মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধ নিরসনে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর ঝুঁকির মুখে পড়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতা টিকিয়ে রাখতেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার কাতারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা, সামরিক উত্তেজনা কমানো এবং এর আগে হওয়া সমঝোতার বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা ছিল ওই চুক্তির প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়ে।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের মধ্যে বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করে।
তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কড়া বার্তা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সংযত থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
এর পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল আগের মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া।
তবে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ওই হামলায় তাদের কোনো সেনা সদস্য হতাহত হয়নি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও ঘটেনি। অন্যদিকে কুয়েত কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। বাহরাইনের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটায় দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে লেবাননেও পড়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা দেশটিতে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে ইরান বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করা জরুরি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আলোচনায় অগ্রগতি হলে চলমান উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
পবিত্র মহররম উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে পাকিস্তানের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৬ জুন সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে এমন কিছু ‘ধর্মীয় দৃশ্য’ দেখানো হয়, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ওই ধরনের দৃশ্য ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা তৈরি করে। এ ঘটনার পর রোববার এক বিবৃতিতে জিও নিউজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি ভুলবশত সম্প্রচারিত হয়েছিল এবং এটি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। একই সঙ্গে বিতর্কিত অংশটি তাদের সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। জিও নিউজের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সম্প্রচারিত ফুটেজে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মানুষের পালন করা কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান তুলে ধরা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি প্রদর্শন করা, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতকে সমর্থন করা নয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এ ক্ষেত্রে চ্যানেলটি যথাযথ সম্পাদকীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জিও নিউজকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য সংস্থার অভিযোগ কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং অন্যান্য নবী-রাসুলদের চিত্রায়ণ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে এ ধরনের প্রকাশনা বা কার্টুনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে ধর্মীয় ইস্যু দ্রুত জনরোষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা থাকে। সে কারণে প্রতি বছর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পদক্ষেপ, সম্প্রচার স্থগিত এবং নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়তে দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের ২০২৬ সালের সূচক অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম, যা দেশটির গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনকে লক্ষ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের উসকানি বা চাপ সৃষ্টি করা হলে তার জবাব আরও শক্তি ও কঠোরতার সঙ্গে দেওয়া হবে। রোববার (২৮ জুন) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাবশালী উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বাহরাইন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, নিজেদের সীমাবদ্ধতা মেনে চলা উচিত এবং এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাহরাইনের শাসকগোষ্ঠী যেন ইরানকে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে। এর আগে, নিজের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত শুক্রবার ও শনিবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বাহরাইনের রাজধানী মানামা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-বাহরাইন সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাহরাইনে উল্লেখযোগ্য শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং তাদের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে দেশটির সরকারের উদ্বেগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগের অভিযোগে বাহরাইনে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা সম্পর্ক না থাকলেও সৌদি আরব ও কাতারের কাছে ইসরায়েলি সামরিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ। বিভিন্ন নথি, চুক্তিপত্র এবং প্রকাশ্যে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে রোববার প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহৃত অন্তত তিনটি বিমানে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস নির্মিত ‘সি-মিউজিক’ (C-MUSIC) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময় এই ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তেহরান সফরে যে বিমান ব্যবহার করেছিলেন, সেটিও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত ছিল। সি-মিউজিক মূলত কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ম্যানপ্যাডস শনাক্ত করে এবং শক্তিশালী লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যচ্যুত করার সক্ষমতা রাখে। ভিআইপি ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যবহৃত বিমানের নিরাপত্তা বাড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ভিআইপি বিমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয়, কাতারের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতেও ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ছিল। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ আবাবিল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ থেকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের উপ-চুক্তি পায়। এসব চুক্তির মাধ্যমে উন্নত যুদ্ধ হেলমেট, নাইট-ভিশন চশমা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান প্রকল্পেও একই ধরনের ইসরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরবকে ৪৬২টি উন্নত জয়েন্ট হেলমেট-মাউন্টেড কিউয়িং সিস্টেম (JHMCS) এবং সমসংখ্যক নাইট-ভিশন চশমা সরবরাহ করা হয়। ইন্টারনেটে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও সৌদি বিমানবাহিনীর পাইলটদের এসব হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এই উন্নত হেলমেটের বিশেষত্ব হলো, এর সামনের স্বচ্ছ কাচেই উড্ডয়নের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শিত হয়। ফলে পাইলট মাথা বা চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারেন এবং আরও নির্ভুলভাবে অস্ত্র পরিচালনা করতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনটি বলছে, এসব সরঞ্জাম সরাসরি ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও উপ-চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি শেকেল সমপরিমাণ ব্যবসা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রকল্প, প্রযুক্তি সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সেই আলোচনায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার কিংবা সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।