ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ; অভিবাসী সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি লড়াই জোরদার | ছবি: রয়টার্স
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্পের নির্দেশ খারিজ করে দিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' সীমিত করার লক্ষ্যে জারি করা ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের ৬-৩ বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি খারিজ হয়ে যায়।   চলতি বছরে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় কোনো নীতিগত পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করেছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের এই রায়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই আদেশটিই বহাল রাখলেন, যা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী না হন, তবে সেই শিশুর জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব মার্কিন সংস্থাগুলো স্বীকৃতি দেবে না।   ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা দাবি করেন, এই নির্দেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পরিপন্থী। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এক্তিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। সমালোচকরা শুরু থেকেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই অভিবাসন নীতিকে বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করে আসছিলেন।   আদালতের রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক' ঐতিহাসিক মামলার নজির টেনে এই রায় দেন। ওই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিদেশী নাগরিকদের সন্তান হলেও মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলে সে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে। প্রধান বিচারপতি তার রায়ে উল্লেখ করেন, গত ১২৮ বছর ধরে এই নিয়মটিই চলে আসছে এবং সংবিধানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো প্রমাণ বা উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।   আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়টি এলো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত নির্দেশটি কার্যকর হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশুর আইনি অবস্থান হুমকির মুখে পড়ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারে কয়েকজন ভুক্তভোগী বাবা-মা ও সন্তানের যৌথ মামলার প্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনা সৌর প্রযুক্তিতে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা | ছবি: রয়টার্স
চীনা সৌর প্রযুক্তিতে নতুন নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ গ্রিড নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চীনে তৈরি বিদ্যুৎ-সংযোগকারী সৌর ইনভার্টার আমদানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।   প্রস্তাবিত নিয়মটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) প্রস্তুত করছে। এটি কার্যকর হলে বিদেশে তৈরি নতুন মডেলের নির্দিষ্ট ইনভার্টারের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ হতে পারে। তবে খসড়া নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং প্রকাশের আগ পর্যন্ত এতে পরিবর্তন আসতে পারে।   সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ব্যাটারিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ইনভার্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চীনে তৈরি কিছু ইনভার্টারে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা থাকলে সেগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি বা সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। হোয়াইট হাউস ও এফসিসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাস অভিযোগ করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারা বলেছে, চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায্য ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।   চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সৌর ইনভার্টার প্রস্তুতকারক দেশ। বিশেষ করে Sungrow এবং Huawei বৈশ্বিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। কম দামে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে তারা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারেও অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কিছু চীনা ইনভার্টার পরীক্ষা করে এমন যোগাযোগ-সক্ষম উপাদানের উপস্থিতির দাবি করেছিলেন, যেগুলোর উল্লেখ পণ্যের আনুষ্ঠানিক নথিতে ছিল না। ওই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।   এদিকে ইউরোপীয় কমিশনও সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু জ্বালানি প্রকল্পে চীনে তৈরি ইনভার্টার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। ইউরোপে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ সরবরাহকারীদের আরও কঠোরভাবে মূল্যায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও ২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের আওতায় বিদেশি উদ্বেগজনক উৎস থেকে উৎপাদিত সৌর সেল, মডিউল ও ইনভার্টার সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পেট্রোলের দাম কমাতে মার্কিন বিক্রেতাদের ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, না মানলে ‘বড় সমস্যার’ হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে।   প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”   ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি।   অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।   গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।”   তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”   ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: এএফপি
ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক, তদন্ত চাইলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রায় ৫০ জন সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং পুরস্কার প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেন। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ চলাকালে সোমবার (২৯ জুন) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য ফিফার নেতৃত্ব এবং সংস্থাটির তথাকথিত স্বাধীন নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান।   এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন আয়ারল্যান্ডের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, নেদারল্যান্ডসের লারা ওলটার্স এবং ডেনমার্কের নিলস ফুগলসাং। ফরাসি দৈনিক ল্য মোঁদ-এর দেখা ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটিকে ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং পুরস্কার প্রদানের "অত্যন্ত অস্পষ্ট পরিস্থিতি" সর্বোচ্চ দ্রুততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানান।   ল্য মোঁদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফিফার ১০ জনেরও কম কর্মী যুক্ত ছিলেন, যদিও এর অর্থায়ন করেছিল সংস্থাটি নিজেই।প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানিজ-ইতালীয়-সুইস বংশোদ্ভূত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুরো উদ্যোগটি যেন সংস্থার অভ্যন্তরে গোপন রাখা হয়। এরপর থেকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   ল্য মোঁদের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে বা পরে ইনফান্তিনো ফিফা কাউন্সিলের কোনো সদস্যকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেননি।   চিঠিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা জানান, তারা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে যে অভিযোগ দায়ের করেছিল, তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। পরে ২০২৬ সালের ২ জুন নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও ওই অভিযোগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়।   আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইনফান্তিনোর প্রকাশ্য অবস্থানের মাধ্যমে তিনি ফিফার নীতিশাস্ত্র বিধির ১৫ নম্বর ধারায় উল্লেখিত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দায়িত্ব চারবার লঙ্ঘন করেছেন।এ ছাড়া, একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ফিফা কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পুরস্কার প্রদানের চূড়ান্ত প্রক্রিয়াও এখনো স্পষ্ট নয়।   ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং ভিসা-সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মতে, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান।   চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে যখন বিশ্বের দৃষ্টি ফিফার দিকে, তখন সংস্থাটির উচিত ফেয়ারস্কয়ারের নীতিশাস্ত্রবিষয়ক অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ন্যায্যতা, সমতা ও মানব মর্যাদার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রমাণ করা। আইনপ্রণেতাদের মতে, এই তদন্ত ফিফার জন্য রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।   ব্যারি অ্যান্ড্রুজ ল্য মোঁদকে বলেন, বিশ্বকাপ বিশ্বের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন এবং এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্রিত করা। তিনি বলেন, "ফিফার সভাপতি যখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্যজনের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেন, তখন তা ফিফা এবং পুরো বিশ্বকাপের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।"   অ্যান্ড্রুজ জানান, তাদের একমাত্র দাবি হলো প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ ট্রাম্পকে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া যেন নীতিশাস্ত্র কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্বেগ এই প্রথম নয়।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বহু ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ২০৩৪ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ফিফা সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির কোনো জবাব ফিফা দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   বরং অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ফিফা সৌদি আরবের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে একটি বড় পৃষ্ঠপোষকতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ল্য মোঁদের পর্যালোচনা করা একটি চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা লন্ডনভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেন টোজ মিডিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করে।   ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সেবা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৩০ লাখ ইউরো পরিশোধ করবে ফিফা। এর আওতায় ফিফা এবং সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্বও রয়েছে।   এ বিষয়ে ল্য মোঁদকে পাঠানো এক ই-মেইলে ফিফা জানায়, কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব পরিচালনা করে এমন দাবি "মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর"। সংস্থাটি আরও জানায়, ব্যক্তিগত চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ফিফা সংরক্ষণ করে।   ফিফার ভাষ্য, বিশ্বের অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার মতো ব্যস্ত সময়ে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে, জনবল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যক্রমে নমনীয়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়। তবে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ কিংবা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে ল্য মোঁদের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি ফিফা।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের নাটকীয় দিন: একদিনে চার রায়ের তিনটিতেই পরাজয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টে এক নাটকীয় দিন। একদিনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় প্রকাশ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এর মধ্যে একটি রায়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত তাঁর অবস্থানের বিপক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে একই দিনে বড় একটি আইনি সাফল্যের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কার মুখে পড়েছেন তিনি।   বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্তগুলো দেখিয়েছে যে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট সব ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতিরাও একমত হয়েছেন।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায়টি ছিল স্বাধীন ফেডারেল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অপসারণে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে। প্রায় ৯০ বছর আগে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক নজিরে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের গঠিত স্বাধীন সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো বরখাস্ত করতে পারবেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের চ্যালেঞ্জের পর সুপ্রিম কোর্ট সেই দীর্ঘদিনের নজির বাতিল করে দেয়।   ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যারা প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তারা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে অপসারণযোগ্য হওয়া উচিত। এতে তারা প্রেসিডেন্টের কাছে এবং প্রেসিডেন্ট জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন।   এই রায়ের ফলে শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্টই নন, ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্টরাও ফেডারেল ট্রেড কমিশনসহ বিভিন্ন স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের অপসারণ ও নতুন নিয়োগে আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা পাবেন। নির্বাচন, যোগাযোগ, শ্রম, আর্থিক ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রেও এই নজির প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।   রায়ের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, "৯০ বছরের নজির পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এমন সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যখন সেটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।" তবে একই দিনে ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অপসারণের প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ-চার ভোটের রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ এবং তিন উদারপন্থি বিচারপতি একমত হয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দেন।   ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, লিসা কুক বন্ধকী ঋণসংক্রান্ত জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তবে আদালত বলেছে, তাঁকে অপসারণের আগে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। রবার্টস সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্বিচারে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, তাহলে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে। নির্বাচনী ব্যবস্থাসংক্রান্ত আরেকটি মামলাতেও ট্রাম্প পরাজিত হন। ডাকযোগে পাঠানো ভোট নির্বাচন দিনের ডাকমোহর থাকলে পরে পৌঁছালেও তা গণনা করা যাবে কি না, এ প্রশ্নে আদালত ট্রাম্পের আপত্তি খারিজ করে দেয়।   এই মামলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের ব্যাপক ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর রয়েছে। ডাকযোগে ভোট নিয়ে জালিয়াতির আশঙ্কার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি আদালত গ্রহণ করেনি। এই রায়ের পর ট্রাম্প কংগ্রেসকে তাঁর নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাব পাস করার আহ্বান জানান। ওই প্রস্তাবে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার কথা বলা হয়েছে।   দিনের আরেকটি বড় ধাক্কা আসে লেখক ই. জিন ক্যারলের করা মানহানি মামলায়। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯০-এর দশকে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।   সুপ্রিম কোর্ট কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে দেয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি মানহানির অভিযোগকে "হাস্যকর" বলেও মন্তব্য করেন।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, ৫০ লাখ ডলারের এই মামলায় ট্রাম্পের আইনি লড়াই কার্যত শেষ হয়ে গেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যদিও ক্যারলের পক্ষে দেওয়া পৃথক ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের আরেকটি ক্ষতিপূরণের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান।   সোমবারের রায়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, নির্বাচনী বিধান এবং বিচারিক রায়ের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা টেনে দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্ব বাতিলের গোপন নীতি লুকানোর অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ | ছবি: এপি
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁসের দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত সাবেক অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) একটি গোপন পরিকল্পনা ও এ সংক্রান্ত নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 'ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড' নামের একটি আইনি অধিকার বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা গত শুক্রবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার মার্কিন জেলা আদালতে এই আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সংস্থাটি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং বিচার বিভাগকে (ডিওজে) এই তথ্য প্রকাশে বাধ্য করতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।   অভিবাসন সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'ট্র্যাক' (টিআরএসি)-এর নতুন তথ্যে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই মাসে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ১৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের নালিশ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি জুন মাসের এ পর্যন্ত অন্তত ১৮টি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করেছে বর্তমান প্রশাসন।   নাগরিকত্ব বাতিলের এই বর্ধিত তৎপরতাকে বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম কঠোর নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও স্কাই পেরিমান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র ও পরিকল্পনা জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার কোনো আইনি অধিকার প্রশাসনের নেই। ট্রাম্প-ভ্যান্স প্রশাসন মূলত মার্কিন নাগরিকদের ভয় দেখিয়ে তাদের অধিকার খর্ব করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই গোপন উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সামনে আনতেই তথ্য অধিকার আইনের (এফওআইএ) অধীনে মামলাটি করা হয়েছে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, যাদের নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্য করা হচ্ছে, তারা কোনো না কোনো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল অথবা অভিবাসন প্রক্রিয়ার সময় মিথ্যা বলেছিল। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ নাবালক যৌন নিপীড়ন, ব্যাংক ও তারবার্তা জালিয়াতি এবং লাইসেন্স ছাড়া প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বিতরণের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ১৭ জন ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।   মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনি উপায়ে বা আসল তথ্য গোপন করে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করে, তবে তার নাগরিকত্ব সনদ বাতিল বা প্রত্যাহার করার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, আমেরিকান নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, যা সততার সঙ্গে অর্জন করতে হয়। যারা এখানে এসে আইন ভঙ্গ করবে এবং অভিবাসন কার্যক্রমে মিথ্যা বলবে, তারা এই অধিকার হারাবে।   সংস্থার প্রধান আরও স্পষ্ট করে জানান, যেসব অপরাধী, যৌন নিপীড়ক ও মাদক পাচারকারী যুক্তরাষ্ট্রের উদার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে প্রতারিত করেছে, তাদের কারণে আমেরিকানরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ডিএইচএস এটি মুখ বুজে সহ্য করবে না। প্রশাসন অপরাধীদের ডিন্যাচারালাইজেশন ও দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য আইনি সব পথ ব্যবহার অব্যাহত রাখবে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
৯০ বছরের নজির ভেঙে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, স্বাধীন সংস্থাগুলোর ওপর বাড়ল হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করেছে। সোমবার (২৯ জুন) ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নীতিগত মতপার্থক্যের কারণেও স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার কমিশনারদের অপসারণ করতে পারবেন। এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় ৯০ বছর ধরে বহাল থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নজির কার্যত বাতিল হয়ে গেল।   আরও পড়ুন... যৌন নির্যাতন মামলা: সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ধাক্কা, আবেদন খারিজ   মামলাটি কেন্দ্রীভূত ছিল ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ডেমোক্র্যাট কমিশনার রেবেকা স্লটারকে অপসারণকে ঘিরে। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, কংগ্রেস কোনো আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার ওপর এমন সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে না, যা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে লিখেছেন, সংবিধানের ভাষা, ইতিহাস ও কাঠামো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে প্রেসিডেন্ট তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা রাখেন। আদালতের মতে, স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র “যথাযথ কারণ” দেখিয়ে অপসারণের যে সুরক্ষা এতদিন কার্যকর ছিল, তা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এই রায়ের ফলে শুধু ফেডারেল ট্রেড কমিশন নয়, বরং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি), ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)সহ বহু স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর হোয়াইট হাউসের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে যে কোনো প্রেসিডেন্ট এসব সংস্থায় নিজের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়োগ ও অপসারণে আরও স্বাধীনতা পাবেন।   রায় প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এটিকে “বড় বিজয়” বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রশ্নে এটি সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।   আরও পড়ুন... সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের নাটকীয় দিন: একদিনে চার রায়ের তিনটিতেই পরাজয়   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি তিন উদারপন্থী বিচারপতি। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র তার ভিন্নমতে বলেন, এই রায় প্রেসিডেন্টকে এমন এক বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান কখনো কল্পনা করেনি। বিচারপতি এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন তার এই মতের সঙ্গে একমত হন।   সোটোমেয়র লিখেছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি ক্ষমতাবান হয়ে উঠবেন।   এই রায়ের মাধ্যমে ১৯৩৫ সালের ঐতিহাসিক Humphrey’s Executor v. United States মামলার নজির কার্যত বাতিল হয়ে গেল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে রায় দিয়েছিল যে, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মতো স্বাধীন সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট ইচ্ছামতো অপসারণ করতে পারবেন না; নির্দিষ্ট আইনগত কারণ থাকতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ইতিহাসে নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করল। এর ফলে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং কংগ্রেসের তদারকি ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্যও ক্ষমতার পরিধি বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে) এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখিকা ই. জিন ক্যারল (ডানে) | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ই. জিন ক্যারল মামলায় ট্রাম্পের আপিল নিল না সুপ্রিম কোর্ট, বহাল থাকল ৫০ লাখ ডলারের রায়

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাংবাদিক ও লেখক ই. জিন ক্যারলের দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকছে এবং এই মামলায় ট্রাম্পের আপিলের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেল।   মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালে। ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌনভাবে নির্যাতন করেন। ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগটি অস্বীকার করে আসছেন এবং প্রকাশ্যে ক্যারলের বক্তব্যকে অসত্য বলে দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগও যুক্ত করেন।   ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন এবং মানহানির জন্য দেওয়ানি মামলায় দায়ী বলে রায় দেয়। একই সঙ্গে ক্যারলকে মোট ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না; বরং একটি দেওয়ানি মামলা, যেখানে প্রমাণের মানদণ্ড ফৌজদারি মামলার তুলনায় ভিন্ন।   রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, বিচার চলাকালে অন্য কয়েকজন নারীর অভিযোগসংক্রান্ত সাক্ষ্য এবং অতীতের কিছু প্রমাণ গ্রহণের ফলে বিচারকাজ পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এসব কারণে রায় বাতিল করে নতুন করে বিচার হওয়া উচিত। তবে নিম্ন আদালত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে আগের রায় বহাল রাখে।   এরপর ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আপিলের আবেদন করেন। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মামলাটি শুনতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশে কোনো বিচারপতি প্রকাশ্যে ভিন্নমতও জানাননি। ফলে ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল।   এদিকে ই. জিন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেকটি পৃথক মানহানি মামলায়ও জয়ী হয়েছেন। ২০২৪ সালে ওই মামলায় জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেয়। সেই রায়কে ঘিরে ট্রাম্পের আইনি লড়াই এখনও চলমান রয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখছেন আইন বিশ্লেষকরা। কারণ, দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ না করায় ২০২৩ সালের দেওয়ানি রায় বহাল থাকল। তবে ট্রাম্প বরাবরই ক্যারলের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার আইনজীবীরা মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায় আজ | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের দুই গুরুত্বপূর্ণ নীতির ভাগ্য আজ সুপ্রিম কোর্টে, নজরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চলতি অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দুটি বহুল আলোচিত নীতিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে দেশ। আদালত আজ এসব মামলার সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নজর এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।   সবচেয়ে আলোচিত মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি নির্বাহী আদেশে এমন শিশুদের স্বয়ংক্রিয় মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেন, যাদের জন্মের সময় বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন না। এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং অভিবাসন–অধিকার সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। বর্তমানে আদেশটির কার্যকারিতা নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে।   মামলার শুনানি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আজ আদালত সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত ধারা এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তবে রায় ঘোষণার আগে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেয়নি।   একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলারও রায় দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি এবং স্বাধীন ফেডারেল সংস্থাগুলোর স্বায়ত্তশাসনের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভসহ বিভিন্ন স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নতুন আইনি দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বিশ্লেষকদের মতে, আজ ঘোষিত হতে যাওয়া রায়গুলো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা, সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং ফেডারেল আদালতের ভূমিকা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সুপ্রিম কোর্টের চলতি মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এই মামলাগুলোকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে ‘ব্যর্থ ব্যক্তি’ বললেন বাইডেন, তুললেন অহমিকা ও দুর্নীতির অভিযোগ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে ‘ব্যর্থ ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অহমিকা প্রদর্শন এবং দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির এক গালা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বাইডেন এসব মন্তব্য করেন। স্থানীয় সময় শনিবার অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দলটির নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান।   বক্তৃতায় বাইডেন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তর আটলান্টিক জোট (ন্যাটো)-এর গুরুত্ব খাটো করেছেন, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, ট্রাম্পের বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল ‘দম্ভের বহিঃপ্রকাশ’, যা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে।   ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের উদাহরণ টেনে বাইডেন দাবি করেন, হোয়াইট হাউসে নিজের বলরুম নির্মাণের জন্য ‘ইস্ট উইং’ ভেঙে ফেলার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এছাড়া ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করা এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারে নিজস্ব লোক নিয়োগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।   এসব প্রসঙ্গ তুলে ধরে এক পর্যায়ে বাইডেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভাবা যায়, কী এক ব্যর্থ ব্যক্তি!”   যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দুই দলের এই বাকযুদ্ধ নতুন নয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, যার প্রতিফলন এমন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প পুরোপুরি ব্যর্থ: নিউজার্সির গভর্নর

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিকি শেরিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসলে কী অর্জন করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংঘাতের ব্যয়ও ক্রমাগত বেড়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করেছে এবং এর বাস্তব অর্জন কী।   মিকি শেরিলের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য সামনে এনেছে। কখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আবার কখনও সরকার পরিবর্তন কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে।   তার অভিযোগ, প্রশাসন ঘোষিত এসব লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   শেরিল আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাই ওই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।   ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
শুক্রবার ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে বিমানবন্দরের রানওয়েতে মার্কিন উদ্ধারকারী দল | ছবি: রয়টার্স
ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৯২০, বড় পরীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্প

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প এখন লাতিন আমেরিকায় মার্কিন ক্ষমতার এক নতুন পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের এক ঝটিকা অভিযানে ভেনিজুয়েলার দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও বন্দি করার পর দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিজেদের মিত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই মিত্র দেশটিতেই এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিশাল, দ্রুত এবং কার্যকর উদ্ধার ও ত্রাণ মিশন পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।   ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি বিশেষ বিপর্যয় সহায়তা রেসপন্স টিম পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সহায়তা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে, যা যেকোনো দুর্যোগের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় অনুদান।   তবে এই উদ্ধার অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি মরণপণ পরীক্ষা। কারণ, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা বা ইউএসএআইডির বাজেট ও জনবল ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পুরো দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করেছেন। এই কাটছাঁটের কারণে ওই অঞ্চলে আগে যেখানে ১৪৪ জন অভিজ্ঞ ত্রাণকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন, সেখানে এখন মাত্র ১৪ জন সদস্য অবশিষ্ট আছেন।   এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কারাকাসে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে এবং আমাদের অনেক লোক সেখানে সাহায্য করছে। মাদুরোকে বন্দি করার পর থেকে ভেনিজুয়েলার সাথে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আমরা সেখান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তুলে নিয়েছি, যা যুদ্ধের খরচ বহুবার পুষিয়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ভূমিকম্পের ঘটনা বাদ দিলে ভেনিজুয়েলা এখন একটি সুখী দেশ।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নির্দেশে গঠিত ভেনিজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সরকারকে টিকিয়ে রাখা এবং অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা ওয়াশিংটনের জন্য এখন অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ট্রুথ সোশ্যাল/সংগৃহীত
নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প,হোয়াইট হাউস বলল ‘দেশপ্রেমিক পাসপোর্ট’

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নকশার একটি স্মারক মার্কিন পাসপোর্ট উন্মোচন করেছেন। সীমিত সংস্করণের এই পাসপোর্টে ট্রাম্পের একটি গম্ভীর মুখাবয়বের ছবি সংযোজন করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পাসপোর্টটির নমুনা ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট।’ প্রকাশিত নকশায় আরও লেখা রয়েছে, ‘স্বাগত, তবে ভদ্রভাবে থাকুন।’   নতুন পাসপোর্টটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরসংবলিত একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে তাকে একটি ডেস্কের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পেছনের নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল পাঠ সংযোজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিটি হোয়াইট হাউসের আলোকচিত্রী ড্যানিয়েল টোরোকের তোলা একটি আলোকচিত্রের ভিত্তিতে তৈরি।   পাসপোর্টের আরেকটি পাতায় ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা ২৫০’ লেখা রয়েছে, যা স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীকে নির্দেশ করে।   হোয়াইট হাউসও একই নকশার পাসপোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে একে ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে উল্লেখ করেছে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, আগামী ৬ জুলাই থেকে বিশেষ নকশার এই স্মারক পাসপোর্ট সীমিত পরিসরে বিতরণ করা হবে। গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প-থিমযুক্ত এসব পাসপোর্ট ওয়াশিংটনে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে এবং মজুত থাকা পর্যন্তই বিতরণ করা হবে।   সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম ও প্রতীকী উদ্যোগে নিজের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন এই স্মারক পাসপোর্টও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পাসপোর্টটি নিয়মিত ভ্রমণ নথির বিকল্প নাকি শুধুই স্মারক সংস্করণ সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পররাষ্ট্র দপ্তর বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ, মঞ্চ ছাড়ার সময় পথ খুঁজতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চ ছাড়ার পথ খুঁজতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার বাল্টিমোরের কাছে হ্যানোভারের লাইভ! ক্যাসিনো অ্যান্ড হোটেলে আয়োজিত মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন।   বক্তব্যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বাইডেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনাকে তিনি ‘ব্যক্তিগত অহমিকার প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেন।   বক্তৃতার শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন বাইডেন। এরপর মঞ্চ ছাড়তে গিয়ে তিনি একপাশে তাকিয়ে দিকনির্দেশনা চান। পরে দুই দিকেই ইশারা করে কোন পথে নামবেন তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। সঠিক পথ বুঝে নেওয়ার পর দর্শকদের দিকে পিঠ রেখে মঞ্চ ত্যাগ করেন।   এর কয়েকদিন আগেই শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বাইডেন। ওই অনুষ্ঠানেও সমাপ্তির সময় তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখা যায়। সে সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের নাতনিকে খুঁজছিলেন। পরে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তাকে পথ দেখান।   শনিবারের বক্তব্যে বাইডেন টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করেন। বক্তব্যের সময় কয়েকবার কাশি দিতেও দেখা যায় তাকে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সময়ের তুলনায় ভালো ছিল।   ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করা এবং ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।   বাইডেন আরও অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এ বিষয়ে তার কোনো লজ্জাবোধ নেই। এর আগে প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও জনসমাবেশে মঞ্চে চলাফেরা বা দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছিল।   বর্তমানে বাইডেন স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তার নতুন বইয়ের প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
আইসিইর পরিচালক হিসেবে সাবেক মেরিন ও ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপারকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)-এর নতুন পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপার ল্যান্স শ্রয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।   ট্রাম্প বলেন, ল্যান্স শ্রয়ার ওকলাহোমায় ২৯ বছরেরও বেশি সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে একজন দেশপ্রেমিক, দক্ষ প্রশাসক এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, শ্রয়ার অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) আইনশৃঙ্খলা অংশীদারত্ব কর্মসূচির বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অভিজ্ঞতার মধ্যে অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও রয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।   ট্রাম্প আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের মতোই শ্রয়ারও আইসিইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। ২০১৭ সালের পর থেকে আইসিই কোনো সিনেট-অনুমোদিত স্থায়ী পরিচালক পায়নি। অভিবাসন নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পদটি দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।   বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এর আগে ক্রিস্টি নোমের স্থলাভিষিক্ত হন। ট্রাম্প প্রশাসন নোমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সিনেট মুলিনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেয়।   এর আগে ভারপ্রাপ্ত আইসিই পরিচালক টড লায়ন্স গত এপ্রিলে পদত্যাগ করেন। জানুয়ারিতে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নামে দুই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর তিনি পদ ছাড়েন।   ট্রাম্প সিনেটের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ৪ জুলাইয়ের ছুটির কারণে অবকাশে থাকলেও যত দ্রুত সম্ভব ল্যান্স শ্রয়ারের মনোনয়ন অনুমোদন দেওয়া উচিত।   ল্যান্স শ্রয়ারের নামে থাকা লিংকডইন প্রোফাইলে ব্যক্তিগত তথ্য খুবই সীমিত। তবে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে ওকলাহোমায় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় তাকে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান হামলা নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যানের

ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তার অভিযোগ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান কংগ্রেসে পাস হওয়া যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।   রো খান্না বলেন, ‘ট্রাম্পকে এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় তাকে থামাতে প্রয়োজন হলে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।’ এর আগে গত ৩ জুন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে একই ধরনের একটি বিল পাস হয়। পরে মঙ্গলবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে যুদ্ধ ক্ষমতাসংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।   ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা বা নির্দিষ্ট অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে।   ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত
‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, হামলার পরেই ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকা ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।   হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনে সামরিকভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।   এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত করেনি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার কিকু ড্রোন হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে ২০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। হামলায় কোনো নাবিক আহত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।   গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা, সেন্টকম, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর কর বসালেই ইউরোপের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা কর (ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স) আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ইউরোপীয় দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর এই কর আরোপ করে, তবে সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সমস্ত পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ এমন কর চালুর পরিকল্পনা করছে এবং কিছু দেশ তা কার্যকরের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিগুলো অগ্রাহ্য করেই সঙ্গে সঙ্গে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।   এদিকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান এই দ্বন্দ্বে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তারা ২০২০ সাল থেকেই ২ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর চালু রেখেছে। মূলত যেসব সার্চ ইঞ্জিন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের বৈশ্বিক ডিজিটাল আয় ৫০ কোটি পাউন্ড এবং যুক্তরাজ্যে আয় ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি, তাদের ওপর এই কর প্রযোজ্য হয়। এর ফলে অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের মতো শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই করের আওতায় পড়েছে।   যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬৭ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প অভিযোগ তুলেছিলেন যে, যুক্তরাজ্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করেই সহজে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে এই কর আরোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নিচ্ছে।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ট্রাম্পের এই বিতর্কিত হুঁশিয়ারি এল। এই হুমকির প্রেক্ষিতে সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস জানিয়েছেন, চুক্তি লঙ্ঘিত হলে বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইইউ দ্রুত ও যথাযথ জবাব দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম। বর্তমানে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করে রেখেছে এবং ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের কর চালুর পরিকল্পনা করছে। ২০২৫ সালে পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক উচ্চহারে আমদানি শুল্ক আরোপের নীতি গ্রহণ করছেন।   যদিও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দেয়, তবুও সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় সব প্রধান আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) ঠেকাতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প l ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন কোম্পানির ওপর ডিজিটাল কর বসালে পাল্টা ১০০% শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আগ্রাসী শুল্ক আরোপের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর কোনো দেশ 'ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স' বা ডিজিটাল সেবা কর বসালে, সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করে হলেও এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর করা হবে।   নিজের পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অবিলম্বে ডিজিটাল সেবা কর বাস্তবায়নের আলোচনা করছে এবং কিছু দেশ ইতোমধ্যে এটি কার্যকর করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি বলেন, "আমার এই বিবৃতিটি একটি সতর্কবার্তা।   যে দেশই এমন কর বসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের যেকোনো ও সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত বা বাস্তবায়িত অবস্থায় থাকলেও এই শুল্ক নীতি তার ঊর্ধ্বে থাকবে। দেশগুলো কর বসানোর পথে এগোলে তাৎক্ষণিকভাবে এই ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।   উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের একটি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, ১৯৭০-এর দশকের বাণিজ্য আইন অনুযায়ী এ ধরনের একচেটিয়া শুল্ক আরোপ সমর্থনযোগ্য নয়। তবে আদালতের এসব রায় তাকে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে মোটেও বিরত রাখতে পারেনি। চলতি মাসের শুরুতেও জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ এনে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটক অর্থ দিয়ে মার্কিন পণ্য কেনার দাবি মিথ্যা: ইরানের স্পিকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, ইরানের অবমুক্ত অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা হবে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।   বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘আমেরিকা মিথ্যা দাবি করছে যে আমাদের অবমুক্ত করা সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষি পণ্য কেনা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ফসলটি আমরা এখন ঘরে তুলছি, তা আপনারাই বপন করেছিলেন—দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাস। এটি অর্গানিক, অফুরন্ত এবং খাঁটি দেশি।’   একই পোস্টে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ‘জিএমও সয়াবিন, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ এবং ফাঁপা বুলি’ ছাড়া আর কিছু রপ্তানি করে না। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিক আর্থিক সুবিধার অংশ হিসেবে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নগদ অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না। বরং ওই অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা ও গম কেনা হবে, যা ইরানের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ব্যবহৃত হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, ইরানের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা হলে সেই অর্থ মার্কিন কৃষকদের উপকৃত করবে এবং ইরানের জনগণের খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।   এদিকে বৃহস্পতিবার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায় যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না।   তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো মার্কিন প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সমঝোতা স্মারককে কোনো ছাড় নয়, বরং তেহরানের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।   ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজারবাইজানের রাজধানী বাকু সফরের সময় গালিবাফ এই সমঝোতা স্মারককে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, নথিতে এমন কোনো আইনি ধারা নেই যা ইরানকে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করে।   সোমবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় অবমুক্ত হওয়া অর্থ শুধু জরুরি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা ১৮ জুন কার্যকর হয়। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।   তবে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ব্যাখ্যাগত পার্থক্য এখনও স্পষ্ট। ফলে চুক্তি বাস্তবায়নের পথেও মতবিরোধ দেখা দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
তেহরানে খামেনির ছবিসংবলিত বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন নারী | ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী দেশ হওয়ার পথে ইরান

বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে নকআউট পর্বের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর আনন্দের মাঝেই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরণের সুসংবাদ পেয়েছে ইরান। চার দশকের মার্কিন নীতিকে পুরোপুরি উল্টে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ আগামী ৬০ দিনের জন্য ইরানের খনিজ তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ছাড় দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   ১৯৭৯ সালের জিম্মি সংকটের পর ১৯৮০ সালে ইরানের ওপর প্রথম মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পরবর্তী সময়ে ওবামা আমলে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, ট্রাম্পের আগের মেয়াদে তা আরও কঠোর রূপ নেয়। তবে এবারের নতুন লাইসেন্স অতীতের সব বাধাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখন মার্কিন শোধনাগারগুলো সরাসরি পারস্যের পেট্রোলিয়াম কিনতে পারবে, ডলারে দাম মেটাতে পারবে এবং কালো তালিকাভুক্ত ট্যাংকার থেকেও তেল নিতে পারবে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যেই মূলত ওয়াশিংটন এই আকস্মিক উদারতা দেখিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বাজার এই জোয়ারের আভাস পেয়েছিল, যার ফলে মে মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় থাকলেও বর্তমানে তা দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেলে গিয়ে ঠেকেছে। এতদিন ইরানের প্রায় পুরো তেলই গেছে উত্তর-পূর্ব চীনের ছোট ও স্বাধীন 'টিপট' শোধনাগারগুলোতে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আরও বাড়াতে ইরানকে এখন ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো নতুন ক্রেতা খুঁজতে হবে। যদিও ৬০ দিনের এই স্বল্পমেয়াদি ছাড়ের পর ট্রাম্প হুট করে সিদ্ধান্ত বদল করবেন না—এমন স্থায়ী ভরসা পাওয়ার পরই কেবল পশ্চিমা ও বড় এশীয় ক্রেতারা পুরোদমে চুক্তি করতে এগিয়ে আসবে।   আমেরিকার দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের রাজনৈতিক ফল খুব একটা না মিললেও, ইরানের জন্য এটি এক বিরাট আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়, তবে ইরান আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্রেতাদের টানতে পারবে। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট ফি বাবদ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক আয়, অবরুদ্ধ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল—তবে আগামী এক দশকের মধ্যেই ইরান পারস্য উপসাগরের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশে পরিণত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন না কমিয়েই ইরান এই বিপুল ঐশ্বর্য পেতে যাচ্ছে, যা কার্যত আমেরিকার 'পূর্ণ আত্মসমর্পণ' হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০