সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যে নিল নেদারল্যান্ডস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২৩:৩৪
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লন্ডনে সরানো হয়েছে নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা। ছবি: সংগৃহীত
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লন্ডনে সরানো হয়েছে নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা। ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (ডিএনবি) যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের সোনার মজুতের ৮৬ টন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট দেখা দিলে যাতে দ্রুত সোনা ব্যবহার বা বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

 

ডিএনবির ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা প্রায় ৩১৩ টন সোনার মধ্যে প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভৌত সোনার বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে সংরক্ষিত সোনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মান পূরণ করে এবং তুলনামূলকভাবে সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে কোনো সংকট পরিস্থিতিতে এই সোনা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

 

ডিএনবির গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেন, সোনার মজুত কখনো ব্যবহার করতে হবে না বলেই তারা আশা করেন। তবে দেশের স্থিতিস্থাপকতা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থা সোনার মজুতকে আরও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করেছে বলেও জানান তিনি।

নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ ৬১২ দশমিক ৪ টন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এর মূল্য ছিল প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি কমাতে দেশটির সোনা বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করা হয়ে আসছে।

 

নতুন স্থানান্তরের আগে ডিএনবির মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার অটোয়ায়। লন্ডনে ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানান্তরের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া, দুই জায়গাতেই ডাচ সোনার অংশ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে থাকা সোনার অংশ ৩০ দশমিক ৮ শতাংশই রয়েছে।

 

তবে পুরো ৮৬ টন সোনা শারীরিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়নি। ডিএনবি জানিয়েছে, প্রায় ৫৯ টন সোনা নিউইয়র্কে বিক্রি করে লন্ডনে আন্তর্জাতিক বাজারের মানসম্পন্ন সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা শারীরিকভাবে নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। একই পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে পুরোনো সোনার বার গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।

 

ব্যাংকটির মতে, সোনা কেনাবেচা এবং সীমিত পরিমাণ শারীরিক স্থানান্তর একসঙ্গে করার ফলে বিপুল পরিমাণ সোনা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিও কমানো গেছে। ভবিষ্যতে কোনো সংকটের সময় সোনা সরানোর প্রয়োজন হলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও জানিয়েছে ডিএনবি।

ডিএনবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সোনা সংরক্ষণের বিষয় নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। ডিএনবি নিজেও ২০২৬ সালে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার হামলা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

 

ফ্রান্সের ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরাঁ শোয়ার্টজ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সোনার মজুত পুনর্বিন্যাস করছে। তার মতে, লন্ডনের সোনার বাজার গভীর ও বেশি তারল্যপূর্ণ হওয়ায় সংকটের সময় সেখানে রাখা সোনা তুলনামূলক দ্রুত ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে সিটি জেসশন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার মনে করেন, ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো সংকট দেখা দিলে সোনাকে আরও দ্রুত কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও যদি একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাতে শুরু করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এদিকে জার্মানিতেও নিউইয়র্কে সংরক্ষিত দেশটির সোনার নিরাপত্তা নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে আলোচনা হয়েছিল। তবে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তাদের সোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল হিসেবে এখনও বহাল রয়েছে।

 

বিশ্ব অর্থনীতিতে সোনা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংকটের সময় এর মূল্য ও বাজারজাত করার সক্ষমতা থাকায় অনেক দেশই ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে নিজেদের সোনা একাধিক দেশে সংরক্ষণ করে। নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশলকেই আরও জোরদার করেছে বলে ডিএনবির বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

সূত্র: ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (DNB), দ্য গার্ডিয়ান


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নেপাল সীমান্তে সড়ক পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন

ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া নেপাল ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম জিরং বা গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের এই সড়কটি বুধবার পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সড়কটি দ্রুত মেরামত করার ফলে এখন দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো অনেক সহজ হবে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত এই বিস্তীর্ণ সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে চীনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে।   এদিকে নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পথের বাধা পেরিয়ে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালে সাম্প্রতিক এই বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্মরণকালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রতিবেশী দেশ চীন ইতোমধ্যে নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ দল, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে।   হিমালয় অঞ্চলে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও ভয়াবহ ঝুঁকিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলেই এমন আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২৩:৫৬
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লন্ডনে সরানো হয়েছে নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা। ছবি: সংগৃহীত

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যে নিল নেদারল্যান্ডস

বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ

সন্তান জন্মের পর ক্যাটরিনার মোটা শরীর নিয়ে কটাক্ষ, বিব্রত নায়িকা

জ্বলন্ত আ/গু/ন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স

‘আমি শুধু মা হয়ে গিয়েছিলাম’- জ্বলন্ত আগুন থেকে ৮ সেকেন্ডে নবজাতককে বাঁচালেন নার্স

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।   ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৪:৪৭
প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল

প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল, অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক

৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী

৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী, ইতিহাস গড়ছেন ২২ বছরের ইনগ্রিড

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

গোপনীয়তা নষ্ট করায় উল্টো স্বামীকেই জেলে পাঠাল আদালত!
গোপন ক্যামেরায় স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ, গোপনীয়তা নষ্ট করায় উল্টো স্বামীকেই জেলে পাঠাল আদালত!

তাইওয়ানে স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে রোবট ভ্যাকুয়ামের ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রায় ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু একই ভিডিও গোপনে ধারণ করার দায়ে শেষ পর্যন্ত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   তাইওয়ানের তাওইউয়ান জেলা আদালতের সাম্প্রতিক এক রায়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে ওই ব্যক্তির বিয়ে হয়। তাদের একটি ছুটির বাড়ি ছিল, যেখানে তারা মাঝেমধ্যে যেতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বাড়িতে অপরিচিত একটি টুথব্রাশ দেখতে পান তিনি। এতে স্ত্রীর প্রতি তার সন্দেহ তৈরি হয়।   পরে বাড়ির পার্কিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান, এক অপরিচিত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে এসেছেন এবং রাতও কাটিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।   এর প্রায় তিন মাস পর ওই ব্যক্তি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ছুটির বাড়িতে থাকা রোবট ভ্যাকুয়ামটি দূর থেকে চালু করেন। ভ্যাকুয়ামটিতে ক্যামেরা ও যোগাযোগের সুবিধা ছিল। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে সেটি ব্যবহার করতে গিয়ে ক্যামেরার লাইভ ভিডিওতে তিনি স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান।   এরপর তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং সেটিকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন। স্ত্রী ও ওই পুরুষের বিরুদ্ধে করা দেওয়ানি মামলায় তিনি ২০ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। আদালত তাদের সম্পর্ক সাধারণ বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে রায় দিয়ে দুজনকে যৌথভাবে ৫ লাখ নিউ তাইওয়ান ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।   তবে এরপরই মামলাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন তার স্ত্রী। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করে স্বামী তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছেন।   স্বামী আদালতে যুক্তি দেন, স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ সংগ্রহের জন্যই তিনি ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন এবং ওই ভিডিও দেওয়ানি মামলায় প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু ফৌজদারি আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।   আদালত জানায়, বিবাহিত সম্পর্কের দায়িত্ব থাকলেও তা একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্যজনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের অনুমতি দেয় না। স্ত্রী ওই সময় ব্যক্তিগত পরিবেশে ছিলেন এবং তাকে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে, এমনটা তিনি জানতেন বা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণও আদালত পায়নি।   ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণের দায়ে ওই ব্যক্তিকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার নিউ তাইওয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ০:৪৩
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি। ছবি: সংগৃহীত

অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত সাত বছরের শিশু ইসরা আল-হিসি। ছবি: সংগৃহীত

জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাবে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

0 Comments