ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আজীবন নিষেধাজ্ঞার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সেই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরএসএস সদস্য এবং এগুলোর সঙ্গে জড়িত ভারতীয় কর্মকর্তাদের ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৬ আগস্ট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফ-এর চেয়ার আসিফ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মোহন ভাগবতকে দেওয়া ভিসা অবিলম্বে বাতিল করা উচিত এবং ভবিষ্যতে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইউএসসিআইআরএফ-এর অভিযোগ, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংস হামলা ও উসকানি ছড়ানোর ক্ষেত্রে আরএসএস এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এমন অনেক নীতি বাস্তবায়ন করেছে যা আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি করেছে।
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, যা ঘিরে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
অন্যদিকে ভারত সরকার ইউএসসিআইআরএফ-এর এই বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই মার্কিন কমিশনটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে আসছে এবং তাদের নিজস্ব কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
তবে মার্কিন কমিশনের এই কড়া বিবৃতির পর মোহন ভাগবতের চলমান সফর ও আসন্ন অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বৈরিতার মধ্যেই এবার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের পরিচিত ভৌগোলিক জলাশয় ‘লেক অন্টারিও’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, নাম পরিবর্তনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি "অবিলম্বে কার্যকর" হতে যাচ্ছে। কানাডার সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্তটি এলো। এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বিষয়ক দপ্তরকে (ইন্টেরিয়র ডিপার্টমেন্ট) তাদের ভৌগোলিক নামের সরকারি তথ্যভাণ্ডারে ‘লেক অন্টারিও’র নাম হালনাগাদ করে ‘লেক আমেরিকা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের (গালফ অব মেক্সিকো) নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার সময়ও ঠিক এমনই একতরফা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিংবা কানাডার অংশে এই নাম পরিবর্তন কীভাবে গৃহীত হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমালোচকরা মনে করছেন, শুল্ক আরোপ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এমনিতেই যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ট্রাম্পের এই প্রতীকী অথচ আগ্রাসী সিদ্ধান্ত সেই বৈরিতার আগুনে আরও নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে।
মক্কা চুক্তি নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে আজীবন নিষেধাজ্ঞার দাবি
‘আমরা ইসরায়েলি, সবাই ঘৃণা করে কেন বুঝি না’, পর্যটকদের স্ট্রিট ইন্টারভিউ ভাইরাল
ফিলিপাইনের সাবেক অর্থোডক্স বিশপ ক্লিওপাস ডাকলান ২১ বছর চার্চে দায়িত্ব পালনের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০১৮ সালে ৬৪ বছর বয়সে তিনি চার্চের দায়িত্ব থেকে সরে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে প্রচারিত তথ্যগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। তবে তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সীমিত। ডাকলান দীর্ঘ সময় অর্থোডক্স চার্চে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের একটি অর্থোডক্স চার্চ-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তাকে ফিলিপাইনের জন্য বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে তাকে হায়ারোমঙ্ক থেকে বিশপ পদে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার পাঠ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন। গ্রিক, হিব্রু ও আরামাইক ভাষায় ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন বলেও এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ পড়তে গিয়ে তার ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিবর্তন আসে বলে প্রচারিত তথ্যগুলোতে দাবি করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘মুসা ইব্রাহিম’ নাম গ্রহণ করেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিজের বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত ভিডিও ও লেখাগুলোতে তিনি কোরআনের তাওহিদ বা একত্ববাদের ধারণার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কথা বলেছেন এবং ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তকে নিজের ধর্মীয় অনুসন্ধানের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের আগে তিনি চার্চের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর সেই পদ ও ধর্মীয় পরিচয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই তার জীবনের বড় পরিবর্তন হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তবে ডাকলানের বর্তমান অবস্থান ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে একজন ধর্মীয় নেতার জীবন পরিবর্তনের একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ধরনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক সূত্র যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।
৬ মাসের কেমোথেরাপি নিতে সময় লাগলো ৮ বছর! ব্রিটিশ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মামলা
দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিচারের মুখোমুখি ৯/১১ হা মলার মাস্টারমাইন্ড খালিদ শেখ মোহাম্মদ
নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও সিনেটে চীনা হ্যাকারদের হা মলা, পাল্টা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের নার্সারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই নার্সারিতে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে কেবল একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উদ্ধারকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাইনোকোলজি ওয়ার্ডের নার্সারির ভেতরে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকারী দল সেখানে শীতলীকরণ বা কুলিং প্রক্রিয়া শুরু করে। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সম্পর্কে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স নরীন খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ওয়ার্ডের ভেতরের দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। পৃথিবীতে মাত্র এক বা দুদিন আগে চোখ মেলা ১৪টি শিশু এভাবে মারা গেল।" এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা পাকিস্তানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী একে 'অপূরণীয় ক্ষতি' আখ্যা দিয়ে ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং নবজাতক ওয়ার্ডগুলোতে কার্যকর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি বহুমুখী তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন, যাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে, নিষ্পাপ সন্তানদের হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। সন্তানহারা মোহাম্মদ সামি নামের এক মা জানান, মাত্র তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া তার শিশুটিকে ওই নার্সারিতে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "আমি কী বলব বা কাকে দোষ দেব জানি না, আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি।" আমির আব্বাসি নামের আরেক ব্যক্তি তার সদ্যোজাত ভাতিজাকে হারানোর শোক প্রকাশ করে বলেন, "গতকালই আমি তার নরম মুখ ও হাত ছুঁয়েছিলাম, আর আজ সে শুধুই ছাই।" পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত তদারকি করতে করাচি থেকে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে কানাডীয় পর্যটক, ক্ষতির মুখে ১৫ অঙ্গরাজ্য
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের