ইসরাইল

ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি
ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

ইসরাইলের কিশোর ও তরুণ সমাজের মধ্যে ত্বক তামাটে বা ব্রোঞ্জ কালার করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ১৯৯২ সালে বিজ্ঞানীরা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে যে ‘ইউভি ইনডেক্স’ বা সূচক তৈরি করেছিলেন, তরুণরা আজ সেটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। সতর্ক হওয়ার বদলে তারা এই সূচকটিকে দ্রুত গায়ের রং পরিবর্তন করার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।   সম্প্রতি ইসরাইলে তাপমাত্রা ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছালে আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ১৬ বছর বয়সি আবিগেইল ওয়লফের মতো অসংখ্য তরুণী সৈকতে ছুটে যায়। আবিগেইল জানান, ইউভি ইনডেক্সে ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালো ট্যান বা ত্বকে তামাটে ভাব পাওয়ার জন্য অন্তত ৪০ মিনিট কড়া রোদে অবস্থান করেন।   এই বিপজ্জনক প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘ক্লেলিত হেলথ সার্ভিসেস’-এর সিনিয়র পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ইফ্রাত বার-ইলান। তিনি জানান, বিগত দুই বছর ধরে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি বা ভবিষ্যতে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনার কথা না ভেবে তারা কেবল তাৎক্ষণিক ‘গ্লো’ পেতে চায়। মূলত অতিবেগুনি রশ্মির মধ্যে থাকা ইউভিএ রশ্মি ত্বককে কালচে করে এবং স্বল্প তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ইউভিবি রশ্মি ত্বকের উপরের স্তর পুড়িয়ে ডিএনএ-এর মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখা পড়ার পাশাপাশি নিশ্চিত ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়।   অধিকাংশ অভিভাবক চিন্তিত হয়ে সন্তানদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও কিশোর-কিশোরীরা ভবিষ্যতে কী হবে, তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে বেসাল সেল এবং স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে তা নিরাময় সম্ভব। তবে মেলানোমার মতো মারাত্মক ক্যানসার পিগমেন্ট কোষে শুরু হয়ে যদি ফুসফুস, লিভার বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, মেলানোমা আক্রান্ত দেশের তালিকায় ৩০টি দেশের মধ্যে ইসরাইলের অবস্থান ২৩তম। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে সেখানে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।   এত ঝুঁকির পরেও তরুণদের রোদ পোহানোর নেশা কোনোভাবেই কমছে না। হাইফা সৈকতে ১০ ইউভি ইনডেক্সের প্রখর রোদে শুয়ে থাকা মিশল পেরেজ নামের এক তরুণী অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি জেনেশুনেই নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন। চিকিৎসকরা বারবার সানস্ক্রিন, টুপি ও চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও অনেক তরুণ তা মানতে নারাজ। শোন ব্রেনার নামের আরেক তরুণের দাবি, সানস্ক্রিনের রাসায়নিক উপাদান রোদের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। তবে ডা. বার-ইলান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অনুমোদিত সানস্ক্রিন স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়, বরং অপরিকল্পিত ইউভি রশ্মিই ত্বকের ক্ষতি ও ক্যানসারের প্রধান কারণ।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইসরাইল, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪৬.৫ ডিগ্রিতে
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইসরাইল, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪৬.৫ ডিগ্রিতে

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইসরাইল। চলমান এই গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্যালিলি সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া জর্ডান উপত্যকায় এই তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।   রোববার (২ আগস্ট) দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, পার্বত্য ও অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে আবহাওয়া চরম শুষ্ক ও উত্তপ্ত থাকবে। অন্যদিকে, উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হবে। এর ফলে দেশজুড়ে তাপজনিত অস্বস্তি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিকাল থেকে বিশেষ করে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে জোরালো বাতাস বইতে পারে। এর আগে শনিবারও দেশটিতে তাপমাত্রার তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এদিন জর্ডান উপত্যকার গিলগাল, ক্যাপারনাউম এবং বেইত শিয়ানে সর্বোচ্চ ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এমনকি জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ৩৬.১ ডিগ্রি এবং এর পাদদেশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল।   তুলনামূলকভাবে উপকূলীয় সমভূমিতে চরম তাপপ্রবাহ সরাসরি আঘাত না হানলেও সেখানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে এবং বাতাসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা বিরাজ করবে, যা মারাত্মক ভ্যাপসা গরম তৈরি করবে। তবে সোমবার থেকে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তপ্তই থাকবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কিছুটা হ্রাস পাবে। সবশেষে বুধবার সকালের মেঘ কেটে যাওয়ার পর পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা কমে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক বা মৌসুমী অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ইসরাইলকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করছে সৌদি আরব: হুথি নেতার বিস্ফোরক বক্তব্য

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আনসারুল্লাহর নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালেক আল-হুথি অভিযোগ করেছেন, সৌদি আরব তাদের ‘সর্বশক্তি প্রয়োগ করে’ ইসরাইলকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি এক ভাষণে তিনি আরব বিশ্বের অনেক শাসককে সরাসরি ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সেবাদাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন।   তার দাবি, ইয়েমেন থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব নিজস্ব আকাশসীমায় প্রতিহত করে তেল আবিবকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ইয়েমেন রিয়াদকে আগেই আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ সৌদি আকাশসীমার বাইরে থাকবে, যেন রিয়াদ হামলার কোনো অজুহাত না পায়। তা সত্ত্বেও, সৌদি আরব ইচ্ছাকৃতভাবে ইয়েমেনের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ভাষণে হুথি নেতা ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অতীতের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরাকি জনগণ, নিরাপত্তা বাহিনী ও শহীদ পরিবারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। আল-হুথি বলেন, শত্রুপক্ষ মুসলিম উম্মাহকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠন’ এবং ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার মতো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মূলত ঐশী মূল্যবোধকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। বর্তমানে শত্রুরা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে বহু আরব সরকার এখন প্রকাশ্যে ইসরাইলপন্থী নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।   আনসারুল্লাহ নেতা আরও অভিযোগ করেন, ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিনসহ এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের পথের কাঁটাগুলো চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘লোভী শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা হাজার মাইল দূর থেকে এই অঞ্চলে এসেছে দখলদারিত্ব, হত্যা, লুটপাট, জনগণের স্বাধীনতা হরণ এবং আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে। মার্কিন ও ইসরাইলি এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে ‘পরীক্ষা’ না করতে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শনিবার তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিয়ে ‘পরীক্ষা’ না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে পিছু না হটলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর আরও বড় ধরনের হামলার যে হুমকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দিয়েছেন, তারই রেশ ধরে এই মন্তব্য করেন হাকাবি। নিউজনেশন-এর ‘মর্নিং ইন আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট তাদের আরও একটি সুযোগ, আরও একটি সতর্কতা ও বোঝার সময় দিচ্ছেন। তাদের মনে রাখা উচিত যে তারা বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তারা কি সত্যিই এর সীমা পরীক্ষা করতে চায়? আশা করি তারা সেই দুঃসাহস দেখাবে না।"   চলতি সপ্তাহে হরমোজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত এই তেলের রুটটি সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর দিকে ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান, যার মধ্যে তিনটি দেশে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েন রয়েছে।   ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পটভূমিতে এই উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে বর্তমানে আর কার্যকর নেই। গত মাসে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। একই সময়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে হত্যার একটি কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের খবর সামনে এসেছে।   ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প শুক্রবার রাতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তার কিছু হলে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, "ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১০০০ মিসাইল তাক করা আছে, এবং তারা যদি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার কোনো চেষ্টা করে, তবে সাথে সাথে আরও হাজার হাজার মিসাইল নিক্ষেপ করা হবে।" যদিও সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতেই ইসরাইল এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি সামনে এনে থাকতে পারে।   চলমান আঞ্চলিক এই সংঘাতে ইসরাইল এক ধরনের অপ্রত্যাশিত খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার মার্কিন সমকক্ষের চেয়ে ভিন্ন কোনো লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। গত মাসের শুরুতে একটি উত্তপ্ত ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করার খবর প্রকাশ্যে আসে, যা তাদের মধ্যকার সম্ভাব্য মতানৈক্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে শনিবার হাকাবি দুই নেতার মধ্যে কোনো গুরুতর ফাটলের কথা উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। তিনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বা প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দূরত্বের যে ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, তা কেবল তাদের বিরোধীদের কল্পনা। কাছ থেকে পরিস্থিতি দেখে তিনি এমন কোনো বাস্তবতার প্রমাণ পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি I ছবি: সংগৃহীত
লাখো অনুসারীর অশ্রুভেজা বিদায়, মাশহাদে চিরনিদ্রায় ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার নিজ শহর মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ছয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার ইমাম রেজার দরগায় তাকে দাফন করা হয়। শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন মাশহাদের রাস্তায় কালো পোশাক ও লাল পতাকা হাতে লাখো মানুষের ঢল নামে। লাখো জনতার ভিড় চিরে ধীরগতিতে এগিয়ে যায় কফিনবাহী গাড়ি, আর পুরো মাশহাদ পরিণত হয় এক শোকের নগরীতে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এক যৌথ হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি এই সর্বোচ্চ নেতা। তার সঙ্গে নিহত ১৪ মাস বয়সি নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপাইগানি, জামাতা, এক মেয়ে এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলকেও পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মদি গোলপাইগানি জানান, খামেনি ব্যক্তিগতভাবে নিজ শহরে পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উল্লেখ্য, এই একই স্থানে এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকেও দাফন করা হয়েছিল।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাশহাদের রাজপথে নামে ক্ষুব্ধ জনতা। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মিছিলে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সাদা পাগড়ি পরিহিত ধর্মীয় নেতাদের পাহারায় একটি ট্রাকে করে খামেনির লাশবাহী গাড়ি ধীরগতিতে ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজের দিকে এগিয়ে যায়। এর আগে প্রতিবেশী ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে কফিনটি ইরানে আনা হয়।   ইরাক থেকে বিমানযোগে মাশহাদে পৌঁছানোর সময় সেটিকে যুদ্ধবিমান দিয়ে এসকর্ট করে আনা হয়। দাফনের আগে তেহরান ও কওম শহরেও কফিনটি রেখে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যেখানে বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বার্তা সংস্থা ইরনার মতে, জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ১০১ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি। ধারণা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘ শোকযাত্রায় কয়েক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন।   খামেনিকে শ্রদ্ধা জানানোর এই পুরো প্রক্রিয়ায় তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অনুপস্থিত ছিলেন। ওই হামলায় আহত হওয়া মোজতবাকে নিরাপত্তার কারণে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তার অন্য তিন ছেলে জানাজায় অংশ নেন। ১৯৭৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানে যে ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান হয় এবং পেহলভি রাজবংশের পতন ঘটে, তার অন্যতম অংশীদার ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরবর্তী সময়ে তিনিই ইরানের শক্তিশালী সামরিক ও আধা-সামরিক কাঠামো গড়ে তোলেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নয়: মিশরের প্রেসিডেন্ট

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে কায়রোর এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।   প্রেসিডেন্ট সিসি তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান অন্যায় ও আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়সংগত সমাধান প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী শান্তি, প্রকৃত স্থিতিশীলতা কিংবা আঞ্চলিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। কেবল একটি ন্যায্য চুক্তির মাধ্যমেই ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব এবং এর ফলেই এই অঞ্চলের সকলের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে।   ১৯৭৯ সালে প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে মিসর ইসরাইলের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিসি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বহুমুখী সংকট ও সংঘাতের একমাত্র স্থায়ী সমাধান নিহিত রয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি ব্যাপক, বাস্তবসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির মধ্যে। একটি ন্যায়সংগত শান্তি চুক্তিই কেবল এই অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে মুক্ত করে পারস্পরিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।   বক্তব্যের শেষাংশে মিশরীয় প্রেসিডেন্ট ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা বজায় রাখার জোর আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর থেকেও ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত ও বিচ্ছিন্ন হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলে আজান নিষিদ্ধ করে বিল পাস, নিন্দা ওআইসির

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে মসজিদে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান সম্প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপের একটি বিল প্রাথমিকভাবে পাস হওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)। সংস্থাটি বলেছে, এ উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ইবাদতের অধিকারের পরিপন্থী এবং ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।   ওআইসি এক বিবৃতিতে বিলটিকে ‘অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, এটি বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী চরিত্রের একটি আইনগত উদ্যোগ, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ১২০ সদস্যের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে বিলটি ৫০-৩৬ ভোটে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পায়। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো মসজিদে শব্দবর্ধক যন্ত্র স্থাপন বা ব্যবহার করা যাবে না। তবে বিলটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। কার্যকর হতে হলে নেসেটে আরও তিন দফা পর্যালোচনা ও ভোটে অনুমোদন পেতে হবে।   বিলটির সমর্থকদের দাবি, এটি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এর মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে। ওআইসি বলেছে, প্রস্তাবিত এই বিল ফিলিস্তিনি জনগণের উপস্থিতি সীমিত করা এবং আরব ও ইসলামি পরিচয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানোর উদ্দেশ্যে ইসরাইলের ধারাবাহিক বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত, আইন ও পদক্ষেপেরই অংশ। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও বিলটির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। তাদের মতে, শব্দদূষণের অজুহাতে ইসলামি ধর্মীয় অনুশীলনকে সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   প্রসঙ্গত, ইসরাইলে আজানের লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়ে অতীতেও কয়েকবার বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমান বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে নেসেটের আরও তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলে ইরানি সাইবার হামলা তিনগুণ বৃদ্ধি
ইসরাইলে ইরানি সাইবার হামলা তিনগুণ বৃদ্ধি, সতর্ক অবস্থানে তেল আবিব

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাইবার অঙ্গনেও সংঘাত দ্রুত তীব্র হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জুন মাসে ইসরাইলের ওপর ইরানি সাইবার হামলার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   সোমবার (২৯ জুন) জার্মান সংবাদপত্র ডাই ভেল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক এক বছর পর, ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০-তে।   কারাদি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত কিছু সাইবার গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ ও সুসংগঠিত। যদিও ইসরাইল এ ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে, তবুও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই—এখানে হুমকি সবসময়ই সক্রিয় থাকে।   তার দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এসব সাইবার হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল ব্যবস্থা। বিশেষ করে আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলোর মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।   তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে কারাদি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত বড় ধরনের হামলাগুলো এখন পর্যন্ত সফলভাবে প্রতিহত করা গেছে। যদিও দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।   সাধারণত ইরান অন্য দেশের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে। তবে দেশটি প্রায়ই দাবি করে, তারা নিজেরাও নিয়মিত সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সাইবার হামলা, যেখানে সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অদৃশ্য যুদ্ধও আরও জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
হিজবুল্লাহর সেক্রেটারি-জেনারেল নাইম কাসেম। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও অস্ত্র ছাড়বে না হিজবুল্লাহ, সাফ জানালেন নাইম কাসেম

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সম্প্রতি নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর। গোষ্ঠীটির সেক্রেটারি-জেনারেল নাইম কাসেম এক কড়া বার্তায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের সংগঠন ইসরাইলি আগ্রাসন ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে যাবে।   সম্প্রতি জনসমক্ষে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে নাইম কাসেম বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করতে মাঠপর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ বাহিনী হিসেবে হিজবুল্লাহ তাদের নিয়মিত সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও হিজবুল্লাহ কখনো যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও কোনো অবস্থাতেই তারা মাঠ ছেড়ে যাবে না।   হিজবুল্লাহ প্রধানের এই অনমনীয় মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন সরকারের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। তবে নাইম কাসেমের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও ইসরাইলি সেনারা লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান করা পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলের চলমান শান্তি প্রচেষ্টার মাঝেও এই অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আসা নিয়ে নতুন করে গভীর সংশয় ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে অসন্তুষ্ট প্রায় অর্ধেক মার্কিনি l ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সমর্থনে অসন্তুষ্ট ৪৮% মার্কিন ভোটার

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল নীতির বিষয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক মার্কিন ভোটার এখন মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত মাত্রায় সমর্থন দিচ্ছে। মার্কিন রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে এই তথ্যটি নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ ভোটার ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের বর্তমান সমর্থনের মাত্রাকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করেন। ২০১৭ সালে কুইনিপিয়াক যখন প্রথম এই বিষয়ে ভোটারদের মতামত নেওয়া শুরু করে, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ অসন্তোষের রেকর্ড। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি লক্ষ করা গেছে।   জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৫৫ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সমর্থনকে ‘অতিরিক্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশই মনে করেন যে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সমর্থন একেবারে সঠিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলগত এই বিভাজন থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি এখন আর আগের মতো সর্বজনীন নয় এবং এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: আল-জাজিরা
সুইজারল্যান্ডে আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল মোসাদ, দাবি ব্রাজিলীয় সাংবাদিকের

সুইজারল্যান্ডে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ একটি গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলীয় সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেবানিজ-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মারিও নাওফালের সঙ্গে এক আলোচনায় এ দাবি করেন এসকোবার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিলেন আসিম মুনির এবং সম্ভবত সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরাও।   এসকোবার দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে এ পরিকল্পনার তথ্য পায়। এরপর তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইসরাইলের কাছে একটি কঠোর বার্তা পাঠায়।   তিনি বলেন, “পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দারা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছিল যে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ সুইজারল্যান্ডে যাওয়া আসিম মুনির এবং সম্ভবত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা করছে। এরপর পাকিস্তান তাদের নিয়মিত মধ্যস্থতাকারী ওমানের মাধ্যমে ইসরাইলকে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায় বলা হয়, ‘যদি আপনারা আমাদের প্রতিনিধিদলকে স্পর্শ করেন, তবে আমরা আপনাদের মানচিত্র থেকে মুছে দেব।’ আমি আমার সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি বলছি।”   এসকোবারের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি প্রকাশ্যে যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।   তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইল বা পাকিস্তানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সম্মেলন চলাকালে এমন কোনো হুমকি বা নিরাপত্তা সতর্কতার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি প্রচেষ্টাসংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অবস্থান করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য ছাড়া পেপে এসকোবারের এই দাবি আপাতত একটি অপ্রমাণিত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় তীব্র ধস, রাজনীতি থেকে বিদায় চাইছেন ৫৯% ইসরাইলি

ইসরাইলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক চাইছেন, দীর্ঘদিনের এই প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে রাজনীতি থেকে বিদায় নিন। সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক জরিপে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং আসন্ন শরতের নির্বাচনে তার আর অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ লিকুদ পার্টির এই নেতার পুনরায় নির্বাচনে লড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি ৮ শতাংশ মানুষ বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত জানাননি।   নেতানিয়াহুর এই প্রবল চাপের পেছনে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের পাশাপাশি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই চুক্তিকে অনেক ইসরাইলি ওয়াশিংটনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি আত্মসমর্পণ এবং লজ্জাজনক চুক্তি, যার ফলে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।   দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি থাকা ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহুর ওপর তার নিজস্ব সমর্থকদের আস্থা মূলত তলানিতে ঠেকেছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে। ওই হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। এরপর গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইল একঘরে হয়ে পড়েছে। এমনকি গাজায় যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। শুরুতে ইসরাইল আপত্তি জানালেও গত শুক্রবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংসতা পুরোপুরি থামেনি। শুক্রবার এক দিনেই দেশটিতে অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং শনিবার নতুন করে আরও ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা, যা দেশটির উত্তরের অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি।   ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়া এই রাজনীতিক পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এবং সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভোটারদের বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যে, কেবল তিনিই ইসরাইলকে নিরাপদ রাখতে পারেন। তবে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন দেশটির জন্য একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। দেশ-বিদেশে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের চাপে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

লেবাননের ভূখণ্ড ও সাধারণ মানুষকে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ এনেছে। হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাতৃভূমি রক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের যোদ্ধারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।   হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী প্রতিরোধ বাহিনী’ শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরাইল যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যা দিয়ে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহ জোর দিয়ে বলেছে, ইসরাইলি শত্রু পক্ষ বাস্তবে কখনোই কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেনি।   এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যতদিন প্রয়োজন মনে হবে ততদিন ইসরাইলি সেনারা লেবাননের মাটিতে অবস্থান করবে। সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জন্য গোষ্ঠীটিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে বলেও তিনি কড়া ভাষায় প্রতিজ্ঞা করেন।   এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি উদ্যোগের তোয়াক্কা না করেই ঘোষণা দিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরাইলের বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে।   মাঠপর্যায়ে বিবদমান দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এবং অন্যদিকে চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে এই অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শান্তিচুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৪; কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। নতুন করে একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ ঘটনার পর ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।   আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ জুন) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটে একাধিক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলাগুলো সংঘটিত হয় এমন এক সময়ে, যখন অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা চলছে।   লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়িকে লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও একটি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এবং তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তেহরান বারবার বলে এসেছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।   যদিও দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সংঘাতের সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।   ইরানের শীর্ষ সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।   এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতি এবং সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।   এ অবস্থায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে সংঘাত পুনরায় বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরান তাদের আশ্বস্ত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকত না: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে ঘিরে নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এ কারণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।   ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইসরাইলের ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে যে নীতি অনুসরণ করেছে, তা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, এ জন্য তাদের আমাদের প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকে থাকতে পারত না।”   সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। তার মতে, ওই হামলা চূড়ান্ত চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারত।y   নেতানিয়াহু সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুবই কঠিন একজন মানুষ।” তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা নিয়ে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ এবং পূর্ববর্তী হামলাগুলো তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, ইরান আরও সংঘাত বা নতুন হামলার ঝুঁকি নিতে চায়নি বলেই সমঝোতার পথে এগিয়েছে।   তিনি বলেন, “তারা তৃতীয় হামলা চায়নি। তারা বেঁচে থাকতে চায়।” ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার প্রভাব এতটাই ছিল যে, তা ইরানকে নতুন বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য করেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সমঝোতা বাস্তবায়িত না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নতুন করে কূটনৈতিক আশার জন্ম দিয়েছে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতার ঘোষণার পরও অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা জটিল রয়ে গেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।   এদিকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের নিরাপত্তা, ইরানের সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তার বক্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইলিদের প্রতিক্রিয়া
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইলিদের প্রতিক্রিয়া

ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির জনগণের মনোভাব নিয়ে নতুন একটি চিত্র সামনে এসেছে জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক জরিপে। এতে দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে বেশিরভাগ ইসরাইলি সন্তুষ্ট নন।   জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক এই যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছেন। তবে এই বিরতি মেনে চলা হবে, নাকি আবার সামরিক অভিযান শুরু করা উচিত—এই প্রশ্নে জনমত প্রায় সমানভাবে বিভক্ত।   এদিকে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও ইসরাইলিদের অবস্থান বেশ কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও, জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও তা হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।   ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে ৩৯ শতাংশ পুনরায় হামলার পক্ষে মত দেন, আর ৪১ শতাংশ আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পক্ষে থাকেন।   এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর সময় যেখানে ৪০ শতাংশ নাগরিক তাকে সমর্থন করতেন, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।   সব মিলিয়ে, ইসরাইলি জনমতে একদিকে কঠোর সামরিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।   সূত্র: আল জাজিরা

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই ডিভিশন সামনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ভূমিকা রাখবে।   এদিকে ইসরাইলের সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক পরিবেশ—বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা—গাজার তুলনায় বেশি জটিল, যা অভিযানে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অভিযানের একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লিতানি নদীর উত্তরে সরিয়ে দেওয়া এবং সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী একটি বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতেও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির কৌশলের অংশ হলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তা দখলদারিত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে হামলার প্রভাব পড়বে খাবারের টেবিলে
হরমুজ প্রণালি সংকট: ইরানে হামলার প্রভাব পড়বে খাবারের টেবিলে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের টানা হামলার মুখে ইরান পাল্টা কৌশল হিসেবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট কেবল শুরু—এর প্রভাব ধীরে ধীরে শিল্প, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে। খুব শিগগিরই খাদ্যপণ্যের দামেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে, এবং সংঘাত শেষ হলেও উচ্চমূল্যের চাপ কিছুদিন বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।   বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং এলএনজির বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য হওয়া সারের উল্লেখযোগ্য অংশও এই পথেই যায়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।   আধুনিক কৃষি মূলত নির্ভর করে সময়মতো সারের প্রাপ্যতার ওপর। কিন্তু সরবরাহে বিঘ্ন ও দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত তৈরি হয়েছে—কম সার ব্যবহার, চাষের পরিমাণ কমানো, কিংবা কম সার প্রয়োজন এমন ফসল বেছে নেওয়া। এতে সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।   বিশেষ করে ভুট্টা, গম ও চাল—এই তিনটি প্রধান খাদ্যশস্য বিশ্বজুড়ে মানুষের ক্যালরির বড় অংশ জোগায়। এসব ফসলের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশিয়াম অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমান সংকটে এই তিন ধরনের সারেরই সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে।   নাইট্রোজেন সারের উৎপাদন ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে রপ্তানি সীমিত করায় ফসফেট ও পটাশের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।   ফলে বিশ্বজুড়ে সারের দাম বেড়ে গেছে, যা সরাসরি কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে। সময়মতো এবং পর্যাপ্ত সার ব্যবহার না করতে পারলে ফসলের ফলন কমে যেতে পারে। এতে শুধু মানুষের খাদ্য নয়, পশুখাদ্যের সরবরাহও কমে গিয়ে মাংস ও প্রাণিজ পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।   অর্থাৎ প্রাথমিক ধাক্কা কৃষকদের ওপর পড়লেও শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপরই এসে পড়ে। অতীতে দেখা গেছে, ফসলের উৎপাদন কমলে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যদিও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামার পর্যায়ে খরচ বাড়ার প্রভাব পাইকারি বাজারে দ্রুত পড়লেও খুচরা বাজারে তা পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে দুই থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। কম প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের দাম আগে বাড়লেও মাংস বা প্রক্রিয়াজাত পণ্যে প্রভাব কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।   এর সঙ্গে পরিবহন, জ্বালানি ও প্যাকেজিং খরচও যোগ হয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।   সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্যে ব্যয় হয়। ফলে তুলনামূলক সস্তা খাদ্যও অনেকের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।   বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কোটি কোটি মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পায় না, এবং চলমান সংকট সেই সংখ্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট দূরের কোনো সমস্যা নয়—বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এর প্রভাব দ্রুতই বিভিন্ন দেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অনুভূত হবে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলে মৃত্যুদণ্ড আইন পাস, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র

ইসরাইলের সংসদ নেসেটে সোমবার একটি আইন পাস হয়েছে, যা প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের অনুমতি দেয়। মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং ফিলিস্তিনি নেতারা এই আইনকে বৈষম্যমূলক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন।   আইনটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পাস করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলিদের হত্যা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই হবে প্রধান শাস্তি।   আইনটির পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থি ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, যিনি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হওয়ার পর সংসদে শ্যাম্পেনের মাধ্যমে উদযাপন করেন।   এই আইনটি এমন সময় এসেছে যখন গাজায় ইসরাইলি হামলা, পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান ও বসতি সম্প্রসারণ এবং হাজার হাজার গ্রেফতারের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।   ইসরাইলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনটির বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।   ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে, অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ইসরাইলের সার্বভৌমত্বাধীন নয়। ফিলিস্তিনি দল হামাসও আইনটি তীব্রভাবে নিন্দা করেছে, বলেছে এটি বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে।   গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র পিএইচসিআর এই আইনকে “আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইসরাইলি দীর্ঘদিনের নীতি আরও দৃঢ় করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও ইসরাইলকে আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে যে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।   সূত্র: আল জাজিরা

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে সংঘাতে আরও ৪ ইসরাইলি সেনা নিহত

দক্ষিণ লেবাননে আরও চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবরটি এসেছে আল জাজিরা থেকে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের বয়স ২১ বছর এবং একজনের বয়স ২২ বছর। চতুর্থ সেনার পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ ‘তার নাম প্রকাশের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি’।   উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লিটানি নদীর দক্ষিণে ইসরাইল তাদের সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করেছে। এ সময়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইসরাইলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি। সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে হঠাৎ নরম ট্রাম্প, কী বদলে দিল অবস্থান?

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। এরপর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি পুনরুদ্ধারে সফল হননি। তবে এখন তিনি বিষয়টি নিয়ে আর আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   সোমবার (৩০ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তিনি দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত চালিয়ে যেতে অনিচ্ছুক—এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও। তবে তার এই অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো। তাদের মতে, প্রণালি বন্ধ রেখেই পরিস্থিতি ছেড়ে দেওয়া মানে কার্যত পরাজয় স্বীকার করা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা—প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে তা নির্ধারিত সময়সীমা (চার থেকে ছয় সপ্তাহ) ছাড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়াতে চান না ট্রাম্প।   প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার মতো প্রধান লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। তাই এখন সংঘাত ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার দিকেই ঝুঁকছে ওয়াশিংটন। পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে প্রণালি খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাপ দেওয়া হতে পারে।   বর্তমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি একটি কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মাইন পাতা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। অথচ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।   প্রণালি বন্ধ থাকায় গত এক মাসে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ৬ এপ্রিলের মধ্যে পথটি খুলে না দিলে জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে।   অন্যদিকে, ইরান এসব আহ্বান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করেছে। বরং গত এক মাসে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য পূরণের কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায় এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়ে—সেদিকেই এখন নজর সবার।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০