আইস

সাজাপ্রাপ্ত  I ছবি: সংগৃহীত
আইস কারাগার ঘিরে বিক্ষোভের জেরে আরও ৭ জনকে কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে গত বছরের ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড আইস (ICE) কারাগারের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ওই বিক্ষোভে আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই বুধবার আদালত নতুন করে এই সাজার রায় ঘোষণা করেছে।   বুধবার সাজাপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে ছয়জনই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন। দোষ স্বীকার করায় আদালত তাদের দুই থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে ইনেস সোতো নামের এক আসামি কোনো আপস-রফা বা দোষ স্বীকার না করায়, তাকে সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদানসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাকে সর্বোচ্চ ৫০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।   উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই এই একই ঘটনায় বিচার শেষে আরও আটজন আসামিকে অস্বাভাবিক কঠোর সাজা প্রদান করেছিল আদালত। সেই রায়ে তাদের ৩০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও সাতজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো। আইস কারাগারের বাইরের ওই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন বিচারব্যবস্থায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে এমন কঠোর শাস্তির বিষয়টি এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
আইসের নতুন প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দ ল্যান্স শ্রয়ার, অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর নতুন পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপার ল্যান্স শ্রয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়; বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো অভিবাসী পরিবারের জন্য এই পরিবর্তনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রায় তিন দশকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ল্যান্স শ্রয়ারকে আইসের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প বলেন, ওকলাহোমায় দীর্ঘ ২৯ বছর দায়িত্ব পালনকারী শ্রয়ার একজন "প্রকৃত দেশপ্রেমিক" এবং দক্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা। তিনি অপরাধ দমন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন।   আইস যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থাগুলোর একটি। সংস্থাটি অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, আটক, বহিষ্কার এবং কর্মস্থল বা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন সরাসরি অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।   ২০১৭ সালের পর থেকে আইসে সিনেট-অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক দায়িত্ব পালন করেননি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংস্থাটি এতদিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।   শ্রয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অভিজ্ঞতার একটি হলো ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসগুলো আইসের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে অংশ নিতে পারে।   ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই অভিজ্ঞতার বিশেষ উল্লেখ করে বলেন, শ্রয়ার বিপজ্জনক অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হতে পারে।   তবে সমালোচকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ল্যান্স শ্রয়ার খুব পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। তাঁর প্রকাশ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার তথ্যও সীমিত। ফলে আইসের মতো বড় একটি ফেডারেল সংস্থা পরিচালনায় তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় আইসের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।   ল্যান্স শ্রয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁর মনোনয়ন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।   রিপাবলিকানরা দ্রুত অনুমোদনের পক্ষে থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা আইসের জবাবদিহি, অভিবাসীদের অধিকার এবং সংস্থার ক্ষমতার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কোনো ধরনের শিথিলতার বার্তা দিতে চাইছে না। বরং কঠোর আইন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আইস কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ‘আন্তিফা’ নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নর্থ টেক্সাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় 'আন্তিফা' (Antifa) সেলের এক নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বেঞ্জামিন হানিল সং নামের ওই নেতাসহ এই হামলায় জড়িত মোট আটজনকে সম্মিলিতভাবে ৫৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাকি সাতজন পেয়েছেন ৪৫০ বছরের সাজা। আগামী ৪ জুলাই প্রেইরিল্যান্ড ডিটেনশন সেন্টারে হওয়া এই হামলার এক বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগেই এমন যুগান্তকারী রায় প্রদান করল মার্কিন বিচার বিভাগ।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে 'আন্তিফা' সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করেন। ট্রাম্পের ওই কড়া আদেশের পর আন্তিফার সাথে জড়িত কোনো আসামির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় সাজার রায়। দণ্ডপ্রাপ্তরা মূলত দাঙ্গা সৃষ্টি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের ব্যবহার, সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই রায় প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যেসব আন্তিফা সন্ত্রাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাবে, তাদের অত্যন্ত দ্রুত ও কঠোর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের সহিংস চরমপন্থার কোনো স্থান নেই। যারা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের হুমকি দেয় কিংবা আইনের শাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করে, বিচার বিভাগ তাদের শিকড় উপড়ে ফেলতে আক্রমণাত্মক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
গুদামকে অভিবাসী আটক কেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এলো আইস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বহুল আলোচিত অভিবাসী আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে সরে আসছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেনা ১১টি শিল্প গুদামের মধ্যে ৭টিই বিক্রি অথবা অন্য ফেডারেল সংস্থার কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।   অভিবাসন আটক ব্যবস্থাকে বড় পরিসরে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে নতুন বড় পরিসরের আটক কেন্দ্র গড়ে তোলা।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, তারা এখন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত বিদ্যমান আটক কেন্দ্রগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে। সংস্থাটির ভাষ্য, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত অপসারণই প্রধান লক্ষ্য, নতুন অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় নয়।   এক বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ সময় তাদের আটক রাখার প্রয়োজন নেই।   এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসের ‘ডিটেনশন রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিশিয়েটিভ’ নামে পরিচিত ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ পরিকল্পনা কার্যত স্থগিত হয়ে গেল। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ছিল ২০০টির বেশি আটক কেন্দ্রকে সংকুচিত করে ৩৪টি ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্র গড়ে তোলা।   ট্রাম্প প্রশাসন আগে জানিয়েছিল, অভিবাসী আটক সক্ষমতা বৃদ্ধি তার গণ-নির্বাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নতুন গুদামগুলোকে আটক কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়ে।   এ প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়েও ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। মিশিগান, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া ও ইউটাহসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং অধিকারকর্মীরা পরিবেশগত ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে মামলা করেন। এর ফলে কয়েকটি আদালত নির্মাণকাজ স্থগিতের নির্দেশ দেয়।   সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় মিশিগানের রোমুলাস শহরের একটি বড় গুদামকে ঘিরে। সেখানে প্রায় ৫০০ জনকে রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরে মিশিগানের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল এই সিদ্ধান্তকে জনচাপ ও আইনি লড়াইয়ের ফলাফল বলে মন্তব্য করেন।   বর্তমানে ডিএইচএস জানিয়েছে, মিশিগান, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া এবং ইউটাহর কয়েকটি সম্পত্তি বিক্রি অথবা প্রকল্প বাতিল করা হবে। তবে টেক্সাস, অ্যারিজোনা এবং মেরিল্যান্ডে কিছু প্রকল্প এখনও চলমান রয়েছে।   অন্যদিকে, আইস এখন বেসরকারি আটক কেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নতুন সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংস্থাটির আগে থেকেই চুক্তি রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ১৪ মাসে আইস হেফাজতে ৪৭তম মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)-এর হেফাজতে এক মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এনেছে।   মৃত ব্যক্তির নাম আলেহান্দ্রো ক্যাবরেরা ক্লেমেন্তে (৪৯)। তিনি উইন করেকশনাল সেন্টার -এ আটক ছিলেন। আইস-এর পাঠানো নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লেমেন্তে এই সময়ের মধ্যে ১৫তম মেক্সিকান নাগরিক, যিনি আটক অবস্থায় মারা গেলেন।   মেক্সিকোর কূটনীতিক ভেনেসা কালভা রুইজ এই মৃত্যুগুলোকে “অ্যালার্মিং” ও “অগ্রহণযোগ্য প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।   এদিকে আইস জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্কে আইস বিরোধী বিক্ষোভ: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ার দায়ে ১৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি-তে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বিরোধী এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানায়, সোমবার বিক্ষোভকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর ভবনে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। আইসের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দিলে তারা তা অমান্য করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।   এর আগে সন্ধ্যায় জুইশ ফর রেশিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস-এর উদ্যোগে ইউনিয়ন স্কোয়ার এলাকায় ‘সেডার ইন দ্য স্ট্রিটস’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভার উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে আইসের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদ জানান।   গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরাও ওই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোরান মামদানি। তিনি বলেন, পাসওভারের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভয়ের বিরুদ্ধে আশা এবং বিভেদের বিরুদ্ধে সংহতির মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০