ইরানের হু মকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিভৃতচারী জীবনযাপন করছেন ব্যারন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফার্স্ট সন’ ব্যারন ট্রাম্প (২০) বর্তমানে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এক নিভৃতচারী জীবনযাপন করছেন। বাবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ধারাবাহিক হত্যাচেষ্টা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির কারণেই তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে সরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পাঠ চুকিয়ে ব্যারন তার গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় মা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সাথে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে কাটাচ্ছেন।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অন্তত তিনবার হত্যাচেষ্টার হাত থেকে বেঁচে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকার শত্রুদের নজর থেকে রক্ষা পাননি তার ছোট ছেলে ব্যারনও। সম্প্রতি ইরানের কট্টরপন্থিরা "ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা যায়" শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে।
এর পাশাপাশি ফার্স্ট লেডিও তাদের নিশানায় রয়েছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও ব্যারনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিও ব্যারনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই ঘটনার পর ব্যারন তার বাবাকে বলেছিলেন, “বাইরে গেলে এমনই পরিণতি বরণ করতে হয়।”
এই ধারাবাহিক হুমকির কারণে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে ফার্স্ট লেডির কার্যালয়। জানা গেছে, ২০২২ সালের মার্চে ব্যারনের বয়স ১৬ পূর্ণ হলে তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মেলানিয়ার বিশেষ অনুরোধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন।
মা মেলানিয়া ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ব্যারন প্রকৃতিগতভাবেই লাজুক এবং জনসম্মুখে আসতে পছন্দ করেন না। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, ক্রমাগত নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকাটা তাকে বাস্তব জীবনের বিপদ সম্পর্কে আরও বেশি সজাগ করে তুলেছে। এটি কোনো মানসিক ট্রমা বা বৈকল্য নয় বরং নিজেকে নিরাপদ রাখার একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়া।
ট্রাম্প পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ ভাইবোনেরা যেখানে জনসম্মুখে বেশ সক্রিয়, সেখানে ব্যারন একেবারেই ব্যতিক্রম। মার-এ-লাগো, ট্রাম্প টাওয়ার বা হোয়াইট হাউসে তার নিজস্ব পরিসর রয়েছে, যেখানে তিনি বরাবরই নিজেকে আড়াল করে রাখেন। পড়াশোনা শেষে রাজনীতি নয়, বরং ব্যবসাতেই থিতু হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে ব্যারনের।
এরই মধ্যে বন্ধুদের সাথে একটি ভেষজ এনার্জি ড্রিংক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছেন, তবে সবকিছুই করছেন নেপথ্যে থেকে। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বুলেটপ্রুফ কাঁচের আড়াল থেকে বাবা-মায়ের সাথে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে দেখা গিয়েছিল ফুটবলপ্রেমী এই তরুণকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের এক নারীর মুখের ক্যানসারকে প্রাথমিকভাবে ‘মাউথ থ্রাশ’ বা সাধারণ ঘা হিসেবে ভুল রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভয়াবহ এই ক্যানসার থেকে বাঁচতে ১৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পায়ের একটি অংশ কেটে জিভ পুনর্গঠন করতে হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এলেইন সয়্যার নামের ওই নারী বর্তমানে ক্যানসারমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এলেইন প্রথম তার জিভে একটি ছোট ঘা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি লক্ষ্য করেন। শুরুতে এক চিকিৎসক এটিকে ‘মাউথ থ্রাশ’ বলে চালিয়ে দিলেও নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ওপর ভরসা করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নতুন চিকিৎসক তাকে কুইন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার জিভে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা ক্যানসার ধরা পড়ে, যা ততদিনে তার গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড বা লসিকাগ্রন্থি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। রোগ নির্ণয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলেইনের জিভের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয় এবং পায়ের একটি অংশ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। পায়ের টিস্যু হওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর তার জিভে সামান্য চুলও গজিয়েছিল, যা টানা ছয় সপ্তাহের ‘নির্মম’ রেডিওথেরাপির কারণে পরে ঝরে যায়। এলেইন জানান, অস্ত্রোপচারের পর পায়ের মাংসপেশি কেটে নেওয়ায় তাকে নতুন করে হাঁটা শিখতে হয়েছিল। কথা বলার জন্য তাকে একটি হোয়াইটবোর্ড দেওয়া হলেও জিভ সচল রাখতে তিনি জোর করেই কথা বলার চেষ্টা করতেন। গলার লসিকাগ্রন্থিগুলো ফেলে দেওয়ায় এবং জিভের অর্ধেক অংশ পায়ের টিস্যু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এখন তার মাংস, সালাদ, মসলাযুক্ত খাবার বা ওয়াইন পানে বেশ কষ্ট হয়। কেন্ট-এর টুনব্রিজ ওয়েলসের সাবেক এই ক্যাটারিং ব্যবসায়ী জীবনে কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করেননি, তাই কেন তার এই ক্যানসার হলো তা নিয়ে চিকিৎসকরাও বিস্মিত। ২০২৫ সালের শরতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে মুখের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৯৩-এ পৌঁছেছে, যা গত এক দশকে ৩৭ শতাংশ বেশি। তরুণদের মধ্যে এই ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন এলেইন। শুরুতে সাধারণ ঘায়ের মতো দেখতে এই মারণব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে ভারতীয় তরুণীকে কুপিয়ে হ ত্যা, ৮ মাস পর আগ্রায় গ্রেপ্তার প্রধান সন্দেহভাজন
জার্মানিতে মার্কিন পর্যটককে ধ র্ষণের পর হ ত্যা, ৩২ বছর পর ডিএনএ প্রমাণে ৮১ বছরের বৃদ্ধের যাবজ্জীবন
ইরানের হু মকি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় নিভৃতচারী জীবনযাপন করছেন ব্যারন ট্রাম্প
নেপালে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। বিপর্যয়ের পর নিখোঁজদের যে দীর্ঘ তালিকা তৈরি হয়েছে, তাতে নাম রয়েছে প্রভাত সাজিপা (৪৮) নামের ক্যালিফোর্নিয়ার এক প্রযুক্তি কর্মীর। নেপালি কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা ৬৫ জন নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকের প্রাথমিক তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে। লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী, সাজিপা ২০১৬ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারাভিত্তিক ডেটা স্টোরেজ কোম্পানি ‘পিওর স্টোরেজ’-এ ইঞ্জিনিয়ারিং লিডার হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিসকোতেও কাজ করেছেন। তার ভাতিজি কাব্যা কৌলাগি জয়তীর্থ বিবিসিকে জানিয়েছেন, সাজিপা দীর্ঘদিন ধরে ‘ইশা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি অলাভজনক আধ্যাত্মিক সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটির একটি দল নেপালের ওই অঞ্চলে ভ্রমণের সময় এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দলটির অন্তত ৮০ জন সদস্য এখনও নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ২২ জন মার্কিন নাগরিক। ইশা ফাউন্ডেশনের প্রধান জাগ্গি বাসুদেব বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, বন্যার ঠিক আগে দলটি জিরং-এর একটি ইমিগ্রেশন ভবনে অবস্থান করছিল। জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানার মাত্র ৯ মিনিট আগে তিনি দলনেতার কাছ থেকে শেষ বার্তা পান। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৭ হাজার ফুট উঁচু থেকে একটি হিমবাহের একাংশ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়লে এই ভয়াবহ ‘আইস অ্যাভালাঞ্চ’ বা বরফধসের সৃষ্টি হয়। হিমবাহ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও এর ফলে সৃষ্ট বিশাল জলরাশি ও ধ্বংসস্তূপ নেপালের বহু বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বন্যার তোড়ে অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ২৫ মাইল রাস্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি একাধিক গ্রাম ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে তিব্বতীয় কর্মকর্তারাও এই বিপর্যয়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নেপালে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুর অপারেটরদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, অন্তত ৯০ জন মার্কিন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং মাত্র তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে মিলল সোনার খনি, ভাগ্য বদলের আশায় ভিড় ১০ হাজার মানুষের
পেটে তীব্র ক্ষুধা নিয়েই রাতে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে গাজার প্রায় অর্ধেক পরিবার: ডব্লিউএফপি
সহকর্মীদের সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছাড়লেন বেঙ্গালুরুর নারী
নেপাল ও চীনের সীমান্তে হিমবাহ ধসে তৈরি ধ্বংসাবশেষের বাঁধে সৃষ্টি হওয়া হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। হ্রদটি ভেঙে গেলে আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আবারও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটার ছাড়িয়ে গেছে। এক দিন আগে এর পানির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার ছিল। হ্রদটির পানি আরও বাড়তে থাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনা উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। বুধবার হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানির সঙ্গে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদীগুলোর ওপর দিয়ে নেমে এসে বিভিন্ন এলাকা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর পরই উজানে ধ্বংসাবশেষের বাঁধ তৈরি হয়ে হ্রদটির সৃষ্টি হয় এবং সেখানে পানি জমতে থাকে। চীনের পাঠানো আট সদস্যের প্রকৌশলী দল বৃহস্পতিবার হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা আকাশপথে জরিপ ও ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরির কাজ করে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, হ্রদের ঝুঁকি কমানোর একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি হলো বাঁধের নিচু অংশে পানি বের হওয়ার জন্য একটি নালা তৈরি করা। তবে পানির প্রবাহের গতি এবং হ্রদে পানি জমার হার হিসাব করে নালাটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণ করতে হবে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে উজানের মাটি ও পাথর আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহজুড়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিমাণ পানি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান। পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। ফলে হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হ্রদটি উপচে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কায় উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করেছেন। চীনের পাশাপাশি নেপালও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। এদিকে বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে ৪৮৯ জন এবং চীনের তিব্বতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুই দেশে প্রায় ১ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক থাকতে পারেন। হ্রদটির পানি বাড়তে থাকা এবং নতুন বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে থামানো হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হ্রদের বাঁধের ঝুঁকি কমানো এবং পানি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, শুরু নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
ব্রিটেনে সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তান প্রথম বাংলাদেশ দ্বিতীয়