অর্জন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংঘাতের ব্যয়ও ক্রমাগত বেড়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করেছে এবং এর বাস্তব অর্জন কী।
মিকি শেরিলের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য সামনে এনেছে। কখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আবার কখনও সরকার পরিবর্তন কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে।
তার অভিযোগ, প্রশাসন ঘোষিত এসব লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
শেরিল আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাই ওই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিকি শেরিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসলে কী অর্জন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংঘাতের ব্যয়ও ক্রমাগত বেড়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করেছে এবং এর বাস্তব অর্জন কী। মিকি শেরিলের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য সামনে এনেছে। কখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আবার কখনও সরকার পরিবর্তন কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রশাসন ঘোষিত এসব লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শেরিল আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাই ওই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) নিয়ে বসবাসকারী অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বৈধ থাকার ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। রোববার সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিপিএস কোনো স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা নয়। তাই যাঁরা এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাঁদের উচিত স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করা। অন্যথায় সরকার তাঁদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে। মুলিন বলেন, "যাঁরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চান, তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করুন। আর যদি তা না করেন, তাহলে আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব।" তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বিমান টিকিটের পাশাপাশি পুনর্বাসনের প্রাথমিক ব্যয় মেটাতে প্রায় ২ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টিপিএস সুবিধা বাতিলের সুযোগ করে দেয়। এর ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতির এবং প্রায় ৬ হাজার সিরীয় নাগরিক ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বড় মানবিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। তবে টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি রেখেছে। দুই দেশেই সহিংসতা, সংঘাত, সন্ত্রাসী তৎপরতা, অপহরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অভিবাসী অধিকারকর্মী ও হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের নেতারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বহু মানুষ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করছেন। হঠাৎ করে সুরক্ষা তুলে নেওয়া হলে তাঁদের পরিবার, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরে বসবাসকারী হাইতিয়ানরাও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অভিবাসীরা বলছেন, গত এক দশকে হাইতিয়ান সম্প্রদায় শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন টিপিএস বাতিল হলে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুধু ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেই আসেনি। রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান হাইতির পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্য, দুর্বল সরকারি ব্যবস্থা এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতির কারণে এখনই মানুষকে ফেরত পাঠানো যুক্তিযুক্ত হবে না। নিউইয়র্কের কংগ্রেসম্যান মাইক ললার এবং নেব্রাস্কার কংগ্রেসম্যান ডন বেকনও হাইতির নাগরিকদের জন্য টিপিএসের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। বর্তমানে ১৭টি দেশের প্রায় ১৭ লাখ মানুষ টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর টিপিএস সুবিধাও বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৯৯০ সালে চালু হওয়া এই মানবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বৃদ্ধা মায়ের যত্ন নেওয়া নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের জেরে নিজ স্ত্রী ও কন্যাকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। রাগের বশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন ৬৩ বছর বয়সী রালফ মিনসে। তিনি তার ৩৭ বছর বয়সী কন্যা আমান্ডা ম্যাকব্রায়ার এবং গত ৩৮ বছর ধরে সংসার করা স্ত্রীকে নিজের ৯ মিলিমিটার হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। আটলান্টা থেকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে অবস্থিত ছোট্ট শহর অক্সফোর্ডের একটি বাড়িতে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। ওয়ালটন কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রক্তমাখা দৃশ্যপট থেকে মিনসেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রকাশ করা ৯১১ ইমার্জেন্সি কলের অডিও রেকর্ডিংয়ে মিনসেকে বলতে শোনা যায়, তার স্ত্রী মেয়েকে বলেছিলেন যে তিনি তার মায়ের ঠিকমতো যত্ন নেন না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মিনসে ডেসপ্যাচারকে বলেন, "আমি প্রতিদিন মায়ের যত্ন নিই। আমি আর এসব মিথ্যা এবং আমার ওপর তাদের চিৎকার সহ্য করতে পারছিলাম না। আমি বুঝতে পারিনি, রাগের মাথায় আমি পুরোপুরি মেজাজ হারিয়ে ফেলি। আমি অত্যন্ত অনুতপ্ত।" অডিওতে তিনি আরও স্বীকার করেন যে, তার মেয়েকে তিনি সরাসরি মাথায় গুলি করেছেন এবং স্ত্রীকে তিনি ভালোবাসতেন বলেও মন্তব্য করেন। ঘটনাস্থলেই কন্যা আমান্ডা ম্যাকব্রায়ারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তার মাকে দ্রুত গ্র্যাডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত আমান্ডার স্বামী অ্যাডাম ম্যাকগ্রা পুলিশকে জানান, ঘটনার সময় তার স্ত্রী মদ্যপ এবং হতাশ অবস্থায় ছিলেন। বাবার সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিনসে বন্দুক বের করে আমান্ডার মাথায় গুলি করেন। অ্যাডাম বলেন, "এরপর তিনি তার স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন, তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং মেরে ফেলার হুমকি দেন। আমার নিজের দুই সন্তানকে বাঁচাতে আমি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাই।" পুলিশ জানিয়েছে, রালফ মিনসের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।